শওকত আলী (রাজনীতিবিদ)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
শওকত আলী
জীবিকা রাজনীতিবিদ
জাতীয়তা বাংলাদেশী
জাতি বাঙালি
নাগরিকত্ব বাংলাদেশ Flag of Bangladesh.svg
উল্লেখযোগ্য পুরস্কার একুশে পদক পুরস্কার

শওকত আলী (ইংরেজি: Shawkat Ali), (এপ্রিল ২০, ১৯১৮ - আগস্ট ১৮, ১৯৭৫), রাজনীতিবিদ এবং বাংলা ভাষা আন্দোলনের একজন অন্যতম নেতা। তিনি আওয়ামী মুসলিম লীগের একজন প্রতিষ্ঠাতা - যা পরে হয়ে আওয়ামী লীগ এবং বর্তমানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নামে পরিচিত। তিনি তিনটি রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদেরই সদস্য ছিলেন। এছাড়াও ১৯৫০ সালে তিনি ঢাকা নগর আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতার অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন। তার বাড়ি ১৫০, চাক মুগুলতুলি, ঢাকা ছিল ভাষা আন্দোলনের সময় অনেক কাজকর্ম এবং মিটিং জন্য কেন্দ্রস্থল। ১৯৭৫ সালের ১৮ আগস্ট স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান। ঢাকার জুরাইন কবরস্থানে তাকে সমাধিস্থ করা হয়।[১]

পরিচ্ছেদসমূহ

প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা]

শওকত আলী ১৯১৮ সালের ২০ এপ্রিল ইস্ট বাংলা ঢাকার,গ্যান্ডারিয়ার একটি বিশিষ্ট সুন্নি মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহন করেন। তাঁর পিতা শমসের আলী ছিলেন এলাকায় একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং তার মা মেহেরুননেসা খাতুন ছিলেন একজন গৃহিনী। তিনি দুই বছর বয়সে তার মাকে হারান। তিনি তার পিতা ও মামা মামীর সান্যিধ্যে বড় হয়ে ওঠেন। তিনি মুসলিম হাই স্কুল থেকে লেখাপড়া করেন। তার উচ্চ বিদ্যালয় শেষ করার পর তিনি জগন্নাথ কলেজে যোগ দেন এবং তার বি কম ডিগ্রী প্রাপ্ত লাভ করেন। তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছিলাম কিন্তু রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণে তা সম্পন্ন করতে পারেননি।

রাজনৈতিক জীবন[সম্পাদনা]

শওকত আলী তমদ্দুন মজলিশের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত ছিলন।[২] রশিদ ভবনে ৩০ ডিসেম্বর ১৯৭৪ তারিখে অধ্যাপক আবুল কাশেম একটি সভার আয়োজন করেছিলেন। অধ্যাপক আবুল কাশেম এর নেতৃত্বে প্রথম রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ "তমদ্দুন মজলিশের রাষ্ট্রভাষা উপ - কমিটি" নামে গঠিত হয়।[৩] শওকত আলী এই কমিটির একজন সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।

মৃত্যু[সম্পাদনা]

শওকত আলী, ১৫ আগস্ট, ১৯৭৫ তারিখে শেখ মুজিবুর রহমানের বিশ্বাসঘাতকতামূলক গুপ্ত হত্যা সংবাদ শুনে স্ট্রোক আক্রান্ত হন। আগস্ট ১৮, ১৯৭৫ তিনি ঢাকার হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল মারা যান। ঢাকার জুরাইন কবরস্থানে তাকে সমাধিস্থ করা হয়।

পরিবার[সম্পাদনা]

১৯৬০ সালে, শওকত আলীর সাথে রহিমা খাতুনের বিয়ে সম্পন্ন হয়, রহিমা ঢাকার ফজলুল হক মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ এবং নারী অধিকার বাস্তবায়ন সংঘের সভাপতি ছিলেন। তারা তিন পুত্র এবং একটি মেয়ে রয়েছে।

কিংবদন্তী[সম্পাদনা]

২০১১ সালে শওকত আলীকে বাংলাদেশে সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কারগুলোর মধ্যে একটির পুরস্কার একুশে পদক দেয়া হয়।

ভাষা আন্দোলনে তার অসামান্য অবদানের জন্য ১৭ জানুয়ারী, ২০১০ তারিখে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন ধানমন্ডি ৪/এ সড়কটি তার নাম অনুসরনে নাম করণ করা হয়।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. সাপ্তাহিক সৈনিক (২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৩)
  2. পূর্ব বাংলা ভাষা আনওলন এবং তৎকালীন রাজনীতি - বদরুদ্দিন ওমর
  3. ভাষা আন্দোলন প্রসঙ্গে - কতিপয় দলিল - বদরুদ্দিন ওমর (৮৩, ৮৪ পৃষ্ঠা)

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]