স্টিভ জবস

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ষ্টিভ জবস
Steve Jobs Headshot 2010-CROP.jpg
২০১০ সালে ষ্টিভ জবস
জন্ম ষ্টিভেন পল জবস
(১৯৫৫-০২-২৪) ফেব্রুয়ারি ২৪, ১৯৫৫ (বয়স ৫৯)[১]
সান ফ্রান্সিসকো, ক্যালিফোর্নিয়া।
মৃত্যু অক্টোবর ৫, ২০১১(২০১১-১০-০৫) (৫৬ বছর)
পালো অ্যালকো, ক্যালিফোর্নিয়া।[২]
বাসস্থান পালো অ্যালটো, ক্যালিফোর্নিয়া।[৩]
জাতীয়তা মার্কিন
অ্যালমা ম্যাটার রীড কলেজ (ড্রপড আউট)
পেশা প্রযুক্তিবিদ
বেতন ১ মার্কিন ডলার[৪][৫][৬][৭]
মোট সম্পত্তি $৮.৩ বিলিয়ন (২০১১)[৮]
বোর্ড সদস্য The Walt Disney Company,[৯] Apple, Inc.
ধর্ম বৌদ্ধ[১০][সন্দেহপূর্ণ ]
দম্পতি লরেন পাওয়েল (১৯৯১-২০১১)
সন্তান
আত্মীয় মোনা সিম্পসন (বোন)
স্বাক্ষর
ওয়েবসাইট
স্টিভ জবস
ম্যাকওয়ার্ল্ড সম্মেলনে স্টিভ জবস

স্টিভ জবস (পুরোনাম: স্টিভেন পল জবস) (ইংরেজি: Steven Paul "Steve" Jobs) (জন্ম ফেব্রুয়ারি ২৪, ১৯৫৫, মৃত্যু ৫ অক্টোবর ২০১১) যুক্তরাষ্ট্রের একজন উদ্যোক্তা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবক। তাকে পার্সোনাল কম্পিউটার বিপ্লবের পথিকৃৎ বলা হয়। তিনি স্টিভ ওজনিয়াক এবং রোনাল্ড ওয়েন-এর সাথে ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দে অ্যাপল কম্পিউটার প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি অ্যাপল ইনকর্পোরেশনের প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম ও সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। তিনি পিক্সার এ্যানিমেশন স্টুডিওস-এরও প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম ও সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। ১৯৮৫ সালে অ্যাপল ইনকর্পোরেশনের বোর্ড অব ডিরেক্টর্সের সদস্যদের সাথে বিরোধে জড়িয়ে তিনি অ্যাপল ইনকর্পোরেশনের থেকে পদত্যাগ করেন এবং নেক্সট কম্পিউটার প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৯৬ সালে অ্যাপল কম্পিউটার নেক্সট কম্পিউটারকে কিনে নিলে তিনি অ্যাপলে ফিরে আসেন। তিনি ১৯৯৫ সালে টয় স্টোরি নামের অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্র প্রযোজনা করেন।

জীবনবৃত্তান্ত[সম্পাদনা]

জবস জন্মেছিলেন সান ফ্রান্সিস্কোতে[১] এবং পরে পল ও ক্লারা জবস তাকে দত্তক হিসাবে গ্রহণ করেন এবং তাকে নামকরণ করা হয় স্টিভেন পল জবস। কিন্তু তার প্রকৃত পিতা-মাতা ছিলেন জোয়ান ক্যারোল এবং আব্দুল্লাহ ফাতাহ জান্দালি (সিরিয়া থেকে স্নাতকোত্তর ছাত্র ছিলেন।পরবর্তীতে রাস্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক হয়েছিলেন)। যারা পরবর্তীতে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন এবং তাদের ঘরে জবস-এর বোন সাহিত্যিক মোনা সিম্পসন জন্মান।

জবস কুপারটিনো জুনিয়র হাই স্কুলে এবং হোমস্টিড হাই স্কুলে গিয়েছিলেন। তিনি প্রায়ই হিউলেট-প্যাকার্ড কোম্পানির লেকচারগুলোতে অংশগ্রহণ করতেন। যেখানে পরবর্তীতে তিনি গ্রীষ্মকালীন কর্মচারী হিসাবে স্টিভ ওজনিইয়াকের সাথে কাজ করেন। ১৯৭২ থ্রিস্টাব্দে তিনি হাই স্কুল শেষ করেন এবং রীড কলেজ়ে ভর্তি হন। যদিও তিনি পরবর্তীতে কলেজ ছেড়ে দেন তার পরেও তিনি ক্যালিগ্রাফীসহ আরো কিছু ক্লাসে যোগদান করেছিলেন। এই সম্পর্কে তার বক্তব্য ছিল "যদি আমি ওই কোর্সে না যেতাম তবে ম্যাকের কখনোই বিভিন্ন টাইপফেস বা সামঞ্জস্যপূর্ণ ফন্টগুলো থাকতো না।"[১১]

১৯৭৪ সালে জবস ক্যালির্ফোনিয়াতে পুনরায় চলে আসেন। এ সময় তিনি নিয়মিত ওজনিয়াকের সাথে হোমব্রিউ কম্পিউটার ক্লাবের সভাগুলোতে উপস্থিত থাকেন। তিনি ভিডিও গেমস নির্মাতা প্রতিষ্ঠান আটারিতে টেকনিশিয়ান হিসেবে কাজ শুরু করেন। তিনি এসময় মূলত ভারতে যাবার জন্য অর্থ জমানোর চেষ্টা করছিলেন। জবস ভারতে নিম কারোলি বাবার কাইনিচি আশ্রমে তার বন্ধু ড্যানিয়েল কটকের সাথে ভ্রমন করেন।[১২] আধ্যত্মিক জ্ঞান অর্জনের জন্য তিনি ভারতে আসেন ও বৌদ্ধধর্মে ধর্মান্তরিত হন।[১৩][১৪]

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

প্রারম্ভিক কর্মজীবন[সম্পাদনা]

