সালিম আলী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সালিম আলী
Salim ali mns.jpg
জন্ম (১৮৯৬-১১-১২)নভেম্বর ১২, ১৮৯৬
মুম্বই, ব্রিটিশ ভারত
মৃত্যু জুলাই ২৭, ১৯৮৭(১৯৮৭-০৭-২৭) (৯০ বছর)
মুম্বই, ভারত
জাতীয়তা ভারতীয়
কর্মক্ষেত্র পক্ষীবিজ্ঞান
প্রাকৃতিক ইতিহাস
প্রভাবান্বিত এরউইন স্ট্রেসমান
উল্লেখযোগ্য পুরস্কার পদ্মবিভূষণ (১৯৭৬)
স্ত্রী/স্বামী তাহমিনা আলী

সালিম মঈজুদ্দীন আব্দুল আলী (জন্ম: নভেম্বর ১২, ১৮৯৬মৃত্যু: জুলাই ২৭, ১৯৮৭) একজন বিখ্যাত ভারতীয় পক্ষীবিদ এবং প্রকৃতিপ্রেমী। তিনিই প্রথম কয়েকজন ভারতীয়দের মধ্যে একজন যাঁরা ভারতের পাখিদের সম্বন্ধে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে জরিপ পরিচালনা করেন। তাঁর পাখিবিষয়ক বইগুলো পক্ষীবিজ্ঞানের উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। ১৯৪৭-এর পর তিনি বোম্বে ন্যাচারাল হিস্ট্রি সোসাইটিতে গুরুত্বপূর্ণ আসনে জায়গা করে নেন এবং সংগঠনটির উন্নয়নে সরকারী সাহায্যের সংস্থান করে দেন। তিনি ভরতপুর পক্ষী অভয়ারণ্য (কেওলাদেও জাতীয় উদ্যান) প্রতিষ্ঠা করেন এবং তাঁরই উদ্যোগে বর্তমান সাইলেন্ট ভ্যালি জাতীয় উদ্যান নিশ্চিত ধ্বংসের হাত থেকে বেঁচে যায়।

ভারত সরকার তাঁকে ১৯৫৮ সালে পদ্মভূষণ এবং ১৯৭৬ সালে ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক উপাধি পদ্মবিভূষণে ভূষিত করে।[১] এছাড়াও তিনি ১৯৫৮ সালে রাজ্যসভায় সদস্যরূপে মনোনীত হন।[২] পাখি বিষয়ে তাঁর অনবদ্য অবদানের জন্য তিনি "ভারতের পক্ষীমানব" হিসেবে পরিচিত।

সংক্ষিপ্ত জীবনী[সম্পাদনা]

প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা]

