লিভারপুল ফুটবল ক্লাব

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
লিভারপুল এফ সি
লিভারপুল এর লোগো
পূর্ণ নাম লিভারপুল ফুটবল ক্লাব
ডাকনাম অল রেড,দ্যা রেডস
প্রতিষ্ঠা ৩ জুন ১৮৯২; ১২১ বছর আগে (১৮৯২-০৬-03)[১]
মাঠ এনফিল্ড স্টেডিয়াম
লিভারপুল
(ধারণক্ষমতা: ৪৫,২৭৬[২])
মালিক ফেনওয়ে স্পোর্টস গ্রুপ
চেয়ারম্যান টম ওয়ানার
ম্যানেজার কেনি ডালগ্লিশ
লীগ এফ.এ. প্রিমিয়ার লীগ
২০১২-২০১৩ প্রিমিয়ার লীগ,৭ম
ওয়েবসাইট ক্লাবের প্রধান পাতা
হোম রং
এওয়ে রং
তৃতীয় রং

লিভারপুল ফুটবল ক্লাব (লিভারপুল নামেই বেশি পরিচিত) লিভারপুল, ইংল্যান্ড এ অবস্থিত একটি ফুটবল দল। এরা এফ.এ. প্রিমিয়ার লীগ খেলে থাকে। ইংরেজ ফুটবল ইতিহাসের সফলতম দল লিভারপুল ১৮ টি প্রথম বিভাগ ফুটবল লীগ, ৭ টি এফ.এ. কাপ, ৮ টি লীগ কাপ, ৫ টি উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লীগ ও ৩ টি উয়েফা কাপ জিতেছে।

১৫ মার্চ ১৮৯২ সালে জন হোল্ডিং, এনফিল্ড এর মালিক, ক্লাবটি প্রতিষ্ঠা করেন। ভাড়া নিয়ে বিতর্ক উঠার পর এভারটন এনফিল্ড ছেড়ে যাওয়ায় হোল্ডিং নিজেই একটি ক্লাব প্রতিষ্ঠা করেন। এর আসল নাম ছিল এভারটন এফ.সি. এন্ড এথলেটিক গ্রাউন্ডস, লিমিটেড, সংক্ষেপে এভারটন এথলেটিক। কিন্তু ফুটবল এসোসিয়েশন দলকে এভারটন হিসেবে গ্রহণ করতে অসম্মতি জানালে নাম পরিবর্তন করে লিভারপুল এফ.সি. রাখা হয়। দু'বছর পর লিভারপুল ফুটবল লীগে অংশ নেয়। লিভারপুলের সবচেয়ে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছে একই শহরের এভারটন এফ সি ও ম্যানচেস্টারের ম্যানচেষ্টার ইউনাইটেড এফ সি। লিভারপুল-এভারটন ম্যাচ মার্সেসাইড ডার্বি নামে পরিচিত।

ক্লাবটি ইউরোপীয়ান ফুটবল ইতিহাসে দুটি মারাত্নক ট্রাজেডীর মুখোমুখি হয়েছে — ১৯৮৫ সালে লিভারপুল-জুভেন্টাস খেলার সময় হেইসেলে যখন ৩৯ জন জুভ সমর্থক মারা যায়[৩], এবং ১৯৮৯ সালে হিলসবোরোতে যেখানে ৯৬ জন লিভারপুল সমর্থক মারা যায়[৪]

ক্লাব রেকর্ড ও পরিসংখ্যান[সম্পাদনা]

ইয়ান ক্যালাহান লিভারপুলের হয়ে সর্বোচ্চ ৮৪৮ টি ম্যাচ খেলেছেন ১৯৫৮-৭৮ পর্যন্ত ১৯টি মৌসুমে। ৬৪০ টি লীগ খেলার রেকর্ডও তার দখলে। বর্তমান একাদশে ৪১৯ ম্যাচ খেলার রেকর্ড আছে জেমি ক্যারেঘার এর (১৯ আগস্ট, ২০০৬ পর্যন্ত)। ক্যারেঘারের ২৯০ টি প্রিমিয়ার লীগ খেলাও একটি ক্লাব রেকর্ড।

