স্বামী নিগমানন্দ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
স্বামী নিগমানন্দ
হিন্দু ধর্মগুরু
Thakur nigamananda(bw).jpg
(পরমহংস শ্রীমদ স্বামী নিগমানন্দ সরস্বতী দেব)
জন্ম ১৮ আগষ্ট, ১৮৮০
জন্মস্থান কুতুবপুর, নদিয়া জেলা (অধুনা বাংলাদেশ)
পূর্বাশ্রমের নাম নলীনীকান্ত ভট্টাচার্য
মৃত্যু ২৯ নভেম্বর, ১৯৩৫
মৃত্যুস্থান কলকাতা
গুরু বামাক্ষ্যাপা, সচিনানন্দ সরস্বতী, সুমেরু দাস জী, গৌরী দেবী
দর্শন তন্ত্র, জ্ঞান, বেদান্ত, যোগ, ভক্তি বা প্রেম
সম্মান পরমহংস, সদগুরু
উক্তি
পাদটীকা

স্বামী নিগমানন্দ পরমহংস (১৮ আগষ্ট, ১৮৮০[১]- ২৯ নভেম্বর, ১৯৩৫[২]) নদীয়া জেলার তথনকার সাবডিভিশন কুতুবপুর নামক ছোট গ্রামে (কিন্ত্তু বর্তমানে বাংলাদেশের মেহেরপুর জেলায়) এক বাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহন করেন। তিনি শ্রী শ্রী ঠাকুর নামেও পরিচিত। চৈতন্য মহাপ্রভুও এই একই জেলায় জন্মগ্রহন করেছিলেন।

সন্ন্যাস গ্রহণের পর তিনি পরমহংস শ্রীমদ স্বামী নিগমানন্দ সরস্বতী দেব নামে পরিচিত হন।[৩]

নিগমানন্দ ছিলেন ভারতের একজন সত্গুরু[৪][৫] ও সাধু।[৬] তিনি ছিলেন পূর্ব ভারতে সুপরিচিত একজন হিন্দু যোগী ও আধ্যাত্মিক নেতা।[৭] তিনি শাক্ত সম্প্রদায়ভুক্ত[৮] একজন ভারতীয় হিন্দু গুরু,[৯][১০] ও হিন্দু দার্শনিকও[১১] ছিলেন এবং তন্ত্র ও যোগের একজন উত্কৃষ্ট আধ্যাত্মিক গুরু হিসেবে তাকে দেখা হতো।[১২][১৩][১৪]

নিগমানন্দের অনুসারীরা বিশ্বাস করেন যে তিনি চারটি ভিন্ন সাধনায় যথা তন্ত্র, জ্ঞান, যোগ এবং প্রেমে সিদ্ধি লাভ করেন।[১৫][১৬][১] এই সকল অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে তিনি বাংলা ভাষায় ৫টি গ্রন্থ রচনা করেন: ব্রহ্মচর্য সাধনা, যোগী গুরু, জ্ঞানী গুরু, তান্ত্রিক গুরু এবং প্রেমিক গুরু[১৭][১৮][১৯][২০] স্বামী নিগমানন্দ নির্বিকল্প সমাধি লাভ করেছিলেন।[২১][২২]

পরিচ্ছেদসমূহ

জীবনী[সম্পাদনা]

জন্ম, শৈশব, শিক্ষা ও চাকরি জীবন (১২৮৬ - ১৩০৮ বঙ্গাব্দ)[সম্পাদনা]

পিতা ভুবনমোহন ভট্টাচার্য ও পিতার গুরু স্বামী ভাস্করানন্দ সরস্বতীর ইচ্ছানুসারে জন্মের পর নিগমানন্দের নাম রাখা হয়েছিল নলীনীকান্ত।[২৩][২৪] ১৩০০ বঙ্গাব্দে যখন নলীনীকান্ত গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ছিল, তখন তাঁর মাতা মাণিক্য সুন্দরী দেবী কলেরায় মারা যান যা তাকে বিষন্নতায় আচ্ছন্ন করেছিল।[২৫][২৬] ১৩০১ বঙ্গাব্দে তিনি ছাত্রবৃত্তি পরীক্ষায় পাস করেন এবং মেহেরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে কিছু সময়ের জন্য পড়াশোনা করেন। ১৩০২ বঙ্গাব্দের আষাঢ় মাসে তিনি জরিপ বিষয়ে পড়াশোনার জন্য ঢাকা আহসানউল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ভর্তি হন। নলীনীকান্তের পিতা ১৩০৩ বঙ্গাব্দে হালিশহরের সুধাংশুবালা দেবী নামের এক ত্রয়োদশবর্ষীয়া বালিকার সাথে নলীনীকান্তের বিয়ে দেন। ১৩০৫ বঙ্গাব্দে পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর জীবিকা অর্জনের জন্য তিনি রাণী রাসমণির এস্টেট দিনাজপুর জেলা বোর্ডে চাকরিতে যোগ দেন।[২৭] ১৩০৭ বঙ্গাব্দে ভাদ্র মাসের শেষে (বিয়ের প্রায় ৫ বছর পর) যখন তিনি নারায়নপুর এস্টেটে (জমিদারিতে) সুপারভাইজার পদে কাজ করছিলেন,[২৮][১][২৯] তখন একদিন রাত্রে নলীনীকান্ত হঠাত্ টেবিলের নিকট সুধাংশুবালা দেবীর (যার সেই সময় কুতুবপুরে থাকার কথা) ক্রুদ্ধ ভয়ঙ্কর দৃষ্টিতে তাকানো নীরব ছায়ামূর্তি দেখতে পান। তিনি তখনই কুতুবপুরে খোঁজ নিতে গেলেন এবং জানতে পারলেন যে নারায়নপুরে ছায়ামূর্তি দেখার ঠিক এক ঘন্টা পূর্বে সুধাংশুবালা দেবী ইহলোক ত্যাগ করেন; পুনরায় নলীনীকান্তের জন্য প্রচন্ড আঘাত। তিনি গুপ্ত/অতিপ্রাকৃত বিজ্ঞানের (occult science) সাহায্যে তাঁর সহধর্মিণীর নিকট পৌঁছানোর চেষ্টা করেন কিন্ত্তু ব্যর্থ হন।[৩০]

ক্রান্তিলগ্ন[সম্পাদনা]

এই ঘটনা নলীনীকান্তকে আরো অন্তর্মুখী করে তুলল। নলীনীকান্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হলেন যে মৃত্যু হচ্ছে একজন ব্যক্তির চূড়ান্ত পরিণতি। তিনি বিশ্বাস করা শুরু করলেন যে মৃত্যুর পর অবশ্যই জীবন আছে।[১] নলীনীকান্ত জীবন ও মৃত্যুর যাবতীয় ইন্দ্রিয়গোচর বস্ত্তু ও বিষয় সম্পর্কে জানতে মরিয়া হয়ে উঠলেন। এসব কিছু তাকে সব সময় চিন্তিত করতে আরম্ভ করল। এই অনুসন্ধান তাকে নিয়ে গেল চেন্না়ইয়ের আধিয়ারের ঈশ্বরদর্শন সমাজে (Theosophical Society at Adyar)।[৩১] তিনি ঈশ্বরদর্শন ও ঐশ্বরিক প্রেরণা লাভের দর্শন শাখার যাবতীয় প্রকল্পসমূহ নিরুপণ করলেন ও সেগুলো চর্চা করলেন এবং একটি মাধ্যমের মধ্য দিয়ে সুধাংশুবালা দেবীর সাথে কথা বলতে সমর্থ হলেন। কিন্ত্তু নলীনীকান্ত তাকে শারীরীকভাবে দেখতে সমর্থ হলেন না। এই অভিজ্ঞতা তাকে মোটেই সন্ত্তষ্ট করল না। তিনি ঐ সমাজের সদস্যদের সাথে আলোচনা করে জানতে পারলেন যে "জীবন ও মৃত্যু" বিষয়ে জ্ঞান থাকা হিন্দু যোগীদের জন্য আবশ্যকীয়। তিনি সময় নষ্ট না করে তখনই একজন প্রকৃত যোগী বা সাধুর খোঁজে ছুটলেন যিনি তাঁর মৃত সহধর্মিণীর সাথে সাক্ষাত্ করার ইচ্ছা পূরণ করতে পারবেন এবং তাকে "জীবন ও মৃত্যু" বিষয়ে প্রকৃত দর্শন শিক্ষা দিতে পারবেন।

আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা (১৩০৮ - ১৩১১ বঙ্গাব্দ)[সম্পাদনা]

নিগমানন্দের অনুসারীদের মতে, একদিন রাত্রে নলীনীকান্ত অলৌকিক আভা দিয়ে ঘিরে থাকা এক সাধুকে দেখতে পেলেন। তিনি জেগে উঠে সাধুকে বাস্তবে তাঁর বিছানার পাশে দাড়ানো অবস্থায় দেখতে পেলেন। সাধুটি তাকে পাতার ওপর লিখিত একটি মন্ত্র দিলেন এবং হঠাত্ অদৃশ্য হয়ে গেলেন। নলীনীকান্ত মন্ত্রটির অর্থ বোঝার জন্য অনেককে এর অর্থ জিজ্ঞাসা করলেন; অবশেষে ১৩০৮ বঙ্গাব্দের ফাল্গুন মাসে তিনি পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার তারাপীঠের বিখ্যাত তান্ত্রিক বামাক্ষ্যাপার সাথে সাক্ষাৎ করলেন।[৩২][৩৩][৩৪] নলীনীকান্ত তাঁর নিকট দীক্ষা নিলেন এবং ২১ দিন উক্ত মন্ত্রটি জপ/স্তব করার আদেশপ্রাপ্ত হলেন।[৩৫] তাঁর গুরুর নির্দেশিত পথে তিনি "সুদর্শনা দেবী" রুপে মা তারা দেবীর দর্শন পেলেন।[৩৬] এই দর্শন তাকে আরেক রহস্যে নিয়ে গেল। তিনি তারা দেবীকে তাঁর শরীর থেকে বেরিয়ে আসতে এবং পুনরায় তাঁর শরীরে মিশে যেতে দেখলেন। এই রহস্য সমাধানের জন্য বামাক্ষ্যাপা তাকে একজন বেদান্তিক গুরুর নিকট অদ্বৈতের জ্ঞান লাভের উপদেশ দিলেন। ১৩০৮ বঙ্গাব্দের চৈত্রে তিনি জ্ঞানী গুরুর খোঁজে ভ্রমণে বের হলেন।[৩৭] রাজস্থান রাজ্যের পবিত্র স্থান পুস্করে তিনি সচিনানন্দ সরস্বতীর শিষ্য হলেন।[১][৩৮] তিনি তত্ক্ষণাত্ উপলব্ধি করলেন যে সচিদানন্দ সরস্বতী হলেন সেই সাধু যিনি তাকে স্বপ্নে তারা মন্ত্রটি দিয়েছিলেন। নলীনীকান্ত ব্রহ্মের সকল তত্ত্ব শিখলেন এবং সচিদানন্দ কর্তৃক দাবি-ত্যাগ/আত্ম-অস্বীকৃতি বিষয়ে দীক্ষিত হলেন এবং তদনুসারে তাঁর নাম রাখলেন নিগমানন্দ।[৩৯] কিন্ত্তু এই বিষয়ে তিনি বাস্তব উপলব্ধি করতে পারলেন না, সচিদানন্দ নিগমানন্দকে এই লক্ষ্য অর্জনে একজন যোগী গুরু খুঁজতে বললেন। সচিদানন্দ নিগমানন্দকে আরো নির্দেশ দিলেন ধর্মীয় পীঠের/আসনের চার ধামে তীর্থ নিতে এবং নিজে থেকে প্রত্যেকটির গুরুত্ব উপলব্ধি করতে। হিন্দুরা তাদের পবিত্রতার জন্য এই সকল প্রার্থনার স্থানসমূহকে তাদের নিকট অত্যন্ত প্রিয় মনে করেন। তীর্থের পর তিনি আবার আশ্রমে ফিরে আসলেন। সচিদানন্দ নিগমানন্দের তীর্থ পর্যালোচনা করলেন এবং তাকে আরো নির্দেশ দিলেন একজন যোগী গুরু খুঁজে বের করতে যিনি নিগমানন্দকে সঠিক দিক নির্দেশনা দিবেন এবং সচিদানন্দের শিক্ষাকে সঠিকভাবে অনুশীলন করাবেন।[৪০][৪১]