হোমব্রিউ কম্পিউটার ক্লাবের নিউজ লেটার, সেপ্টেম্বর ১৯৭৬

১৯৭৩ সালের শেষ দিকে ক্যালিফোর্নিয়ালস গ্যাটোসে অ্যাটারি ইনকর্পোরেটেডে প্রকর্মী হিসেবে যোগ দেন জবস।[১৫] ১৯৭৪ এর মাঝামাঝি সময় জবস ভারত ভ্রমণ করেন।[১৬] নিম কারোলি বাবার সাথে সাক্ষাত্‍ করার জন্য জবস তার কৈঞ্চি আশ্রমে যান রিড কলেজের বন্ধু ড্যানিয়েল কোটকেকে সাথে নিয়ে। কিন্তু তা প্রায় জনশূন্য অবস্থায় ছিল, কারণ নিম কারোলি বাবা ১৯৭৩ সালের সেপ্টেম্বরে মারা যান।[১৫] এরপর তারা চলে যান হরিয়াখান বাবার আশ্রমে। ভারতে তারা কয়েকবার বাস ভ্রমণ করেন। দিল্লি থেকে উত্তর প্রদেশ, সেখান থেকে ফিরে হিমাচল প্রদেশ এরপর পুনরায় দিল্লি ফিরে আসেন।[১৫] সাত মাস অবস্থানের পর জবস ভারত ত্যাগ করেন।[১৭]

ভারত থেকে ফেরার পর জবসের নতুন আবির্ভাব ঘটে। তার মস্তক মুন্ডিত ছিল এবং তিনি ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় পোশাক পরিহিত অবস্থায় ছিলেন। এছাড়া তিনি বৌদ্ধধর্মের অনুসারি হয়ে ওঠেন।[১৮]

এরপর জবস অ্যাটারিতে ফিরে আসেন এবং আর্কেড ভিডিও গেম ব্রেকআউটের জন্য সার্কিট বোর্ড তৈরির কাছে নিয়োগ প্রাপ্ত হন। প্রত্যেক চিপের জন্য $১০০ দেওয়ার প্রস্তাব দেয় অ্যাটারি। সার্কিট বোর্ড ডিজাইনে জবসের একটু বিশেষ জ্ঞান ছিল এবং তিনি ওজনিয়াকের সাথ সমানভাবে ফি ভাগ করে নেওয়ার চুক্তি করেন, যদি ওজনিয়াক চিপের সংখ্যা কমাতে পারেন। অ্যাটারি ইঞ্জিনিয়ারদের বিস্মিত করে, ওজনিয়াক চিপের সংখ্যা ৫০-এ নামিয়ে আনেন। ডিজাইন এতটাই দূর্ভেদ্য ছিল যে অ্যাসেম্বলি লাইন নকল করা প্রায় অসম্ভব ছিল। ওজনিয়াকের কাছে থেকে জানা যায় যে অ্যাটারি তাদেরকে মাত্র $৭০০ দিয়েছিল (প্রস্তাবিত $৫,০০০ এর পরিবর্তে), এতে ওজনিয়াকের অংশ দাড়ায় $৩৫০। অবশ্য, ওজনিয়াক ১০ বছর পর আসল বোনাসের পরিমাণ জানতে পারেন। তবে তিনি বলেন যে যদি জবস তাকে এ সম্পর্কে জানাত এবং তার টাকাগুলোর প্রযোজনীয়তা সম্পর্কে বলত তাহলে তিনি তা তাকে দিয়ে দিতেন।

টেলিফোন নেটওয়ার্ককে নিপূনভাবে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় টোন উত্‍পন্ন করতে, ওজনিয়াক একটি কম খরচের “ব্লু বক্স” তৈরি করেন। এতে দীর্ঘ দূরত্বের টেলিফোন কল বিনামূল্যে করা যেত। জবস সিদ্ধান্ত নেন যে তারা এটি বিক্রয় করে অর্থ উপার্জন করতে পারেন। এই অবৈধ ব্লু বক্সের চোরাগোপ্তা বানিজ্য ভালই চলে এবং এটি জবসের মনে বীজ বুনে দেয় যে ইলেকট্রনিক্স মজাদার এবং লাভজনক হতে পারে।[১৯]

১৯৯৪ সালে একটি সাক্ষাত্‍কারে, জবস বলেন যে ব্লু বক্স কিভাবে তৈরি করতে হয় তা বুঝে উঠতে তাদের ছয় মাস সময় লেগেছিল। তিনি বলেন যে যদি ব্লু বক্সগুলো তৈরি না হত, তাহলে হয়ত অ্যাপলও থাকত না। তিনি আরও বলেন যে এটি তাদেরকে দেখিয়েছিল যে তা বড় কোম্পানিগুলোকে হারিয়ে দিতে পারে।[২০]

১৯৭৫ সালে, জবস ওজনিয়াকের সাথে হোমব্রিউ কম্পিউটার ক্লাবের সভায় নিয়মিত উপস্থিত হতে শুরু করেন। তিনি এডুইন এইচ. ল্যান্ডের ব্যাপক প্রশংসা করেন, যিনি ইন্সট্যান্ট ফটোগ্রাফির উদ্ভাবক এবং পোলারইড কর্পোরেশনের প্রতিষ্ঠাতা।[২১][২২]

১৯৭৬ সালে, জবস এবং ওজনিয়াক নিজেদের ব্যবসা শুরু করেন। তারা তাদের কোম্পানির নাম দেন “অ্যাপল কম্পিউটার কোম্পানি”। প্রথম দিকে সার্কিট বোর্ড বিক্রয়ের মাধ্যমে তারা এই কোম্পানি চালু করেন।[২৩]

অ্যাপল প্রতিষ্ঠা[সম্পাদনা]

ক্যালিফোর্নিয়ার লস অল্টোসের ক্রিস্ট ড্রাইভে পল এবং ক্লারা জবসের বাড়ি।
ক্যালিফোর্নিয়ার লস অল্টোসের ক্রিস্ট ড্রাইভে পল এবং ক্লারা জবসের বাড়ি। ১৯৭৬ সালে স্টিভ জবস এই বাড়ির গ্যারেজে স্টিভ ওজনিয়াক এবং রোনাল্ড ওয়েনের সাথে অ্যাপল কম্পিউটার প্রতিষ্ঠা করেন। ওয়েন অল্প কিছু দিন তাদের সাথে ছিলেন, তবে তিনিও কোম্পানিটির প্রাথমিক সহ-প্রতিষ্ঠাতা।