লিভারপুলের হলে সব সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গোল করেছেন ইয়ান রাশ, যিনি ৩৪৬ টি গোল করেছেন ১৯৮০-১৯৮৭ ও ১৯৮৮-১৯৯৬ মৌসুমগুলোতে। ১৯৮৩-৮৪ তে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ ৪৭ গোল দেয়ার রেকর্ডও তার। যদিও রাশ সর্বোচ্চ লীগ গোল দেয়ার রেকর্ড গড়তে পারেননি। এ রেকর্ড গড়েছেন রজার হান্ট ১৯৭০ সাল পর্যন্ত ২৪৫ গোল দিয়ে। ১৯৬১-৬২ মৌসুমে ৪১ গোল দিয়ে হান্ট এক মৌসুমে সর্বোচ্চ লীগ গোল দেন। গর্ডন হজ্‌সন ক্লাবের তৃতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা ১৭ টি হ্যাট্রিক করে সর্বোচ্চ হ্যাট্রিকের রেকর্ডধারী। এক খেলায় সর্বোচ্চ ৫ গোল করেছেন এন্ডি ম্যাকগিগান, জন ইভানস, ইয়ান রাশ ও রবি ফাউলার। রবি ফাউলার ক্লাব ও প্রিমিয়ার লীগের রেকর্ড করেছেন দ্রুততম ৪ মিনিট, ৩২ সেকেন্ডে হ্যাট্রিক করে (আর্সেনাল এর বিপক্ষে)।

লিভারপুলের সবচেয়ে বড় জয় ১১-০ ব্যাবধানে ১৯৭৪ সালে। গোলকীপার ছাড়া দশজনের মধ্যে নয়জনই এতে গোল করেন - একটি লিভারপুল রেকর্ড। ১৯৮৯ সালে ক্রিস্টাল প্যালেসের সাথে লিভারপুল সবচেয়ে বড় ব্যাবধানে লীগ খেলা জিতে ৯-০ তে।

বর্তমান দল[সম্পাদনা]

৮ ডিসেম্বর, ২০১১ পর্যন্ত[৫]

নোট: পতাকা জাতীয় দল নির্দেশ করে যা ফিফা যোগ্যতার নিয়ম অধীন নির্ধারিত হয়েছে। খেলোয়াড়দের একাধিক জাতীয়তা থাকতে পারে যা ফিফা ভুক্ত নয়।

নং অবস্থান খেলোয়াড়
অস্ট্রেলিয়া গো ব্র্যাড জোন্স
ইংল্যান্ড গ্লেন জনসন
স্পেন জোসে এনরিক
ডেনমার্ক ড্যানিয়েল অ্যাগার
ব্রাজিল ফ্যাবিও অরেলিয়ো
উরুগুয়ে লুইস সুয়ারেজ
ইংল্যান্ড স্টিভেন জেরার্ড (অধিনায়ক)
ইংল্যান্ড অ্যান্ডি ক্যারল
১১ আর্জেন্টিনা ম্যাক্সি রড্রিগেজ
১4 ইংল্যান্ড জর্ডান হেণ্ডারসন
১৬ উরুগুয়ে সেবাস্টিয়ান কোয়াটেস
১৮ নেদারল্যান্ডস ডার্ক কাউট
১৯ ইংল্যান্ড স্টুয়ার্ট ডাউনিং
২০ ইংল্যান্ড জে স্পেয়ারিং
২১ ব্রাজিল লুকাস লেইভা
নং অবস্থান খেলোয়াড়
২৩ ইংল্যান্ড জেমি ক্যারাগার (সহ অধিনায়ক)
২৫ স্পেন গো পেপে রেইনা
২৬ স্কটল্যান্ড চার্লি অ্যাডাম
৩০ স্পেন সুসো
৩১ ইংল্যান্ড রহীম স্টার্লিং
৩২ ব্রাজিল গো ডোনি
৩৩ ইংল্যান্ড জঞ্জো শেল্ভি
৩৪ ইংল্যান্ড মার্টিন কেলি
৩৫ ইংল্যান্ড কনর কোডি
৩৭ স্লোভাকিয়া মার্টিন স্কারটেল
৩৮ ইংল্যান্ড জন ফ্ল্যানাগান
৩৯ ওয়েল্‌স্‌ ক্রেইগ বেলামী
৪৭ ইংল্যান্ড আন্দ্রে উইসডম
৪৯ ইংল্যান্ড জ্যাক রবিনসন
- ইংল্যান্ড নাথান এক্লেস্টন

ধারে অন্য দলে[সম্পাদনা]

নোট: পতাকা জাতীয় দল নির্দেশ করে যা ফিফা যোগ্যতার নিয়ম অধীন নির্ধারিত হয়েছে। খেলোয়াড়দের একাধিক জাতীয়তা থাকতে পারে যা ফিফা ভুক্ত নয়।