১৯০৩ সালে (জৈষ্ঠ ১৩১০ বঙ্গাব্দ) নিগমানন্দ তাঁর যোগী গুরুর সাক্ষাত্ পেলেন - তিনি হলেন সুমেরু দাস জী (কুট হুমি লাল সিং নামেও পরিচিত)। সুমেরু দাস জীর পথনির্দেশনায় তিনি যোগের গূঢ় বিষয়/তাত্পর্য জানলেন।[৪২] প্রয়োজনীয় অনুশীলনের পর তিনি সবিকল্প সমাধি এবং পরে ১৯০৪ সালে (পৌষ ১৩১১ বঙ্গাব্দ) নির্বিকল্প সমাধি (যোগের সর্বোচ্চ ধাপ) লাভ করলেন।[৪৩][১][৪৪] যোগে তিনি দর্শন করলেন এবং তাঁর নিজ দেহে বুঝতে পারলেন বৈদিক জ্ঞান যা সচিদানন্দের কাছ থেকে শিখেছিলেন। তিনি তাঁর নির্বিকল্প সমাধি লাভ করেছিলেন কামাক্ষ্যায়, নীলাচল পাহাড় (গৌহাটি, আসাম, ভারত) - বলা হয়ে থাকে তিনি জগত্গুরুর ইচ্ছাকে বহন করে মানবতার মাঝে ব্রহ্মজ্ঞান বিস্তারের জন্য সত্গুরু হিসেবে পুন-আবির্ভূত হয়েছিলেন।[৪৫][২৭]

১৯০৪ সালে (মাঘ ১৩১১ বঙ্গাব্দ) তিনি কাশীতে (বর্তমানে বারাণসী, উত্তর প্রদেশ, ভারত) থাকাকালীন দেবী অন্নপূর্ণা স্বপ্নে তাঁর নিকট আসলেন এবং বলছেন যে,[৩৮] তাঁর জ্ঞান নিরাকার ঈশ্বরে সীমাবদ্ধ এবং তদুর্ধে যেতে পারেনি - তাই তিনি ছিলেন তখনও অসম্পূর্ণ। নিগমানন্দ তাঁর নিদ্রা থেকে জেগে উঠলেন এবং দেবী অন্নপূর্ণা কর্তৃক নির্দেশিত তাঁর বিষয়টি সম্পর্কে সচেতন হলেন।[৩৮] তিনি তখন এক মহান সিদ্ধযোগীনী গৌরী দেবীর নিকট গেলেন। তিনি নিগমানন্দকে একজন শিষ্য হিসেবে গ্রহণ করলেন এবং তাকে ভক্তিপ্রেম শিক্ষা দিলেন।[৪৪] তাঁর শিষ্যদের মতানুসারে নিগমানন্দ ভব সাধনায় এই বহির্জগতকে ঈশ্বরের রুপান্তর হিসেবে দেখলেন এবং ভব বা ভক্তি সিদ্ধি লাভের পর,[৪৬] নিগমানন্দ নিজেকে "সম্পূর্ণ এক" হিসেবে উপলব্ধি করলেন।

পরমহংস হিসেবে স্বীকৃতি[সম্পাদনা]

সন্ন্যাস নেবার পর তাঁর নাম হয় "নিগমানন্দ" ১৯০৪ সালে (১৩০৯ বঙ্গাব্দের ১১ই ভাদ্র)[৪৭][২৭]

সিদ্ধি লাভের পর নিগমানন্দ এলাহাবাদে কুম্ভমেলা দেখতে গেলেন এবং জানতে পারলেন যে তাঁর গুরু সচিদানন্দ শৃঙ্গেরী মঠের শঙ্করাচর্যের সাথে ঐ জায়গাতেই ছিলেন। গুরু সচিদানন্দকে দেখতে উদ্বিগ্ন নিগমানন্দ শঙ্করাচর্যের তাবুতে গেলেন যেখানে নিগমানন্দ গুরু সচিদানন্দসহ আরো ১২৫ জন সাধু পরিবেষ্টিত অবস্থায় মঠের অধ্যক্ষকে একটি উচ্চাসনে আসীন অবস্থায় দেখতে পেলেন। গুরুকে দেখে নিগমানন্দ প্রথমে তাঁর গুরুকে শ্রদ্ধা জানালেন এবং পরে অধিক মর্যাদাসম্পন্ন অধ্যক্ষকে সন্মান জানালেন। সাধুগন প্রথমে অধ্যক্ষকে সন্মান না জানানোয় অসন্ত্তুষ্ট হলেন কিন্ত্তু প্রতি উত্তরে নিগমানন্দ এই শ্লোক উদ্ধৃত করেন: "মনাথরো শ্রী জগন্নাথ মদগুরু শ্রী জগদগুরু মহাত্মা সর্বভূতাত্মা তস্মৈ শ্রী গুরুবে নমঃ"। - "আমার স্রষ্টা মহাবিশ্বের স্রষ্টা। আমার গুরু সমগ্র বিশ্বের গুরু। স্বীয় সত্তা সকল সত্তার সত্তা, সেই হেতু আমি বশ্যতা স্বীকার করি আমার গুরুর যিনি আমাকে এটি দেখিয়েছেন।"[৪৮] এই উক্তি আরো ব্যাখ্যা করে যে বেদান্ত দর্শনানুসারে "গুরু" (শ্রী সচিদানন্দ সরস্বতী) এবং "জগদগুরু" (শ্রী জগদগুরু শঙ্করাচর্য) এর মধ্যে কোন পার্থক্য নেই[৪৯][৫০] নিগমানন্দ আরো পরিষ্কার করেন যে, যদি তাদের মধ্যে পার্থক্য থাকতো তার অর্থ হতো এই যে আমাদের মধ্যে স্বীকৃত আধ্যাত্ম দর্শনে কোন বিশ্বাস নেই এবং এটি যদি বিবেচনা করা হতো যে একজন অন্যজন থেকে বড় তাহলে তা আরো বড় উপসংহারে নিয়ে যেত যে পরবর্তী জনের চেয়ে আরো বড় কেউ থেকে থাকবেনএভাবে অন্তহীন বাদানুবাদ চলতেই থাকতো। এই ধরনের সিদ্ধান্ত সর্বদাই বিভ্রান্ত সৃষ্টিকারীআমার গুরু জগদগুরুর সাথে এক হয়ে গিয়েছিলেন যখন জগদগুরু কর্তৃক তাঁর উপর "গুরুগিরি" অর্পিত হয়েছিল; সেই হেতু তাদের মধ্যে পার্থক্য করা উচিত নয় । জগদগুরু এই উত্তর অনুমোদন করলেন এবং নিগমানন্দ আলোকপ্রাপ্ত অবস্থা অর্জন করেছেন বলে স্বীকৃতি দিলেন।[৩৮] জগদগুরু শঙ্করাচার্য সচিদানন্দকে ডাকলেন এবং তাকে বললেন যে তাঁর শিষ্য ইতোমধ্যেই পরমহংস এর অবস্থা অর্জন করেছেন এবং তাকে এই উপাধি দেয়া উচিত। সচিদানন্দ তখন এই প্রস্তাব সাধু সম্মেলনে উথ্থাপন করলেন এবং নিগমানন্দকে পরমহংস উপাধিতে ভূষিত করলেন। এভাবে তাঁর নাম হলো পরিব্রাজকাচার্য শ্রীমদ স্বামী নিগমানন্দ সরস্বতী দেব।[৩৮][৪৪][৫১]

মৃত্যু[সম্পাদনা]

নিগমানন্দ তাঁর জীবনের শেষ চৌদ্দ বছর উড়িষ্যার পুরীতে অতিবাহিত করেন।[৫২] তিনি ১৯৩৫ সালের ২৯শে নভেম্বর কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।[৫৩] তাঁর শিষ্যরা বিশ্বাস করেন যে, তাঁর দৈহিক মৃত্যুর পরও তিনি বেঁচে আছেন, নিগমানন্দের উদ্ধৃতি: আমাকে এই দেহ ছেড়ে যেতে হবে কিন্ত্তু তোমাদের মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত আমি তোমাদের গুরু থাকব এবং আমার মুক্তি হবে না[২৯][৫৪]

জীবনের ব্রত / ধর্মপ্রচারণা[সম্পাদনা]

স্বামী নিগমানন্দের জীবনের ব্রত ছিল:

  • (১) সনাতন ধর্মের প্রচার, অর্থাৎ হিন্দু ধর্মের আধ্যাত্মিক ভিত্তি প্রতিষ্ঠা,
  • (২) মানুষের মাঝে সঠিক ধরণের শিক্ষা বিস্তার (এবং চরিত্র গঠনের উপর গুরুত্ব দিয়ে আধ্যাত্মিক সাহিত্য প্রকাশ),
  • (৩) সকল জীবের মাঝে স্থিত নারায়ণকে সেবা করার মনোভাব নিয়ে সকল জীবকে সেবা প্রদান।[৫৫]

এই উদ্দেশ্যসমূহ উপলব্ধি/বাস্তবায়নের জন্য তিনি তাঁর ভক্তদের নিম্নলিখিত নির্দেশ দেন:

  • (১) আদর্শ গৃহস্থ জীবন গঠন
  • (২) সঙ্ঘ শক্তি প্রতিষ্ঠা
  • (৩) আধ্যাত্মিক ভাব বিনিময়[৪৪][৫৬][৫৭]

উপরোক্ত লক্ষ্যসমূহ অর্জনের নিমিত্তে তিনি সকল পেশার কয়েক হাজার আগ্রহী নর-নারীকে দীক্ষা দেন এবং সকল ধরণের উপদলীয় পক্ষপাতমুক্ত হয়ে পূজা, প্রার্থনা ও ধ্যানের মাধ্যমে তাঁর অনন্য আধ্যাত্মিক অনুশীলনসমূহ শিক্ষা দেন। তিনি তাঁর শিষ্যসমূহকে নির্দিষ্ট সময় পর পর তিন বা ততোধিক জনের দল বা সঙ্ঘে মিলিত হয়ে গুরুর নিকট প্রার্থনা ও পূজা, আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতাসমূহ বিনিময়, "জয়গুরু" স্তব বা গুণকীর্তন,[৪৪] আধ্যাত্মিক গ্রন্থসমূহ পাঠ ও তৎমধ্যস্থিত ধারণাসমূহ চিন্তাভাবনা ও আলোচনা, মঠ এবং আশ্রমসমূহ ব্যবস্থাপনার উপায় ও পন্থা উদ্ভাবন এবং আধ্যাত্মিকভাবে উদ্দীপ্ত/অনুপ্রাণিত আদর্শ গৃহস্থ জীবন যাপনের অঙ্গীকার করতে উৎসাহিত করেন। তিনি তাঁর শিষ্যগণকে উপদেশ দিয়েছিলেন যে, ঈশ্বর বা গুরুর মহিমা "জয়গুরু" এই অক্ষরসমূহের মাধ্যমের মধ্য দিয়ে অনুভূত হয়। যে কেউ ঈশ্বরের কাছে পৌঁছতে পারে এই নামের মধ্য দিয়ে যেহেতু ঈশ্বর হচ্ছেন মহাবিশ্বের গুরু বা প্রভু। যে কোন সম্প্রদায়ের মানুষ তাদের ধর্মীয় জীবনের কোনরুপ ক্ষতি ছাড়াই এই নাম গ্রহণ করতে পারেন।