১৯৭৬ সালে ওজনিয়াক একক প্রচেষ্টায় অ্যাপল ১ কম্পিউটার উদ্ভাবন করেন। ওজনিয়াক কম্পিউটারটি জবসকে দেখালে, জবস তা বিক্রয় করার পরামর্শ দেন। তখন তারা এটিকে বিক্রয়ের জন্য রোনাল্ড ওয়েনকে সাথে নিয়ে জবসের গ্যারেজে অ্যাপল কম্পিউটার প্রতিষ্ঠা করেন।[২৪] ওয়েন অল্প কিছু দিন ছিলেন। অতঃপর তিনি জবস এবং ওজনিয়াককে ছেড়ে চলে যান। অবশ্য, তিনিও ছিলেন অ্যাপলের প্রাথমিক সহ-প্রতিষ্ঠাতা। ইন্টেলের তত্‍কালীন অর্ধ-অবসরপ্রাপ্ত পন্য বিপণন ব্যবস্থাপক মাইক মার্ককুলা তাদেরকে অর্থ সহায়তা প্রদান করেন।[২৫]

১৯৭৮ সালে, অ্যাপল মাইক স্কটকে প্রধান নিবার্হী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেয়। ১৯৮৩ সালে, জবস পেপসি-কোলাজন স্কালীকে অ্যাপলের প্রধান নিবাহী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহনের জন্য প্রলুব্ধ করেন। জবস তাকে জিজ্ঞাসা করেন, “তুমি কি তোমার জীবনের বাকিটা সময় চিনির পানীয় বিক্রয় করে কাটাতে চাও, নাকি আমার সাথে এসে বিশ্বকে বদলে দিতে চাও?”[২৬]

১৯৮০’র দশকের প্রথম দিকে, জবস তাদের একজন ছিলেন যারা জেরক্স পার্কের মাউস নিয়ন্ত্রিত গ্রাফিকাল ইউজার ইন্টারফেসের বানিজ্যিক সম্ভাবনা দেখছিলেন, যা জবসকে অ্যাপল লিসা উদ্ভাবনে পরিচালিত করে। এক বছর পর, অ্যাপলের কর্মচারী জেফ রাস্কিন ম্যাকিন্টশ উদ্ভাবন করেন।[২৭][২৮]

পরের বছর, অ্যাপল “১৯৮৪” শিরোনামে একটি সুপার বোল টেলিভিশন বিজ্ঞাপন প্রচার করে। ১৯৮৪ সালের ২৪ জানুয়ারি, অ্যাপলের অংশীদারদের বার্ষিক সভায় জবস ব্যাপকভাবে উত্‍সাহী দর্শকদের সামনে ম্যাকিন্টশ উন্মোচন করেন।[২৯]

১৯৭৭ সালে অ্যাপলের লোগো। রংধনুর রংগুলোর সমন্বয়ে রব জানোফ এই লোগো ডিজাইন করেন। ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত এটি ব্যবহৃত হয়।

জবস একজন প্ররোচনামূলক এবং সহজাত দক্ষতা সম্পন্ন পরিচালক হওয়া সত্ত্বেও, সে সময়ের তার কিছু কর্মচারী তাকে মেজাজী হিসেবে দেখতেন। বাজারে সুবিধা করতে না পারায় জবসের সাথে স্কালীর কাজের সম্পর্কে অবনতি ঘটে, যা তাদের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্বে পরিণত হয়।[৩০] জবস মধ্যরাতেও সভা চালিয়ে যান, লম্বা ফ্যাক্স পাঠান এবং সকাল ৭টায় নতুন সভা আহবান করেন।[৩১]

স্কালী জানতে পারেন যে জবস পরিচালনা পরিষদের সদস্যদের দ্বারা একটি অভ্যত্থান সৃষ্টি করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন এবং মে ২৪, ১৯৮৪ তারিখে, সমস্যা সমাধানের জন্য তিনি পরিচালনা পরিষধদের সভা আহবান করেন।[৩০] অ্যাপলের পরিচালনা পরিষদ স্কালীর পক্ষ নেয় এবং জবসকে ম্যাকিন্টশ বিভাগের প্রধানের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে ফেলা দেওয়া হয়।[৩২] জবস ধীরে ধীরে কাজে আসা বন্ধ করে দেন। মহাকাশচারী হিসেবে স্পেস শাটলে ওড়ার ব্যর্থ প্রয়াস এবং সোভিয়েত ইউনিয়নে একটি নতুন কম্পিউটার কোম্পানি চালু করার কথা বিবেচনা করে,[৩৩] তিনি অ্যাপল থেকে পদত্যাগ করেন।[৩০]

২০০৫ সালে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানের বক্তৃতায় তিনি বলেন যে অ্যাপল থেকে বহিষ্কারের ঐ ঘটনাটি ছিল তার জীবনের শ্রেষ্ঠ ঘটনা। তিনি বলেন, “সফল হওয়ার ভার, নতুন করে শুরু করার আলোয় কেটে গিয়েছিল, সবকিছু সম্পর্কে কম নিশ্চিত ছিলাম। এটি আমাকে আমার জীবনের সবচেয়ে সৃজনশীল আংশে প্রবেশ করতে সহায়তা করে।” তিনি আরও বলেন, “আমি মোটামুটি নিশ্চিত এর কিছুই ঘটত না যদি না আমাকে অ্যাপল থেকে বহিষ্কার করা হত। এটি ছিল ভয়াবহ ওষুধের মত, তবে আমি মনে করি রোগীর এটি প্রয়োজন ছিল।”[১১][৩৪][৩৫]

নেক্সট কম্পিউটার[সম্পাদনা]

