শ্রীলঙ্কা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(শ্রীলঙ্কার ধর্মবিশ্বাস থেকে ঘুরে এসেছে)
SrilankaFont.png
இலங்கை ஜனநாயக சமத்துவ குடியரசு
গণতান্ত্রিক সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রী শ্রীলঙ্কা
পতাকা কোট অফ আর্মস
জাতীয় সঙ্গীত
"শ্রীলঙ্কা মাতা"
এই শব্দ সম্পর্কে [[:Media:|সঙ্গীত]]  , এই শব্দ সম্পর্কে [[:Media:|গান]] 
রাজধানী শ্রী জয়বর্ধনপুর[১]
৬°৫৪′ উত্তর ৭৯°৫৪′ পূর্ব / ৬.৯০০° উত্তর ৭৯.৯০০° পূর্ব / 6.900; 79.900
বৃহত্তম শহর কলম্বো
রাষ্ট্রীয় ভাষাসমূহ সিংহলী, তামিল
সরকার গণতান্ত্রিক সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র
 -  রাষ্ট্রপতি মহীন্দ্র রাজপক্ষ
 -  প্রধানমন্ত্রী রত্নশ্রী বিক্রমানায়েক
স্বাধীনতা যুক্তরাজ্য থেকে 
 -  মুক্তি ফেব্রুয়ারি ৪ ১৯৪৮ 
 -  প্রজাতন্ত্র মে ২২ ১৯৭২ 
আয়তন
 -  মোট ৬৫,৬১০ বর্গকিমি (১২২তম)
২৫,৩৩২ বর্গমাইল 
 -  জলভাগ (%) ৪.৪
জনসংখ্যা
 -  ২০০৫ আনুমানিক ২০,৭৪৩,০০০ (৫২তম)
 -  ২০০১ আদমশুমারি ১৮,৭৩২,২৫৫ 
 -  ঘনত্ব ৩১০ /বর্গ কিমি (৩৫তম)
৮১৮ /বর্গমাইল
জিডিপি (পিপিপি) ২০০৫ আনুমানিক
 -  মোট $৮৬.৭২ বিলিয়ন (৬১তম)
 -  মাথাপিছু $৪৬০০ (১১১তম)
জিনি (১৯৯৯-০০) ৩৩.২ (মধ্যম
এইচডিআই (২০০৪) বৃদ্ধি০.৭৫৫ (মধ্যম) (৯৩তম)
মুদ্রা শ্রীলঙ্কান রুপি (এলকেআর)
সময় স্থান (ইউটিসি+৫:৩০)
ইন্টারনেট টিএলডি .এলকে
কলিং কোড ৯৪

শ্রীলঙ্কা (সিংহলি ভাষায় ශ්රී ලංකා শ্‌রীলাঙ্কা আ-ধ্ব-ব [ˌʃɾiːˈlaŋkaː], তামিল ভাষায় இலங்கை ইলাঙ্গাই আ-ধ্ব-ব [iˈlaŋgai])[২] দক্ষিণ এশিয়ার একটি দ্বীপ রাষ্ট্র। এর সরকারী নাম গণতান্ত্রিক সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রী শ্রীলঙ্কা১৯৭২ সালের আগে এই দ্বীপ সিলন নামেও পরিচিত ছিল। এর রাজধানীর নাম শ্রী জয়াবর্ধনপুর কোট। এর প্রধান শহর কলম্বোভারতের দক্ষিণ উপকূল হতে ৩১ কিলোমিটার দুরে অবস্থিত। ২ কোটি জনসংখ্যার এই দেশে ১৪% এর অধিক লোকজনের দৈনিক আয় ১.২৫ মার্কিন ডলারের নিচে। প্রাচীনকাল থেকেই শ্রীলঙ্কা বৌদ্ধ ধর্মাম্বলীদের তীর্থস্থান হিসেবে পরিচিত। সিংহলি সম্প্রদায় এই দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী। উত্তর-পূর্ব দিকের স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য নিয়ে তামিল সম্প্রদায় দেশের সর্ববৃহৎ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়। অন্যান্য সম্প্রদায়ের মধ্যে মূর, বার্ঘের, কাফির, মালায় ঊল্লেখযোগ্য। শ্রীলঙ্কা চা, কফি, নারিকেল, রাবার উৎপাদন ও রফতানিতে বিখ্যাত। নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সম্বলিত সমুদ্রসৈকত, ভূদৃশ্য তদুপরী সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য শ্রীলঙ্কাকে সারা পৃথিবীর পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