দর্শন এবং শিক্ষা[সম্পাদনা]

প্রেমিকগুরু নিগমানন্দ
অবতার এবং সৎগুরু

স্বামী নিগমানন্দ কখনই স্বীকার করেননি যে তিনি ছিলেন মূর্তিমান-ভগবান বা একজন অবতার যদিও তার অনেক শিষ্যই এই ধরণের অলীক ধারণা পোষন করেন।[১][৫৮]তিনি নিবেদন করেন যে অবতার হচ্ছেন একটি ধর্ম, দেশ কিংবা এমনকি সমগ্র বিশ্বে আধ্যাত্মিক শৃঙ্খলা বহাল রাখার জন্য পৃথিবীতে ঈশ্বরের অনন্য পুরুষ। তাঁর কর্তৃত্ব দ্বারা সদাচার প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তিনি আসুরিক শক্তিসমূহকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করেন। স্বামী নিগমানন্দ চাইতেন যে তাঁকে সৎগুরু হিসেবে বিবেচনা করা হোক যিনি তাঁর দীর্ঘ জন্ম ও মৃত্যুর পারম্পর্যের অনুসন্ধান দ্বারা তাঁর স্বরুপ জ্ঞান (সত্য প্রকৃতি অর্থাৎ সর্বোচ্চ সার্বজনীন চেতনা) লাভ করেছেন। ধর্মগ্রন্থে প্রমাণ রয়েছে যে গৌতম সত্য উপলব্ধির গুণাবলী অর্জনের পূর্বে এবং মহান "বুদ্ধে" পরিণত হওয়ার পূর্বে তাঁকে অনেকবার জন্মগ্রহণ করতে হয়েছিল।[১] নিগমানন্দ আরো নির্দেশ করেন যে, একজন অবতার স্বর্গীয় ক্রিয়াকর্মে অর্থাৎ লীলায় অংশগ্রহণ করার জন্য সব সময় অতিমানবীয় চেতনার স্তরে থাকেন না।

একজন সৎগুরু যিনি সর্বদাই আত্মসচেতন এবং সহৃদয় থাকেন তিনি কদাচিৎ ভুল বোঝাবুঝির স্বীকার হন।

ব্যক্তিগত ঈশ্বর হিসেবে সৎগুরু

গুরুগণ প্রকৃতপক্ষেই ব্যক্তিগত ঈশ্বর। স্বামী নিগমানন্দ ঘোষণা করেন যে আধ্যাত্মিক জ্ঞান অর্জন এবং মুক্তি অর্জন সম্ভব - হয় কঠোর প্রায়শ্চিত্তের মাধ্যমে অথবা একজন ব্রহ্মচারী সৎগুরুর নিকট আত্মসমর্পণের (তাঁর আদেশ পালনের) মাধ্যমে যেটি আমাদের অধিকাংশই অনুশীলন করতে পারি। যদিও তাদের মনে হয় এবং তারা আচরণ করেন সাধারণ মানুষের মত এবং তাদের প্রায়ই ভুল বোঝা হয়ে থাকে। ব্রহ্মচারী সৎগুরুর দেহগত বা বস্ত্তুগত উপভোগের প্রতি কোন আসক্তি থাকে না। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে অন্য সকলকে সাহায্য করতে এবং সেই সাথে পরিবেশের উন্নতির জন্য তাঁরা সর্বদাই নিয়োজিত থাকেন। কিন্ত্তু সৎগুরু হিসেবে তাঁদের ভূমিকা সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ যেহেতু তিনি প্রজন্ম থেকে প্রজমান্তরে হস্তান্তর করার মত একটি উত্তরাধিকার নির্মাণ করতে পারেন যেমনটি ভগবান শ্রীকৃষ্ণ শ্রীমদ্ভগবত গীতায় বলেছেন।

সৎগুরু, জগৎগুরু এবং ঈশ্বর[৪৪]

স্বামী নিগমানন্দের মতানুসারে, শিষ্যকে তাঁর গুরুকে (অবশ্যই একজন সৎগুরু) একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে নয় বরং জগৎগুরু (মহাবিশ্বের গুরু, পুরুষোত্তম) হিসেবে গ্রহণ করা উচিত (ভগবতগীতায় শ্রীকৃষ্ণের উক্তির সাথে মিল রেখে)।

স্বামী নিগমানন্দ তাঁর শিষ্যদের উপদেশ দিয়েছিলেন শারীরিক মূর্তিকে ধ্যান করতে যাতে তাঁর সকল প্রশংসনীয় গুণাবলী ও বৈশিষ্ট্যসমূহ স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাদের মধ্যে স্থানান্তরিত হয় এবং তাদের আত্মাকে উপযোগী করে। [৫৯]অধিকন্ত্তু তিনি আশ্বস্ত করেন যে, যেহেতু তিনি আত্মিক অনুশীলনের তিন উপায়ে/প্রক্রিয়ায় অন্বেষণকারীর পরম আধ্যাত্মিক লক্ষ্য হিসেবে যুগপৎভাবে ব্রহ্ম, পরমাত্মা এবং ভগবানের প্রকৃতি অনুভব করেছেন, তাঁর প্রকৃত শিষ্যরাও একইভাবে যুগপৎ সেই অভিজ্ঞতা লাভ করবেন। তিনি বলেছিলেন,"সেটি ছিল তাঁর শিষ্যদের নিকট থেকে একমাত্র প্রত্যাশা এবং তিনি সেটি পূরণ হওয়ার দিনটি দেখতে অপেক্ষা করতে ভালবাসবেন।"

আধ্যাত্মিক সাফল্যের/সিদ্ধির ক্রম

যেহেতু আত্মোপলব্ধির অদ্বৈতবাদী তত্ত্বের জন্য আবশ্যকীয় হচ্ছে ব্যক্তি-আত্মাকে সর্বোচ্চ সার্বজনীন আত্মার পর্যায়ে সম্প্রসারণ করা, স্বামী নিগমানন্দের মতানুসারে এটি যথাযথ বুদ্ধিগত অনুসন্ধান, বিশ্লেষণ এবং গভীর ধ্যানের মাধ্যমে আকুলভাবে কামনাকারী/উচ্চাকাঙ্খী সন্ন্যাসীদের মধ্য থেকে শুধুমাত্র যোগ্যতমদের দ্বারাই সরাসরি অনুশীলন করা যেতে পারে, যদিও এই ধরণের সাধনায়ও প্রভুর প্রতি সেবা সাফল্যের চাবিকাঠি। যাই হোক, স্বামী নিগমানন্দ ইঙ্গিত করেন যে শুধুমাত্র সর্বোচ্চ/অখন্ড এর অদ্বৈতবাদী উপলব্ধি অর্জনের পরই সবচাইতে ভাগ্যবানদের দ্বারাই সত্যিকারের দেহাতীত ঐশ্বরিক ভালবাসা ও ভাবাবেশ/সমাধিঅনুভব করা সম্ভব যেমনটি শ্রীমদ্ভগবতগীতায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ঘোষণা করেছিলেন।

এবং

ভক্তির মধ্য দিয়ে সে আমাকে জানতে পারে, আমার স্বরুপগুলি কিরুপ এবং সত্য মধ্যে আমি কে এবং তৎক্ষণাৎ সে আমার মধ্যে প্রবেশ করে (অষ্টাদশ-৫৫)। (অর্থাৎ তিনি এখন ঈশ্বরের সাথে সস্নেহে একাত্ম যার প্রকৃতি তিঁনি জানেন এবং যা তিনি নিজেই অর্জন করেন এবং সেই হেতু তিনি সৎগুরুর ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়ার উপযুক্ত, যা প্রকৃতপক্ষেই স্বামী নিগমানন্দের জীবনে ঘটেছিল।) এই ধরণের আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতার পূর্ব অর্জন ব্যতিরেকে ঈশ্বরের জন্য আরোপিত উপায়ে প্রেমভক্তি হতাশাজনক হতে পারে! যাহোক যারা পূর্ব জন্মে এ ধরণের উপলব্ধি লাভ করেছেন তারা এ জন্মে যথেষ্ট শীঘ্রই ঐশ্বরিক ভালবাসা অর্জনে সমর্থ হতে পারেন।

অদ্বৈতবাদী ও দ্বৈতবাদী সাধনার সমন্বয়সাধন

যদিও কিছু অন্যান্য সাধু আত্মা/ঈশ্বর উপলব্ধির সমভাবে বৈধ মতবাদ বৈচিত্রের এবং তা অর্জনের বহুবিধ বৈধ পথের স্বীকৃতি দেন এবং প্রচার করেন, স্বামী নিগমানন্দ ঈঙ্গিত করেন যে আত্মার অখন্ডতা এবং অখন্ড সার্বজনীন আত্মার (বা পরব্রহ্মের) উপলব্ধি মানব জীবনের প্রকৃত ও চূড়ান্ত লক্ষ্য হওয়া উচিত।[৬০]

এবং সবচেয়ে আকুলভাবে কামনাকারীদের ক্ষেত্রে সে পথে নেতৃত্ব দান করে তাদের দীক্ষা দানকারী আদর্শ আধ্যাত্মিক গুরুর (সৎগুরু) প্রতি সত্যিকারের ভক্তি। গুরুকে ব্যক্তিগত সেবাদান ও প্রার্থনা, জপ এবং সাধারণ ধ্যানের মাধ্যমে তাঁর অনুগ্রহ আবাহন তাদের জন্য আধ্যাত্মিক অনুশীলনের মুখ্য উপায়। এভাবে এটি নিশ্চিতভাবে জেনে যে তাদের গুরু একজন ব্রহ্মজ্ঞানী এবং তাঁর শিক্ষানুযায়ী জীবন যাপনের চেষ্টা করে তারা শুধুমাত্র অদ্বৈতের উপলব্ধি লাভেই সমর্থ হবেন না, অধিকন্ত্তু যখন তারা অন্যদের আত্মার/ঈশ্বরের উপলব্ধি লাভে সাহায্য করার জন্য তাঁর লীলায় অংশগ্রহণ করতে সমর্থ হবেন, তখন কালক্রমে তারা তাঁর প্রতি তীব্র প্রেমের কারণে স্বর্গসুখের অভিজ্ঞতা লাভ করবেন। স্বামী নিগমানন্দের অনুসারীদের মতে তাঁর ভাবাদর্শগত ও পদ্ধতিগত বাণী শঙ্করের মত অর্থাৎ জ্ঞান - জ্ঞানের পথ এবং গৌরাঙ্গের পথ অর্থাৎ ভক্তি - ভক্তির পথ এ তাঁর সকল লেখাসমূহ সনাতন ধর্মে[১] বিরাজমান সাধনা বা আধ্যাত্মিক অনুশীলনের মূলতত্ত্ব এবং প্রায়োগিক পদ্ধতি সম্পর্কিত।[১][৬১]

স্বামী নিগমানন্দ ঈঙ্গিত করেন যে ঈশ্বরের প্রতি শর্তহীন ভক্তি ও প্রেম চর্চাকারী এবং প্রচারকারী গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর প্রদর্শিত পথ ছিল অধিকতর সংকীর্ণ কারণ এতে একমাত্র ঈশ্বর হিসেবে শ্রীকৃষ্ণকে নির্দেশ করা হয়েছে। সে পথকে প্রশস্তকরণের জন্য স্বামী নিগমানন্দ পরামর্শ দেন গুরুকে শ্রীকৃষ্ণের (বা অন্য যে কোন দেব-দেবীর যাকে প্রার্থনাকারী ভালবাসেন) একজন প্রতিমূর্তি হিসেবে গ্রহণ করতে যে ক্ষেত্রে পথপ্রদর্শক নিজেই তার লক্ষ্যে পরিণত হন।