আসল কিবোর্ড, মাউস এবং নেক্সট মেগাপিক্সেল মনিটরের সাথে নেক্সটষ্টেশন।

অ্যাপল থেকে পদত্যাগের পর ১৯৮৫ সালে ৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে জবস প্রতিষ্ঠা করেন নেক্সট ইনকর্পোরেটেড (NeXt Inc.)।[৩১][৩৬] এক বছর পর তার অর্থ সংকট দেখা দেয়, তার কোন পন্যও ছিলনা, ফলে তাকে বিনিয়োগকারীদের সরণাপন্ন হতে হয়। তিনি বিলিয়নিয়ার রস পেরটের মনোযোগ আকর্ষণ করেন, যিনি কোম্পানিতে প্রচুর পরিমাণে বিনিয়োগ করেন।[৩৭] নেক্সট ওয়ার্কস্টেশন অবমুক্ত হয় ১৯৯০ সালে, এর মূল্য ছিল ৯,৯৯৯ মার্কিন ডলার। অ্যপল লিসার মত নেক্সট ওয়ার্কস্টেশনও প্রযুক্তিগত দিক থেকে অগ্রবর্তী ছিল। শিক্ষাখাতের জন্য ডিজাইন করা হলেও, অধিক মূল্যের কারণে এটি বাজারে সুবিধা করতে পারেনি।[৩৮] জবস নেক্সটের পন্য বাজারজাত করেন অর্থনৈতিক, গবেষণা এবং শিক্ষাখাতের জন্য। এতে ছিল নতুন ধরণের উদ্ভাবনী প্রযুক্তি, যার মধ্যে ম্যাখ কার্নেল, ডিজিটাল সিগনাল প্রসেসর চিপ এবং বিল্ট-ইন ইথারনেট পোর্ট উল্লেখযোগ্য। টিম বার্নার্স-লি সার্ন গবেষণা কেন্দ্রে একটি নেক্সট কম্পিউটারেঈ ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের উদ্ভাবন করেছিলেন।[৩৯]

সংশোধিত দ্বিতীয় প্রজন্মের নেক্সটকিউবও ১৯৯০ সালে অবমুক্ত হয়। জবস এটিকে প্রথম ইন্টারপার্সোনাল কম্পিউটার হিসেবে ঘোষণা করেন। এটিতে ছিল নেক্সটমেইল নামক মাল্টিমিডিয়া ইমেইল প্রযুক্তি। নেক্সটকিউবের মাধ্যমে ইমেইলের সাথে প্রথমবারের মত ভয়েস, চিত্র, গ্রাফিক্স এবং ভিডিও চিত্র আদান প্রদানের সুবিধা চালু হয়। জবস সাংবাদিকদের বলন, “ইন্টারপার্সোনাল কম্পিউটার মানুষের যোগাযোগ এবং দলীয় কাজকর্মে বিপ্লব বয়ে আনবে।”[৪০] ১৯৯৪ সালে কোম্পানি থেকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় যে তাদের ১.০৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মুনাফা অর্জিত হয়েছে।[৩৭] ১৯৯৬ সালে নেক্সট সফটওয়্যার ইনকপোরেটেড অবমুক্ত করে ওয়েবঅবজক্টস, যা ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন ডেভলপমেন্টের জন্য একটি ফ্রেমওয়ার্ক। ১৯৯৭ সালে অ্যাপল ইনকর্পোরেটেড কর্তৃক নেক্সট অধিগ্রহনের পর ওয়েবঅবজেক্টস ব্যবহৃত হয় অ্যাপল স্টোর,[৪১] মোবাইলমি সেবা, এবং আইটিউনস স্টোর তৈরি এবং পরিচালনায়।

পিক্সার এবং ডিজনি[সম্পাদনা]

১৯৮৬ সালে, জবস লুকাসফিল্মের গ্রাফিক্স বিভাগ হতে ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিময়ে গ্রাফিক্স গ্রুপ (পরবর্তীতে পিক্সার নামকরণ করা হয়) ক্রয় করেন। এর মধ্যে ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার কোম্পানিটিকে মূলধন হিসেবে দেওয়া হয়।[৪২]

ডিজনির সাথে অংশীদারিত্বের অধীনে প্রযোজিত প্রথম চলচ্চিত্র হল টয় স্টোরি (১৯৯৫), যেখানে জবসকে নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে দেখানো হয়।[৪৩] মুক্তির পর এটি স্টুডিওর জন্য খ্যাতি এবং সমালোচনা উভয়ই বয়ে আনে। পরবর্তী ১৫ বছরে, পিক্সারের সৃষ্টিশীল প্রধান জন ল্যাসেটারের অধীনে, কোম্পানিটি কিছু বক্স-অফিস হিট চলচ্চিত্র প্রযোজনা করে: এ বাগ'স লাইফ (১৯৯৮); টয় স্টোরি ২ (১৯৯৯); মন্সটার্স, ইনক. (২০০১); ফাইন্ডিং নেমো (২০০৩); দ্য ইনক্রেডিবলস (২০০৪); কার্স (২০০৬); র‌্যাটাটুই (২০০৭); ওয়াল-ই (২০০৮); আপ (২০০৯); এবং টয় স্টোরি ৩ (২০১০)। ফাইন্ডিং নেমো, দ্য ইনক্রেডিবলস, র‌্যাটাটুই, ওয়াল-ই, আপ এবং টয় স্টোরি ৩ এই প্রত্যেকটি চলচ্চিত্র শ্রেষ্ঠ পূর্ণদৈর্ঘ্য অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্র হিসেবে একাডেমী পুরস্কার পেয়েছে। এই পুরস্কারটি ২০০১ সাল থেকে প্রচলিত হয়।[৪৪]

২০০৩ এবং ২০০৪ সালের দিকে, পিক্সারের সাথে ডিজনির চুক্তির মেয়াদ শেষ পর্যায়ে চলে আসার কারণে, জবস এবং ডিজনির প্রধান নিবার্হী মাইকেল ইসনাল চেষ্টা করেও নতুন অংশীদারিত্ব গঠনে ব্যর্থ হন,[৪৬] এবং ২০০৪ এর প্রথম ভাগে, জবস ঘোষণা করেন যে ডিজনির সাথে পিক্সারের চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে তারা নতুন অংশীদারের সন্ধান করবেন।