নামকরন[সম্পাদনা]

প্রাচীনকাল থেকেই শ্রীলঙ্কা অনেক নামে পরিচিত হয়ে আসছে। প্রাচীন গ্রীক ভূগোলবিদগণ একে তপ্রোবান এবং আরবরা সেরেনদীব নামে ডাকত। ১৫০৫ খ্রিস্টাব্দে পর্তুগিজরা এই দ্বীপে পৌঁছে এর নাম দেয় শেইলাও যার ইংরেজি শব্দ হল Ceylon। ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত ব্রিটিশদের অধীনে থাকা অবস্থায় তারা এই নামেই পরিচিত ছিল। ১৯৪৮ সালে এই নামেই স্বাধীনতা পায় এবং পরে ১৯৭২ সালে দাপ্তরিক নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়,‌‍‌‍‌‌মুক্ত, সার্বভৌম ও স্বাধীন প্রজাতন্ত্রী শ্রীলঙ্কা। শ্রীলংকা নামটি এসেছে সংস্কৃত শব্দ "শ্রী" ও "লংকা" থেকে। শ্রী শব্দের অর্থ পবিত্র এবং লংকা অর্থ দ্বীপ।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

শ্রীলঙ্কান মুদ্রা, প্রথম শতাব্দী

প্রাচীনকাল থেকেই শ্রীলঙ্কা একটি গুরুত্বপুর্ন সামুদ্রিক সৈকত ও বানিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে বনিকদের কাছে পরিচিত। মধ্যপ্রাচ্য,পারস্য,বার্মা,থাইল্যান্ড,মালয়শিয়া,ইন্দোনেশিয়া এবং দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশ এখানে ব্যবসা করত। ১৫০৫ সালে পর্তুগীজরা সর্বপ্রথম এখানে পৌছায়। ১৭শ শতাব্দীর দিকে ডাচরা আসে যদিও ১৭৯৬ সালে দ্বীপটি ব্রিটিশ শাসনের অধীনে চলে যায়। ১৮১৫ সালে ক্যান্ডি ব্রিটিশ শাসনের অধীনে এলে সম্পূর্ন রুপে ব্রিটিশ শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। ইউরোপীয় উপনিবেশ এখানে চা,রাবার,চিনি,কফি এবং নীলের চাষ শুরু করে।তখন কলোম্বকে প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়। তারা আধুনিক বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয়, রাস্তাঘাট এবং চার্চ তথা পশ্চিমা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল। ১৯৩০ সালের দিকে স্থানীয়দের প্রতি ব্রিটিশদের নির্যাতন-অত্যাচারের জন্য স্বাধীনতার আন্দোলন শুরু হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর স্বাধীনতার আন্দোলন জোরদার হতে থাকে। ১৯৪৮ সালের ৪ঠা ফেব্রুয়ারী সিলন নামে দেশটি স্বাধীনতা পায়। ১৯৬০ সালের ২১শে জুলাই শ্রীমাভো বন্দেরনায়েক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাজ শুরু করেন। তিনি ছিলেন সারা পৃথিবীর প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী১৯৭২ সালে শ্রীমাভো বন্দেরনায়েকের প্রধানমন্ত্রীত্বে সিলন থেকে শ্রীলঙ্কা নামকরণ করা হয়।

ভূগোল ও জলবায়ু[সম্পাদনা]