এভাবে স্বামী নিগমানন্দ দুটি আপাতদৃষ্টিতে পরষ্পরবিরোধী ধর্মমতের সমন্বয়সাধন বিশ্বাসযোগ্যভাবে সূত্রবদ্ধ করেন, একটি বেদান্ত দর্শনের অদ্বৈত শিক্ষালয়ের প্রতিষ্ঠাতা মহান শঙ্করাচার্যের কারণে এবং অন্যটি ভক্ত ও ঈশ্বরের মধ্যে আপাত দ্বৈততার তত্ত্বের ও অনুশীলনের প্রবক্তা গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর কারণে। মোটের উপর স্বামী নিগমানন্দ দেখান যে ভক্তি ও প্রেমের পথে অভিকাঙ্খীকে তার অহং যথেষ্ট পরিমাণে দমন করতে হবে বা বশে আনতে হবে এবং অতঃপর তিনি উন্নীত হবেন অদ্বৈত অভিকাঙ্খীর পর্যায়ে যার অহং লক্ষ্যে পৌঁছার পর এর বিশেষত্ব হারিয়ে ফেলেছে। পূর্ববর্তী ক্ষেত্রে স্বকীয় ঈশ্বর চেতনার দ্বারা ভক্তের ব্যক্তিস্বভাব তুচ্ছে পরিণত হয়, পরাভূত হয়, যেখানে পরবর্তী ক্ষেত্রে অভিকাঙ্খী নৈব্যক্তিক সার্বজনীন চেতনার সমুদ্রে তার আত্ম-বোধ হারিয়ে ফেলেন।

জ্ঞানচক্র

স্বামী নিগমানন্দ ভারতীয় এবং বিদেশী উভয় ধরণের বিরাজমান বিভিন্ন আধ্যাত্মিক মতবাদ বা দর্শনের প্রতি অত্যন্ত সহনশীল ছিলেন এবং বিবেচনা করতেন যে সেগুলির প্রত্যেকটিই একটি উদ্দেশ্যকে পূরণ করে এবং স্তরীভূত আধ্যাত্মিক উপলব্ধির পুরা প্রকল্পের সাথে খাপ খায়। তিনি দেখান যে যদিও অদ্বৈত বেদান্ত দর্শনের মতবাদ পরম বাস্তবতাকে ব্যক্তি-চেতনা ও সার্বজনীন চেতনার অভেদের নিরিখে বিবেচনা করে, এটি বস্ত্তুগত সৃষ্টির গঠনকে পদ্ধতিগতভাবে ব্যাখ্যা করে না যেটি, পক্ষান্তরে, সাংখ্য দর্শনের দ্বারা ব্যাখ্যাপ্রাপ্ত হয়। কিন্ত্তু পরে উল্লেখিতটি পরম বাস্তবতাকে বিবেচনা করে না। একইভাবে খ্রীষ্টধর্ম যেখানে ঈশ্বর সাধনার উপায় হিসেবে সেবা ও সমর্পণের উপর জোর দেয়, পূর্ব মীমাংসার ভারতীয় দর্শন সেখানে ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত সুখ লাভের জন্য বিভিন্ন ধর্মীয় আচারানুষ্ঠানের পরামর্শ দেয়।

স্বামী নিগমানন্দের দর্শনকৃত ও ছবির আকারে উপস্থাপনকৃত জ্ঞানচক্র[৬২] ছক (আধ্যাত্মিক সৃষ্টিতত্ত্বের গোলক/বলয়) দিয়ে তিনি ক্ষুদ্র সৃষ্টি/মানুষ (দেহ) এবং মহাবিশ্বের মধ্যে খচিত/আন্তঃবোনা মানব চেতনার বিভিন্ন স্তর চিহ্নিত করেন এবং বিভিন্ন আধ্যাত্মিক বিন্যাস/ক্রমের এবং উপদলের অভিকাঙ্খী শেষ পর্যন্ত কোন স্তরে পৌঁছতে পারেন তা নির্দেশ করেন। এই ছকে তিনি শ্রীকৃষ্ণশ্রীরাধাকে নির্গুণ ব্রহ্মসগুণ ব্রহ্মের[৬৩] মধ্যবর্তী ক্রান্তিকালে রাখেন যেটিকে তিনি বলেন নিত্য বা ভবলোক।[৬৪] (যোগমায়া এক ধরণের দৈব শক্তি, যা পৃথিবীতে আবদ্ধ আত্মাসমূহকে নিরবিচ্ছিন্নভাবে আকর্ষণ করে এবং তাদেরকে সত্যিকারের পরম সুখময় প্রকৃতি উপলব্ধি এবং স্বর্গীয় ক্রীড়ায় অংশগ্রহণ করতে সাহায্য করে।) এই ধারণাকে বিবেচনা করা হয় স্বামী নিগমানন্দের নিজের অন্তর্দৃষ্টি এবং অতীন্দ্রিয় অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে আধ্যাত্মিক চিন্তাভাবনার ক্রমবিকাশের দিকে তাঁর এক অনন্য অবদান হিসেবে।

অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা[সম্পাদনা]

  • আধ্যাত্মিকভাবে মুক্ত হওয়ার জন্য একজন মুক্ত মানুষ (একজন সৎগুরু বা শুধু গুরু) এর সাহায্য প্রয়োজন। হিন্দু শাস্ত্রসমূহে সেই ব্যক্তিকে সৎগুরু হিসেবে পরিচিত। তাঁর অনুগ্রহ বা আনুকূল্য ব্যতীত কেউ মুক্তির পথে কোনো অগ্রগতি করতে পারে না। আবার যিনি পরম বাস্তবতাকে (পরমাত্মা বা ব্রহ্ম) নিজের (আত্মা) সাথে একাত্ম হিসেবে অধিগত হয়েছেন তিনি গুরু।[৬৫]
  • গুরু যিনি কাউকে মুক্ত হতে সাহায্য করেন তাঁকে আনুষ্ঠানিক শিক্ষা, তীর্থ বা দেবত্বের গুরুত্বের সাথে সমান বিবেচনা করা যেতে পারে না। যদি আমরা তাঁর নিকট গভীর ভক্তি এবং প্রেম নিবেদন না করি, তবে অন্য আর কে আমাদের পরম সম্মান পাওয়ার যোগ্য?
  • বেদান্ত যা শিক্ষা দেয় গুরু প্রকৃতপক্ষে তার মূর্ত প্রকাশ - আত্মা এবং পরমাত্মা বা ব্রহ্ম একই।
  • একজন সৎগুরু কখনই কাউকে অভিশাপ দেন না। যদি তাঁকে রাগান্বিত বলে মনেও হয়, তবে তাও শিষ্যের মঙ্গলের জন্য। সৎগুরু উপর নির্ভরতার উপকারিতা অনন্য। এমনকি ঈশ্বরের উপর নির্ভরশীল ব্যক্তিও সমান উপকারিতা পান না কারণ ঈশ্বর কখনই নির্দেশনা দিতে বাস্তবে মূর্ত হন না। গুরু বাস্তবে শিষ্যকে চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
  • এক দিক দিয়ে গুরু এবং শিষ্য অবিচ্ছেদ্য। একজন সত্যিকারের শিষ্যের ব্যক্তিত্ব বা চরিত্রের অংশ না হয়ে গুরু থাকতে পারেন না।
  • আধ্যাত্মিক মুক্তি লাভের দুটি পথ আছে: একটি হচ্ছে সন্ন্যাস যোগে দীক্ষাগ্রহণের ও কঠোরতা পালনের মাধ্যমে এবং অন্যটি - ব্রহ্ম উপলব্ধি লাভ করা সৎগুরুর প্রতি সেবা নিবেদনের মাধ্যমে। পূর্বোক্তটি অত্যন্ত দুঃসাধ্য/কষ্টকর একটি পথ - শিষ্যটিকে এক অর্থে দেহে থাকা অবস্থাতেই মৃত্যুবরণ করতে হবে। অন্য ভাবে বললে তাকে তার দেহ চেতনা ছেড়ে যেতে হবে। কিন্ত্তু কেউ যদি গুরুকে আন্তরিকভাবে সেবা নিবেদনের মাধ্যমে শর্তহীনভাবে তাঁকে ভালবাসে, তবে তার পক্ষে তুলনামূলকভাবে সহজে আধ্যাত্মিক মুক্তি লাভ করা সম্ভব।
  • গুরুর অনুগ্রহ ব্যতীত সারগর্ভ কিছুই অর্জন সম্ভব নয়। আমি আহত কণ্ঠস্বরওয়ালা পাখির মত ইতস্তত সর্বত্র ঘুরছিলাম কিন্ত্তু ঈশ্বর আমাকে সাহায্য করতে আসছিলেন না। কিন্ত্তু যেদিন আমি গুরুর (যিনি মানব রুপে ঈশ্বর) অনুগ্রহ কিংবা কৃপা লাভে সমর্থ হলাম, সেদিন আমি প্রকৃত উন্নতি করতে শুরু করলাম।
  • গুরু, দীক্ষাগ্রহণের সময় তাঁর দেয়া 'মন্ত্র', এবং শিষ্যের পছন্দকৃত দেবতা (বা ইষ্ট) এক। যদি গুরু পছন্দকৃত দেবতা/ইষ্টে পরিণত না হন, তবে তাঁর থেকে পাওয়া মন্ত্র এর শক্তি হারিয়ে ফেলে।[৬৬][৬৭]
  • দীক্ষাদানের মাধ্যমে শিষ্য অর্জন গুরুর পেশা নয়; এটি তাঁর হৃদয়ের অনুপ্রেরণা। গুরু শিষ্যকে দীক্ষা দেন, যত্ন নেন এবং তাকে পথ দেখান এই আশায় যে শিষ্য আধ্যাত্মিকভাবে আলোকপ্রাপ্ত বা অজ্ঞতামুক্ত হবে।

জীবন্মুক্ত উপাসনা তত্ত্ব[সম্পাদনা]

নিগমানন্দের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধারণা ছিল জীবন্মুক্ত উপাসনা তত্ত্ব যা সাধককে দ্রুত আত্ম-উপলব্ধির পথে চালিত করতে পারে বলে তিনি বিশ্বাস করতেন ।[৪৫][৬৮][৬৯][৭০]

কর্ম তত্ত্ব[সম্পাদনা]

স্বামী নিগমানন্দের মতে, কর্ম তিন প্রকারের যথা: ক্রীয়মান, সঞ্চিত, এবং প্রারব্ধ। যখন কেউ তার শ্রমের ফল তার জীবদ্দশাতেই উপভোগ করতে পারে, তখন তাকে বলা হয় ক্রীয়মান; তার শ্রমের ফল ভোগ করার পূর্বেই যদি সে মারা যায়, তবে তাকে বলা হয় সঞ্চিত কর্ম। পূর্ব জন্মের সঞ্চিত কর্মের উদ্বৃত্ত অংশ ভোগ করার জন্য যদি তার পুনর্জন্ম হয়, তবে তাকে বলা হয় প্রারব্ধসাধনার গুণে কারো পক্ষে ক্রীয়মানসঞ্চিতের প্রভাব নিজের জীবন থেকে মুছে ফেলা যেতে পারে কিন্ত্তু প্রারব্ধ কর্মের প্রভাব মুছে ফেলা সম্ভব নয়। পার্থিব উচ্চাকাঙ্ক্ষা দ্বারা যতক্ষণ কোন ব্যক্তি আবিষ্ট থাকে ততক্ষণ তাকে নিশ্চিতভাবে জন্ম-মৃত্যুর অন্তহীন ভ্রমণ গ্রহণ করতে হবে। জীবাত্মা কখনও কখনও নাক্ষত্রিক জগতে ভ্রমণ করার জন্য স্থূল দেহ ত্যাগ করে যাকে বলা হয় প্রেত লোক। এর কর্মের প্রভাবের মধ্য দিয়ে যাবার পর এটি স্থূল দেহের সাথে স্থূল জগতে ফিরে আসে তার অতিরিক্ত বাসনাসমূহ যা তার পূর্ব জন্মে ছিল তা পূরণ করার জন্য। এ ব্যাপারে অজ্ঞ হয়ে কিভাবে এটি এক জগত থেকে অন্য জগতে চলাফেরা করে তা এক বড় রহস্যের বিষয়। যোগীরা এ রহস্য স্পষ্টভাবে হৃদয়ঙ্গম বা প্রত্যক্ষ করতে পারেন এবং জীবের পূর্ব সংস্কার সম্পর্কে বলতে পারেন।[৭১][৭২][৭৩][৭৪]

