রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ
RAJUK Uttara Model College Logo.jpg
মানুষ হওয়ার জন্য শিক্ষা
ঠিকানা
রাজউক কলেজ সড়ক, সেক্টর#০৬
উত্তরা
ঢাকা, ১২৩০,  বাংলাদেশ
তথ্য
প্রতিষ্ঠাকাল ১৯৯৪
প্রতিষ্ঠাতা বাংলাদেশ সরকার
কর্তৃপক্ষ পরিচালনা পর্ষদ, রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ
অধ্যক্ষ মোঃ এনামুল হুদা
স্টাফ ৪১
শিক্ষাদান স্টাফ ১৫৬
শ্রেণীসমূহ -১২
লিঙ্গ সহশিক্ষা কার্যক্রম
বয়সসীমা ১১-১৮
ছাত্রসংখ্যা ২,৫০০
ভাষার মাধ্যম বাংলা এবং ইংরেজি
স্কুলের কার্যসময় ১০ ঘণ্টা
ক্যাম্পাস উত্তরা, ঢাকা ১২৩০
ক্যাম্পাসের আকার ৪.৫ একর (১৮,০০০ মি)
ক্যাম্পাসের ধরন উপশহর
ক্রীড়াসমূহ ফুটবল, ক্রিকেট, বাস্কেটবল, ভলিবল, টেবিল টেনিস, ব্যাডমিন্টন, হ্যান্ডবল
প্রাক্তন ছাত্র রেসা (RESA)
শিক্ষা বোর্ড ঢাকা শিক্ষা বোর্ড
যোগাযোগ ৮৮০ ২ ৮৯১২৭৮০, ৮৯১২৭৮০, ৮৯১৮১৯৬
ওয়েবসাইট

রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ (ইংরেজি: RAJUK Uttara Model College) বাংলাদেশের ঢাকা শহরের উত্তরা এলাকায় অবস্থিত সহশিক্ষা কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (৬ষ্ঠ-১২শ শ্রেণী)।

১৯৯৪ সালে স্থাপিত এই বিদ্যালয়টি এরই মধ্যে বাংলাদেশের অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিণত হয়েছে।[১] জাতীয় শিক্ষাক্রমের অধীনে বাংলা এবং ইংরেজ়ী উভয় মাধ্যমে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান করা হয়। লিখিত এবং মৌখিক পরীক্ষার ভিত্তিতে ৬ষ্ঠ, ৯ম এবং ১১শ শ্রেণীতে ছাত্র ভর্তি করা হয়ে থাকে। প্রায় ২৫০০ জন শিক্ষার্থী এই বিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করে থাকে। [২][৩]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

রাজউকের সহযোগিতায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যবস্থাপনায় ১৯৯৪ সালে প্রায় সাড়ে ৪ একর জমির উপর রাজধানীর উত্তরায় রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ স্থাপিত হয়। ১৯৯৪ সালের প্রথম দিকে প্রধান একাডেমিক ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ হয় এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ১৯৯৪-৯৫ শিক্ষাবর্ষে কলেজ শাখার উদ্বোধন করেন ।[৪] অবকাঠামোগত সুযোগ সুবিধার স্বল্পতার কারণে ১৯৯৫ সালে আরেকটি উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয় এবং ২০০১ সালে ক্যাম্পাসটি বর্তমান রূপধারণ করে।[৫]

একটি শাখা (প্রভাতী) নিয়ে রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ যাত্রা শুরু করে কিন্তু অধিক শিক্ষার্থীর চাপ সামলানোর জন্য সরকারের পরামর্শ অনুযায়ী পরবর্তীতে ২০০৩ সালে বিদ্যালয়টিতে দিবা শাখা চালু করা হয়। প্রভাতী শাখার পাঠদান সময় সকাল ০৭:৪৫ হতে ১২:৩০ ঘটিকা এবং দিবা শাখার পাঠ দান সময় দুপুর ১২:৪৫ হতে ১৭:৩০ ঘটিকা পর্যন্ত।

ভর্তি প্রক্রিয়া[সম্পাদনা]

রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের ভর্তি প্রক্রিয়া অত্যন্ত প্রতিযোগিতাপূর্ণ।[৬] ভর্তি হতে আগ্রহী প্রার্থীদের লিখিত এবং মৌখিক উভয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। একাদশ শ্রেনীর ভর্তি প্রক্রিয়া এস এস সি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে হয়ে থাকে। [৬] ৬ষ্ঠ ও ৯ম শ্রেনীর ভর্তি পরীক্ষা সাধারণত ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হয় এবং একাদশ শ্রেণীর ভর্তি প্রক্রিয়া এস এস সি পরীক্ষার ফল প্রকাশের কিছুদিনের মধ্যেই শুরু হয়। তবে আসন খালি থাকা সাপেক্ষে ৭ম ও ৮ম শ্রেণীতে ও ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করা হয়।

শিক্ষা কার্যক্রম[সম্পাদনা]

রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ জাতীয় শিক্ষাক্রমের অধীনে নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে বাংলা এবং ইংরেজি উভয় মাধ্যমেই শিক্ষাদান করে থাকে। রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে প্রায় ১৫,০০০ বই সমৃদ্ধ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পাঠাগার এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সমৃদ্ধ পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, কম্পিউটার, জীববিজ্ঞান পরীক্ষাগার রয়েছে।

শিক্ষাক্রম[সম্পাদনা]

রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ জাতীয় শিক্ষাক্রম অনুসরণ করে থাকে। জাতীয় শিক্ষাক্রমের পাঠ্য বিষয়সমূহের সাথে সাথে ৬ষ্ঠ-৮ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের জন্য কম্পিউটার শিক্ষা বাধ্যতামূলক। এছাড়া ইচ্ছা করলে ৬ষ্ঠ-৮ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা সঙ্গীত শিক্ষা, চারু ও কারুকলা এবং গীটার বাজানো শেখার ক্লাসেও অংশ নিতে পারে। জাতীয় শিক্ষাক্রমের নিয়মানুযায়ী ৯ম এবং ১১শ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান/বানিজ্য/মানবিক এই তিনটি বিভাগের যেকোন একটি নির্বাচন করা বাধ্যতামূলক এবং সে অনুযায়ী নির্ধারিত শর্তপূরণ সাপেক্ষে শিক্ষার্থীরা নিজ পছন্দমত বিভাগ নির্বাচন করে থাকে ।

সহশিক্ষা কার্যক্রম[সম্পাদনা]

রাজউক বিজ্ঞান ক্লাব[সম্পাদনা]

রাজউক বিজ্ঞান ক্লাব ঢাকা শহরের অন্যতম একটি সুপরিচিত বিজ্ঞান ক্লাব।রাজউক বিজ্ঞান ক্লাব প্রতি বছর বিজ্ঞান উতসব আয়োজন করে থাকে যা বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের কাছে বেশ আকর্ষনীয় একটি ইভেন্ট হিসেবে পরিচিত।এর পাশাপাশি রাজউক বিজ্ঞান ক্লাব শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রকপল্প দেখা শোনা করে ও তাদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে যাতে করে তাদের প্রকল্পগুলো সফল হয়।

পরীক্ষার ফলাফল[সম্পাদনা]

এইচ এস সি পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ কে পুরস্কার প্রদান করে। [৭] ২০০৮ সালের জাতীয় বিতর্ক উৎসবে রাজউক উত্তরা মডেল কলেজকে শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয় পুরস্কার দেওয়া হয়।[৮]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]