সোনার কেল্লা (চলচ্চিত্র)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সোনার কেল্লা
Sonar kella.jpg
সোনার কেল্লা (১৯৭৪)
পরিচালক সত্যজিত রায়
প্রযোজক পশ্চিমবঙ্গের সরকার
রচয়িতা সত্যজিত রায়
অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়,
সন্তোষ দত্ত,
সিদ্ধার্থ চট্টোপাধ্যায়,
কুশল চক্রবর্তী,
শৈলেন মুখার্জী,
কামু মুখার্জী
মুক্তি ১৯৭৪
ভাষা বাংলা

সোনার কেল্লা সত্যজিৎ রায়ের পরিচালনায় নির্মিত একটি রহস্য রোমাঞ্চ চলচ্চিত্র । সত্যজিৎ রায় নিজের কাহিনী নিয়েই চলচ্চিত্রটি তৈরি করেছিলেন । তিনি সোনার কেল্লা উপন্যাসটি রচনা করেন ১৯৭১ সালে । সোনার কেল্লা মুক্তি পায় ১৯৭৪ সালে চলচ্চিত্রটির শুটিং হয়েছিল রাজস্থানে

কাহিনী সূত্র[সম্পাদনা]

মুকুল (কুশল চক্রবর্তী) এক ছোট ছেলে যে বলে তার পূর্বজন্মের ইতিহাস তার মনে আছে। সে রাত্র জেগে ছবি আঁকে যুদ্ধের যেগুলো সে দেখেছিলো পূর্বজন্মে। তখন তার বাবা তাকে ডঃ হাজরার (শৈলেন মুখার্জী) কাছে নিয়ে যায় যিনি একজন মনস্তত্ত্ববিদ এবং এইসব রোগের প্রতিরোধক জানেন। সব মরুভুমি ও ময়ূরের বিস্তারিত জানার পর, তিনি আন্দাজ করলেন যে জায়গাটা রাজস্থানের কোনো স্থান হবে। মুকুল আরো জানায় যে সে একটি সোনার কেল্লাতে থাকত, যদিও সে জানে না এটার মানে কি, এবং এটাও যে তাদের ঘরে অনেক রত্ন ছিলো। ডঃ হাজরা মুকুলকে নিয়ে ঘুরতে যায় রাজস্থানে এই ভেবে যে তিনি আরো অনেক মনস্তত্ত্ব নিয়ে জানতে পারবেন এবং ছেলেটাকেও সুস্থ করে তুলতে পারবেন।

একটি খবরের কাগজের লেখা অমিয়নাথ বর্মন (অজয় ব্যানার্জী) এবং মন্দার বোসকে (কামু মুখার্জী) জানিয়ে দেয় এই ঘটনার কথা। বর্মন ও বোসের সাথে ডঃ হাজরার আগে দেখা হয়েছে যখন ডঃ হাজরা এই দুজনকে ভুয়া প্রমান করেছিলো। তারা মনে করে পারে যে রত্ন একটি লুকানো সম্পদ এবং পরিকল্পনা করে মুকুককে অপহরণ করবে যাতে সেই রত্নের মালিক তারাই হতে পারে। তাদের প্রথম চেষ্টা ভেস্তে হয়ে যায় যখন মুকুল নামক আরেকটি ছেলেকে তারা তুলে নিয়ে আসে একই এলাকার থেকে এবং জানতে পারে যে আসল মুকুল আগেই রাজস্থানের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়ে দিয়েছে।

ভেস্তে যাওয়া অপহরণের খবর পেয়ে মুকুলের বাবা ফেলুদাকে (সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়) একজন ব্যক্তিগত গোয়েন্দাকে তার ছেলেকে বাঁচানোর জন্য বলেন। ফেলুদা কাজটি হাতে নেয় এবং রাজস্থানের পথে যান তার ভাগ্না তোপসেকে (সিদ্ধার্থ চট্টোপাধ্যায়) নিয়ে। রাজস্থানের পথে তাদের দেখা হয় লালমোহন গাঙ্গুলী বা জটায়ুর (সন্তোষ দত্ত) সাথে যিনি একজন বিখ্যাত লেখকের সাথে।