২০০৫ সালের অক্টোবরে, ইসনারের স্থালাভিষিক্ত হন বব ইগার। তিনি ডিজনির সাথে জবস এবং পিক্সারের সম্পর্ক ঠিক রাখার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করেন। ২০০৬ সালের ২৪ জানুয়ারি, জবস এবং ইগার ঘোষণা করেন যে ডিজনি পিক্সারকে ৭.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের অল-স্টক লেনদেনের মাধ্যমে ক্রয় করতে সম্মত হয়েছ। এই লেনদেন শেষ হলে, জবস দ্য ওয়াল্ট ডিজনি কোম্পানির সবচেয়ে বড় অংশীদারে পরিণত হন, যার পরিমাণ কোম্পানির মোট তহবিলের প্রায় সাত শতাংশ।[৪৭] ডিজনিতে জবসের অংশীদারিত্ব ইসনারের অংশীদারিত্বকেও ছাড়িয়ে যায় (ইসনারের অংশীদারিত্ব ছিল ১.৭ শতাংশ)। এমনকি তা ডিজনি পরিবারের সদস্য রয় ই. ডিজনির অংশীদারিত্বের চেয়েও বেশি হয়ে পড়ে, ২০০৯ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত যার অংশীদারিত্বের পরিমাণ ছিল প্রায় এক শতাংশ। জবস ডিজনির ৭ শতাংশ অংশীদারিত্ব পেয়ে যান এবং কোম্পানির সবচেয়ে বড় একক অংশীদার হিসেবে পরিচালনা পরিষদে যোগ দেন।[৪৭][৪৮][৪৯][৫০] জবসের মৃত্যুর পর ডিজনিতে তার অংশীদারিত্ব স্টিভেন পি. জবস ট্রাস্টে স্থানান্তরিত হয়, যা পরিচালনা করেন লরেন জবস।[৫১]

অ্যাপলে প্রত্যাগমন[সম্পাদনা]

থিংক ডিফারেন্ট প্রচারাভিযানের লোগো, ১৯৯৭ সালে অ্যাপলে জবসের প্রত্যাগমনের পর প্রবর্তিত হয়।

১৯৯৬ সালে, অ্যাপল নেক্সটকে ৪২৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিময়ে ক্রয়ের ঘোষণা দেয়। ১৯৯৬ সালের শেষ দিকে লেনদেন চূড়ান্ত হয়।[৫২] এর মাধ্যমে অ্যাপলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা জবসের কোম্পানিটিতে প্রত্যাগমন ঘটে। ১৯৯৭ সালের জুলাইয়ে, অ্যাপলের তত্‍কালীন প্রধান নির্বাহী গিল আমেলিওকে উচ্ছেদ করা হলে জবস কার্যত প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহন করেন। সেপ্টেম্বরে তিনি অন্তবর্তীকালীন প্রধান নির্বাহীর পদ পেয়ে যান।[৫৩] ১৯৯৮ সালের মার্চে, অ্যাপলকে পুনরায় লাভজনক কোম্পানিতে পরিণত করা প্রচেষ্টা হিসেবে জবস নিউটন, সাইবারডগ এবং ওপেনডকের মত কিছু প্রকল্প বন্ধ করে দেন। জবস ম্যাকিন্টস ক্লোনের লাইসেন্সকরণ প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনেন, তিনি এটিকে প্রস্তুতকারকদের জন্য অনেক ব্যয়বহুল করে দেন।

নেক্সটকে কিনে নেওয়ার ফলে, এর অনেক পণ্য অ্যাপলের পণ্যে পরিণত হয়, যেমন নেক্সটস্টেপ হয়ে যায় ম্যাক ওএস এক্স। জবসের নির্দেশনার অধীনে, আইম্যাক এবং অন্যান্য নতুন কিছু পণ্য প্রবর্তনের পর কোম্পানিটি উল্লেখযোগ্যভাবে বাজারে জায়গা করে নিতে শুরু করে। এরপর থেকে, আকর্ষণীয় ডিজাইন এবং শক্তিশালী বিপণন ব্যবস্থা অ্যাপলের জন্য খুব ভালোভাবেই কাজ করতে থাকে। ২০০০ সালে ম্যাকওয়ার্ল্ড আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে জবস দাপ্তরিকভাবে তার পদ থেকে “অন্তবর্তীকালীন” শব্দটি উঠিয়ে দেন এবং অ্যাপলের স্থায়ী প্রধান নির্বাহীতে পরিণত হন।[৫৪] জবস সে সময় ঠাট্টা করে বলেন যে তিনি “আইসিইও” শিরোনামটি ব্যবহার করবেন।[৫৫]

২০০৫ সালের ১১ জানুয়ারি, ম্যাকওয়ার্ল্ড সম্মেলন এবং আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে মঞ্চে স্টিভ জবস।

বহনযোগ্য মিউজিক প্লেয়ার আইপড, আইটিউনস ডিজিটাল মিউজিক সফটওয়ার এবং আইটিউনস স্টোর চালু করার মাধ্যমে কোম্পানিটি ভোক্তা ইলেক্ট্রনিক্স এবং সঙ্গীত বিপণন বাজারে হানা দেয়। ২০০৭ সালের ২৭ জুন, আইফোন অবমুক্ত করার মাধ্যমে অ্যাপল সেলুলার ফোন ব্যবসা শুরু করে। আইফোন হল স্পর্শকাতর পর্দা সমৃদ্ধ একটি সেল ফোন, যার মধ্যে একটি আইপডের বৈশিষ্ট্যসমূহও রয়েছে এবং নিজস্ব মোবাইল ব্রাউজারের মাধ্যমে, এটি মোবাইল ব্রাউজিং এর দৃশ্যপটে বৈপ্লবিক পরিবর্তন বয়ে আনে।

