সলিল চৌধুরী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সলিল চৌধুরী
Image of সলিল চৌধুরী
সলিল চৌধুরী (১৯২২-১৯৯৫)
প্রাথমিক তথ্যাদি
জন্ম নভেম্বর ১৯, ১৯২২[১]
উদ্ভব চিংড়িপোতা, চব্বিশ পরগনা জেলা, বাংলা প্রেসিডেন্সি, ব্রিটিশ ভারত (অধুনা পশ্চিমবঙ্গ, ভারত)[১]
মৃত্যু সেপ্টেম্বর ৫, ১৯৯৫ (৭২ বছর)
পেশা সংগীত পরিচালক, গীতিকার, সুরকার ও গল্পকার

সলিল চৌধুরী (হিন্দি: सलिल चौधरी, মালয়ালম: സലില്‍ ചൗധരി) একজন ভারতীয় সঙ্গীত পরিচালক। তিনি মূলত বাংলা, হিন্দি, এবং মালয়ালাম চলচ্চিত্রে সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন। এছাড়াও তিনি একজন কবি এবং চিত্র নাট্যকার। তার সকল গুনগ্রাহীদের কাছে তিনি সলিলদা বলেই পরিচিত।

তার সঙ্গীত প্রতিভা মূলত ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্পেই ব্যাপকভাবে স্বীকৃত।[১] তিনি একজন আয়োজক ছিলে এবং তিনি বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র যেমন বাঁশি, পিয়ানো, এসরাজ ইত্যাদি বাজাতে জানতেন। তার মৌলিক কবিতাগুলোর জন্য তিনি ব্যাপকভাবি নন্দিত এবং প্রশংসিত।[১]

পরিচ্ছেদসমূহ

প্রেক্ষাপট [সম্পাদনা]

সলিল চৌধুরী এক হিন্দু কায়স্থ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার শৈশবের বেশির ভাগ সময় কেটেছে আসামের চা বাগানে, যেখানে তার পিতা একজন ডাক্তার হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

কর্মজীবন [সম্পাদনা]

প্রারম্ভিক প্রভাব [সম্পাদনা]

সলিলের শৈশব কাটে[১] আসামের চা বাগানে। ছোটবেলা থেকেই তিনি তার পিতার সংগ্রহে থাকা পাশ্চাত্য উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত শুনতেন[১]। তাঁর পিতা চা বাগানের কুলি এবং স্বল্প বেতনের কর্মচারীদের সাথে মঞ্চ নাটকের জন্য সুখ্যাতি সম্পন্ন[২] ছিলেন। তিনি কলকাতায় অবস্থিত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ বঙ্গবাসী কলেজ[২] থেকে স্নাতক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং এ সময়েই তার সঙ্গীত জ্ঞানে পরিপক্কতা লাভের পাশাপাশি দ্রুত তার রাজনৈতিক ধারণা জন্মায়। তিনি দারুণ মেধা সম্পন্ন ছিলেন।

১৯৪৪ সালে যখন তরুণ সলিল তাঁর স্নাতক পড়াশোনার জন্য কলকাতায় আসেন, তখনই ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির সাংস্কৃতিক দল ভারতীয় গণনাট্য সংঘ বা আইপিটিএ-এ[১] (Indian Peoples Theater Association) যোগ দেন। এ সময় তিনি গান লিখতে[১] এবং এর জন্য সুর করা[১] শুরু করেন। আইপিটিএ এর সাংস্কৃতিক দলটি বিভিন্ন শহর এবং গ্রামগঞ্জে ভ্রমণ করতে থাকে, যা এই গানগুলোকে সাধারণ মানুষের কাছাকাছি নিয়ে আসে। বিচারপতি , রানার এবং অবাক পৃথিবীর [১] মত গানগুলো তখন সাধারণ জনতার কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে।