সালিম আলী ১৮৯৬ সালে ভারতের মুম্বইয়ে (তৎকালীন বোম্বে) সুলাইমানী বোহরা গোত্রের এক মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। নয় ভাই-বোনের মধ্যে তিনি সর্বকনিষ্ঠ। তাঁর বয়স যখন এক বছর তখন তাঁর পিতা মইজুদ্দীন মৃত্যুবরণ করেন এবং তিন বছর বয়সে তাঁর মাতা জিনাত-উন-নিসা মৃত্যুবরণ করেন।[৩] তাঁর নিঃসন্তান মামা-মামী আমিরুদ্দীন তায়েবজী ও হামিদা বেগম তাঁর লালন-পালনের ভার নেন। তাঁর আরেক মামা আব্বাস তায়েবজী একজন প্রখ্যাত ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামী ছিলেন। ছোটবেলায় সালিম তাঁর খেলনা এয়ারগান দিয়ে একটি অদ্ভুতদর্শন চড়ুই শিকার করেন আর সেই চড়ুইয়ের সূত্র ধরে বোম্বে ন্যাচারাল হিস্ট্রি সোসাইটির তৎকালীন সচিব ওয়াল্টার স্যামুয়েল মিলার্ডের সাথে তাঁর পরিচয় হয়। মিলার্ড চড়ুইটিকে হলদেগলা চড়ুই হিসেবে সনাক্ত করেন। তিনি সালিমকে সোসাইটিতে সংগৃহীত স্টাফ করা পাখির সংগ্রহ ঘুরিয়ে দেখান।[৪] তিনি সালিমকে পাখি সম্পর্কিত কিছু বই ধার দেন, তার মধ্যে ইহার কমন বার্ডস অব বোম্বে অন্যতম। সালিমকে পাখির একটি সংগ্রহ সৃষ্টির জন্য তিনি উৎসাহ দেন আর কিভাবে পাখির চামড়া ছাড়াতে হয় ও সংরক্ষণ করতে হয় সে ব্যাপারে প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রস্তাব দেন। মিলার্ড ছোট্ট সালিমের সাথে নরম্যান বয়েড কিনিয়ারের পরিচয় করিয়ে দেন। কিনিয়ার ছিলেন বোম্বে ন্যাচারাল হিস্ট্রি সোসাইটির সর্বপ্রথম বেতনভোগী কিউরেটর।[৫] নিজের আত্মজীবনী দ্য ফল অফ আ স্প্যারোতে সালিম হলদেগলা চড়ুইয়ের ঘটনাটাকে তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়া ঘটনা হিসেবে অভিহিত করেন। সেই ঘটনাটাই তাঁর পক্ষীবিদ হওয়ার পেছনে ভূমিকা রাখে। তখনকার দিনে ভারতের হিসেবে পেশাটি একটু অন্যরকমই বলতে হবে।[৬] অথচ জীবনের প্রথম দিকে তিনি শিকার সম্পর্কিত বইপত্র পড়তেন আর তাঁর ঝোঁক ছিল শিকারের দিকেই। তাঁর পালক পিতা আমিরুদ্দীনের শিকারের প্রতি বেশ আগ্রহ ছিল। তাঁর আশেপাশের এলাকায় প্রায়ই শিকার প্রতিযোগিতা হত। তাঁর শিকারের অন্যতম সহচর ছিলেন পাকিস্তানের প্রথম রাষ্ট্রপতি ইস্কান্দার মির্জা, যিনি নিজে খুব ভাল শিকারী ছিলেন।[৭]

সালিম আলি তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করেন জেনানা বাইবেল মেডিকেল মিশন গার্লস হাই স্কুল থেকে। পরবর্তীতে তিনি বোম্বের সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে ভর্তি হন। তের বছর বয়স থেকে তিনি প্রায়ই মাথাব্যথায় ভুগতেন। সে কারণে তিনি স্কুলে অনিয়মিত ছিলেন। তাঁর এক আত্মীয়ের পরামর্শে তিনি সিন্ধুতে চলে যান। অনিয়মিত শিক্ষাজীবনের জন্য তিনি কোনমতে ১৯১৩ সালে বোম্বে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেট্রিকুলেশন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।[৮]

বার্মা ও ইউরোপের জীবন[সম্পাদনা]

সালিম আলি তাঁর বোম্বের সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজের প্রথম দিনগুলো বেশ সমস্যার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করেন। কলেজ বাদ দিয়ে তিনি বার্মার তেভয়ে (তেনাসেরিম) চলে যান তাঁর পারিবারিক টাঙস্টেনের খনি ও টিম্বারের ব্যবসা দেখাশোনার জন্য। সে এলাকার অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য ও অসাধারণ সম্বৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য তাঁর প্রকৃতিপ্রেমী সত্ত্বাকে (একই সাথে শিকারী সত্ত্বাকেও) জাগ্রত করে। সেখানে জে সি হোপল্যান্ড আর বার্থোল্ড রিবেনট্রপের সাথে তাঁর পরিচয় হয়। তাঁরা দু'জন তখন বার্মার ফরেস্ট সার্ভিসে কর্মরত ছিলেন। সাত বছর পর, ১৯১৭ সালে সালিম আলী ভারতে ফেরত আসেন। তিনি তাঁর অসমাপ্ত পড়াশোনা শেষ করার সিদ্ধান্ত নেন। দেবরের কলেজ অফ কমার্সে তিনি বাণিজ্যিক আইন আর হিসাববিদ্যায় ভর্তি হন। তাঁর আগ্রহ ঠিকই সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজের ফাদার এথেলবার্ট ব্লাটার-এর নজরে আসে। তিনি সালিমকে জীববিদ্যা পড়ার জন্য উৎসাহ দেন। সকালে দেবর কলেজে ক্লাস করে পরে সেন্ট জেভিয়ার্সে ক্লাস করতে যেতেন সালিম। এতসব প্রতিকূলতার মধ্যে তিনি ঠিকই জীববিদ্যার কোর্স সফলভাবে পাশ করেন।[৯][১০] ১৯১৮ সালের ডিসেম্বরে তাঁর এক দুঃসম্পর্কীয় আত্মীয়া তাহমিনার সঙ্গে তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।[১১]