জবস তার পণ্য বিক্রয়ে দক্ষতার কারণে প্রসংশা এবং সমালোচনা উভয়ই পেয়েছেন। ২০০৫ সালে, জবস অ্যাপলের বার্ষিক সম্মেলনে কোম্পানির দূর্বল পূনর্ব্যাবহার পদ্ধতির সমালোচনায় সাড়া দেন। এর কয়েক সপ্তাহ পর, অ্যাপল ঘোষণা করে যে তারা তাদের খুচরা বিক্রয় কেন্দ্রগুলোতে বিনামূল্যে আইপড ফেরত নেবেন। ২০০৬ সালে, তিনি অ্যাপলের পূনর্ব্যাবহার প্রক্রিয়ার পরিবর্ধন করেন, যুক্তরাষ্ট্রের কোন ক্রেতা নতুন ম্যাক ক্রয় করলেও এই সুবিধা পাবেন।[৫৬]

পুনরায় অ্যাপল ত্যাগ[সম্পাদনা]

২০১১ সালের আগষ্টে, জবস অ্যাপলের প্রধান নির্বাহীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তবে তিনি কোম্পানির পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে বহাল ছিলেন।[৫৭][৫৮] ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই শেয়ার বাজারে অ্যাপলের পাঁচ শতাংশ দরপতন ঘটে।[৫৯] এই ক্ষুত্র দরপতন অ্যাপলে জবসের প্রয়োজনীয়তার ইঙ্গিত বহন করে। বিগত কয়েক বছর ধরে তার স্বাস্থ সমস্যা খবরের শিরোনাম হয়ে আসছিল এবং তিনি ২০১১ সালের জানুয়ারি থেকে চিকিত্‍সার জন্য ছুটিতে ছিলেন।[৬০] ফোর্বস কর্তৃক প্রকাশিত হয় যে জবসের পদত্যাগ অ্যাপলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং সেই সাথে দ্য ওয়াল্ট ডিজনি কোম্পানির ক্ষেত্রেও এমনটা ঘটতে পারে, যেখানে তিনি পরিচালক হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন।[৬১] ঘোষণার দিন ওয়াল্ট ডিজনি কোম্পানির শেয়ারেও ১.৫ শতাংশ দরপতন ঘটে।[৬২]

ব্যবসায়িক জীবন[সম্পাদনা]

সম্পদ[সম্পাদনা]

জবস অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী হিসেবে বছরে মাত্র ১ মার্কিন ডলার বেতন গ্রহন করতেন।[৬৩] অবশ্য তার কাছে অ্যাপলের ৫.৪২৬ মিলিয়ন শেয়ার ছিল, যার মূল্য ২.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এছাড়াও ছিল ডিজনির ১৩৮ মিলিয়ন শেয়ার, যার মূল্য ৪.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।[৬৪][৬৫] জবস ঠাট্টস্বরূপ বলেন যে অ্যাপল থেকে তিনি বছরে যে ১ মার্কিন ডলার পান, তার ৫০ সেন্ট পান বার্ষিক সম্মেলনে উপস্থিত হওয়ার জন্য এবং বাঁকি ৫০ সেন্ট পান নিজের কাজের জন্য।[৬৬] ২০১০ সালে ফোর্বসের হিসাব অনুসারে, তার সম্পত্তির পরিমাণ ৮.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা তাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৪২তম ধনী ব্যক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে।[৬৭]

উদ্ভাবন[সম্পাদনা]

অক্টোবর ২০১১ পর্যন্ত স্টিভ জবসের নামে ৩৪২ টি আমেরিকান উদ্ভাবনের সত্ত্ব অধিকার রয়েছে।

মানবসেবা[সম্পাদনা]

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

স্বাস্থ্য সমস্যা[সম্পাদনা]

মৃত্যু[সম্পাদনা]

জবস অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সারে ভুগে ২০১১ সালের ৫ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

সম্মাননা[সম্পাদনা]