শ্রীলংকা ভারতমহাসাগরের উপর, বঙ্গোপসাগরের দক্ষিণ দিকে অবস্থিত। হিন্দু পৌরানিক কাহিনী অনুযায়ী রামার শাসন আমলে ভারতের মূল ভূমি থেকে রামা সেতু নামে একটি সংযোগ ছিল। ব্রিটিশ উপনেবিশের বর্ননাকারীদের মতে ১৪৮০ সালের ঝড়ে ধ্বংস হবার আগে ইহা একটি পূর্নাঙ্গ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি ছিল। কেবল দক্ষিণ দিকের বেড়ে ওঠা পর্বতমালা ছাড়া দ্বীপটির বেশির ভাগ উপকূলীয় সমতল ভূমি। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২৫২৪ মিটার(৮২৮০ ফিট) উঁচু পিদুরুতালাগালা শ্রীলংকার সর্বোচ্চ বিন্দু। শ্রীলংকার গড় তাপমাত্রা ১৬ সে. যা গ্রীষ্ম কালে সর্বোচ্চ ৩৩ সে.পর্যন্ত হতে পারে । দিন রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য ৪ থেকে ৭ সে.। সাধারণত দক্ষিণাঞ্চল ও পার্বত্য এলাকায় আর্দ্রতা সবচেয়ে বেশি থাকে, কলোম্বোর মত জায়গায় সারা বছর প্রায় ৭০% আর্দ্রতা থাকে, জুন মাসের দিকে মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে তা সর্বেচ্চ ৯০% পর্যন্ত হয়।

সরকার ও রাজনীতি[সম্পাদনা]

শ্রীলঙ্কার সুপ্রীম কোর্ট, কলম্বো।

শ্রীলংকার সংবিধান অনুযায়ী দেশটি গণতান্ত্রিক, সামজতান্ত্রিক, প্রজাতন্ত্রী হিসেবে পরিচিত হবে, দেশটিকে একেশ্বরবাদী রাষ্ট্রও বলা হয়েছে। সরকার ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে সংসদীয়রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যাবস্থার সমন্বয়ে। রাষ্ট্রপতি শ্রীলংকার একাধারে রাষ্ট্রপ্রধান, সামরিক বাহিনীর প্রধান প্রশাসক ও সরকার প্রধান এবং তিনি নির্বাচিত হন ছয় বছরের জন্য। রাষ্ট্রপতি দেশের সংসদ এবং ২২৫ সদস্যের আইন প্রণয়নকারী পরিষদের কাজে দায়বদ্ধ। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত সংসদ সদস্যের মধ্য থেকে একজনকে মন্ত্রী সভার প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেন। প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতির ডেপুটি হিসেবে কাজ করেন এবং সংসদের সরকারী দলের নেতৃত্ব দেন। প্রতিটি জেলা হতে সংসদ সদস্যরা সার্বজনীন ভোটে নির্বাচিত হন। রাষ্ট্রপতি সংসদের একবছর কার্যক্রম অতিবাহিত হবার পর সংসদ স্থগিত অথবা সমাপ্তি ঘোষনা করতে পারেন। সংসদ সকল প্রকার আইন প্রনয়ন করার ক্ষমতা রাখে। শ্রীমাভো বন্দেরনায়েক শ্রীলংকার নির্বাচিত প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী। তাঁর সুযোগ্যকন্যা চন্দ্রীকা কুমারাতুঙ্গা ১৯৯৪ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি হবার আগে ১৯৯৪ সালের আগষ্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীও ছিলেন। মাহিন্দ্র রাজাপাকশেরত্নশ্রী বিক্রমানায়েক ২১শে নভেম্বর,২০০৫ সালে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। শ্রীলংকার রাজনীতি প্রধানত রাষ্ট্রপতি মাহিন্দ্র রাজাপাকশের বামপন্থী শ্রীলঙ্কা ফ্রিডম পার্টি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমসিংহেডানপন্থী ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। তাছাড়াও কিছু বৌদ্ধধর্মাম্বলী, সমাজতান্ত্রিক এবং তামিল জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দল আছে।

