স্থিতিস্থাপকতা (অর্থনীতি)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

স্থিতিস্থাপকতা বলতে অনপেক্ষ চলরাশির পরিবর্তনের কারণে অপেক্ষ চলরাশির পরিবর্তনের হার বোঝায়। যদি একটি পণ্যের চাহিদা ঐ পণ্যের মূল্যের ওপর নির্ভর করে, তবে মূল্যের পরিবর্তনের কারণে চাহিদার সংবেদনশীলতাই চাহিদার স্থিতিস্থাপকতা। একটি পণ্যের চাহিদার মূল্য-স্থিতিস্থাপকতা (-) ২ বলতে বোঝায় যে, (ক) মূল্যের সাপেক্ষে চাহিদা স্থিতিস্থাপক; (খ) মূল্যের ঊর্দ্ধগামী পরিবর্তনের জন্য চাহিদা হ্রাস পাবে এবং (গ) মূল্যের ১ শতাংশ বৃদ্ধির জন্য চাহিদা ২ শতাংশ হ্রাস পাবে। একই ভাবে ভোক্তার আয়ের পরিবর্তনের কারণেও তার চাহিদার পরিবর্তন হতে পারে। একটি পণ্যের চাহিদার আয়-স্থিতিস্থাপকতা (+) ৩ বলতে বোঝায় যে, (ক) ভোক্তার আয় সাপেক্ষে চাহিদা স্থিতিস্থাপক; (খ) আয়ের ঊর্দ্ধগামী পরিবর্তনের জন্য চাহিদা বৃদ্ধি পাবে এবং (গ) আয় ১ শতাংশ বৃদ্ধির পেলে জন্য চাহিদা ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।[১]

স্থিতিস্থাপকতার মান তিন রূপ হতে পারে।
(ক) স্থিতিস্থাপকতার মূল্যমান = ১ : এর অর্থ একক স্থিতিস্থাপকতা। মূল্য ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেলে চাহিদা সমহারে হ্রাস লাভ করবে।
(খ) স্থিতিস্থাপকতার মূল্যমান > ১ : এর অর্থ সম্পর্কটি স্থিতিস্থাপক। অর্থাৎ অনপেক্ষ রাশির মান যে হারে পরিবর্তিত হবে তার চেয়ে বেশী হারে অপেক্ষ রাশির মান পরিবর্তিত হবে।
(গ) স্থিতিস্থাপকতার মূল্যমান < ১ : এর অর্থ চলরাশিদ্বয়ের সম্পর্ক অস্থিতিস্থাপক। অর্থাৎ অনপেক্ষ রাশির মান যে হারে পরিবর্তিত হবে তার চেয়ে কম হারে অপেক্ষ রাশির মান পরিবর্তিত হবে।

পরিমাপের সূত্র[সম্পাদনা]

স্থিতিস্থাপকতা পরিমাপ করা হয় একটি অনুপাত হিসাবে। নিচে মূল্যের পরিপ্রেক্ষিপেতে চাহিদার স্থিতিস্থাপকতা পরিমাপের সূত্র দেখানো হয়েছে:

        (ক) চাহিদার মূল্য স্থিতিস্থাপকতা = (পণ্যের চাহিদায় পরিবর্তনের শতাংশ) / (পণ্যের মূল্যের পরিবর্তনের শতাংশ)
(খ) চাহিদার মূল্য স্থিতিস্থাপকতা = {(চাহিদার পরিবর্তন/চাহিদা)×১০০} ÷ {(পণ্যের মূল্যের পরিবর্তন/পণ্যের মূল্য)×১০০}
(গ) চাহিদার মূল্য স্থিতিস্থাপকতা = (পণ্যের মূল্য p / পণ্যের চাহিদা q) × (পণ্যের চাহিদার পরিবর্তন Δq / পণ্যের মূল্যের পরিবর্তন Δp)
(ঘ) ε = (p / q ) × (Δq / Δp)

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Elasticity of Demand and supply

বিষয় শ্রেণী[সম্পাদনা]

বহি:সংযোগ[সম্পাদনা]