সিঙ্গাপুর

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
প্রজাতন্ত্রী সিঙ্গাপুরRepublic of Singapore (ইংরেজি)
Republik Singapura (মালয়)
新加坡共和国 (চীনা)
சிங்கப்பூர் குடியரசு (তামিল)
Singapore Coat of Arms
পতাকা Coat of Arms
নীতিবাক্য
"Majulah Singapura"  (মালয়)
"Onward, Singapore"
জাতীয় সঙ্গীত
Majulah Singapura
রাজধানী সিঙ্গাপুর1
১°১৭′ উত্তর ১০৩°৫১′ পূর্ব / ১.২৮৩° উত্তর ১০৩.৮৫০° পূর্ব / 1.283; 103.850
রাষ্ট্রীয় ভাষাসমূহ ইংরেজি 
ম্যান্ডারিন 
মালয় 
তামিল
জাতীয়তাসূচক বিশেষণ Singaporean
সরকার Parliamentary republic
 -  President সেল্লাপান রামানাথান
 -  Prime Minister Lee Hsien Loong
Independence
 -  City status July 24 1951 
 -  Self-government
under the United Kingdom

3 June 1959[১] 
 -  Declaration of independence 31 August 1963 
 -  Merger with Malaysia 16 September 1963 
 -  Separation from Malaysia 9 August 1965 
আয়তন
 -  মোট ৭০৪.০ বর্গ কিমি. (190th)
২৭০ বর্গ মাইল 
 -  জলভাগ (%) 1.444
জনসংখ্যা
 -  2007 আনুমানিক 4,680,600 [২] (117th)
 -  2000 আদমশুমারি 4,117,700 
 -  ঘনত্ব 6,369.2/বর্গ কিলোমিটার 
১৬/বর্গ মাইল
জিডিপি (পিপিপি) 2006 আনুমানিক
 -  মোট US$137.7622 billion (54th)
 -  মাথাপিছু US$30,723.61 (17th)
এইচডিআই (2007) অপরিবর্তিত 0.922 (high) (25th)
মুদ্রা Singapore dollar (SGD)
সময় স্থান SST (ইউটিসি+8)
 -  গ্রীষ্মকালীন (ডিএসটি) not observed (ইউটিসি+8)
ইন্টারনেট টিএলডি .sg
কলিং কোড 65
১. Singapore is a city-state.
২. 02 from Malaysia.

সিঙ্গাপুর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া মহাদেশের একটি দ্বীপ রাষ্ট্র। দেশটি মালয় উপদ্বীপের নিকটে অবস্থিত। এর সরকারী নাম প্রজাতন্ত্রী সিঙ্গাপুর (মালয় ভাষায় Republik Singapura রেপুব্লিক্‌ সিঙ্গাপুরা; ইংরেজি ভাষায় Republic of Singapore রিপাব্লিক্‌ অভ্‌ সিঙ্গাপোর্‌; ম্যান্ডারিন চীনা ভাষায় 新加坡共和国 শিঞ্চিয়াফ কোংহকুও; তামিল ভাষায়: சிங்கப்பூர் குடியரசு, চিঙ্গাপ্পূর্‌ কুদিয়ারাষু)

ইতিহাস[সম্পাদনা]

"সিঙ্গাপুর" নামটি আসে মালয় ভাষার Singapura সিঙ্গাপুরা থেকে। সিঙ্গাপুরা শব্দটি আসে সংস্কৃত ভাষা सिंहपुर সিঁহাপুরা থেকে, যার বাংলা অনুবাদ সিংহপুর

রাজনীতি[সম্পাদনা]

সিঙ্গাপুরের রাজনীতি একটি সংসদীয় প্রজাতন্ত্রের কাঠামোয় সঙ্ঘটিত হয়। সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী হলেন সরকারের প্রধান। দেশটিতে মূলত একটি রাজনৈতিক দলের প্রভাব বেশি। দেশের নির্বাহী ক্ষমতা সরকারের হাতে ন্যস্ত। আইন প্রণয়নের ক্ষমতা সরকার ও আইনসভার দায়িত্বে পড়ে। বিচার বিভাগ নির্বাহী ও আইন প্রণয়ন বিভাগ থেকে স্বাধীন। আইনসভার সদস্যরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন। রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের প্রধান হলেও তার ভূমিকা মূলত আলংকারিক। তবে ইদানিং রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার পরিসর কিছু বাড়ানো হয়েছে।

