শ্রেণীবিন্যাসবিদ্যা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
কলসী উদ্ভিদ এর একটি আদর্শ নমুনা-Nepenthes smilesii এর চিত্র।

শ্রেণীবিন্যাসবিদ্যা (ইংরেজি: Taxonomy) হল বিজ্ঞানের সেই শাখা যেখানে জীবজগতের বিভিন্ন সদস্যদের যথাক্রমে সনাক্তকরণ ও নামকরণ করে বিভিন্ন দল-উপদলে বা স্তরে পর্যায়ক্রমে সাজিয়ে শ্রেণীবিন্যাস করা হয়।[১] জীবদেরকে বিভিন্ন ভিত্তিতে শ্রণীবিন্যাস করা হলেও তন্মধ্যে প্রাকৃতিক বা অধুনিক শ্রেণীবিন্যাস সর্বাপেক্ষা প্রচলিত। সুইডেনের প্রকৃতিবিদ ক্যারোলাস লিনিয়াস (Carolus Linnaeus) প্রাকৃতিক শ্রেণীবিন্যাস পদ্ধতির প্রবক্তা। তার লিখিত গ্রন্থ Systema Naturae এর প্রথম সংকলন (১৭৩৫ সাল)[২], Species Plantarum (১৭৫৩ সাল)[৩] এবং Systema Naturae এর দশম সংকলনের[৪] মাধ্যমে তিনি এ শাখায় আমূল আনেন।

পরিচ্ছেদসমূহ

শ্রেণীবিন্যাসের গুরুত্ব [সম্পাদনা]

শ্রেণীবিন্যাসের প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত ব্যাপক। এর মাধ্যমে পৃথিবীর সকল উদ্ভিদপ্রাণী সম্পর্কে সহজে এবং তুলনামূলক কম সময়ে জানা যায়। কোনও জীবের শ্রেণীবিন্যাস তথা উক্ত শ্রেণীবিন্যাসের বিভিন্ন ধাপগুলোর সঠিকভাবে জানা থাকলে সেই বিশেষ জীবটির বৈশিষ্ট্যগুলো সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। জীবদের বৈশিষ্ট্যের মিল-অমিল পর্যালোচনার মাধ্যমে অপরিচিত জীবকে শনাক্ত করা সম্ভব। তাছাড়া শ্রেণীবিন্যাস ক্ষতিকর এবং উপকারী জীবসমূহকে শনাক্ত করতেও কাজে লাগে।

আধুনিক বা প্রাকৃতিক শ্রেণীবিন্যাস লেখার নিয়মাবলি [সম্পাদনা]

আধুনিক শ্রেণীবিন্যাস লেখার নিয়মাবলিগুলো নিম্নরূপ:[৫]

  1. প্রথমে অবশ্যই জগৎ, পর্ব, শ্রেণী, বর্গ, গোত্র, গণ, প্রজাতি ধাপগুলোকে নির্দিষ্ট ক্রমে একটির নিচে অন্যটি লিখতে হবে।
  2. ধাপগুলোর নাম ইংরেজি বা প্রয়োজনে বাংলায় লিখা যেতে পারে তবে বিশেষ নাম অবশ্যই রোমান হরফে লিখতে হবে।
  3. হাতে লিখার সময় উদ্ভিদ কিংবা প্রাণী উভয় ক্ষেত্রেই জেনাস(Genus) বা গণ নামের নিচে এবং স্পেসিস(Species) বা প্রজাতির নামের নিচে দুটি আলাদা রেখা বা দাগ টনতে হয়।
  4. ছাপার অক্ষরে লেখার সময়ে গণ ও প্রজাতি ইটালিক ফর্মে লিখতে হয়।
  5. গণ বা প্রজাতি ছাড়া হাতে লিখার সময় বা ছাপানোর সময়ে অন্য কোনও ধাপের নিচে দাগ দেওয়া যাবে না।
  6. সকল প্রাণীর গোত্রের নামের শেষে 'idae' অক্ষর চারটি থাকা আবশ্যিক।
  7. অমেরুদণ্ডী প্রাণীদের বেলায় ইংরেজিতে Kingdom, Phylum, Class, Order, Family, Genus, Species কিংবা বাংলায় পর্ব, শ্রেণী, বর্গ, গোত্র, গণ, প্রজাতি- ছয়টি ধাপ লিখাই যথেষ্ট। তবে মেরুদণ্ডী প্রাণীসমূহ যেমন: ব্যাঙ, মাছ, মানুষ ইত্যাদির ক্ষেত্রে Phylum এর নিচে Sub-phylum কিংবা পর্বের নিচে উপ-পর্ব হিসেবে Vertebrata ধাপটি লিখতে হবে।

উদাহরণ [সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র [সম্পাদনা]

  1. Judd, W.S., Campbell, C.S., Kellog, E.A., Stevens, P.F., Donoghue, M.J. (2007) Taxonomy. In Plant Systematics - A Phylogenetic Approach, Third Edition. Sinauer Associates, Sunderland.
  2. Linnaeus, C. (1735) Systema naturae, sive regna tria naturae systematice proposita per classes, ordines, genera, & species. Haak, Leiden
  3. Linnaeus, C. (1753) Species Plantarum. Stockholm, Sweden.
  4. Linnaeus, C. (1758) Systema naturae, sive regna tria naturae systematice proposita per classes, ordines, genera, & species, 10th Edition. Haak, Leiden
  5. মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বই (অধ্যায়-১১; পৃষ্ঠা-১৬০ থেকে ১৬৭), ড. ইকবাল আজীজ মুত্তাকী, নাসিম বানু, ড. মো: আবুল হাসান, গুল আনার আহমেদ; সম্পাদনা: ড. সৈয়দ হাদীউজ্জামান, জাহান আফরোজ বেগম হাবিয়া। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত। সংস্করণ: ডিসেম্বর, ২০০৮। সংগ্রহের তারিখ: ১২ এপ্রিল ২০১২।