ছোটবেলা থেকেই মোটরসাইকেলের প্রতি সালিমের তীব্র আকর্ষণ ছিল। তেভয়ে তিনি প্রথমবারের মত একটি ৩.৫ অশ্বশক্তির NSU কেনেন। পরবর্তীকালে বিভিন্ন সময়ে তিনি একটি সানবিম, তিনটি মডেলের হার্লে-ডেভিসন, একটি ডগলাস, একটি স্কট, একটি নিউ হাডসন, একটি জেনিথ এবং আরও অনেক মোটরসাইকেল কেনেন। একবার ১৯৫০ সালে সুইডেনের উপসালায় অর্নিথোলজিক্যাল কংগ্রেস থেকে তিনি আমন্ত্রণ পান। বোম্বে থেকে এস এস স্ট্রেথডেনে করে তাঁর সানবীম নিয়ে তিনি সুইডেনে নামেন আর সেটা নিয়ে সমগ্র ইউরোপ চষে বেড়াতে শুরু করেন। জার্মানির প্যাঁচানো সব রাস্তায় ছোটখাটো দুর্ঘটনা ছাড়াও ফ্রান্সে তিনি অ্যাক্সিডেন্ট করে জখম হন। পুরো ইউরোপ ঘুরে যখন তিনি ঠিক সময়ে সুইডেনে প্রথম অধিবেশনে যোগ দেন, তখন সবাই বলাবলি করতে শুরু করে যে লোকটা ভারত থেকে গোটা পথ পাড়ি দিয়ে এখানে এসে পৌঁছেছে। সেবার একটা বিএমডব্লিউ সাথে না থাকাতে সালিম আলীর খুব আফসোস হয়েছিল।[১২]

কোন প্রাতিষ্ঠানিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি না থাকাতে জ্যুলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ায় পক্ষীবিদের পদ পেতে সালিম আলী ব্যর্থ হন। তার পরিবর্তে এম এল রুনওয়াল পদটি পেয়ে যান।[১৩] ১৯২৬ সালে নবনির্মিত মুম্বাইয়ের প্রিন্স অব ওয়েলস মিউজিয়ামে তিনি গাইড লেকচারার পদে চাকরি পান। তখন তাঁর মাসিক বেতন ছিল ৩৫০ রুপি।[৪][১৪] তবে নতুন কাজে তিনি বেশিদিন স্থায়ী হন নি। দুই বছর পর, ১৯২৮ সালে তিনি শিক্ষা অবকাশ নিয়ে জার্মানি চলে যান। সেখানে বার্লিন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিজ্ঞান জাদুঘরে অধ্যাপক এরউইন স্ট্রেসমানের অধীনে তিনি কাজ করার সুযোগ পান। বার্মা থেকে জে. কে. স্টানফোর্ড সংগৃহীত বিভিন্ন নমুনা বিশ্লেষণ করা ছিল তাঁর অনেকগুলো কাজের মধ্যে একটি। স্টানফোর্ড বোম্বে ন্যাচারাল হিস্ট্রি সোসাইটির একজন সদস্য ছিলেন। তিনি সালিমকে কারো অধীনে কাজ না করার জন্য উৎসাহ দেন এবং বোম্বে ন্যাচারাল হিস্ট্রি সোসাইটি থেকে সবরকম সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস জানান। স্টানফোর্ড ক্লড টাইসহার্স্টের সাথে এ ব্যাপারে কথাবার্তা বলেন। একজন ভারতীয়কে বোম্বে ন্যাচারাল হিস্ট্রি সোসাইটিতে জড়ানোর বিষয়টি টাইসহার্স্টের মনঃপূত হয় নি। আবার একজন জার্মানের (স্ট্রেসমান) সংশ্লিষ্টতাও তাঁকে ক্ষুব্ধ করে। বোম্বে ন্যাচারাল হিস্ট্রি সোসাইটিতে তিনি চিঠি লিখে জানান যে স্ট্রেসমানের সংশ্লিষ্টতা তাঁর কাছে ব্যক্তিগতভাবে অপমানজনক।[১৫] তাঁর মন্তব্য অবশ্য পরবর্তীতে আমলে নেওয়া হয়নি। জার্মানিতে সালিম বের্নহার্ট রানশ্, অস্কার হাইনরোথ, আর্নস্ট মায়ারের মত তৎকালীন জার্মানির সেরা সেরা পক্ষীবিজ্ঞানীর সংস্পর্শে আসেন। বার্লিনে তাঁর সাথে বিপ্লবী চম্পাকর্মণ পিল্লাইয়ের সাথে সাক্ষাৎ হয়। জার্মানিতে অবস্থান তাঁর পাখি বিষয়ক আগ্রহ আরও বৃদ্ধি করে, সাথে সাথে তাঁর অভিজ্ঞতার ঝুলিকেও সম্বৃদ্ধ করে।