১৯৫৯ সালের নির্বাচন থেকে সিঙ্গাপুরের রাজনীতিকে পিপল্‌স অ্যাকশন পার্টি নামের রাজনৈতিক দল নিয়ন্ত্রণ করে চলেছে। একাধিক বিরোধী দল উপস্থিত থাকলেও ক্ষমতায় তাদের প্রতিনিধিত্ব নেই বললেই চলে। তাই অনেক বিদেশী পর্যবেক্ষক সিঙ্গাপুরকে কার্যত একটি এক-দলীয় শাসনব্যবস্থা হিসেবে গণ্য করে থাকেন। তবে সিঙ্গাপুরের সরকার সবসময়েই একটি স্বচ্ছ, দুর্নীতিমুক্ত সরকার হিসেবে বহির্বিশ্বে পরিচিত। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের মতে সিঙ্গাপুর বহুদিন ধরেই এশিয়ার সবচেয়ে দুর্নীতিমুক্ত দেশ।

প্রশাসনিক অঞ্চলসমূহ[সম্পাদনা]

ভূগোল[সম্পাদনা]

সিঙ্গাপুর একটি ক্ষুদ্র ও ব্যাপকভাবে নগরায়িত দ্বীপরাষ্ট্র। এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াতে মালয় উপদ্বীপের দক্ষিণতম প্রান্তে, মালয়েশিয়াইন্দোনেশিয়ার মাঝখানে অবস্থিত। সিঙ্গাপুরের স্থলভূমির মোট আয়তন ৬৯৯ বর্গকিলোমিটার। এর তটরেখার দৈর্ঘ্য ১৯৩ কিলোমিটার। এটি মালয়েশিয়া থেকে জোহর প্রণালী এবং ইন্দোনেশিয়া থেকে সিঙ্গাপুর প্রণালী দ্বারা বিচ্ছিন্ন।

সিঙ্গাপুরের মূল ভূখণ্ডটি একটি হীরকাকৃতি দ্বীপ, তবে এর প্রশাসনিক সীমানার ভেতরে আরও বেশি কিছু ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দ্বীপ অবস্থিত। এদের মধ্যে পেদ্রা ব্রাংকা নামের দ্বীপটি সিঙ্গাপুর থেকে সবচেয়ে বেশী দূরত্বে অবস্থিত। সিঙ্গাপুরের সীমানার অন্তর্গত কয়েক ডজন ক্ষুদ্রাকার দ্বীপের মধ্যে জুরং দ্বীপ, পুলাউ তেকোং, পুলাউ উবিন ও সেন্তোসা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বড়।

সিঙ্গাপুর দ্বীপের বেশিরভাগ এলাকা সমুদ্র সমতল থেকে ১৫ মিটারের চেয়ে বেশি উঁচুতে অবস্থিত নয়। সিঙ্গাপুরের সর্বোচ্চ বিন্দুটির নাম বুকিত তিমাহ; এটি সমুদ্র সমতল থেকে ১৬৪ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত গ্র্যানাইট পাথরে নির্মিত একটি শিলা। সিঙ্গাপুরের উত্তর-পশ্চিমে আছে পাললিক শিলা দ্বারা নির্মিত ছোট ছোট টিলা ও উপত্যকা, অন্যদিকে পূর্বভাগ মূলত বালুময় সমতল ভূমি দিয়ে গঠিত। সিঙ্গাপুরে কোন প্রাকৃতিক হ্রদ নেই, তবে সুপেয় পানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য কৃত্রিম জলাধার নির্মাণ করা হয়েছে।

সিঙ্গাপুর প্রশাসন সমুদ্রতলের মাটি, পর্বত ও অন্যান্য দেশ থেকে মাটি সংগ্রহ করে দেশটির স্থলভাগের আয়তন বৃদ্ধি করে চলেছেন। ১৯৬০-এর দশকে দেশটির আয়তন ছিল প্রায় ৫৮২ বর্গকিলোমিটার, বর্তমান এটি ৬৯৯ বর্গকিলোমিটার এবং ২০৩৩ সাল নাগাদ এর পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে আরও ১০০ বর্গকিলোমিটার

জলবায়ু[সম্পাদনা]

সিঙ্গাপুর বিষুবরেখার মাত্র ১ ডিগ্রী উত্তরে অবস্থিত বলে এখানকার জলবায়ু নিরক্ষীয় প্রকৃতির।