স্টিভ জবস ১৯৮৫ সালে স্টিভ ওজনিয়াকের সাথে প্রথম ন্যাশনাল মেডেল অব টেকনোলজি লাভ করেন।[৬৮] মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিশ্ববিখ্যাত টাইম ম্যাগাজিন ২০১১ সালে ৩২ জনের নাম 'পার্সন অফ দ্য ইয়ার' হিসেবে মনোনীত করে। এ তালিকায় - আঙ্গেলা ম্যার্কেল, বারাক ওবামা, সিলভিও ব্যার্লুস্কোনি, লিওনেল মেসি প্রমূখ বিশ্বখ্যাত ব্যক্তিত্বদের পাশাপাশি তিনিও স্থান পেয়েছেন৷[৬৯]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. ১.০ ১.১ "Smithsonian Oral and Video Histories: Steve Jobs"Smithsonian Institution। April 20, 1995। সংগৃহীত September 20, 2006 
  2. Markoff, John (October 5, 2011)। "Steve Jobs, Apple's Visionary, Dies at 56"The New York Times। সংগৃহীত October 5, 2011 
  3. Gauvin, P and Arrington, V. (Aug 9, 1996). WAVERLEY STREET: Clinton stops by Palo Alto for dinner: Excited residents greet president in front of Steve Jobs' house. Palo Alto Online. Retrieved on: July 19, 2010.
  4. "Putting Pay for Performance to the Test"New York Times। April 8, 2007। 
  5. "Apple again pays Jobs $1 salary"CNET News.com। March 13, 2006। 
  6. "Jobs' salary remained at $1 in 2005"AppleInsider। March 14, 2006। 
  7. "Steve Jobs banks his $1 salary, loses $500m"The Independent (UK)। January 8, 2009। সংগৃহীত October 2, 2009 
  8. "Forbes 400 Richest Americans"Forbes। March, 2011। সংগৃহীত March 10, 2011 
  9. "The Walt Disney Company and Affiliated Companies – Board of Directors"The Walt Disney Company। সংগৃহীত October 2, 2009 
  10. Elkind, Peter (March 15, 2008)। "The trouble with Steve Jobs"Fortune। সংগৃহীত July 21, 2008 
  11. ১১.০ ১১.১ "'You've got to find what you love,' Jobs says"Stanford Report। June 14, 2005। সংগৃহীত March 31, 2006 "I didn't see it then, but it turned out that getting fired from Apple was the best thing that could have ever happened to me".
  12. "Il santone della Silicon Valley che ha conquistato i tecno-boss" (Italian ভাষায়)। Repubblica.it। 2008-06-09। সংগৃহীত 2011-08-30 
  13. Andrews, Amanda (January 14, 2009)। "Steve Jobs, Apple's iGod: Profile"The Daily Telegraph (UK)। সংগৃহীত October 29, 2009 
  14. "Steve Jobs profile: Apple's hard core"। Edinburgh: News scotsman। January 11, 2009। সংগৃহীত October 29, 2009 
  15. ১৫.০ ১৫.১ ১৫.২ "An exclusive interview with Daniel Kottke"। India Today। ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১১। আসল থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১২-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ১৮ অক্টোবর ২০১৩ 
  16. "What really shaped Steve Jobs' view of India – Realms of intuition or the pains of Delhi belly?"Economic Times (ভারত)। ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১১। আসল থেকে ১ জুলাই ২০১২-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ১৮ অক্টোবর ২০১৩ 
  17. "Wandering in India for 7 months: Steve Jobs"। Yahoo News। ২৪ অক্টোবর ২০১১। আসল থেকে ৯ জুলাই ২০১২-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ১৮ অক্টোবর ২০১৩ 
  18. Silberman, Steve (২৮ অক্টোবর ২০১১)। "What Kind of Buddhist was Steve Jobs, Really?"NeuroTribesআসল থেকে ১৩ জুলাই ২০১২-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ১৯ অক্টোবর ২০১৩ 
  19. "Steve Jobs and the Early Apple Years"Joomlaআসল থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১২-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ১৯ অক্টোবর ২০১৩ 
  20. "Silicon Valley Historical Association official YouTube Channel, Steve Jobs Interview about the Blue Box Story" 
  21. Bonanos, Christopher (৭ অক্টোবর ২০১১)। "The Man Who Inspired Jobs"The New York Timesআসল থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১২-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ২০ অক্টোবর ২০১৩ 
  22. "The story of Polaroid inventor Edwin Land, one of Steve Jobs' biggest heroes"37signals.com। ১৮ নভেম্বর ২০১০। আসল থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১২-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ২০ অক্টোবর ২০১৩ 
  23. "Apple and the personal computer era"Steve Jobs Biographyআসল থেকে ৯ সেপ্টেম্বর ২০১২-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ২০ অক্টোবর ২০১৩ 
  24. Owen W. Linzmayer, No Starch Press। "Apple Confidential: The Real Story of Apple Computer, Inc"The Denver Postআসল থেকে ১২ জুলাই ২০১২-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ২১ অক্টোবর ২০১৩ 
  25. Markoff, John (১ সেপ্টেম্বর ১৯৯৭)। "An 'Unknown' Co-Founder Leaves After 20 Years of Glory and Turmoil"The New York Timesআসল থেকে ৬ সেপ্টেম্বর ২০১২-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ২১ অক্টোবর ২০১৩ 
  26. "His Opportunity to Change the World"ACTS Internationalআসল থেকে ৩০ জুলাই ২০১২-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ২১ অক্টোবর ২০১৩ 
  27. Kahney, Leander (৬ জানুয়ারি ২০০৪)। "Wired News: We're All Mac Users Now"Wired Newsআসল থেকে ২৯ জুন ২০১২-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ২১ অক্টোবর ২০১৩ 
  28. "America's Most Admired Companies: Jobs' journey timeline"Fortuneআসল থেকে ২৬ মে ২০০২-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ২১ অক্টোবর ২০১৩ 
  29. Hertzfeld, Andy। "The Times They Are A-Changin"Folklore.org। সংগৃহীত ২১ অক্টোবর ২০১৩ 
  30. ৩০.০ ৩০.১ ৩০.২ Seibold, Chris (২৪ মে ২০১১)। "May 24, 1985: Jobs Fails to Oust Sculley"Apple Mattersআসল থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১২-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ২১ অক্টোবর ২০১৩ 
  31. ৩১.০ ৩১.১ Hormby, Thomas। "Growing Apple with the Macintosh: The Sculley years"Low End Macআসল থেকে ২৮ জুন ২০১২-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ২১ অক্টোবর ২০১৩ 
  32. Hertzfeld, Andy। "The End of an Era"Folklore.orgআসল থেকে ২৬ মে ২০১২-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ২১ অক্টোবর ২০১৩ 
  33. Dormehl, Luke (২০১২)। The Apple Revolution: Steve Jobs, the counterculture and how the crazy ones took over the world। Random House। পৃ: ২৫৮–২৫৯। 
  34. Kopun, Francine (২৫ আগস্ট ২০১১)। "Life lessons from Jobs"The Star। টরোন্টো। আসল থেকে ২৬ মে ২০১২-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ২২ অক্টোবর ২০১৩ 
  35. Naughton, John (৮ অক্টোবর ২০১১)। "Steve Jobs: Stanford commencement address, June 2005"দ্য গার্ডিয়ান। লন্ডন। আসল থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১২-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ২২ অক্টোবর ২০১৩ 