পক্ষীবিজ্ঞানে অবদান[সম্পাদনা]

এক সংগ্রহ যাত্রায় মেরি আর ডিলন রিপ্লির সাথে সালিম আলী (১৯৭৬)

১৯৩০ সালে সালিম আলী ভারতে ফিরে আসেন। ভারতে এসে তিনি আবিষ্কার করলেন, তাঁর গাইড লেকচারারের পদটি তহবিলের অভাবে বিলোপ করা হয়েছে। উপযুক্ত চাকরির অভাবে সালিম ও তাহমিনা মুম্বাইয়ের নিকটে কিহিম নামক একটি সমুদ্রতীরবর্তী গ্রামে চলে যান। সেখানে তিনি দেশি বাবুইয়ের জন্ম ও প্রজনন প্রক্রিয়া খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ পান। তিনি আবিষ্কার করেন, এদের প্রজনন প্রক্রিয়া আসলে অনুবর্তী বহুগামী[১৬] পরবর্তীকালে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন যে এ তথ্য বহু আগে মুঘল প্রকৃতিবিদরা আবিষ্কার করেন। কে. এম. অনন্তন নামে এক অবসরপ্রাপ্ত সামরিক চিকিৎসকের নিমন্ত্রণে তিনি পরের কয়েকটি মাস কোটাগিরিতে কাটিয়ে দেন। এর কিছুদিন পরে তিনি হায়দ্রাবাদ, কোচিন, ত্রিবাঙ্কুর, গোয়ালিয়র, ইন্দোরভূপালসহ আরও কয়েকটি করদ রাজ্যে নিয়মতান্ত্রিক পক্ষী-জরিপ চালানোর অভিনব এক সুযোগ পেয়ে যান। এসব পক্ষী-জরিপের খরচ পুরোপুরি বহন করে এসকল রাজ্য। এ জরিপে তিনি হিউ হুইসলারের অসীম সহায়তা পান। হুইসলার নিজে পুরো ভারতজুড়ে এ ধরনের জরিপ কাজ চালিয়েছিলেন ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংরক্ষণ করে রেখেছিলেন। প্রথম দিকে হুইসলার অবশ্য একজন অচেনা ভারতীয়ের এ ধরনের যোগাযোগে বিরক্ত হয়েছিলেন। হুইসলার তার দ্য স্টাডি অব ইন্ডিয়ান বার্ডস-এ উল্লেখ করেছিলেন- বড় ভিমরাজের লেজে লম্বা পালকগুলোতে রক্তনালী জালকের মত বিস্তৃত নয়।[১৭] সালিম আলী তাঁকে চিঠি লিখে জানান যে তথ্যটি সঠিক নয়।[১৮] হুইসলার এ অচেনা ভারতীয়ের মন্তব্যে বেশ ক্ষুব্ধ হন। পরে অবশ্য তিনি তাঁর নমুনাগুলো আবার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেন এবং তাঁর ভুল স্বীকার করে নেন।[১৯] তারা দু'জনে পরবর্তীতে ভাল বন্ধু হয়েছিলেন।[২০]

হুইসলার রিচার্ড মেইনার্ৎসেনের সাথে সালিমের পরিচয় করিয়ে দেন। তাঁরা দু'জনে মিলে আফগানিস্তানে অভিযানে যান। সালিমের ব্যাপারে মেইনার্ৎসেনের একটু ঋণাত্মক দৃষ্টিভঙ্গী থাকলেও তাঁরা দু'জনে ছিলেন ভাল বন্ধু। সালিম প্রথম দিকে মেইনার্ৎসেনের পক্ষী-চর্চা নিয়ে তেমন কিছু না বললেও পরে প্রমাণ করেন তাঁর পাখি বিষয়ক তথ্যাদিতে বেশ গলদ রয়েছে। মেইনার্ৎসেনের ডায়েরি আর সালিমের আত্মজীবনীতে তাঁদের পারস্পরিক দৃষ্টিভঙ্গী সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।[২১] সালিম আলী সম্পর্কে মেইনার্ৎসেন তাঁর ডায়েরিতে লিখেছেন:

30.4.1937 'I am disappointed in Salim. He is quite useless at anything but collecting. He cannot skin a bird, nor cook, nor do anything connected with camp life, packing up or chopping wood. He writes interminable notes about something-perhaps me...'