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

জনসংখ্যা[সম্পাদনা]

সংস্কৃতি[সম্পাদনা]

পর্যটন[সম্পাদনা]

সিঙ্গাপুর শহর

পর্যটন সিঙ্গাপুরের অন্যতম প্রধান শিল্প এবং দেশটির অর্থনীতিতে ব্যাপক অবদান রাখে। প্রতি বছর কয়েক মিলিয়ন পর্যটক সিঙ্গাপুর ভ্রমণ করে।

নাইট সাফারী[সম্পাদনা]

সিঙ্গাপুর চিড়িয়াখানা, পৃথিবীর প্রথম ও একমাত্র নাইট সাফারী[৩]। নাইট সাফারীতে গভীর রাতে জঙ্গলের ভিতরের নানান পশুপাখিদের মাঝ দিয়ে ট্রামে করে পর্যটকরা বিচড়ন করেন। বাঘ, হরিন, ভালুক, হাতি, উট কুমির এ সাফারীর প্রাণিদের মধ্যে অন্যতম। এ সাফারীতে পশুপাখিরা উন্মুক্তভাবে ঘুরে বেড়ায়।

মারলাওন পার্ক[সম্পাদনা]

মারলিন বা সিংহ-মৎস হচ্ছে সিঙ্গাপুরীদের গর্বের প্রতীক, বীরত্বের প্রতীক। কথিত আছে বহু পুর্বে সিঙ্গাপুর যখন তেমাসেক বা সমূদ্রনগরী নামে পরিচিত ছিলো তখন প্রচন্ড এক সামূদ্রিক ঝড় ওঠে দ্বীপে। অধিবাসীরা যখন নিজেদের স্বপে দেয় ঈশ্বরের হাতে ঠিক তখনই সমুদ্র থেকে সিংহ-মৎস আকৃতির এক জন্তু এসে ঝড়ের বিরুদ্ধে লড়াই করে বাচিয়ে দেয় অধিবাসীদের। আর সে থেকে মারলিন নামের সিংহ-মৎস সিঙ্গাপুরীদের গর্ব আর বীরত্বের প্রতীক। মারলিনের মুর্তি ম্যারিনা বে-এর মারলাওন পার্কে অবস্থিত।

সেন্টোসা আইল্যান্ড[সম্পাদনা]

সমুদ্রের মাঝে ছোট এক দ্বীপে গড়ে তোলা বিনোদন কেন্দ্র।

জনসংখ্যাতাত্ত্বিক[সম্পাদনা]

সিঙ্গাপুরের মেরিনা বে সেন্ডসের টেরেস

মালয় ভাষা, চীনা ভাষার বিভিন্ন উপভাষা, ইংরেজি ভাষা, বাংলা ভাষা এবং তামিল ভাষা যৌথভাবে সিঙ্গাপুরের সরকারী ভাষা। এছাড়াও এখানে আরও প্রায় ২০টি ভাষা প্রচলিত। এদের মধ্যে জাপানি ভাষা, কোরীয় ভাষা, মালয়ালম ভাষা, পাঞ্জাবি ভাষা এবং থাই ভাষা উল্লেখযোগ্য। ইংরেজি ভাষা সার্বজনীন ভাষা বা লিঙ্গুয়া ফ্রাংকা হিসেবে ভূমিকা পালন করে। আন্তর্জাতিক কর্মকাণ্ডেও ইংরেজি ভাষা ব্যবহার করা হয়।

ধর্মালম্বী[সম্পাদনা]

সিঙ্গাপুরের ধর্মালম্বী
ধর্ম শতাংশ
বৌদ্ধ
  
৪২.৫%
ইসলাম
  
১৪.৯%
নিরীশ্বরবাদী
  
১৪.৮%
খ্রিস্টান
  
১৪.৬%
তাও ধর্ম
  
৮.৫%
হিন্দু
  
৪%
অন্যান্য
  
০.৬%


আরও দেখুন[সম্পাদনা]

Saint Andrew's Cathedral, Singapore 2.JPG

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Singapore: History"। Asian Studies Network Information Center। সংগৃহীত 2007-11-02 
  2. "Population - latest data"। Singapore Department of Statistics Singapore। 2007-11-30। সংগৃহীত 2007-12-04 
  3. সিঙ্গাপুর ডট কম

http://www.singapore-dine.sg Singapore food guide

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]