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

কলোম্ব বিশ্ব বানিজ্য কেন্দ্র, কলোম্ব

চিনামন, রাবার, সিলন চা রপ্তানির জন্য শ্রীলংকা বিখ্যাত। ইংরেজ শাসেনর সময় স্থাপিত আধুনিক সমুদ্রবন্দর এই দ্বীপ দেশটিকে বানিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলেছে। শ্রীলঙ্কার আবাদভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা দেশের দারিদ্র্যতা ও অর্থনৈতিক অসমতাকে বৃদ্ধি করছে। ১৯৪৮ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত সমাজতান্ত্রিকতা সরকারের অর্থনীতিকে মারাত্মক প্রভাবিত করেছে। সে সময় উপনিবেশিক চাষাবাদ ভেঙ্গে পৃথক করা হয়েছে এবং শিল্প কলকারখানাকে জাতীয়করন করা হয়। যখন জীবনযাত্রার মান ও সাক্ষরতার হার উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে তখন নিম্ম উৎপাদন হার ও কম বৈদেশিক বিনিয়োগের কারনে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন ব্যাহত হয়েছে। ১৯৭৭ সালের পর শ্রীলংকার সরকার বেসরকারিকরনকে উৎসাহিত করেছে। যেহেতু চা, কফি, চিনি, রাবার এবং অন্যান্য কৃষি পন্য উৎপাদন ও রপ্তানি সমহারে গুরুত্বপূর্ন ছিল তাই সরকারী ভাবে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরন, বস্ত্রশিল্প, টেলিযোগাযোগ এবং শিল্পভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি বিশেষ নজর দেয়া হয়। ১৯৯৬ সালে কৃষিজাত পন্যের রিপ্তানি কমে দাড়ায় ২০% (যেখানে ১৯৭০ সালে ছিল ৯৩%) অপরদিকে বস্ত্র ও গার্মেন্টস ক্ষেত্রে বেড়ে দাড়ায় ৬৩%। ১৯৯০ এর দশকের শুরুর দিকে জিডিপি ছিল ৫.৫% যা ১৯৯৭-২০০০সালে দাড়ায় ৫.৩%। ২০০৩ সালে কলোম্ব স্টক এক্সেন্জ বিশ্বের সর্বোচ্চ উৎপাদনশীল হিসেবে নিজেদের প্রমান করায় এবং দক্ষিণ এশিয়ার সর্বোচ্চ মাথাপিছু আয়ের দেশ হল শ্রীলংকা।

রাজনীতি[সম্পাদনা]

শ্রীলঙ্কার রাজনীতি একটি রাষ্ট্রপতিশাসিত প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কাঠামোয় সংঘটিত হয়। রাষ্ট্রপতি হলেন একাধারে রাষ্ট্রের প্রধান ও সরকার প্রধান। রাষ্ট্রের নির্বাহী ক্ষমতা সরকারের উপর ন্যস্ত। আইন প্রণয়নের ক্ষমতা সরকার এবং আইনসভা উভয়ের উপর ন্যস্ত।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক[সম্পাদনা]

শ্রীলঙ্কা যদিও আন্তর্জাতিক সম্পর্কে তেমন তৎপর নয় তবুও ১৯৭৭ সাল থেকে তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বন্ধুত্বপূর্ন সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করছে। এদেশ বহুদেশীয় সংস্থা যেমন জাতিসংঘের সাথে যুক্ত। নিজের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এবং উন্নয়ন বেগবান করাই এসকল সংস্থায় যোগদানের মুল উদ্দ্যেশ্য। তাছাড়াও কমনওয়েলথ,সার্ক,বিশ্ব ব্যাংক,আন্তর্জাতিক উন্নয়ন তহবিল,এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংকএবং কলোম্ব পরিকল্পনার সদস্য দেশ।

সামরিক বাহিনী[সম্পাদনা]

শ্রীলংকার বিমান বাহিনীর একটি যুদ্ধ বিমান

প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয়ের অন্তর্গত শ্রীলংকার সামরিক বাহিনী সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনী এই তিন শক্তির সমন্বয়নে গঠিত। এখন পর্যন্ত দেশটিতে কখনই সামরিক শাসন জারি হয়নি যদিও সেচ্ছায় যোগদান করা ২৩০,০০০ জন সক্রিয় সামরিক সদস্য রয়েছে। সামরিক বাহিনীকে সহয়তা করার জন্য প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয়ের আরো দুটি আধাসামরিক বাহিনী আছে: স্পেশাল টাস্ক ফোর্সসিভিল ডিফেন্স ফোর্স।২০০৯ সালের ১০ আগষ্ট পর্যন্ত কোন কোস্ট গার্ড বাহিনী ছিল না, শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী তাদের কাজ করত। ১৯৪৮ সালে যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে স্বাধীনতা পাবার পর থেকেই সামরিক বাহিনীর প্রধান কাজ ছিল অভ্যন্তরীন নিরাপত্তা বজায় রাখা। যার বেশির ভাগটা জুড়ে আছে এলটিটিইএর সাথে দীর্ঘ ৩০ বছরের যুদ্ধ। ২০০৯ সালের ১৮ মে এলটিটিই প্রধান ভিলুপিলাই প্রভাকরনের মৃত্যুর মাধ্যমে এই যুদ্ধের সমাপ্তি হয়েছে বলে সামরিক বাহিনী দাবী করে আসছে।

