ইউসুফ ইউহানা বা মোহাম্মদ ইউসুফ (উর্দু: محمد یوسف; জন্ম: ২৭ আগস্ট, ১৯৭৪) লাহোরে জন্মগ্রহণকারী পাকিস্তানের প্রথিতযশা সাবেক ক্রিকেটার। তিনি পাকিস্তান জাতীয় দলের ডানহাতি ব্যাটসম্যান ও অধিনায়ক ছিলেন। ২০০৫ সালে তিনি খ্রিস্টান ধর্ম ত্যাগ করে ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হন। স্বল্পসংখ্যক খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে তিনিও ছিলেন একজন, যিনি পাকিস্তান ক্রিকেট দলের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।
প্রারম্ভিক জীবন [সম্পাদনা]
নিম্নশ্রেণীভূক্ত হিন্দু বাল্মিকি গোত্রে জন্মগ্রহণ করেন যারা পরবর্তীতে খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করেন।[১] বাবা ইয়োহানা মাসেহ রেলওয়ে স্টেশনে কাজ করতেন ও রেলওয়ে কলোনীতে বসবাস করতো তাদের পরিবার। শৈশবে তিনি ব্যাট চালাতে পারতেন না; তাই তার ভাইয়েরা টেনিস বলের সাহায্যে তাকে সাহস যোগাতেন। ১২ বছর বয়সে গোল্ডেন জিমখানা দলের দৃষ্টিতে পড়েন ও ক্রিকেটের সাথে সম্পৃক্ত হন। লাহোরের ফরম্যান ক্রিস্টিয়ান কলেজে অধ্যয়ন করেন ও সেখানেই ১৯৯৪ সালের শুরুর দিক পর্যন্ত খেলতে থাকেন।[২] একসময় তিনি ভাগ্যান্বেষণে ভাওয়ালপুরে রিক্সা চালাতেন।[৩]
খেলোয়াড়ী জীবন [সম্পাদনা]
২৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৮ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত টেস্ট ক্রিকেটে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে অভিষেক ঘটে ইউসুফের। ৫০-এর অধিক গড়ে সাত সহস্রাধিক রান করেন যা যে কোন পাকিস্তানী ব্যাটসম্যানদের চেয়ে বেশী। এছাড়াও তার ২৪টি সেঞ্চুরিও রয়েছে। ২৭ বলে অর্ধ-শতক করেন যা বিশ্বের তৃতীয় দ্রুততম অর্ধ-শতক। ২০০৪ সালের বক্সিং ডে টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ১১১ রান করেন। ডিসেম্বর, ২০০৫ সালে লাহোরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২২৩ রান সংগ্রহ করে ম্যান অব দ্য ম্যাচ পুরস্কার লাভ করেন। সাত মাস পর জুলাই, ২০০৬ সালে ইংল্যান্ড সফরে একই দলের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টে ২০২ ও ৪৮ রান করে পুণরায় ম্যান অব দ্য ম্যাচ পুরস্কার লাভ করেন। হেডিংলিতে অনুষ্ঠিত তৃতীয় টেস্টে ১৯২ ও ওভালের চূড়ান্ত টেস্টে ১২৮ রান সংগ্রহ করেন।
২৮ মার্চ, ১৯৯৮ তারিখে হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষিক্ত হন। ওডিআইয়ে ৪০-এর অধিক গড়ে নয় সহস্রাধিক রান করেন যা বিখ্যাত ব্যাটসম্যান জহির আব্বাসের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যাটিং গড়। ২০০২-২০০৩ মৌসুমে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে ৪০৫ রান সংগ্রহ করেন আউট না হয়েই। ২৩ বলে অর্ধ-শতক এবং ৬৮ বলে সেঞ্চুরি করেছেন তিনি। ২০০২ এবং ২০০৩ সালে ধারাবাহিকভাবে বিশ্বের সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী ছিলেন।
১০ মার্চ, ২০১০ তারিখে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড কর্তৃক ইউসুফকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটাঙ্গন থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। ২০০৯-১০ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া সফরে দলের পরাজয়ের পর তদন্ত কমিটির সুপারিশই এর প্রধান কারণ।[৪] পিসিবি’র আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় জানানো হয় যে, তিনি পুণরায় দলের পক্ষ হয়ে খেলতে পারবেন না।[৪]