মৃত্যু চিন্তা প্রক্রিয়া তত্ত্ব[সম্পাদনা]

মৃত্যুরহস্য বিষয়ে স্বামী নিগমানন্দের অন্তর্দৃষ্টি তাদের জন্য সৎগুণ এবং ন্যায়ের পথে হাঁটতে এবং সামান্যতম ভয় ছাড়াই মৃত্যুর রুদ্রমূর্তিকে সম্মুখীন হতে এক পথনির্দেশিকা হিসেবে থেকে যাবে।

স্বামী নিগমানন্দ বলেন যে প্রত্যককেই সব সময় মনে রাখা উচিত যে তাকে একদিন মৃত্যুবরণ করতে হবে। আমরা জানি না কোন মুহূর্তে মৃত্যু আমাদের সাক্ষাৎ দিবে। ভাল বা মন্দ কাজ করার পূর্বে তার এও মনে রাখা উচিত যে তাকে একদিন মৃত্যুবরণ করতে হবে এবং সে দিন খুব বেশী দূরে নয়। মৃত্যু তার মন থেকে ইন্দ্রিয় সুখ এবং মন্দ চিন্তার জন্য দুশ্চিন্তা দূর করবে। যদি সে এটা চিন্তা করে তবে মানুষ দরিদ্রের উপর কোন অন্যায় কাজ করা থেকে বিরত থাকবে। সম্পদ ও সম্পর্ক তখন মানুষের অনুভূতির উপর প্রাধান্য বিস্তার করতে ব্যর্থ হবে। সকল পার্থিব বিষয়সমূহ যার সাথে সে বাঁধা সেগুলি তার এ পৃথিবী ত্যাগের পরেও একই রকম থাকবে। শুধুমাত্র আধ্যাত্মিক সম্পদ যা তিনি জীবদ্দশাতে অর্জন করেছেন তা ব্যক্তির সম্পদ হিসেবে থেকে যাবে। যারা তাদের বুদ্ধির জোরে সম্পদ ও জ্ঞান অর্জন করেছেন এবং সে কারণে অহংকারে স্ফীত হয়েছেন তারা মৃত্যুর ঈশ্বরের নিকট নম্রভাবে আত্মসমর্পণ করবেন যখন সে নির্দিষ্ট মুহূর্ত আসবে। অহংকারে উল্লসিত হয়ে কিছু অবিবেচক মানুষ তাদের সহ-ভ্রাতৃগণের সাথে দুর্ব্যবহার করেন এটা ভুলে গিয়ে যে যথাসময়ে সুদ-সমেত তাদের একই রকম কিছু ফেরত পেতে হবে। তাদের জন্য সে দিন অপেক্ষা করছে যখন তারা জনশূন্য শ্মশান ভূমিতে ত্যাক্ত হবেন এবং সেখানকার জীব-জন্ত্ত তার অস্থি-চর্ম-মাংস নিয়ে আনন্দের সাথে ভোজ করার জন্য অপেক্ষা করবে। তাদের জড় অচেতন দেহ সে সকল প্রাণীর নিকট নীরব আত্মসমর্পণের জন্য পড়ে থাকবে। যদি সে এসব চিন্তা করে তবে সকল মন্দ চিন্তা তার মন থেকে দূর হয়ে যাবে। যারা জীবনের সত্যের প্রতি অন্ধ এবং সাময়িক পার্থিব আনন্দে নিজেদের নিমজ্জিত করেছেন তারা তাদের জীবনের গতি পরিবর্তন করতে সমর্থ হবেন যদি পূর্বোক্ত লাইনগুলো তাদের মনে থাকে। তোমাদের যারা সত্যের ব্যাপারে যথেষ্ট জ্ঞানী এবং সতর্ক হয়েছ তারা মৃত্যুর ব্যাপারে ভীত হবে না এবং তারা এটিকে উচ্চতর জগতে উত্তরণ হিসেবে গ্রহণ করবে।[৬৯][৭৫]

প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানসমূহ[সম্পাদনা]

নিগমানন্দ আস্রম[সম্পাদনা]

নিগমানন্দ আস্রম (কুচবিহার) জেলার (দিনহাটার)[ নিগমনগর] এ অবস্থিত। ঠাকুর নিগমানন্দ আস্রম আর নামানুসারে পরবর্তী কালে সেই এলাকার নাম হয় নিগমনগর। ঠাকুরের নামে পরবর্তী কালে স্কুল কলেজ আর নাম ও রাখা হয়। ২০১২ সালে ঠাকুর নিগমানন্দ এর পুনরায় প্রতিষ্ঠা করাহয় মন্দিররে।

গারোহিল যোগ আশ্রম[সম্পাদনা]

১৩১২ বঙ্গাব্দে, নিগমানন্দ আসামের (বর্তমানে মেঘালয়) গারোহিলে একটি যোগ আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন।[২৭][৭৬]

সারস্বত মঠ[সম্পাদনা]

১৯১২ সালে স্বামী নিগমানন্দের প্রতিষ্ঠিত শান্তি আশ্রম এখন "আসাম বঙ্গীয় সারস্বত মঠ" নামে পরিচিত [২৭]

স্বামী নিগমানন্দ শিবসাগর জেলার জোড়হাটে এক খন্ড জমি নেন এবং ১৩১৯ বঙ্গাব্দের (১৯১২ সালে) বৈশাখ মাসের অক্ষয়া তৃতীয়ায় সেখানে একটি আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন।[৭৭] এটাকে বলা হতো "শান্তি আশ্রম" বা সারস্বত মঠ, যা পরবর্তীকালে আসাম-বঙ্গীয় সারস্বত মঠ নামে পরিচালিত হয়ে আসছে।[৭৮] মঠের উদ্দেশ্য/ব্রত ছিল সনাতন ধর্ম ব্যাপকভাবে প্রচার, প্রকৃত শিক্ষা বিস্তার এবং সকলকে ঈশ্বরের প্রতিমূর্তি হিসেবে সেবা করা।

সারস্বত মঠ জোড়হাটের ছয় মাইলের মধ্যে এক দারুণ তৃণভূমির কোলে আশ্রিত ছিল। মঠের এক পাশে ছিল এক উপজাতীয় গ্রাম আর এর তিন দিক গভীর বনে ঘেরা ছিল। মারিয়ানি-জোড়হাট রেলপথ উপজাতীয় গ্রামটির মধ্য দিয়ে কোকিলামুখ পর্যন্ত গিয়েছে। হিমালয় পর্বতমালা এ জায়গার উত্তরে, উদয়গিরি পূর্বে এবং নাগা পর্বত দক্ষিণে অবস্থিত। আশ্রমের দৃশ্য প্রাচীনকালের আশ্রমের দৃশ্য মনে করিয়ে দিত। পাশ্ববর্তী জঙ্গল এবং জায়গাটির নির্জনতা ধ্যানের অত্যন্ত অনুকূল ছিল। ধর্মগ্রন্থ পাঠ ও ধ্যানের সাথে সাথে গবাদি পশু চরানো, ঘাস খাওয়ানো এবং এদের জন্য শুকনো খাদ্য সংগ্রহ ছিল আশ্রমের ব্রহ্মচারীদের উপর অর্পিত কাজ। স্বামী নিগমানন্দ কর্তৃক সম্পাদিত "সারস্বত গ্রন্থাবলী"র কাজ এই মঠের প্রেস হতে প্রকাশিত হয়েছিল। আর্য দর্পণ নামের ধর্মীয় মাসিক পত্রিকা এখান হতে মুদ্রিত হওয়া অব্যাহত ছিল। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটিকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে আশ্রমটিতে মুদ্রণ, অন্যান্য শিল্প যেমন কাঠের কাজ, কামারের কাজ এবং হস্তচালিত তাঁত চালু করা হয়েছিল। দাতব্য ঔষধালয়টি মঠের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে পরিণত হয়েছিল যেখানে গরীব রোগীদের ঔষধসহ চিকিৎসা সেবা দেয়া হতো। ছাত্রদের যোগ শিক্ষা দেয়ার জন্য ঋষি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।[৭৯][৮০][৮১][৮২]

স্বামী নিগমানন্দ মহান শঙ্করাচর্যের আদেশে "সরস্বতী"র ঐতিহ্যে তাঁর দশ জন ধর্মপ্রাণ শিষ্যকে সন্ন্যাসে দীক্ষা দেন, যাদের মধ্যে কনিষ্ঠতম ছিলেন "স্বামী নির্বাণানন্দ সরস্বতী" (একজন বিদ্বান, পন্ডিত, দার্শনিক এবং লেখক যিনি পরে অনির্বাণ হিসেবে বিখ্যাত হন) এবং "স্বামী প্রজনানন্দ সরস্বতী"। স্বামী প্রজনানন্দকে সারস্বত মঠ ও আশ্রম প্রতিষ্ঠানসমূহের ট্রাস্টি এবং মোহন্ত হিসেবে শপথ পাঠ করিয়ে [৮৩] স্বামী নিগমানন্দ অবসর নেন এবং ১৯৩৫ সাল পর্যন্ত পুরীতে নীলাচল কুটিরে কয়েক বছর বসবাস করেন।

সারস্বত মঠের ১০০ বছর (১৩১৯ - ১৪১৮ বঙ্গাব্দ)[সম্পাদনা]

ভারতের জোড়হাটে (কোকিলামুখে) স্বামী নিগমানন্দের আশ্রম-স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান আসাম বঙ্গীয় সারস্বত মঠ (Shanti Ashram, completed 100 years, on bank of river Brahamaputra)

১৩১৯ বঙ্গাব্দে (১৯১২ সালে) স্বামী নিগমানন্দ প্রতিষ্ঠিত এ প্রতিষ্ঠান (শান্তি আশ্রম) বা "সারস্বত মঠ" ১৪১৮ বঙ্গাব্দের বৈশাখের অক্ষয়া তৃতীয়ায় (২০১১ সালের ৬ ই মে) এর জীবনের একশত বছরে পদার্পণ করল।[২৭] স্বামী নিগমানন্দের উক্তিটি নিম্নরুপ:

এই শান্তি আশ্রম আমার সারা জীবনের সাধনা ও প্রচেষ্টার ফল; এ আশ্রমের সাথে তুলনা করলে আমার জীবনকে যতসামান্য গুরুত্বের মনে হতে পারে—আমি আমার জীবনকে এ আশ্রমের জন্য শতবার উৎসর্গ করতে পারি। এটি আমার প্রত্যাশা যে এ আশ্রম থেকে উপযুক্ত সময়ে শত শত নিগমানন্দ বের হয়ে আসবে। আমার শিষ্যগণ, তোমরা আমার সে আশ্রমের রক্ষক, এবং আমি আশা করি যে তোমাদের কেউই আমার আত্মা-সদৃশ এ আশ্রমকে অবহেলা করবে না, এবং তদনুযায়ী আমার মৃত্যুর কারণ হবে না। - স্বামী নিগমানন্দ [৮৪]