(অনুবাদ) ৩০.৪.১৯৩৭ 'সালিমের উপর আমি বিরক্ত। নমুনা সংগ্রহ ছাড়া ও প্রায় সব ব্যাপারেই আনাড়ি। ও মুরগির চামড়া ছাড়াতে জানে না, রাঁধতে পারে না, ক্যাম্পের জীবনের সাথে যুক্ত কোন কাজই সে পারে না; কি জিনিসপাতি গোছগাছ করা বা কাঠ কাটা। সে সারাক্ষণ কী নিয়ে যেন লিখেই যাচ্ছে লিখেই যাচ্ছে - মনে হয় আমাকে নিয়ে...'

20.5.1937 'He is prepared to turn the British out of India tomorrow and govern the country himself. I have repeatedly told him that the British Government have no intention of handing over millions of uneducated Indians to the mercy of such men as Salim...


(অনুবাদ) ২০.৫.১৯৩৭ 'সে কালকেই ব্রিটিশদের ভারত থেকে তাড়িয়ে নিজেই দেশ চালাতে একপায়ে খাড়া। আমি তাকে বার বার বলেছি, লাখ লাখ অশিক্ষিত ভারতীয়কে সালিমের মত মানুষদের দয়ার ওপর ছেড়ে দিতে ব্রিটিশ সরকার একেবারেই প্রস্তুত নয়......

প্রথম দিকের জরিপগুলোতে সালিমের সার্বক্ষণিক সঙ্গী ও সহযোগী ছিলেন তাঁর স্ত্রী তাহমিনা। ১৯৩৯ সালে এক ছোট অস্ত্রোপচারে তাহমিনা মৃত্যুবরণ করেন। তাহমিনার মৃত্যুর পর তিনি তাঁর বোন কামু আর শ্যালকের সাথে বসবাস করতে শুরু করেন। এসময় বিভিন্ন ভ্রমণে তিনি কুমায়নের তেরাইয়ে নতুন করে ফিনের বাবুই আবিষ্কার করেন। তবে হিমালয়ী বটেরা (Ophrysia superciliosa) খুঁজে বের করতে তিনি ব্যর্থ হন, যার অস্তিত্ব এখন পর্যন্ত অজানা।

মাইসোরে জরিপের সময় সালিমের নমুনা সংগ্রহের লেবেল

বইপুস্তকে পড়াশোনার চেয়ে বনে-বাদাড়ে পাখি খুঁজে বেড়াতে উৎসাহ পেতেন সালিম আলী।[২২][২৩] আর্নস্ট মায়ার রিপলিকে লিখেছিলেন যে সালিম যথেষ্ট পরিমাণ নমুনা সংগ্রহ করতে ব্যার্থ হয়েছে: "এখন পর্যন্ত কেবল সংগ্রহই মুখ্য বিষয় হলেও আমার সন্দেহ আছে সে সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তা বোঝে কিনা। মনে হয় আপনি ওকে বোঝাতে পারবেন।"[২২] তবে সালিমের এ স্বভাব পরিবর্তিত হয়নি। তিনি লিখেছিলেন, প্রাকৃতিক পরিবেশে জীবিত পাখি দেখতেই তার ভাল লাগে।[২৪]

সিডনি ডিলন রিপ্লির সাথে সালিম আলীর ঘনিষ্ঠতা নানান প্রশাসনিক জটিলতার সৃষ্টি করেছিল। অতীতে রিপ্লি সিআইএ'র একটি সহযোগী সংস্থায় চাকরি করতেন। তাদের দু'জনের নামে অভিযোগ ওঠে যে, তারা যে পাখির পায়ে রিং পরান তা সিআইএ'র একটি পরিকল্পনা অংশ।[২৫]