তখনই বর্মন ও বোস ডঃ হাজরার সাথে বন্ধুত্ব গড়ে তুলে যারা একই ট্রেনে কিন্তু চিনতে ভুল করে। তারা ডঃ হাজরাকে পাহাড়ের উপর থেকে ধাক্কা দেয় এবং মুকুলকে অপহরণ করে যাতে বর্মন হয়ে যায় ডঃ হাজরা এবং মন্দার বোস হয় তাদের সহযাত্রী। তাদের কাছে অজানা থেকে যায় যে ডঃ হাজরা বেঁচে যেতে পেরেছেন, যদিও তাকে কিছু দিনের জন্য বিশ্রাম নিতে হয়। ফেলুদার বর্মনের সাথে দেখা হয় এবং তাকে ডঃ হাজরা মনে করে বিষাক্ত বিছা দিয়ে মারতে চেষ্টা করে কিন্তু ব্যর্থ হয়। জটায়ু তাদের সাথে যোগ দেন এবং রাজস্থান ঘুরতে শুরু করেন। এরপর থেকে মন্দার বোসের উপর ফেলুদার চোখ পড়ে যখন সে জটায়ুর কাছে জানায় যে যে আফ্রিকাতে নেকড়ে মেরেছিলো।

এক রাত্রে, বর্মন তার মনস্তত্ত্ববিদ্যা ব্যবহার করে মুকুলকে সংবিষ্ট করে এবং জানতে পারে যে কেল্লাটি জয়শালমে। পরের দিন, ফেলুদাও একই কথা বুঝতে পারে যখন মনে করতে পারে যে জলসালমের কেল্লা সোনালী হলুদ পাথর দিয়ে তৈরী। যখন তিনি আবার ফিরে আসেন, তখন তিনি জানেন যে বর্মন আগেই চলে গিয়েছে। মন্দার বোস বলেন যে মুকুল জায়গাটার নাম বর্মর বলতে পেরেছে। যখন ফেলুদা হাজরার নাম ভুল বানাতে লেখা দেখে হোটেলের খাতায়, তখন সে গাড়ি নিয়ে জলশামে যেতে শুরু করে যাতে হাজরার রাস্তায় গুরো করা কাঁচ ফেলুদার গাড়ির চাকা পাংচার করে দেয়।

ফেলুদা উটে উঠে কাছে ট্রেনে জন্য ছুটে এবং পরের ট্রেনে জয়সালমের যায়। সেখানে মন্দার বোস ফেলুদাকে আঘাত করতে চেষ্টা করে, কিন্তু ঘুমের ভাব দেখিয়ে তিনি বেঁচে যান। হঠাৎ জটায়ু মন্দার বোসের ছুরিকে চুরি করে এবং জটায়ুকেই ব্যবহার করে ট্রেনের সাইডে ঝুলে থাকে যাতে পরে সে আবার কোনো একটি ট্রেনের কামরাতে উঠতে পারে। সেখানে আসল ডঃ হাজরা দরজাটাকে ধাক্কা দিয়ে মন্দার বোসকে মৃত্যু আনে।

পরের দিন সকালে, তারা তিনজন জয়সালমের পৌঁছায় এবং ডঃ হাজরার সাথে কথা বলে। তারা বর্মন এবং মুকুলকে পায় কেল্লা মধ্যে দিয়ে খুঁজতে। বর্মনের ময়ূরের প্রতি ভয়ের কারণে সে একটিকে ঘুলি করতে চেষ্টা করে, যা দেখে মুকুল দৌড়ে পালায়। এই সময় ফেলুদা আগে এবং তাকে আটক করে। সে জানায় সে এখানে কোনো রত্ন ছিলো না, এবং মুকুলকে আবার সুস্থ হিসেবে দেখে যাতে তাকে আবার কলকাতায় নিয়ে যেতে পারে।

শিল্পী পরিচিতি[সম্পাদনা]

কলাকুশলী[সম্পাদনা]

পুরস্কার[সম্পাদনা]

পুরস্কার পুরস্কার দাতা
সেরা ছবি পশ্চিমবঙ্গ সরকার
সেরা পরিচালক, সত্যজিৎ রায় পশ্চিমবঙ্গ সরকার
রাষ্ট্রপতির রৌপ্য পদক ভারত সরকার, ১৯৭৪
Best Colour Photography, সৌমেন্দু রায় ভারত সরকার, ১৯৭৫
Best Director, সত্যজিৎ রায় ভারত সরকার, ১৯৭৫
Best Screenplay, সত্যজিৎ রায় ভারত সরকার, ১৯৭৫
গোল্ডেন স্ট্যাচু for the “বেস্ট লাইভ ফিচার ফিল্ম” 10th তেহরান ইন্টারন্যাশন্যাল ফেস্টিভ্যাল অফ ফিল্মস ফর চিলড্রেন অ্যান্ড ইয়ঙ অ্যাডাল্টস

অন্যান্য তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]