গুরু ব্রহ্ম আশ্রম[সম্পাদনা]

স্বামী নিগমানন্দ গুরু ব্রহ্ম আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন যেখানে যে কোন বিশ্বাসের ব্যক্তিবর্গ তাদের নিজস্ব পথে ঈশ্বরের আরাধনা করতে পারতেন। তিনি অবিভক্ত বাংলার পাঁচটি বিভাগে পাঁচটি আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন: বাংলাদেশের কুমিল্লার ময়নামতিতে "পূর্ব বাংলা সারস্বত আশ্রম", বাংলাদেশের ঢাকার কালনিতে "মধ্য বাংলা সারস্বত আশ্রম", বগুড়াতে "উত্তর বাংলা সারস্বত আশ্রম", মেদিনীপুরের খরখুসামায় "পশ্চিম বাংলা সারস্বত আশ্রম" এবং ২৪ পরগণার হালিশহরে "দক্ষিণ বাংলা সারস্বত আশ্রম"।[৮১] তিনি অনেক আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন এবং গুরু-শিষ্য ঐতিহ্যে হাজার হাজার শিষ্য তৈরী করেন।[৮৫] আসামের জোড়হাটের কোকিলামুখে স্বামী নিগমানন্দ ১৯১৫ সালে জগৎ গুরু আসন সংস্থাপন করেন।[৮৬]

নীলাচল সারস্বত সঙ্ঘ, পুরী[সম্পাদনা]

ভারতের পুরীর নীলাচল সারস্বত সঙ্ঘের প্রতীক

স্বামী নিগমানন্দ তাঁর কাজ থেকে অবসর নেন এবং ওড়িশার পুরীর নীলাচল কুটিরে বসবাস করেন। পুরী চার ধাম তীর্থযাত্রার অংশ হিসেবে হিন্দুদের একটি পবিত্র শহর যা ভগবান জগন্নাথের শহর হিসেবেও পরিচিত। স্বামী নিগমানন্দ বিশ্বাস করতেন যে ভগবান জগন্নাথ হচ্ছেন "সত্যের প্রতীক" কারণ ওড়িশার পুরীর ভগবান জগন্নাথের ধর্মানুষ্ঠানের মধ্যে সাংস্কৃতিক সত্যতা, একতা এবং অখন্ডতা মূর্ত/অন্তর্ভূক্ত করে।[৮৭][৮৮] তিনি তাঁর জীবনের বাকী ১২ বছর পুরীতে অতিবাহিত করেন।

২৪শে আগষ্ট ১৯৩৪ (শুক্রবার), শ্রাবণ পূর্ণিমা দিবস, নীলাচল সারস্বত সঙ্ঘ স্বামী নিগমানন্দের নিজের দ্বারা পুরীতে নীলাচল কুটিরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।[৮৯][৯০][৯১] ওড়িশার ভক্তবৃন্দ তাঁর জন্মদিন উদ্‌যাপন করতে সেখানে জড় হন। তিনি তাদের মধ্যে একটি ধর্মীয় বৃত্ত গঠনের উপদেশ দেন। তাঁর ইচ্ছানুসারে কিছু ভক্ত ধর্মীয় আলোচনার জন্য একটি সমিতি বা সংসদ চালু করেন এবং গ্রুপভিত্তিক আলোচনা এবং উপাসনার পর্যায়ক্রমিক বৃদ্ধির দ্বারা "নীলাচল সারস্বত সঙ্ঘ" (সঙ্ঘ)[৯১] চালু হয়, তিনটি উদ্দেশ্য পূরণের জন্য, (১) আদর্শ গৃহস্থ জীবন যাপন, (২) মিলিত শক্তি প্রতিষ্ঠা এবং (৩) ভাব বিনিময়।[৫৬][৯২]

অন্যান্য প্রতিষ্ঠান[সম্পাদনা]

বর্তমানে ভারতের কিছু জায়গায় স্বামী নিগমানন্দের অনুসারীদের দ্বারা যোগ, শিক্ষা এবং দর্শনের কিছু প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে।

কর্ম[সম্পাদনা]

প্রকাশনাসমূহ[সম্পাদনা]

আধ্যাত্মিক পুস্তক এবং সাময়িকী সমূহ: সারস্বত গ্রন্থাবলী এবং আর্য দর্পণ ছিল সত্যানুরাগীদের জন্য তাঁর অবদান।

সারস্বত গ্রন্থাবলী

সারস্বত গ্রন্থাবলী

শুধু পাঠগত উৎসের ভিত্তিতেই নয় বরং তাঁর প্রথম হাত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নিগমানন্দের লেখা বিখ্যাত গ্রন্থসমূহ হচ্ছে "ব্রহ্মচর্য সাধন", "যোগী গুরু", "তান্ত্রিক গুরু", "জ্ঞানীগুরু" এবং "প্রেমিক গুরু" যেগুলি সনাতন ধর্মে বিদ্যমান মৌলতত্ত্ব এবং সাধনা বা আধ্যাত্মিক অনুশীলনের প্রায় সকল বাস্তব পদ্ধতি সম্পর্কিত।[১৭][৯৩][৯৪][৯৫] এর অব্যবহিত পরেই তাঁর পর পর লেখা "মায়ের কৃপা"[৯৬], "বেদান্ত বিবেক" এবং "তথ্যমালা" আধ্যাত্মিক জগতে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান।

সনাতন ধর্ম পত্রিকা - আর্য দর্পণ



আর্য দর্পণ

যৌক্তিক ভিত্তি বিবর্জিত সংকীর্ণ ধর্মীয় বিশ্বাস দ্বারা ভ্রান্ত পথে চালিত হতে প্রবণ জনগণের মাঝে অ-উপদলীয় আধ্যাত্মিক জ্ঞান বিতরণের উদ্দেশ্যে তিনি আর্য দর্পণ[৯৭][৯৮] নামে এক মাসিক পত্রিকাও প্রকাশ করেন।

এই পত্রিকায় তিনি ধর্মীয় ও ধর্মগ্রন্থ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উপর অনেক রচনা লেখেন। নিগমানন্দের অনুসারীরা ঘোষণা করেছেন যে পৃথিবীর যে কোন বিশ্বাসের অনুসারীদের নিকট এই গ্রন্থসমূহ উপকারী এবং যদি যত্ন সহকারে সেগুলিতে বর্ণিত বিষয়সমূহ চর্চা করা হয় তবে তা আধ্যাত্মিক সাধনায় যে কোন মানুষকে সুনির্দিষ্ট সাফল্যে পৌঁছে দেবে। এই সকল গ্রন্থসমূহ বাংলা থেকে ওড়িয়া ভাষায় অনুবাদ করেন একজন ওড়িয়া সাহিত্য পুরস্কার বিজয়ী ব্যক্তিত্ব এবং ঠাকুরের শিষ্য শ্রী ডি সি মোহান্তি, পুরী (শ্রী দুর্গা চরণ মোহান্তি)।[৯৯] যেহেতু স্বামী নিগমানন্দ এক দীর্ঘ এবং অব্যাহত খোঁজের মধ্য দিয়ে তাঁর গুরুকে আবিষ্কার করেছিলেন, তাঁর অনেক শিষ্যকেও তাঁকে খুঁজে পেতে একই নিয়ম অনুসরণ করতে হয়েছিল। এ রকম অল্প কিছু সংখ্যক গল্প তাঁর শিষ্যদের দ্বারা বর্ণিত হয়েছে।[৩৮][১০০][১০১]

ভক্ত সম্মিলনী ১৯২২: ভক্তদের সাথে স্বামী নিগমানন্দ (মাঝে)

ভক্ত সম্মিলনী[সম্পাদনা]

বিভিন্ন উপাসনা উপদলসমূহকে শক্তিশালী, জীবনে গুরু থাকার প্রয়োজনীয়তা আলোচনা, আশ্রমে থাকা সন্ন্যাসীদের কল্যাণ পর্যালোচনা, সামগ্রিকভাবে তাদের এবং আশ্রমের সমস্যাসমূহ সমাধানে সাহায্য, বিদ্যালয় বা সম্প্রদায়ের জন্য সমাজসেবামূলক কাজ এবং পরিশেষে সর্বজনীন আধ্যাত্মিক জীবনের সমসাময়িক সমস্যাসমূহের উপর আলোকিত বক্তাদের বক্তৃতা শ্রবণে আধ্যাত্মিক সভা আয়োজন করার জন্য স্বামী নিগমানন্দ গৃহস্থ ও সন্ন্যাসী উভয় ধরণের ভক্তদের বার্ষিকভাবে এক সম্মেলনে মিলিত হওয়ার আহ্বান করেন যাকে বলা হয় ভক্ত সম্মিলনী[৫৯]নিগমানন্দ বলেন যে এই সকল কার্যক্রমের উদ্দেশ্য হলো শিষ্যদের আধ্যাত্মিকভাবে অগ্রসর হতে সাহায্য করা যাতে তারা জীবনে শান্তি এবং সত্যিকারের সুখ লাভ করতে পারে।[১] নিগমানন্দ পৃথিবীর মঙ্গলার্থে এই সম্মিলনী সম্পর্কে কিছু স্পষ্ট নিয়ম-নীতি রেখে গেছেন।

তিনি এই সম্মিলনীকে দুটি অংশে বিভক্ত করেন: একটি হচ্ছে সার্বভৌম (দেশব্যাপী) ভক্ত সম্মিলনী এবং অন্যটি হচ্ছে প্রাদেশিক (রাজ্যব্যাপী) ভক্ত সম্মিলনী

সার্বভৌম ভক্ত সম্মিলনী

স্বামী নিগমানন্দ ১৯১৫ সালে আসামের জোড়হাটের কোকিলামুখে প্রথম সার্বভৌম ভক্ত সম্মিলনী চালু করেন।[১]

১৯৩৪ সালের সার্বভৌম ভক্ত সম্মিলনীতে স্বামী নিগমানন্দ প্রতিনিধি হিসেবে তাঁর সকল শিষ্যদের আমন্ত্রণ জানান এবং পুরীতে পরবর্তী সার্বভৌম ভক্ত সম্মিলনীর ডাক দেন।

প্রাদেশিক ভক্ত সম্মিলনী

প্রথম প্রাদেশিক সম্মিলনী ১৯৪৭ সালে "নীলাচল সারস্বত সঙ্ঘ, পুরী" কর্তৃক ওড়িয়ার গঞ্জাম জেলার আঙ্কোলিতে মঘার পূর্ণিমাতে অনুষ্ঠিত হয় যেখানে প্রায় ৬০ জন ভক্ত সমাবেশ করেন।[১০২]

সম্মিলনীতে ভক্তদের জমায়েত থেকে উপচে পড়া স্বর্গসুখের অনন্ত প্রস্রবণ থেকে স্বর্গীয় সুখ উপভোগ করতে স্বামী নিগমানন্দ তাঁর সন্তানদের (শিষ্যদের এবং ভক্তদের) প্রত্যেককে তাঁর উষ্ণ ও আন্তরিক আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। সম্মিলনীতে আনন্দের প্লাবন উপচে পড়ে এবং অংশগ্রহণকারীরা এর অংশী হন। বার্ষিক সম্মিলনী তাঁর হৃদয়ের খুর প্রিয় ছিল এবং ভক্তদের সকলেই এখানে শিষ্যদের সাথে মিলিত হওয়াতে তাঁর আনন্দ উপলব্ধি করতেন।

তিনি বলেন:

আমার ভক্তরা সম্পূর্ণভাবে অবহিত যে বছরে একবার খ্রীষ্টমাসে এই সম্মিলনীতে তাদের জড় হতে দেখে আমি আনন্দিত। এই ধরণের সমাবেশ মঠসমূহকে বিখ্যাত করবে এবং পৃথিবীর জন্য সাধারণভাবে মঙ্গল বয়ে আনবে। - স্বামী নিগমানন্দ [১০৩]

