মেহমেদ এমিন আলি পাশা
মেহমেদ এমিন আলি পাশা (ফেব্রুয়ারি ১৮১৫ – সেপ্টেম্বর ৭, ১৮৭১) ছিলেন অটোমান রাজনীতিক।
মেহমেদ এমিন আলি পাশা কন্সটান্টিনোপলে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একজন সরকারী কর্মকর্তার পুত্র ছিলেন। ফরাসি ভাষা জানা থাকায় ১৮৩৩ সালে অটোমান সাম্রাজ্যের অনুবাদ ব্যুরোর একটি পদে থাকাকালেই অল্পবয়সে তিনি কূটনীতিক দায়িত্ব পালনের উপযুক্ত ছিলেন। এরপর তিনি তুরস্কে কূটনীতিক সহকর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন (১৮৩৪-৩৬)। পরবর্তীতে ভিয়েনায় দূতাবাসের সেক্রেটারী হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন। ১৮৪০ সালে স্বল্পকালের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রী হন। ১৮৪১ থেকে ১৮৪৪ এ তিনি লন্ডনে রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৮৪৬ সালে পুনরায় মোস্তফা রশিদ পাশার অধীনে পররাষ্ট্র মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ১৮৫২ সালে তাকে গ্র্যান্ড ভিজিয়েরের পদে পদোন্নতি দেয়া হয়। তবে কয়েক মাস পর তিনি অবসর নেন।
১৮৫৪ সালে ক্রিমিয়ার যুদ্ধের সময় রশিদ পাশার অধীনে পররাষ্ট্র বিষয়ক দায়িত্ব পালনের জন্য তাকে পুনরায় নিয়োগ করা হয়। ১৮৫৫ সালে তিনি ভিয়েনা সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন। এই বছর তিনি পুনরায় এক বছরের জন্য গ্র্যান্ড ভিজিয়েরের দায়িত্ব পালন করেন। এই পদে থাকাকালীন তিনি ১৮৫৬ সালের প্যারিস কংগ্রেসে পোর্টের প্রতিনিধিত্ব করেন এবং ক্রিমিয়ার যুদ্ধ সমাপ্তির শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করেন।
জীবনের বাকি সময় তিনি অটোমান সাম্রাজ্যের প্রতিনিধিত্ব করেন। ১৮৫৭-৮, জুলাই ১৮৬১ ও ১৮৬১ এর নভেম্বর থেকে ১৮৬৭ পর্যন্ত পররাষ্ট্র মন্ত্রী এবং ১৮৫৮-৯ ও ১৮৬৭-৭১ এ গ্র্যান্ড ভিজিয়েরের দায়িত্ব পালন করেন।
১৮৬৭ সালে প্যারিস প্রদর্শনীতে সুলতানের সফরের সময় তিনি সাম্রাজ্যের প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ পান। সুলতান প্রথম আবদুল মজিদ ও আবদুল আজিজের সময়কালে আলি পাশা পশ্চিমা ধাচের সংস্কারের জন্য উদ্যোগী হন। ১৮৬৯ সালে ফুয়াদ পাশার মৃত্যুর পর তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও গ্র্যান্ড ভিজিয়ের, এই দুইটি পদকে একত্রীভূত করেন।
তিনি একজন পন্ডিত ও ভাষাবিদ ছিলেন। ইউরোপীয় শক্তিগুলোর কাছ থেকে তার দেশের স্বার্থ রক্ষার কূটনৈতিক দায়িত্ব তিনি সাফল্যের সাথে পালন করেন। ১৯ শতকে তুরষ্ককে উন্নত করার ব্যাপারে তিনি বদ্ধপরিকর ছিলেন তবে ব্যক্তিজীবনে তিনি ছিলেন কর্তৃত্বপ্রিয়। তিনি সংস্কারবাদী রাজনীতিক ছিলেন এবং তার প্রধানমন্ত্রীত্বকালে অটোমান সরকারের পাশ্চাত্যকরণের প্রক্রিয়া চালু হয়। তিন মাস অসুস্থ থাকার পর ১৮৭১ সালের ৭ সেপ্টেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
গ্র্যান্ড ভিজিয়ের হিসেবে দায়িত্বপালনের সময়কাল[সম্পাদনা]
নিমোক্ত সময়কালে তিনি গ্র্যান্ড ভিজিয়েরের দায়িত্ব পালন করেন।
| পূর্বসূরী মোস্তফা রশিদ পাশা |
গ্র্যান্ড ভিজিয়ের ৬ আগস্ট ১৮৫২ - ৩ অক্টোবর ১৮৫২ |
উত্তরসূরী দামাত মেহমেদ আলি পাশা |
| পূর্বসূরী মোস্তফা রশিদ পাশা |
গ্র্যান্ড ভিজিয়ের ২ মে ১৮৫৫ - ১ নভেম্বর ১৮৫৬ |
উত্তরসূরী মোস্তফা রশিদ পাশা |
| পূর্বসূরী মোস্তফা রশিদ পাশা |
গ্র্যান্ড ভিজিয়ের ৭ জানুয়ারি ১৮৫৮ - ১৮ অক্টোবর ১৮৫৯ |
উত্তরসূরী কিবরিসলি মেহমেদ এমিন পাশা |
| পূর্বসূরী কিবরিসলি মেহমেদ এমিন পাশা |
গ্র্যান্ড ভিজিয়ের ৬ আগস্ট ১৮৬১ - ২২ নভেম্বর ১৮৬১ |
উত্তরসূরী মেহমেদ ফুয়াদ পাশা |
| পূর্বসূরী মেহমেদ রুশদি পাশা |
গ্র্যান্ড ভিজিয়ের ১১ ফেব্রুয়ারি ১৮৬৭ - ৭ সেপ্টেম্বর ১৮৭১ |
উত্তরসূরী মাহমুদ নেদিম পাশা |
তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]
- টেমপ্লেট:1911
- Balyuzi, Hasan (2000). Bahá'u'lláh, King of Glory (Paperback ed.). Oxford, UK: George Ronald. পৃ: 469. আইএসবিএন 0-85398-328-3.
|