সাইয়েদ আবুল আ'লা মওদুদী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সাইয়েদ আবুল আ'লা মওদুদী
Abul ala maududi.jpg
জন্ম ২৫শে সেপ্টেম্বর, ১৯০৩
আওরঙ্গাবাদ, মহারাষ্ট্র, হায়দ্রাবাদ, ব্রিটিশ ভারত
মৃত্যু ২২ সেপ্টেম্বর ১৯৭৯(১৯৭৯-০৯-২২) (৭৫ বছর)
বাফেলো, নিউ ইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র
যুগ আধুনিক যুগ, বিংশ শতাব্দী
অঞ্চল মুসলিম স্কলার ও চিন্তাবিদ
ধারা সুন্নি ইসলাম: হানাফী + মুজতাহিদ
আগ্রহ তাফসির, হাদিস, ফিকাহ, রাজনীতি, অর্থনীতি, সংস্কৃতি
অবদান “We cannot expect the rest of mankind to embrace Islam without any effort on our part”

সাইয়েদ আবুল আ'লা মওদুদী (২৫শে সেপ্টেম্বর, ১৯০৩ - ২২শে সেপ্টেম্বের, ১৯৭৯), যিনি মাওলানা মওদুদী বা শাইখ সাইয়েদ আবুল আ'লা মওদুদী নামেও পরিচিত, ছিলেন একজন মুসলিম গবেষক, সাংবাদিক, মুসলিম রাজনৈতিক নেতা ও বিংশ শতাব্দীর একজন গুরুত্বপূর্ণ ইসলামী চিন্তাবিদ ও দার্শনিক[১] তিনি তার নিজ দেশ পাকিস্তানের একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বও ছিলেন। তিনি জামায়াতে ইসলামী নামক একটি ইসলামী রাজনৈতিক দলেরও প্রতিষ্ঠাতা।[২]

প্রভাব ও ধারাবাহিকতা[সম্পাদনা]

মাওলানা মওদুদীর প্রভাব ছিল ব্যাপক। ইতিহাসবেত্তা ফিলিপ জেনকিন্সের মতে, মিসরের হাসান আল বান্না এবং সাইয়িদ কুতব তার বই পড়ে অনুপ্রাণিত হন। সাইয়িদ কুতব তার কাছ থেকে আদর্শ গ্রহণ করেন এবং এটি আরো সম্প্রসারিত করেন। তিনি একটি অগ্রগামী ইসলামী বিপ্লবী দল গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। ফিলিস্তিনি ইসলামপন্থী জুরিস্ট আবদুল্লাহ আযযামও তার আদর্শে অনুপ্রাণিত হন। দক্ষিণ-এশীয় জনগন (বিরাট সংখ্যক ব্রিটেন প্রবাসী সহ) মাওলানা মওদুদীর দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়েছেন। এমনকি শিয়া অধ্যুষিত ইরানেও মওদুদীর বড় ধরণের প্রভাব আছে। ইরানের ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনী ১৯৬৩ সালে মাওলানা মওদুদীর সাথে সাক্ষাত করেন, পরবর্তীতে ইমাম খোমেনী মওদুদীর বইগুলো ফার্সি ভাষায় অনুবাদ করেন। এখনো পর্যন্ত প্রায়শঃই ইরানের ইসলামী সরকার মাওলানা মওদুদীর কর্মপন্থা অনুসরন করে থাকে। ("To the present day, Iran's revolutionary rhetoric often draws on his themes.")[৩] ইমাম ইবনে তাইমিয়ার পর তিনি (মওদুদী) দ্বিতীয় চিন্তাবিদ যিনি আধুনিক বিশ্বে ইসলামী রাজনৈতিক চিন্তাধারা-কে প্রভাবিত করেছেন।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

জীবনকাল[সম্পাদনা]