গাঁয়ের বধু মত গান তখন বাংলা সঙ্গীতে একটি নতুন ধারা তৈরি করেছিল, যা মাত্র ২০ বছর বয়সে সুর করেছিলেন।[১] পশ্চিমবঙ্গে তখনকার প্রায় প্রত্যেক প্রতিষ্ঠিত শিল্পী এসব গান গেয়েছেন। এর মধ্যে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, শ্যামল মিত্র, মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায়, প্রতিমা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ উল্লেখযোগ্য।

চলচ্চিত্রে কর্মজীবন [সম্পাদনা]

তার প্রথম বাংলা চলচ্চিত্র "পরিবর্তন" মুক্তি পায় ১৯৪৯ সালে। তার ৪১টি বাংলা চলচ্চিত্রের সর্বশেষ চলচ্চিত্র ছিল "মহাভারতী" যা ১৯৯৪ সালে মুক্তি পায়।

১৯৫৩[১] সালে বিমল রায় পরিচালিত দো ভিঘা জামিন চলচ্চিত্রে সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে সলিল চৌধুরীর হিন্দি চলচ্চিত্র শিল্পে অভিষেক ঘটে। সলিল চৌধুরীর ছোট গল্প "রিকসাওয়ালা"[১] অবলম্ভনে এই চলচ্চিত্রটি তৈরি করা হয়েছিল। এই চলচ্চিত্রটি তার কর্মজীবনকে নতুন মাত্রা যোগ করে যখন এটি প্রথমে ফিল্মফেয়ার সেরা চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং কান চলচ্চিত্র উৎসবে আন্তর্জাতিক পুরস্কার জিতে নেয়।

বাংলা এবং হিন্দি চলচ্চিত্রে ২০ বছর কাজ করার পরে সলিল দা ১৯৬৪ সালে চিম্মিন দিয়ে মালয়ালাম চলচ্চিত্রে প্রবেশ করেন[১]। চলচ্চিত্র সফলতা পাক বা না পাক সলিলদার মালয়ালাম গানগুলো বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল।

তিনি প্রায় ৭৫টির বেশি হিন্দি চলচ্চিত্র, ৪০টির বেশি বাংলা চলচ্চিত্র, প্রায় ২৬টি মালয়ালাম চলচ্চিত্র, এবং বেশ কিছু মারাঠী, তামিল, তেলেগু, কান্নাডা, গুজরাটি, ওড়িয়া এবং অসামীয়া চলচ্চিত্রে সঙ্গীত পরিচালনা করেন।

পাশ্চাত্য প্রভাব [সম্পাদনা]

সলিল চৌধুরীর সঙ্গীতে পশ্চিমা এবং ভারতীয় উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের সমান মিশ্রণ লক্ষ করা যায়।

সলিল চৌধুরীর পাশ্চাত্য উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের সরাসরি অভিযোজনগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল,

  • ছায়া চলচ্চিত্রে মোৎজার্টের সিম্ফোনি নং ৪০ এর উপর ভিত্তি করে - "ইতনা না মুঝে তু পেয়ার বাড়া "
  • অন্যদাতা চলচ্চিত্রে চোপিন এর কাজের উপর ভিত্তি করে -"রাতো কি সায়ে ঘানে "

পরিবার [সম্পাদনা]

সলিল চৌধুরী সবিতা চৌধুরীকে বিয়ে করেছিলেন। তার দুই কন্যা এবং এ পুত্র সন্তান রয়েছে।

চলচ্চিত্রের তালিকা [সম্পাদনা]

মূল নিবন্ধ: সলিল চৌধুরীর চলচ্চিত্রের তালিকা

ছেলে ত্ত মেয়েরা কি তার মতো গানের জগতের সাথে জরিত?

পুরস্কার এবং স্বীকৃতি [সম্পাদনা]

  • ১৯৫৮- মধুমতি চলচ্চিত্রের জন্য ফিল্মফেয়ার সেরা সঙ্গীত পরিচালক
  • ১৯৮৮ - সঙ্গীত নাটক একাডেমী পুরস্কার

আরও দেখুন [সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র [সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ [সম্পাদনা]