স্বামী নিগমানন্দ বার্ষিক সম্মিলনীতে মহিলা শিষ্যদের জন্য একটি ভিন্ন উপাসনা দিবসের সূচনা করেছিলেন যেখানে তারা নিজেরাই অংশগ্রহণ এবং তাদের দৃষ্টিভঙ্গি বিনিময় করতে পারত।

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

পাদটীকা[সম্পাদনা]

  1. ১.০০ ১.০১ ১.০২ ১.০৩ ১.০৪ ১.০৫ ১.০৬ ১.০৭ ১.০৮ ১.০৯ ১.১০ ১.১১ Moni Bagchee (1987)। Sadguru Nigamananda: a spiritual biography। Assam Bangiya Saraswat Math। পৃ: 43। সংগৃহীত 9 June 2011 
  2. "Nigamananda Paramahansha"BANGLAPEDIA। সংগৃহীত 2011-06-08 
  3. Saraswata Sangha, America। "Paramahansa Srimat Swami Nigamananda Saraswati Deva"। Nilachala Saraswata Sangha,Puri। সংগৃহীত 2011-06-09 
  4. Sher Singh; S. N. Sadhu (1991)। Indian books in print। Indian Bureau of Bibliographies.। পৃ: 572। আইএসবিএন 9788185004464। সংগৃহীত 2 April 2011 
  5. Moni Bagchee (1987)। Assam Bangiya Saraswata Math(1987), সম্পাদক। Glory of India (Sadguru Nigamananda সংস্করণ)। Motilal Banarsidass। পৃ: 98। আইএসবিএন 0887061778 |isbn= মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য)। সংগৃহীত 2 April 2011 
  6. Prof. Shrikant Prasoon (28 July 2009)। Indian saints and sages। Pustak Mahal। পৃ: 57–। আইএসবিএন 9788122310627। সংগৃহীত 1 April 2011 
  7. Paramahamsa Prajnanananda (15 August 2006)। My Time with the Master। Sai Towers Publishing। পৃ: 25–। আইএসবিএন 9788178990552। সংগৃহীত 18 March 2011 
  8. Mohan Lal (1 January 2006)। The Encyclopaedia Of Indian Literature (Volume Five (Sasay To Zorgot)। Sahitya Akademi। পৃ: 3961–। আইএসবিএন 9788126012213। সংগৃহীত 18 March 2011 
  9. Books Llc (May 2010)। Hindu Gurus: Swami Vivekananda, A. C. Bhaktivedanta Swami Prabhupada, Paramahansa Yogananda, Sathya Sai Baba, Guru, Sai Baba of Shirdi। General Books LLC। আইএসবিএন 9781156841020। সংগৃহীত 1 April 2011 
  10. Sri Chinmoy (January 1997)। Jardin Del Alma। Editorial Sirio, S.A.। পৃ: 119–। আইএসবিএন 9788478082308। সংগৃহীত 28 June 2011 
  11. Books; LLC (May 2010)। Hindu Philosophers: Paramahansa Srimat Swami Nigamananda Saraswati Dev,Gautama Buddha, Sarvepalli Radhakrishnan, Swami Vivekananda,। General Books LLC। আইএসবিএন 9781157067009। সংগৃহীত 1 April 2011 
  12. Prafulla Chandra Bhanja Deo; Jitāmitra Prasāda Siṃhadeba (2007)। A Tantric scholar, and the British wrath on Bastar State: historical documentation relating to Rajkumar Prafulla Chandra Bhanja Deo, and Swami Nigamananda Saraswati। Punthi Pustak। পৃ: 4, 13, 20। আইএসবিএন 9788186791660। সংগৃহীত 9 June 2011 
  13. Chandra Bhanu Satpathy (1 July 2001)। Shirdi Sai Baba and other perfact masters। Sterling Publishers Pvt. Ltd। পৃ: 717–। আইএসবিএন 9788120723849। সংগৃহীত 1 April 2011 
  14. Narasingha Prosad Sil (1991)। Rāmakṛṣṇa Paramahaṁsa: a psychological profile। BRILL। পৃ: 92–। আইএসবিএন 9789004094789। সংগৃহীত 1 April 2011 
  15. Library of Congress Office; New Delhi (1980)। Accessions list, India। Library of Congress Office। সংগৃহীত 15 March 2011 
  16. David R. Kinsley (1979)। The divine player: a study of Kṛṣṇa līlā। Motilal Banarsidass। পৃ: 296–। আইএসবিএন 9780896840195। সংগৃহীত 15 March 2011 
  17. ১৭.০ ১৭.১ List of Books-Page:102, Brahamcharya Sadhana, Yogi Guru, Gyani Guru, Tantrika Guru, Premika Guru, (Ami ki Chai) at Religious movements in modern Bengal By Benoy Gopal Ray Visva-Bharati, 1965
  18. Swami Nigamananda, collection,Bangala Pedia Nigamananda wrote several books on ascetic philosophy and tantricism
  19. Premika Guru, Bangla 4th Edition By West Bengal PUblic Library Network
  20. Nigamananda (1926)। Yogi Guru - 7th ed. (Bengali ভাষায়)। Saraswat Math, Garohill Yogashram। সংগৃহীত 2011-06-08 
  21. Divine way of life Accessdate=15 April 2011,Nigamananda who had to sacrifice ... Nirvikalpa Samadhi, Swami Nigamananda had experienced the state of Nirvikalpa,Publisher=B.Jain,Year=2000, ISBN=9788170219118
  22. [১]Author=Moni Bagchee|title=Sadguru Nigamananda: a spiritual biography,Accessdate=15 April 2011,Swami Nigamananda's Nirvikalpa Exprience,Publisher=Assam Bangiya Saraswat Math,Year=1987 Page=73
  23. Ray, Benoy Gopal (1965)। Religious movements in modern Bengal। Visva-Bharati। পৃ: 100। সংগৃহীত 9 June 2011 
  24. Nilachal Saraswat Sangh (Purī, India) (2001)। Sadguru Swami Nigamananda ("The Bhatacharya Family of Kutabpur" সংস্করণ)। Nilachal Saraswat Sangha, Puri। পৃ: 8। সংগৃহীত 22 June 2011 
  25. Sangha, America Saraswata। "Swami Nigamananda's Life Chronological Events"। সংগৃহীত 2011-06-20 
  26. Saraswata Sangha, Berhampur। "Swami Nigamananda"। Nilachala Saraswata Sangha,Puri। সংগৃহীত 2011-06-09 
  27. ২৭.০ ২৭.১ ২৭.২ ২৭.৩ ২৭.৪ ২৭.৫ Swami Nigamananda's Chronological events in his life[অকার্যকর সংযোগ]
  28. Sangha, America Saraswata। "Swami Nigamananda's Life Chronological Events"। সংগৃহীত 2011-06-20 
  29. ২৯.০ ২৯.১ Swami Nigamananda Collection,Bangala Pedia
  30. Ray, Benoy Gopal (1965)। Religious movements in modern Bengal। Visva-Bharati। পৃ: 100। সংগৃহীত 9 June 2011। "Suddenly he saw the shadowy image of his wife" 
  31. Ray, Benoy Gopal (1965)। Religious movements in modern Bengal। Visva-Bharati। পৃ: 100। সংগৃহীত 9 June 2011। "He went to the Theosophical Society at Adyar and discussed with theosphists..." 
  32. Sangha, America Saraswata। "Swami Nigamananda's Life Chronological Events"। সংগৃহীত 2011-06-20 
  33. Saraswata Sangha, Berhampur। "Swami Nigamananda"। Nilachala Saraswata Sangha,Puri। সংগৃহীত 2011-06-09 
  34. Debabrata Sen Sharma (2007)। Aspects of Tantra Yoga। Indica Books। পৃ: 44। আইএসবিএন 9788186569672। সংগৃহীত 1 April 2011 
  35. June McDaniel (1989)। The madness of the saints: ecstatic religion in Bengal। University of Chicago Press। পৃ: 151–। আইএসবিএন 9780226557236। সংগৃহীত 18 March 2011 
  36. Saraswata Sangha, Berhampur। "Swami Nigamananda"। Nilachala Saraswata Sangha,Puri। সংগৃহীত 2011-06-09 
  37. Sangha, America Saraswata। "Swami Nigamananda's Life Chronological Events"। সংগৃহীত 2011-06-20 
  38. ৩৮.০ ৩৮.১ ৩৮.২ ৩৮.৩ ৩৮.৪ ৩৮.৫ Sri Chinmoy (1 March 2003)। Wisdom of Sri Chinmoy। Motilal Banarsidass Publ.। পৃ: 81–। আইএসবিএন 9788120819436। সংগৃহীত 15 March 2011 
  39. Religious movements in modern Bengal Author-Benoy Gopal Ray, Visva-Bharati, 1965,His name was changed to "Nigamananda" .... Page -101
  40. Monika Horstmann (8 June 2009)। Patronage and popularisation, pilgrimage and procession: channels of transcultural translation and transmission in early modern South Asia ; papers in honour of Monika Horstmann। Otto Harrassowitz Verlag। পৃ: 63–। আইএসবিএন 9783447057233। সংগৃহীত 4 April 2011 
  41. Mahadham Orissa Review, June 2006 By Govt. of Orissa
  42. Religious movements in modern Bengal Author-Benoy Gopal Ray, Visva-Bharati, 1965,After continuous search he found a Yogi Guru Sumeru Das ji.... Page -101
  43. Sangha, America Saraswata। "Swami Nigamananda's Life Chronological Events"। সংগৃহীত 2011-06-20 
  44. ৪৪.০ ৪৪.১ ৪৪.২ ৪৪.৩ ৪৪.৪ ৪৪.৫ Nilachal Saraswat Sangh (Purī; India) (2001)। Sadguru Swami Nigamananda। Nilachal Saraswat Sangha, Puri। পৃ: 188। সংগৃহীত 26 March 2011 
  45. ৪৫.০ ৪৫.১ Nigamānanda (2000)। Divine way of life। B.Jain। আইএসবিএন 9788170219118। সংগৃহীত 2 April 2011 
  46. Monika Thiel-Horstmann (1983)। Bhakti in current research, 1979-1982: proceedings of the Second International Conference on Early Devotional Literature in New Indo-Aryan Languages, St. Augustin, 19–21 March 1982। D. Reimer Verlag। পৃ: 118–120। আইএসবিএন 9783496007500। সংগৃহীত 1 April 2011 
  47. Sangha, America Saraswata। "Swami Nigamananda's Life Chronological Events"। সংগৃহীত 2011-06-20 
  48. Gurustotram Yoga Magazine
  49. Ādi Śaṅkara Advaita Research Centre (Madras, India); Non-difference between Guru and AcSrya JAGADGURU (1982)। The Voice of Śaṅkara। Ādi Śaṅkara Advaita Research Centre। পৃ: 140। সংগৃহীত 15 June 2011  |coauthors= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  50. Michael Oren Fitzgerald; The voice of the Jagadguru is an essential part of his message. But Hindus believe that the guru's presence is also part of his message because his spiritual presence can be felt by sincere spiritual seekers. ... (25 May 2008)। Introduction to Hindu dharma: illustrated। World Wisdom, Inc। পৃ: 13–। আইএসবিএন 9781933316482। সংগৃহীত 15 June 2011  |coauthors= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  51. Shree Shree Thakur Nigamananda-Oriya Jeevani,See-"KUMBHA MELA" Writer: Durgacharan Mohanty, Banmali Das, Nilanchala Saraswata Sangha, Puri
  52. Kamal K. Mohanty (2001)। Orissa, the lost footsteps। Vision Publications। পৃ: 384, 195। আইএসবিএন 9788187176008। সংগৃহীত 1 April 2011 
  53. "Nigamananda Paramahansha"BANGLAPEDIA। সংগৃহীত 2011-06-08 
  54. The divine universal gospels of Sri Nigamananda : Translation, a lucid word to word rendering to English,Accessdate=15 April 2011,Swami Nigamananda's Advice to his Disciples,Publisher=Amitabh Giri,Chapter=THE END OF THE YEAR Page=104
  55. Ray, Benoy Gopal (1965)। Religious movements in modern Bengal। Visva-Bharati। পৃ: 102। সংগৃহীত 9 June 2011। "Sanatan Dharma which is eternal and changeless. Another aim is to impart proper Education...." 