পাখির চিত্রগ্রহণের ব্যাপারে সালিম আলী তার ধনকুবের সিঙ্গাপুরী বন্ধু লোকি ওয়ান থো'র মাধ্যমে উৎসাহিত হন। লোকির সাথে আলীকে পরিচয় পরিয়ে দেন জেটিএম গিবসন। গিবসন ছিলেন রাজকীয় ভারতীয় নৌবাহিনীর একজন লেফটেন্যান্ট কমান্ডার এবং বোম্বে ন্যাচারাল হিস্ট্রি সোসাইটির একজন সভ্য। তিনি লোকিকে সুইজারল্যান্ডে ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিত হতে সহায়তা করেন। পাখির প্রতি অসীম আগ্রহের কারণে লোকি এ খাতে আলী ও গিবসনকে আর্থিক সহায়তা করতেন।[২৬]

ভারতে পক্ষীবিদ্যার ঐতিহাসিক পটভূমি নিয়েও সালিম আলীর বিরাট আগ্রহ ছিল। তার প্রথম দিকের কয়েকটি নিবন্ধতে ভারতের প্রাকৃতিক ইতিহাসে মুঘল সম্রাটদের অবদান বর্ণনা করেছেন। পরবর্তীতে একাধিক বক্তৃতায় তিনি বেশ জোরের সাথে ভারতে পাখি বিষয়ক গবেষণার গুরুত্ব তুলে ধরেন।[২৭][২৮][২৯]

অন্যান্য অবদান[সম্পাদনা]

বোম্বে ন্যাচারাল হিস্ট্রি সোসাইটি'র টিকে থাকার জন্য সালিম আলীর অবদান অনস্বীকার্য। এ শতবর্ষী প্রতিষ্ঠানটি সংরক্ষণের জন্য তিনি আর্থিক সাহায্য চেয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুকে চিঠি লিখে পাঠান।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Ali (1985):215-220
  2. Anon (2005). Nominated members of the Rajya Sabha. Rajya Sabha Secreteriat, New Delhi
  3. আত্মজীবনীঃ Ali, Salim.The Fall of a Sparrow (Oxford: Oxford University Press, 1985), p. 1.
  4. ৪.০ ৪.১ Nandy, Pritish (1985) In search of the Mountain Quail. The Illustrated Weekly of India. July 14–20. pp. 8-17
  5. Ali (1985):8.
  6. Ali (1985):10.
  7. Ali (1985):18.
  8. Ali (1985):15.
  9. Ali (1985):30.
  10. Yahya, HSA (1996)। "Transcript of an interview with Salim Ali"Newsletter for Birdwatchers 36 (6): 100–102। 
  11. Ali (1985):37.
  12. Ali (1985):158-167.
  13. Ali (1985):46
  14. Ali (1985):55
  15. Ali (1985):57-58
  16. Ali,S (1931)। "The nesting habits of the Baya (Ploceus philippinus)"। J. Bombay Nat. Hist. Soc. 34 (4): 947–964। 
  17. Whistler, H (1929)। "The study of Indian birds, part 2"। J. Bombay Nat. Hist. Soc. 33 (2): 311–325। 
  18. Ali, S (1929)। "The racket-feathers of Dissemurus paradiseus"। J. Bombay Nat. Hist. Soc. 33 (3): 709–710। 
  19. Whistler, H (1930)। "The tail-racket of Dissemurus paradiseus"। J. Bombay Nat. Hist. Soc. 34 (1): 250। 
  20. Ali (1985):64-65
  21. Ali (1985):248-249
  22. ২২.০ ২২.১ Lewis, M. L. (2003)। Inventing global ecology: Tracking the Biodiversity Ideal in India, 1945-1997। Orient Longman। পৃ: 66–67। আইএসবিএন 81-250-2377-1 
  23. Ali (1985):196.
  24. Ali (1985):195.
  25. Lewis, Michael (2002)। "Scientists or Spies? Ecology in a Climate of Cold War Suspicion"। Economic and Political Weekly 37 (24): 2324–2332। 
  26. Ali (1985):122
  27. Ali, S (1979)। Bird study in India: Its history and its importance। Indian Council for Cultural Relations, New Delhi। 
  28. Ali, S (1971)। Ornithology in India: Its past, present and future. Sunder Lal Hora Memorial LectureINSA, New Delhi 
  29. Ali, Salim (1980)। "Indian Ornithology: The Current Trends"। Bull. Brit. Orn. Club 100 (1): 80–83। 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]