নং অবস্থান খেলোয়াড়
স্কটল্যান্ড ড্যানি উইলসন (ব্ল্যাকপুল)
ইতালি অ্যালবার্তো অ্যাকুইলানি (এসি মিলান)
ইংল্যান্ড জো কোল (লিলে)
স্পেন ড্যানিএল প্যাচেকো (অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ)
নং অবস্থান খেলোয়াড়
ইংল্যান্ড স্টিফেন ডার্বি (রোচডেল)
হাঙ্গেরি গো পিটার গুলাকসি (হাল সিটি)
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভিলিয়ান বিজেভ (ফরটুনা ডুসেলডরফ)
ইংল্যান্ড ডেভিড এমু (বিউরি)
পর্তুগাল টনি সিলভা (নরদাম্পটন টাউন)

স্মরণীয় সাবেক খেলোয়াড়[সম্পাদনা]

বর্তমান স্টাফ[সম্পাদনা]

ডিরেক্টর ড্যামিয়েন কমোলি
ম্যানেজার কেনি ডালগ্লিস
প্রথম দলের কোচ স্টিভ ক্লার্ক
প্রথম দলের কোচ কেভিন কীন
প্রথম দলের গোলরক্ষক কোচ জন আচটারবার্গ
প্রথম দলের ফিজিও জাফ ইকবাল

ম্যানেজার[সম্পাদনা]

১৯ আগস্ট, ২০০৬ এর আগ পর্যন্ত।

নাম জাতীয়তা দায়িত্ব শুরু দায়িত্ব শেষ রেকর্ড
খেলা জয় ড্র পরাজয়
ডব্লিউ. ই. বার্কলেজন ম্যাককেনা [৬] ইংল্যান্ড আগস্ট ১৮৯২ জুলাই ১৮৯৬ ১০১ ৫৮ ১৭ ২৬
টম ওয়াটসন ইংল্যান্ড আগস্ট ১৮৯৬ মে ১৯১৫ ৭৪০ ৩২৭ ১৪১ ২৭২
ডেভিড এশওর্থ ইংল্যান্ড ডিসেম্বর ১৯২০ ফেব্রুয়ারী ১৯২৩ ৫৮ ২৫ ২৪
ম্যাট ম্যাককুইন স্কটল্যান্ড ফেব্রুয়ারী ১৯২৩ ফেব্রুয়ারী ১৯২৮ ২২৯ ৯৪ ৬১ ৭৪
জর্জ প্যাটারসন ইংল্যান্ড ফেব্রুয়ারী ১৯২৮ মে ১৯৩৬ ৩৭০ ১৩৯ ৮৬ ১৪৫
জর্জ কে ইংল্যান্ড মে ১৯৩৬ ফেব্রুয়ারী ১৯৫১ ৩৫৯ ১৪৩ ৯৩ ১২৩
ডন ওয়েলস ইংল্যান্ড মার্চ ১৯৫১ মে ১৯৫৬ ২৩৪ ৮২ ৬০ ৯২
ফিল টেইলর ইংল্যান্ড মে ১৯৫৬ নভেম্বর ১৯৫৯ ১৫৩ ৭৭ ৩২ ৪৪
বিল শ্যাঙ্কলি স্কটল্যান্ড ডিসেম্বর ১৯৫৯ ১৯৭৪ ৭৫৩ ৩৯৩ ১৮৫ ১৭৫
বব পেইসলি ইংল্যান্ড জুলাই ১৯৭৪ মে ১৯৮৩ ৪৯০ ২৭৫ ১২৪ ৯১
জো ফ্যাগান ইংল্যান্ড মে ১৯৮৩ মে ১৯৮৫ ১২২ ৬৫ ৩৪ ২৩
কেনি ড্যালগ্লিশ স্কটল্যান্ড মে ১৯৮৫ ফেব্রুয়ারী ১৯৯১ ২৯৭ ১৮০ ৭৬ ৪১
রনি মোরান [৭] ইংল্যান্ড ফেব্রুয়ারী ১৯৯১ এপ্রিল ১৯৯১ ১০
গ্রায়েম সাউনেস স্কটল্যান্ড এপ্রিল ১৯৯১ জানুয়ারী ১৯৯৪ ১৫৭ ৬৫ ৪৭ ৪৫
রয় ইভানস ইংল্যান্ড জানুয়ারী ১৯৯৪ জুলাই ১৯৯৮ ২২৬ ১১৬ ৫৭ ৫৩
রয় ইভানসজেরার্ড হাউলির [৬] ইংল্যান্ড / ফ্রান্স জুলাই ১৯৯৮ নভেম্বর ১৯৯৮ ১৮
জেরার্ড হাউলির [৮] ফ্রান্স নভেম্বর ১৯৯৮ মে ২০০৪ ৩০৬ ১৫৭ ৭৫ ৭৪
রাফায়েল বেনিটেজ স্পেন জুন ২০০৪ বর্তমান ১২৪ ৭০ ২৪ ৩০