  56. ৫৬.০ ৫৬.১ The 3 ideals of Nilachala Saraswata Sangha, Authors=Mamata Swain,Jagannath Lenka,Minati Mallick,Coauthors=North Orissa University. P. G. Dept. of Economics, India. Ministry of Women and Child Development|title=Gender perspective in disaster management,Publisher=Serials Publications|lISBN=9788183871211, Search String "Adarsha Gruhastha", Page=228
  57. Religious movements in modern Bengal Author-Benoy Gopal Ray, Visva-Bharati, 1965,Ideals,Lead an ideal householders's life. Nigamananda laid great tress on the spirit of unity and co-operation(combined power, shangha shakti).... Page -101
  58. Saraswata Sangha, America। "Swami Nigamananda's Philosophy and Teachings"। Nilachala Saraswata Sangha, Puri। সংগৃহীত 2011-06-11 
  59. ৫৯.০ ৫৯.১ Biśuddhānanda Sarasvatī (Swami) (1985)। In quest of myself: an autobiography (Quote of Swami Nigamananda সংস্করণ)। Nigamananda Ashram। পৃ: 57। সংগৃহীত 12 April 2011 
  60. Benoy Gopal Ray (1965)। Religious movements in modern Bengal। Visva-Bharati। পৃ: 102। সংগৃহীত 9 July 2011 
  61. Dr. G.S. Chauhan (1 January 2005)। The Gospel Of The Sikh gurus। (Gyan - Path of Knowledge & Bhakti Path of Devotion)। Hemkunt Press। পৃ: 44–। আইএসবিএন 9788170103530। সংগৃহীত 11 July 2011 
  62. Linda Johnsen (25 January 2000)। Meditation is boring?: putting life in your spiritual practice। Himalayan Institute Press। পৃ: 71–121। আইএসবিএন 9780893891794। সংগৃহীত 4 April 2011 
  63. Arvind Sharma (1 July 2001)। Classical Hindu thought: an introduction। (CHAPTER-III Brahman : Nirguna and Saguna) (English ভাষায়)। Oxford University Press। পৃ: 43। আইএসবিএন 9780195658712। সংগৃহীত 11 July 2011 
  64. R. Venugopalan (1 October 2001)। Soul Searchers the Art of Breathing। (Bhava Loka)। B. Jain Publishers। পৃ: 53–। আইএসবিএন 9788170219637। সংগৃহীত 11 July 2011 
  65. Manoj Das; Neeta Gangopadhyay; Sahitya Akademi (2001)। Tales told by mystics। Sahitya Akademi। পৃ: xii–233। আইএসবিএন 9788126011759। সংগৃহীত 1 April 2011 
  66. Sir Charles Eliot; Guru and Ista(deity) are one and the same (1998)। Hinduism and Buddhism: an historical sketch। Psychology Press। পৃ: 250–। আইএসবিএন 9780700706792। সংগৃহীত 15 June 2011  |coauthors= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  67. {{cite book|author=Brahma|coauthors=No difference is supposed to exist between the guru and the ista|title=The Fundamentals of Religion|url=http://books.google.com/books?id=akPlrHBkOj8C&pg=PA252%7Caccessdate=15 June 2011|date=1 August 2007|publisher=PHI Learning Pvt. Ltd.|isbn=9788120333031|pages=252–}}
  68. Swami Nigamananda's JIVANMUKTA UPASANA( realisation of truth or liberation in the present life)THEORY, Book: Sadguru Swami Nigamananda (Page:207) By NSS Puri (India).
  69. ৬৯.০ ৬৯.১ Bulletin of the Ramakrishna Mission Institute of Culture। Swami Nigamananda on "Tantra"& "Self realizaton" & "Death"। The Institute। 1 January 1969। পৃ: 130–134। সংগৃহীত 8 April 2011 
  70. Religious movements in modern Bengal Author-Benoy Gopal Ray, Visva-Bharati, 1965,I desire that Indian should rise once again and attain the ideals ancient Rishis who showed mankind the spirit light. Let them lead mankind to the full knowledge and realization of self.... Page -102
  71. Bulletin of the Ramakrishna Mission Institute of Culture Quote=Swami Nigamananda's Quote on "Death and Life",|Date=1 January 1969,Publisher=The Institute. Volume=20 , Page=134
  72. The divine universal gospels of Sri Nigamananda :translation, a lucid word to word rendering to English, Author=Nigamānanda,Quote=Swami Nigamananda' Quote on "Prarabdha",Publisher=Amitabh Giri, Page=19
  73. Sadguru Swami Nigamananda Swami Nigamananda's theory on"Movement of javatma... Spirit",Publisher=Nilachal Saraswat Sangha, Puri,Year=2001, Page=278
  74. N.H. Sahasrabudhe; R.D. Mahatme (May 2000)। Mystic Science of Vastu ("Karma" Principles, "Past Sanskar" সংস্করণ)। Sterling Publishers Pvt. Ltd। পৃ: 76–। আইএসবিএন 9788120722064। সংগৃহীত 14 April 2011 
  75. Bibudharañjana (2008)। Divine death: Lord Jagannath, the new embodiment। Prajnaloka। পৃ: 140। আইএসবিএন 9788189858049। সংগৃহীত 1 April 2011 
  76. Dwijendra Lal Bhowmik; Tribal Research Institute (Tripura; India) (2003)। Tribal religion of Tripura: a socio-religious analysis। Swami Nigamananda'sGarohill( Kadaldhoya) Yoga Ashram: Tribal Research Institute, Govt. of Tripura। পৃ: 60। সংগৃহীত 19 April 2011 
  77. Saraswata Sangha, America। "Paramahansa Srimat Swami Nigamananda Saraswati Deva"। Nilachala Saraswata Sangha,Puri। সংগৃহীত 2011-06-09 
  78. Constance Jones; James D. Ryan (February 2007)। Encyclopedia of Hinduism। Infobase Publishing। পৃ: 38। আইএসবিএন 9780816054589। সংগৃহীত 18 March 2011  Swami Nigamananda's Ashram at Jorhat (Assam)
  79. Religious movements in modern Bengal Author-Benoy Gopal Ray, Visva-Bharati, 1965, Rishi Vidyalaya have been founded to train up students.... Page -102
  80. Assam Bangiya Saraswat Math and Cemetery of Swami Nigamananda
  81. ৮১.০ ৮১.১ Swami Nigamananda Collection,Bangala Pedia
  82. Shree Shree Thakur Nigamananda-Oriya Jeevani,CHAPTER-"SARASWATA MATHA" Writer: Durgacharan Mohanty, Banmali Das, Nilanchala Saraswata Sangha, Puri
  83. Encyclopedia of World Religions(Encyclopedia of Hinduism, Page-79)
  84. Swami Nigamananda's Quote
  85. Press Institute of India; Press Trust of India (1997)। Data India। Press Institute of India। পৃ: 159। সংগৃহীত 15 March 2011 
  86. Religious movements in modern Bengal Author-Benoy Gopal Ray, Visva-Bharati, 1965,The main center is situated at Kokilamukha (Assam).... Page -102
  87. Sachindra Kumar Maity (1 January 1997)। Professor A.L. Basham, my Guruji and problems and perspectives of ancient Indian history and culture। Abhinav Publications। পৃ: 378–। আইএসবিএন 9788170173267। সংগৃহীত 23 March 2011 
  88. Ramprasad Mishra; Lakṣmīṅkarā (1995)। Advayasiddhi, the Tāntric view of Lakṣmīṅkarā। Kant Publications। পৃ: 41। আইএসবিএন 9788186218006। সংগৃহীত 23 March 2011 
  89. Nilachala Saraswata Sangha, Authors=Mamata Swain,Jagannath Lenka,Minati Mallick,Coauthors=North Orissa University. P. G. Dept. of Economics, India. Ministry of Women and Child Development|title=Gender perspective in disaster management,Publisher=Serials Publications|lISBN=9788183871211, Search String "Nilachal Saraswat", Page=228
  90. Indian Anthropological Soicety (2001)। Journal of the Indian Anthropological Society। The Society। পৃ: Volume 36, page 156। সংগৃহীত 15 March 2011 
  91. ৯১.০ ৯১.১ Mamata Swain; Jagannath Lenka; Minati Mallick; North Orissa University. P. G. Dept. of Economics, India. Ministry of Women and Child Development (2007)। Gender perspective in disaster management। Nilachala Saraswata Sangha, Puri: Serials Publications। পৃ: 228। আইএসবিএন 9788183871211। সংগৃহীত 14 April 2011  |coauthors= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  92. Library of Congress. Library of Congress Office; New Delhi (2002)। The South Asian bibliographer: a list of current publications compiled by the Library of Congress Office, New Delhi। Volume 5। Nilachala Saraswata Sangha,Puri: Sage Publications। পৃ: 888। সংগৃহীত 7 April 2011 
  93. Swami Nigamananda Saraswati Yoga Vidya Kendra, Chennai Accessdate=4 April 2011|year=2004|publisher=Project of History of Indian Science, Philosophy and Culture (PHISPC) , Sub project: Consciousness, Science, Society, Value and Yoga (CONSSAVY)|isbn=9788187586173|page=xxiii
  94. Bangala Pedia Nigamananda wrote several books on ascetic philosophy and tantricism
  95. Swami Rama (1 July 1999)। Living with the Himalayan Masters। Himalayan Institute Press। পৃ: 424–। আইএসবিএন 9780893891565। সংগৃহীত 1 April 2011 
  96. The madness of the saints: ecstatic religion in Bengal By June McDaniel(isbn=9780226557236) 'Nigamananda Saraswati -Mayer Krpa' Page-310 (Sr.185)
  97. Swami Nigamananda's Sanatan Dharama Patrika Arya Darpan at Absmath.org[অকার্যকর সংযোগ]
  98. Press in India (1963 - Language Arts & Disciplines)। Part 2। 1963। পৃ: 505 (Sr.607)। সংগৃহীত 19 March 2011 
  99. Amulya Kumar Tripathy; P. C. Tripathy; Jayadeva (2006)। Sri Durga Charan Mohanty, সম্পাদক। The Gita Govinda of Sri Jayadev। Yogi Guru (1968) Premika Guru (1983) Oriya Translator: DC MOHANTY (Sri Durga Charan Mohanty) (ORIYA ভাষায়)। (Biratunga,Puri)। Puri: Publication Division, Ministry of Information and Broadcasting, Govt. of India। পৃ: Search String "D C Mohanty"। সংগৃহীত 8 April 2011 
  100. Stories By Sri Chinmoy
  101. Sri Chinmoy (April 1998)। El jardín del alma। Editorial Sirio, S.A.। পৃ: 119–। আইএসবিএন 9788478082308। সংগৃহীত 1 April 2011 
  102. (Events) - Swami Nigamananda's Sarbabhouma Bhakta Sammilani & PradeshikaBhakta Sammilani
  103. Swami, Nigamananda; Durga Charan Mohanty। "Swami Nigamananda's BHAKTA SAMMILANI"Bhakta Sammilani oriya book written by Durga Charan Mohanty। Assam Bangiya Saraswata Matha। সংগৃহীত 2011-07-14  |coauthors= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)

বাড়তি পঠন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]