  • ১৯০৩- জন্ম গ্রহণ করেন। জন্মস্থানঃ আওরঙ্গাবাদ (বর্তমানে মহারাষ্ট্রের মধ্যে), হায়দারাবাদ, ভারত।
  • ১৯১৮- সাংবাদিক হিসেবে 'বিজনোর' (Bijnore) পত্রিকায় কাজ শুরু করেন।
  • ১৯২০- জবলপুরে দৈনিক 'তাজ' পত্রিকার এডিটর হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন।
  • ১৯২১- দিল্লিতে মাওলানা আব্দুস সালাম নিয়াজির কাছে আরবি শিক্ষা গ্রহণ করেন।
  • ১৯২১- দৈনিক 'মুসলিম' পত্রিকার এডিটর হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন।
  • ১৯২৫- নয়া দিল্লির 'আল জামিয়াহ' পত্রিকার এডিটর হিসেবে নিয়োগ লাভ।
  • ১৯২৬- দিল্লির 'দারুল উলুম ফতেহপুরি' থেকে 'উলুম-এ-আকালিয়া ওয়া নাকালিয়া' সনদ লাভ করেন।
  • ১৯২৭- 'আল জিহাদ ফিল ইসলাম' নামে একটি গবেষণাধর্মী গ্রন্থ রচনা শুরু করেন।
  • ১৯২৮- উক্ত প্রতিষ্ঠান (দারুল উলুম ফতেহপুরি) থেকে 'জামে তিরমিযি' এবং 'মুয়াত্তা ইমাম মালিক' সনদ লাভ করেন।
  • ১৯৩০- 'আল জিহাদ ফিল ইসলাম' নামের বিখ্যাত বইটি প্রকাশিত হয়। তখন তার বয়স ২৭ বছর।
  • ১৯৩৩- ভারতের হায়দারাবাদ থেকে 'তরজুমানুল কুরআন' নামক পত্রিকা প্রকাশ শুরু করেন।
  • ১৯৩৭- তার ৩৪ বছর বয়সে, লাহোরে, দক্ষিণ এশিয়ার কিংবদন্তিতুল্য মুসলিম কবি ও দার্শনিক আল্লামা মুহাম্মাদ ইকবালের সাথে পরিচয় হয়। পরিচয় করিয়ে দেন চৌধুরী নিয়াজ আলী খান।
  • ১৯৩৮- তার ৩৫ বছর বয়সে, হায়দারাবাদ থেকে পাঠানকোটে গমন করেন। সেখানে তিনে দারুল ইসলাম ট্রাস্ট ইনস্টিটিউটে যোগদান করেন, যেটি ১৯৩৬ সালে আল্লামা ইকবালের পরামর্শে চৌধুরী নিয়াজ আলী খান কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। পাঠানকোটের ৫ কিমি পশ্চিমে, জামালপুরে, চৌধুরী নিয়াজ আলী খানের ১০০০ একর এস্টেট ছিল। চৌধুরী নিয়াজ আলী খান সেখান থেকে ৬৬ একর জমি দান করেন।
  • ১৯৪১- লাহোরে 'জামায়াতে ইসলামী হিন্দ' নামে একটি ইসলামী রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করেন এবং এর আমির হন।
  • ১৯৪২ - জামায়াতে ইসলামীর প্রধান কার্যালয় পাঠানকোটে স্থানান্তর করেন।
  • ১৯৪২ - তাফহীমুল কুরআন নামক তাফসির গ্রন্থ প্রনয়ন শুরু করেন।
  • ১৯৪৭ - জামায়াতে ইসলামীর প্রধান কার্যালয় লাহোরের ইছরায় স্থানান্তর করেন।
সাইয়েদ আবুল আ'লা মওদুদীর বাড়ির প্রবেশ পথ, ইছরা, লাহোর
  • ১৯৪৮ - 'ইসলামী সংবিধান' ও 'ইসলামী সরকার' প্রতিষ্ঠার জন্য প্রচারণা শুরু করেন।
  • ১৯৪৮ - পাকিস্তান সরকার তাকে কারাগারে বন্দী করে।
  • ১৯৪৯ - পাকিস্তান সরকার জামায়াতের 'ইসলামী সংবিধানের রূপরেখা' গ্রহণ করে।
  • ১৯৫০ - কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করেন।
  • ১৯৫৩- 'কাদিয়ানী সমস্যা' নামে একটি বই লিখে কাদিয়ানী বা আহমদিয়া সম্প্রদায়কে অমুসলিম প্রমাণ করেন। ফলে ইতিহাসখ্যাত বড় রকমের কাদিয়ানী বিরোধী হাঙ্গামার সৃষ্টি হয়।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] এ সময় অনেকগুলো সংগঠন একযোগে কাদিয়ানীদেরকে সরকারিভাবে অমুসলিম ঘোষনার দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। তারা সর্বদলীয় কনভেনশনে ২৭শে ফেব্রুয়ারি তারিখে 'ডাইরেক্ট একশন কমিটি' গঠন করে।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] জামায়াত এই কমিটির বিরোধিতা করে অহিংস আন্দোলনের পক্ষে অবস্থান নেয়। কিন্তু তথাপি মার্চ মাসের শুরুতে আন্দোলন চরম আকার ধারন করে এবং পুলিশের গুলিতে কিছু লোক নিহত হয়। [৪] পরে একটি সামরিক আদালত আবুল আ'লাকে এই গোলযোগের জন্য দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদন্ডের আদেশ দেয়, (যদিও কাদিয়ানী সমস্যা নামক বইটি বাজেয়াপ্ত করা হয়নি)। অবশ্য সেই মৃত্যুদন্ডাদেশ কার্যকর করা হয়নি। [৫]
  • ১৯৫৩- মৃত্যুদন্ডাদেশ পরিবর্তন করে যাবজ্জীবন কারাদন্ড করা হয়, কিন্তু পরে তা-ও প্রত্যাহার করা হয়।
  • ১৯৫৮- সামরিক শাসক ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান 'জামায়াতে ইসলামী'কে নিষিদ্ধ ঘোষনা করেন।
  • ১৯৬৪- আবারো তাকে কারাবন্দী করা হয়।
  • ১৯৬৪- কারাগার থেকে মুক্তি দেয়া হয়।
  • ১৯৭১- পাকিস্তান থেকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান আলাদা হবে কিনা এ প্রশ্নে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার পূর্ব পাকিস্তান জামায়াতের উপর ন্যাস্ত করেন[৬]
  • ১৯৭২- তাফহীমুল কুরআন নামক তাফসির গ্রন্থটির রচনা সম্পন্ন করেন।
  • ১৯৭২- জামায়াতে ইসলামীর আমির পদ থেকে ইস্তফা দেন।
সাইয়েদ আবুল আ'লা মওদুদীর কবর
  • ১৯৭৮- তার রচিত শেষ বই 'সিরাতে সারওয়ারে আলম' প্রকাশিত হয়। এটি হযরত মুহাম্মাদ সাঃ এর জীবনী গ্রন্থ।
  • ১৯৭৯- চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গমন করেন।
  • ১৯৭৯- যুক্তরাষ্ট্রে তার মৃত্যু হয়।[৭]
  • ১৯৭৯- লাহোরের ইছরায় তাকে সমাধিস্থ করা হয়। তার জানাযায় ইমামতি করেন তার পরবর্তী যুগের আরেক কিংবদন্তী শায়খ ইউসুফ আল ক্বারাদাওয়ী