সম্মাননা[সম্পাদনা]

  • ফূটবল লীগ খেতাবঃ ১৮
    • ১৯০১, ১৯০৬, ১৯২২, ১৯২৩, ১৯৪৭, ১৯৬৪, ১৯৬৬, ১৯৭৩, ১৯৭৬, ১৯৭৭, ১৯৭৯, ১৯৮০, ১৯৮২, ১৯৮৩, ১৯৮৪, ১৯৮৬, ১৯৮৮, ১৯৯০
  • ফূটবল লীগ দ্বিতীয় বিভাগ খেতাবঃ ৪
    • ১৮৯৪, ১৮৯৬, ১৯০৫, ১৯৬২
  • ল্যাঙ্কাশায়ার লীগ খেতাবঃ
    • ১৮৯৩
  • ইউরোপীয়ান কাপ (বর্তমানে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লীগ) খেতাবঃ ৫
    • ১৯৭৭, ১৯৭৮, ১৯৮১, ১৯৮৪, ২০০৫
  • উয়েফা কাপঃ ৩
    • ১৯৭৩, ১৯৭৬, ২০০১
  • এফএ কাপঃ ৭
    • ১৯৬৫, ১৯৭৪, ১৯৮৬, ১৯৮৯, ১৯৯২, ২০০১, ২০০৬
  • এফএ যুব কাপঃ ২
    • ১৯৯৬, ২০০৬
  • লীগ কাপঃ ৮
    • ১৯৮১, ১৯৮২, ১৯৮৩, ১৯৮৪, ১৯৯৫, ২০০১, ২০০৩, ২০১২
  • কমিউনিটি শিল্ডঃ ১৫
    • ১৯৬৪ (যৌথ), ১৯৬৫ (যৌথ), ১৯৬৬, ১৯৭৪, ১৯৭৬, ১৯৭৭ (যৌথ), ১৯৭৯, ১৯৮০, ১৯৮২, ১৯৮৬ (যৌথ), ১৯৮৮, ১৯৮৯, ১৯৯০ (যৌথ), ২০০১, ২০০৬
  • ইউরোপীয়ান সুপার কাপঃ ৩
    • ১৯৭৭, ২০০১, ২০০৫
  • সুপার কাপঃ ১
    • ১৯৮৬

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Happy birthday LFC? Not quite yet..."। Liverpool F.C। সংগৃহীত 15 March 2014। "Liverpool F.C. was born on 3 June 1892. It was at John Houlding's house in Anfield Road that he and his closest friends left from Everton FC, formed a new club." 
  2. "Premier League Handbook Season 2013/14" (PDF)। Premier League। সংগৃহীত 17 August 2013 
  3. এই দিনে - ২৯ মে ১৯৮৫ বিবিসি অনলাইন - news.bbc.co.uk
  4. এই দিনে - ১৫ এপ্রিল ১৯৮৯ বিবিসি অনলাইন - news.bbc.co.uk
  5. "First Team- Liverpool FC"Liverpoolfc.tv। সংগৃহীত ৮ ডিসেম্বর, ২০১১ 
  6. ৬.০ ৬.১ যুগ্ম ম্যানেজার
  7. তত্ত্বাবধায়ক ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত
  8. হাউলির অক্টোবর ২০০১ থেকে ফেব্রুয়ারী ২০০২ পর্যন্ত অসুস্থতাজনিত কারনে অনুপস্থিত ছিলেন। এসময় ফিল থম্পসন অস্থায়ী ম্যানেজার (খে৩৩ জ১৬ ড্র১২ প৫) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই পরিসংখ্যান হাউলির রেকর্ডে অন্তর্ভূক্ত করা হয়।

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]


|-

!style="background:#bfd7ff;"|

প্রিমিয়ার লীগ ২০০৭-০৮ মৌসুমের ক্লাব

|- | colspan="12" |

আর্সেনাল | অ্যাস্টন ভিলা | ব্ল্যাকবার্ন রোভার্স | বোল্টন ওয়ান্ডারার্স | চেলসি | এভারটন | ফুলহাম | হাল সিটি | লিভারপুল | ম্যানচেস্টার সিটি | ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড | মিডল্‌স্‌ব্রো | নিউকাসল ইউনাইটেড | পোর্টস্‌মাথ | স্টোক সিটি | সান্ডারল্যান্ড | টটেনহাম হটস্পার | ওয়েস্ট ব্রমউইচ অ্যালবিওন | ওয়েস্ট হ্যাম ইউনাইটেড | উইগান অ্যাথলেটিক