মোহাম্মদ ইউসুফ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
মোহাম্মদ ইউসুফ

محمد یوسف
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নাম মোহাম্মদ ইউসুফ
জন্ম ২৭ আগস্ট ১৯৭৪ (1974-08-27) (বয়স ৩৮)
লাহোর, পাঞ্জাব, পাকিস্তান
ব্যাটিংয়ের ধরন ডানহাতি ব্যাটসম্যান
বোলিংয়ের ধরন ডানহাতি মিডিয়াম
ভূমিকা ব্যাটসম্যান
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব পাকিস্তান
টেস্ট অভিষেক (ক্যাপ ১২২) ২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৮ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা
শেষ টেস্ট ২৯ আগস্ট ২০১০ বনাম ইংল্যান্ড
ওডিআই অভিষেক (ক্যাপ ১৫২) ২৮ মার্চ ১৯৯৮ বনাম জিম্বাবুয়ে
শেষ ওডিআই ২২ সেপ্টেম্বর ২০১০ বনাম ইংল্যান্ড
ওডিআই শার্ট নং ১৩
দেশীয় দলের তথ্য
বছর দল
২০১১ ওয়ারউইকশায়্যার
২০১০ লাহোর লায়ন্স
২০১০ ইসলামাবাদ লিওপার্ডস
২০০৮ ল্যাঙ্কাশায়্যার
২০০৪-২০০৮ লাহোর লায়ন্স
২০০৩-২০০৪ লাহোর
২০০২-২০০৩ জেডটিবিএল
২০০০-২০০১ লাহোর ব্লুজ
১৯৯৯-২০০২ পিআইএ
১৯৯৭-১৯৯৮ লাহোর সিটি
১৯৯৭-২০০৮ ওয়াপদা
১৯৯৬-১৯৯৭ ভাওয়ালপুর
কর্মজীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট ওডিআই টি২০ এফসি
ম্যাচসমূহ ৯০ ২৮৮ ১৩৪
রানের সংখ্যা ৭,৫৩০ ৯,৭২০ ৫০ ১০,১৫২
ব্যাটিং গড় ৫২.২৯ ৪১.৭১ ১৬.৬৬ ৪৯.২৮
১০০/৫০ ২৪/৩৩ ১৫/৬৪ ০/০ ২৯/৪৯
সর্বোচ্চ রান ২২৩ ১৪১* ২৬ ২২৩
বল বোল্ড ১৮
উইকেট
বোলিং গড় ১.০০
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট n/a n/a
সেরা বোলিং ০/৩ ১/০ –/– ০/৩
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৬৫/– ৫৮/– ১/– ৮৪/–
উৎস: ESPNCricinfo, ২০ এপ্রিল, ২০১২

ইউসুফ ইউহানা বা মোহাম্মদ ইউসুফ (উর্দু: محمد یوسف; জন্ম: ২৭ আগস্ট, ১৯৭৪) লাহোরে জন্মগ্রহণকারী পাকিস্তানের প্রথিতযশা সাবেক ক্রিকেটার। তিনি পাকিস্তান জাতীয় দলের ডানহাতি ব্যাটসম্যানঅধিনায়ক ছিলেন। ২০০৫ সালে তিনি খ্রিস্টান ধর্ম ত্যাগ করে ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হন। স্বল্পসংখ্যক খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে তিনিও ছিলেন একজন, যিনি পাকিস্তান ক্রিকেট দলের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

পরিচ্ছেদসমূহ

প্রারম্ভিক জীবন [সম্পাদনা]