শিক্ষা ব্যবস্থা[সম্পাদনা]

উন্নয়নশীল দেশের মধ্যে শ্রীলঙ্কা সর্বোচ্চ স্বাক্ষর জনসংখ্যার একটি দেশ, যার স্বাক্ষরতার হার ৯২% এবং ৮৩% ভাগ মাধ্যমিক শিক্ষায় শিক্ষিত। শিশুদের ৯ বছর মেয়াদী বিদ্যালয়ের প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামুলক করা হয়েছে। সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. সি. ডব্লিউ. ডব্লিউ কান্নানগারা কর্তৃক ১৯৪৫ সালে প্রণীত অবৈতনিক শিক্ষা ব্যবস্থা এ দেশের স্বাক্ষরতায় বিরাট অবদান রাখে। তিনি শ্রীলঙ্কার প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষা বিস্তারের লক্ষে একটি করে মাধ্যমিক মহা বিদ্যালয় স্থাপন করেন। ১৯৪২ সালে বিশেষ শিক্ষা কমিটি একটি যোগ্য ও মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য প্রস্তাব করে। বেশির ভাগ বিদ্যালয়ে গ্রেড ১ থেকে ১৩ পর্যন্ত পাঠদান ব্যবস্থা রয়েছে । শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক পরিচিলিত ও’লেভেল এবং এ’লেভেল পরীক্ষা যথাক্রমে ১১ এবং ১৩ গ্রেডে অনুষ্ঠিত হয়। বেশির ভাগ বিদ্যালয় ব্রিটিশ বিদ্যালয়ের ধাচে গড়ে তোলা হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ের পাশাপাশি অনেক আন্তর্জাতিক মানের বিদ্যালয় গড়ে উঠেছে। শ্রীলঙ্কায় প্রায় ১৬টি সরকারী বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। তার মধ্যে কলোম্ব বিশ্ববিদ্যালয়, পেরাদেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, কেলানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়,জয়াবর্ধনপুরা বিশ্ববিদ্যালয়,জাফনা বিশ্ববিদ্যালয় অন্যতম।

শ্রীলংকা ইন্সটিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি।

যোগাযোগ ব্যবস্থা[সম্পাদনা]

শ্রীলংকায় পরিবহন ক্ষেত্রে ব্যবহৃত GM EMD G12 - ALBERTA লোকোমোটিভ

শ্রীলঙ্কার বেশির ভাগ শহরের মধ্যেই রেলওয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপিত হয়েছে জাতীয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে। ১৯৮৭ সালের ২৬শে এপ্রিল প্রথম রেলওয়ে লাইন স্থাপিত হয়েছিল কলোম্ব ও ক্যান্ডির মধ্যে। শ্রীলঙ্কার মোট সড়কের পরিমাণ ১১,০০০কিমি (৬,৮৪০মাইল) যার বেশির ভাগই পাকা সড়ক। জাতীয় অর্থনীতিকে সচল রাখতে এবং দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে উন্নত করতে সরকার অনেক রাজপথ নির্মাণ করার কর্মসূচী হাতে নিয়েছে। তার মধ্যে কলোম্ব-কতোনায়েক, কলোম্ব-ক্যান্ডি, কলোম্ব-পেডিনা এবং অন্যান্য শহরের মধ্যবর্তী সংযোগ সড়ক কলোম্বোর যানজট কমানোর জন্য। ভারতের চেন্নাই ও জাফনার মধ্যবর্তী সংযোজ সেতু করার পরিকল্পনা সরকারের আছে। শ্রীলঙ্কার ৪৩০কিমি অন্তবর্তী জল যোগাযোগ রয়েছে। শ্রীলংকার ১২টি পাকা বিমান বন্দর এবং দুইটি সাধারণ বিমান উড্ডয়ন ও অবতরন কেন্দ্র রয়েছে। দেশটি তার গভীর সমুন্দ্রবন্দরের জন্য সারা বিশ্বে পরিচিত তার মধ্যে কলোম্ব, ত্রিকামেলি ও গ্যালি অন্যতম।