  36. Spector, G (২৪ সেপ্টেম্বর ১৯৮৫)। "Apple's Jobs Starts New Firm, Targets Education Market"। PC Week। পৃ: ১০৯। 
  37. ৩৭.০ ৩৭.১ Linzmayer, O. W. (২০০৪)। "Apple Confidential 2.0: The Definitive History of the World's Most Colorful Company"। No Starch Press। ISBN 1-59327-010-0
  38. Rose, Frank (২৩ এপ্রিল ২০০৯)। "The End of Innocence at Apple: What Happened After Steve Jobs was Fired"Wiredআসল থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১২-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ২৫ অক্টোবর ২০১৩ 
  39. "Welcome to info.cern.ch: The website of the world's first-ever web server"। CERN (European Organization for Nuclear Research)। 2008। আসল থেকে ৪ জুন ২০১২-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ২৫ অক্টোবর ২০১৩ 
  40. Schlender, Brenton R. (১২ ফেব্রুয়ারি ১৯৯০)। "Who's ahead in the computer wars"Fortuneআসল থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১২-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ২৫ অক্টোবর ২০১৩ 
  41. O'Grady, J. (২০০৮)। Apple Inc.Greenwood Press। ISBN 0-313-36244-0
  42. "Pixar Founding Documents"Alvyray.comআসল থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১২-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ৩০ অক্টোবর ২০১৩ 
  43. ""Toy Story" Credits"IMDBআসল থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১২-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ৩০ অক্টোবর ২০১৩ 
  44. Hill, Jim (৫ ফেব্রুয়ারি ২০১২)। "Steve Jobs bio reveals how Michael Eisner actively tried to derail Disney's 2006 acquisition of Pixar"। Jim Hill Media। আসল থেকে ১০ জুলাই ২০১২-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ৩০ অক্টোবর ২০১৩ 
  45. জার্মান পাবলিক রেডিওর জন্য ম্যাক্সিমিলিয়ান স্কোনার কর্তৃক পরিচালিত সাক্ষাত্‍কার, মার্চ ২৭, ১৯৯৫
  46. Wolff, Michael (এপ্রিল ২০০৬)। "iPod, Therefore I am"Vanity Fairআসল থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১২-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ৩০ অক্টোবর ২০১৩ 
  47. ৪৭.০ ৪৭.১ "Disney buys Pixar for $7.4 bn"রেডিফ। ২৫ জানুয়ারি ২০০৬। আসল থেকে ১৩ জুলাই ২০১২-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ৩০ অক্টোবর ২০১৩ 
  48. "Pixar Becomes Unit of Disney"দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস। ৬ মে ২০০৬। আসল থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১২-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ৩০ অক্টোবর ২০১৩ 
  49. "Steve Jobs, 1955–2011"। Splashnogly। ৬ অক্টোবর ২০১১। আসল থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১২-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ৩০ অক্টোবর ২০১৩ 
  50. HOLSON, Laura M. (২৫ জানুয়ারি ২০০৬)। "Disney Agrees to Acquire Pixar in a $7.4 Billion Deal"দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস। সংগৃহীত ৩০ অক্টোবর ২০১৩ 
  51. Golum, Rob (২৪ নভেম্বর ২০১১)। "Jobs’s 7.7% Disney Stake Transfers to Trust Led by Widow Laurene"ব্লুমবার্গআসল থেকে ৩০ নভেম্বর ২০১৩-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ৩০ অক্টোবর ২০১৩ 
  52. "Apple Computer, Inc. Finalizes Acquisition of NeXT Software Inc"অ্যাপল ইনকর্পোরেটেড। ৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৭। সংগৃহীত ৩০ অক্টোবর ২০১৩ 
  53. "Apple Formally Names Jobs as Interim Chief"দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস। ১৭ সেপ্টেম্বর ১৯৯৭। আসল থেকে ৭ সেপ্টেম্বর ২০১২-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ৩০ অক্টোবর ২০১৩ 
  54. Norr, Henry (৬ জানুয়ারি ২০০০)। "MacWorld Expo/Permanent Jobs/Apple CEO finally drops 'interim' from title"San Francisco Chronicleআসল থেকে ৭ জুলাই ২০১২-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ৩১ অক্টোবর ২০১৩ 
  55. "Jobs announces new MacOS, becomes 'iCEO'"সিএনএন। ৫ জানুয়ারি ২০০০। আসল থেকে ৮ জুলাই ২০১২-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ৩১ অক্টোবর ২০১৩ 
  56. Johnson, Bary Alyssa (২১ এপ্রিল ২০০৬)। "Apple Improves Recycling Plan"PC Magazineআসল থেকে ৬ সেপ্টেম্বর ২০১২-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ৩১ অক্টোবর ২০১৩ 
  57. Siegler, M.G. (২৪ আগস্ট ২০১১)। "Steve Jobs Resigns As CEO Of Apple"TechCrunchআসল থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১২-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ৩১ অক্টোবর ২০১৩ 
  58. Gupta, Poornima (১৮ আগস্ট ২০১১)। "Steve Jobs Quits"রয়টার্সআসল থেকে ২ জুলাই ২০১২-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ৩১ অক্টোবর ২০১৩ 
  59. "AAPL: Summary for Apple IncFinance"ইয়াহু। ২ জানুয়ারি ২০০৭। আসল থেকে ২৮ জুন ২০১২-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ৩১ অক্টোবর ২০১৩ 
  60. Valentino-DeVries, Jennifer (২৪ আগস্ট ২০১১)। "Apple's Stock: Looks Like Jobs's Departure Was Priced In"Wall Street Journalআসল থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১২-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ৩১ অক্টোবর ২০১৩ 
  61. Schaefer, Steve (২৪ আগস্ট ২০১১)। "Steve Jobs Steps Down, Apple Shares Drop 5% After-Hours"ফোর্বসআসল থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১২-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ৩১ অক্টোবর ২০১৩ 
  62. "DIS: Summary for Walt Disney Company"ইয়াহুআসল থেকে ২ জুলাই ২০১২-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ৩১ অক্টোবর ২০১২ 
  63. "Executive salaries on the rise again"NineMSNআসল থেকে ২৯ মে ২১০২-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ৩১ অক্টোবর ২০১৩ 
  64. Kim, Susanna (৭ অক্টোবর ২০১১)। "Future of Steve Jobs' $6.7 Billion Wealth Likely to Remain as Private As He Was"ABC Newsআসল থেকে ৭ জুলাই ২০১২-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ৩১ অক্টোবর ২০১২ 
  65. "Steve Jobs is $282 million richer"ফরচুন (সিএনএন)। ২০০৯। আসল থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১২-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ৩১ অক্টোবর ২০১৩ 
  66. Hatmaker, Taylor (৬ অক্টোবর ২০১১)। "8 things you didn't know about the life of Steve Jobs"Teccaআসল থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১২-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ৩১ অক্টোবর ২০১৩ 
  67. "Forbes 400 Richest Americans"ফোর্বস। সেপ্টেম্বর ২০১১। আসল থেকে ২৬ মে ২০১২-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ৩১ অক্টোবর ২০১৩ 
  68. http://www.uspto.gov/about/nmti/recipients/1985.jsp
  69. টাইম ম্যাগাজিনের পার্সন অফ দ্য ইয়ার’এর জন্য মনোনীত মেসি, সংগ্রহকালঃ ২৭ নভেম্বর, ২০১১ইং