নিম্নশ্রেণীভূক্ত হিন্দু বাল্মিকি গোত্রে জন্মগ্রহণ করেন যারা পরবর্তীতে খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করেন।[১] বাবা ইয়োহানা মাসেহ রেলওয়ে স্টেশনে কাজ করতেন ও রেলওয়ে কলোনীতে বসবাস করতো তাদের পরিবার। শৈশবে তিনি ব্যাট চালাতে পারতেন না; তাই তার ভাইয়েরা টেনিস বলের সাহায্যে তাকে সাহস যোগাতেন। ১২ বছর বয়সে গোল্ডেন জিমখানা দলের দৃষ্টিতে পড়েন ও ক্রিকেটের সাথে সম্পৃক্ত হন। লাহোরের ফরম্যান ক্রিস্টিয়ান কলেজে অধ্যয়ন করেন ও সেখানেই ১৯৯৪ সালের শুরুর দিক পর্যন্ত খেলতে থাকেন।[২] একসময় তিনি ভাগ্যান্বেষণে ভাওয়ালপুরে রিক্সা চালাতেন।[৩]

খেলোয়াড়ী জীবন [সম্পাদনা]

২৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৮ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত টেস্ট ক্রিকেটে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে অভিষেক ঘটে ইউসুফের। ৫০-এর অধিক গড়ে সাত সহস্রাধিক রান করেন যা যে কোন পাকিস্তানী ব্যাটসম্যানদের চেয়ে বেশী। এছাড়াও তার ২৪টি সেঞ্চুরিও রয়েছে। ২৭ বলে অর্ধ-শতক করেন যা বিশ্বের তৃতীয় দ্রুততম অর্ধ-শতক। ২০০৪ সালের বক্সিং ডে টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ১১১ রান করেন। ডিসেম্বর, ২০০৫ সালে লাহোরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২২৩ রান সংগ্রহ করে ম্যান অব দ্য ম্যাচ পুরস্কার লাভ করেন। সাত মাস পর জুলাই, ২০০৬ সালে ইংল্যান্ড সফরে একই দলের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টে ২০২ ও ৪৮ রান করে পুণরায় ম্যান অব দ্য ম্যাচ পুরস্কার লাভ করেন। হেডিংলিতে অনুষ্ঠিত তৃতীয় টেস্টে ১৯২ ও ওভালের চূড়ান্ত টেস্টে ১২৮ রান সংগ্রহ করেন।

২৮ মার্চ, ১৯৯৮ তারিখে হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষিক্ত হন। ওডিআইয়ে ৪০-এর অধিক গড়ে নয় সহস্রাধিক রান করেন যা বিখ্যাত ব্যাটসম্যান জহির আব্বাসের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যাটিং গড়। ২০০২-২০০৩ মৌসুমে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে ৪০৫ রান সংগ্রহ করেন আউট না হয়েই। ২৩ বলে অর্ধ-শতক এবং ৬৮ বলে সেঞ্চুরি করেছেন তিনি। ২০০২ এবং ২০০৩ সালে ধারাবাহিকভাবে বিশ্বের সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী ছিলেন।

নিষিদ্ধতা [সম্পাদনা]

১০ মার্চ, ২০১০ তারিখে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড কর্তৃক ইউসুফকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটাঙ্গন থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। ২০০৯-১০ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া সফরে দলের পরাজয়ের পর তদন্ত কমিটির সুপারিশই এর প্রধান কারণ।[৪] পিসিবি’র আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় জানানো হয় যে, তিনি পুণরায় দলের পক্ষ হয়ে খেলতে পারবেন না।[৪]

এরপর তিনি এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে ২৯ মার্চ, ২০১০ তারিখে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সকল স্তর থেকে অবসরের ঘোষণা দেন।[৫] কিন্তু জুলাই/আগস্ট, ২০১০ সালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্টে পাকিস্তানের মারাত্মক বিপর্যয়ের পর অবসর ভেঙ্গে তাকে পুণরায় দলে যোগদানের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছিল।[৬]

সম্মাননা [সম্পাদনা]

ইউসুফ ২০০৭ সালে বছরের সেরা টেস্ট খেলোয়াড় হিসেবে আইসিসি পুরস্কার লাভ করেন।[৭]

তথ্যসূত্র [সম্পাদনা]

আরও দেখুন [সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ [সম্পাদনা]

পূর্বসূরী
ইউনিস খান
পাকিস্তানী জাতীয় ক্রিকেট অধিনায়ক
২০০৯-২০১০


উত্তরসূরী
শহীদ আফ্রিদি