ভাষা[সম্পাদনা]

সিংহলিজ এবং তামিল শ্রীলংকার রাষ্ট্রীয় ভাষা। শতকরা ১০ ভাগ লোক ইংরেজিতে সার্বক্ষনিক কথা বলে এবং শিক্ষা, গবেষনা ও ব্যবসায়িক কাজে ইংরেজি ভাষার ব্যবহার অনেক বেশি । বার্ঘার সম্প্রদয়ের লোকজন পর্তুগিজ ও ডাচ ভাষা ভিন্ন উচ্চারনে বলে থাকে। অন্যদিকে মালয় সম্প্রদায়ের লোকজন মালয়ের আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলে থাকে। শ্রীলংকার ৭০% মানুষ বৌদ্ধ, ১৫% হিন্দু ও ৭.৫% ইসলাম ধর্মাবলম্বী

গণমাধ্যম[সম্পাদনা]

জাতীয় বেতার কেন্দ্র, সিলন বেতর এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে পুরাতন বেতার কেন্দ্র। ১৯২৩ সালে এডওয়ার্ড হার্পার কর্তৃক এই কেন্দ্রটি স্থাপিত হয় এবং প্রতিবেশী দেশগুলোতে এর ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। শ্রীলংকা ব্রড কাস্টিং কর্পোরেশনের অধীনে এই কেন্দ্র হতে সিংহলিজ, তামিল, ইংরেজি ও হিন্দী ভাষায় অনুষ্ঠান প্রচার করা হয়। ১৯৮০ সাল থেকে অনেক বেসরকারী বেতার কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তারা বানিজ্যিক জনপ্রিয়তা ও সাফল্য পায়। ইনডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশন নেটওয়ার্ক নামে ১৯৭৯ সালে সর্বপ্রথম টেলিভিশন সম্প্রসারন শুরু হয়। ১৯৯২ সালে বেসরকারী টেলিভিশন সংস্থা চালুর আগে টেলিভিশন সম্প্রচার সম্পুর্ন সরকার নিয়ন্ত্রিত ছিল। বহুল প্রচলিত ইংরেজি দৈনিক পত্রিকার মধ্যে ডেইলি মিরর, দ্যা সানডে অবজার্ভার এবং দ্যা সানডে টাইমস উল্লেখযোগ্য।

খেলাধূলা[সম্পাদনা]

এসসিসি মাঠে শ্রীলংকা এবং ইংল্যান্ডের মধ্যে অনুষ্ঠিত ক্রিকেট ম্যাচ, র্মাচ ২০০১।

যদিও শ্রীলংকার জাতীয় খেলা ভলিবল তবুও ক্রিকেট এখানে সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয়। অন্যান্য খেলার মধ্যে রাগবি, ফুটবল, আথলেটিক্স,টেনিস ও নানা রকম জলক্রীড়া প্রচলিত। ক্রিকেটে ১৯৯০ সাল থেকে শুরু করে শ্রীলংকা ক্রিকেট দল অনেক উল্লেখযোগ্য জয় পেয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে ১৯৯৬ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপ, ১৯৯৬২০০৪ সালের এশিয়া কাপ এবং ২০০৭ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপের রানার্সআপ। শ্রীলংকার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত বিভিন্ন খেলার আয়জন করা হয়। এখানে কয়েকটি আন্তর্জাতিক মানের খেলার মাঠ রয়েছে।শ্রীলংকা ১৯৯৬ সালে পাকিস্তানভারতের সাথে ক্রিকেট বিশ্বকাপের আয়জক ছিল এবং তারা ২০১১ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপ আয়জক দেশ।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Official Website of Sri Lanka tourist Board - Facts at a glance
  2. ""Sri Lanka" in several reference works"। Dictionary.reference.com। সংগৃহীত 2010-06-02 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

  1. সরকারী ওয়েব
  2. শ্রীলংকা:ওয়ার্ল্ড ফ্যাক্টবুক
  3. শ্রীলংকা: Open Directory Project
  4. উইকিমিডিয়া অ্যাটলাসে শ্রীলংকা
  5. ভ্রমন গাইড