এরপর তিনি এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে ২৯ মার্চ, ২০১০ তারিখে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সকল স্তর থেকে অবসরের ঘোষণা দেন।[৫] কিন্তু জুলাই/আগস্ট, ২০১০ সালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্টে পাকিস্তানের মারাত্মক বিপর্যয়ের পর অবসর ভেঙ্গে তাকে পুণরায় দলে যোগদানের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছিল।[৬]
ইউসুফ ২০০৭ সালে বছরের সেরা টেস্ট খেলোয়াড় হিসেবে আইসিসি পুরস্কার লাভ করেন।[৭]
|
|
|
|
|
|
|
Italics denote deputised captaincy
|
|
টেস্টে ৫০ ঊর্ধ্ব ব্যাটিং গড়ের অধিকারী ব্যাটসম্যান
|
|
| অস্ট্রেলিয়া |
|
|
| ইংল্যান্ড |
|
|
| ভারত |
|
|
| পাকিস্তান |
|
|
| দক্ষিণ আফ্রিকা |
|
|
| শ্রীলঙ্কা |
|
|
| ওয়েস্ট ইন্ডিজ |
|
|
| জিম্বাবুয়ে |
|
|
|
কমপক্ষে ২০ ইনিংসে অংশগ্রহণকারী ক্রিকেটার। বর্তমান খেলোয়াড়দেরকে বাঁকা হরফে দেখানো হয়েছে।
|
|
|
ওডিআইয়ে ৪০-এর বেশী ব্যাটিং গড়ের অধিকারী ব্যাটসম্যান
|
|
| অস্ট্রেলিয়া |
|
|
| বাংলাদেশ |
|
|
| ইংল্যান্ড |
|
|
| ভারত |
|
|
| নিউজিল্যান্ড |
|
|
| পাকিস্তান |
|
|
| দক্ষিণ আফ্রিকা |
|
|
| ওয়েস্ট ইন্ডিজ |
|
|
| নেদারল্যান্ডস |
|
|
|
কমপক্ষে ২০ ইনিংসের জন্য প্রযোজ্য। বর্তমান খেলোয়াড়দেরকে বাঁকা হরফে চিহ্নিত করা হয়েছে।
|
|
|
|
|
| ১৯৫৮–১৯৫৯ |
|
|
| ১৯৬০–১৯৬৯ |
|
|
| ১৯৭০–১৯৭৯ |
- আবদুল রশিদ (১৯৭০)
- আহমেদ রিয়াজউদ্দীন (১৯৭০)
- জাহাঙ্গীর আহমেদ বাট (১৯৭০)
- গুলাম রসুল (১৯৭০)
- ফাইজ মোহাম্মদ (১৯৭০)
- মেজর মোহাম্মদ আসলাম খান (১৯৭০)
- ফজল রেহমান (১৯৭১)
- তানভির দার (১৯৭১)
- রিয়াজ আহমেদ (১৯৭১)
- নবি আহমেদ কালত (১৯৭১)
- জহির আব্বাস (১৯৭১)
|
|
| ১৯৮০-১৯৮৯ |
|
|
| ১৯৯০-১৯৯৯ |
- অনাররি লেফট্যানেন্ট মোহাম্মদ ইউনুস (১৯৯০)
- আরিফ খান (১৯৯০)
- নাজো আনোয়ার মিয়াঁদাদ (১৯৯০)
- মোহাম্মদ শাহনাজ শেখ (১৯৯০)
- ওয়াসিম আকরাম (১৯৯২)
- শাহবাজ আহমেদ (১৯৯২)
- গুলাম আব্বাস (১৯৯২)
- তৈমুর হাসান (১৯৯২)
- শহীদ আলী খান (১৯৯২)
- কাজী মুহিবুর রেহমান (১৯৯৩)
- রজব শাহ (১৯৯৩)
- মোহাম্মদ ইউসুফ (১৯৯৪)
- মোহিবুল্লাহ খান (১৯৯৪)
- খাজা মোহাম্মদ জুনায়েদ (১৯৯৪)
- আব্দুল রশিদ (১৯৯৪)
- মুহাম্মদ সাঈদ খান (১৯৯৪)
- মনসুর আহমেদ (১৯৯৪)
- আহমেদ আলম (১৯৯৪)
- তাহির জামান (১৯৯৪)
- মুহাম্মদ শাহবাজ (১৯৯৪)
- মুহাম্মদ শাফকাত (১৯৯৪)
- ইরফান মেহমুদ (১৯৯৪)
- নাভিদ আলম (১৯৯৪)
- আসিফ বাজোয়া (১৯৯৪)
- মুহাম্মদ দানিশ কালিম (১৯৯৪)
- মুহাম্মদ উসমান (১৯৯৪)
- কামরান আশরাফ (১৯৯৪)
- রহিম খান (১৯৯৪)
- রানা মুজাহিদ আলী (১৯৯৪)
- ওয়াসিম ফিরোজ (১৯৯৪)
- আলিয়া রশীদ (১৯৯৫)
- ফরিদ সেহরাই (১৯৯৫)
- ওয়াকার ইউনুস (১৯৯৫)
- আলী নওয়াজ বালোচ (১৯৯৫)
- মোহাম্মদ সারওয়ার (১৯৯৫)
- আসগর আলী চানগেজি (১৯৯৬)
- সরদার আজমারাই জাভাইদ হিসাম এল-ইফেন্দি (১৯৯৬)
- গুলাম নূরানী খান (১৯৯৬)
|
|
| ২০০০-২০০৯ |
|
|
| ২০১০-বর্তমান |
|
|