গ্রন্থাবলী[সম্পাদনা]

১। তাফহীমুল কুরআন -১৯ খন্ডের তাফসীর গ্রন্থ

২। ঈমানের হাকীকত

৩। নামাজ রোজার হাকীকত

৪। তাওহীদ রিসালাত ও আখিরাত

৫। ইসলাম পরিচিতি

৬। যাকাতের হাকীকত

৭। ইসলামী সংস্কৃতির মর্মকথা

৮। ইসলামী অর্থ ব্যবস্থার মূলনীতি

৯। ইসলামের রাজনৈতিক মতবাদ

১০। ইসলামী বিপ্লবের পথ

১১। ইসলামের শক্তির উৎস

১২। ইসলামী আন্দোলনের নৈতিক ভিত্তি

১৩। ইসলামী আন্দোলনঃ সাফল্যের শর্তাবলী

১৪। সত্যের সাক্ষ্য

১৫। সুদ ও আধুনিক ব্যাংকিং

১৬। আল জিহাদ

১৭। কুরআনের চারটি মৌলিক পরিভাষা

১৮। ভাংগা ও গড়া

১৯। সীরাতে সরওয়ারে আলম

২০। হেদায়েত

২১। ইসলামী রেনেসাঁ আন্দোলন

২২। ইসলাম ও পাশ্চাত্য সভ্যতার দ্বন্দ্ব

২৩। মহরমের শিক্ষা

২৪। দায়ী ইলাল্লাহ-দাওয়াত ইলাল্লাহ

২৫। ইসলামী দাওয়াত ও কর্মনীতি

২৬। পর্দা ও ইসলাম

২৭। ইসলামের দৃষ্টিতে জন্ম নিয়ন্ত্রণ

২৮। কুরআনের মর্মকথা

২৯। খেলাফত ও রাজতন্ত্র

৩০। ইসলামী রাষ্ট্রে অমুসলিমদের অধিকার

৩১। হজ্জের হাকীকত

৩২। ইসলাম ও জাতীয়তাবাদ

৩৩। ইসলাম ও জাহেলিয়াত

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Zebiri, Kate. Review of Maududi and the making of Islamic fundamentalism. Bulletin of the School of Oriental and African Studies, University of London, Vol. 61, No. 1.(1998), pp. 167-168.
  2. [১]
  3. tnr.com The New Republic "The roots of jihad in India" by Philip Jenkins, December 24, 2008
  4. [Leonard Binder: Religion and politics in Pakistan , page 263. University of California Press, 1961]
  5. Encyclopedia of World Biography© on Abul A'la Mawdudi
  6. http://www.shahfoundationbd.org/halim/the_politics_of_alliance_bangladesh_experience.html
  7. Syed Moudoodi biography at a glance

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

পূর্বসূরী
দল প্রতিষ্ঠা
আমির of জামায়াতে ইসলামী
১৯৪১– ১৯৭২


উত্তরসূরী
মিয়াঁ তুফাইল মুহাম্মাদ