মুহাম্মাদ মুরসি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
মুহাম্মাদ মুরসি
محمد مرسى
মিশরের রাষ্ট্রপতি
নির্বাচিত
কার্যালয় গ্রহণ
১লা জুলাই, ২০১২
প্রধানমন্ত্রী কামাল গানজুরি
উত্তরসূরী Mohamed Hussein Tantawi (কার্যনির্বাহক)
অপক্ষপাতী আন্দোলন আখ্যাতের মহাসচিব
কার্যালয় গ্রহণ
১লা জুলাই, ২০১২
উত্তরসূরী Mohamed Hussein Tantawi (কার্যনির্বাহক)
ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস পার্টির চেয়ারম্যান
কার্যালয়ে
৩০শে এপ্রিল, ২০১১ – ২৪শে জুন, ২০১২
নেতা Mohammed Badie
পূর্বসূরী Position established
উত্তরসূরী Essam el-Erian
Member of People's Assembly
কার্যালয়ে
১লা ডিসেম্বর, ২০০০ – ১২ই ডিসেম্বর, ২০০৫
পূর্বসূরী No'man Gomaa
উত্তরসূরী Mahmoud Abaza
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্ম মুহাম্মাদ মুরসি ইসা আল-আইয়াত
(১৯৫১-০৮-২০) ২০ আগস্ট ১৯৫১ (বয়স ৬৩)
Sharqia, মিশর
রাজনৈতিক দল ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস পার্টি (২০১১–বর্তমান)
অন্যান্য রাজনৈতিক
দল
মুসলিম ব্রাদারহুড (১৯৯১–২০১২)
দাম্পত্য সঙ্গী Najla Mahmoud (১৯৭৯–বর্তমান)
অধ্যয়নকৃত শিক্ষা
প্রতিষ্ঠান
কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়
সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়
ধর্ম সুন্নি (ইসলাম)

মুহাম্মাদ মুরসি ইসা আল-আইয়াত (মিশরীয় আরবি: محمد مرسى عيسى العياط, মিশরীয় আরবি: mæˈħammæd ˈmʊɾsi ˈʕiːsæ l.ʕɑjˈjɑːtˤ, জন্মঃ ২০ অগাস্ট, ১৯৫১) একজন মিশরীয় রাজনীতিবিদ, প্রকৌশলী এবং মিশরের বর্তমান ও পঞ্চম রাষ্ট্রপতি।।[১]

মুরসি ২০০০ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং ২০০৫ সাল পর্যন্ত মিশরের সংসদে বহাল ছিলেন। এ সময়ে তিনি মুসলিম ব্রাদারহুডের একজন নেতৃস্থানীয় ব্যাক্তিত্বে পরিণত হন। ২০১১ সালে মুসলিম ব্রাদারহুড ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস পার্টি (এফজেপি) নামে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করলে মুসরি তার চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন। মিশরের দুই পর্বের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, যেটি ২০১২ সালের মেজুনে অনুষ্ঠিত হয়, সে নির্বাচনে মুসরি এফজেপির মনোনীত প্রার্থী ছিলেন এবং উভয় পর্বেই সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।

২৪ জুন, ২০১২ তারিখে মিশরের নির্বাচন কমিশন মুহাম্মাদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত রাষ্ট্রপতি হোসনি মুবারাকের সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রী আহমেদ শফিকের বিপরীতে দ্বিতীয় পর্বের ভোটে, যেটি প্রথম পর্বের শীর্ষ দুই প্রার্থীর মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, জয়ী ঘোষণা করে। কমিশন কর্তৃক প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী মুসরি ৫১.৭ শতাংশ এবং আহমেদ শফিক ৪৮.৩ শতাংশ ভোট লাভ করেন।[২]

নির্বাচন কমিশন এই ফলাফল ঘোষণা করার পর মুহুর্তেই মুসলিম ব্রাদারহুড ও এফজেপি আনুষ্ঠানিক ভাবে মুহাম্মাদ মুরসিকে তাদের সকল সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি দেয় এবং তাকে ‘মিশরের সর্বস্তরের মানুষের রাষ্ট্রপতি’ হিসেবে স্বিকৃতি দেয়।[৩]

প্রাথমিক জীবন ও শিক্ষা[সম্পাদনা]

মুহাম্মাদ মুরসি ২০ অগাস্ট, ১৯৫১ তারিখে উত্তর মিশরের শারক্বিয়া প্রদেশে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কায়রো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৫ সালে প্রকৌশল বিষয়ে স্নাতক১৯৭৮ সালে একই বিষয়ে সন্মান ডিগ্রী লাভ করেন। এ বছরই তিনি উচ্চ শিক্ষার্থে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যান। ১৯৮২ সালে ইউনিভার্সিটি অফ সাউথ ক্যালিফোর্নিয়াতে মুহাম্মাদ মুরসির প্রকৌশল বিষয়ে গবেষণা শেষ হয় এবং তিনি ডক্টরেট ডিগ্রী লাভ করেন। এ বছরই তিনি ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি, নর্থরিজে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। ১৯৮৫ সালে মুরসি শারকিয়া প্রদেশের জাগাজিগ বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেয়ার উদ্দেশ্যে ক্যালিফোর্নিয়ার অধ্যাপনার চাকরি ছেড়ে মিশরে চলে আসেন।[৪]

মুহাম্মাদ মুরসির পাঁচ সন্তানের মধ্যে দুই জন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করেন এবং জন্মসূত্রে তারা মার্কিন নাগরিক।[৫]

রাজনৈতিক জীবন[সম্পাদনা]

২০০০ সালে মুহাম্মাদ মুরসি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সাংগঠনিক ভাবে তিনি মুসলিম ব্রাদারহুডের সদস্য হলেও, নির্বাচনে তাকে ব্রাদারহুডের অন্যান্য নেতাদের মত আইনত স্বতন্ত্র ভাবে লড়তে হয় কারণ হোসনি মুবারাকের শাসনামলে মুসলিম ব্রাদারহুড মিশরের প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে নিষিদ্ধ ছিল। মুরসি ব্রাদারহুডের গুরুত্বপূর্ণ গাইড্যান্স অফিসের প্রধান হিসেবে দায়িত্মরত ছিলেন, যার পরিণতিতে ২০১১ সালে ব্রাদারহুডের প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক দল ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস পার্টি গঠনের পর তিনিই দলটির চেয়ারম্যান পদ লাভের জন্য সবচেয়ে সম্ভাব্য ছিলেন।

মিশরের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ২০১২[সম্পাদনা]

মূলত দলীয় উপনেতা ও রাজনৈতিক প্রধান খাইরাত এল-শাতেরই ছিলেন মুসলিম ব্রাদারহুডের মূল রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী। কিন্তু একটি আদালত প্রচারণা শুরুর আগে শাতের সহ একাধিক প্রার্থীকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করলে ব্রাদারহুড বা এফজেপি প্রার্থী হিসেবে মুহাম্মাদ মুরসির নাম উঠে আসে, যিনি মূলত সংগঠনটির দ্বিতীয় মনোনয়ন ছিলেন। পরে এফজেপি মুরসিকে তাদের প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করে।[৬]

ব্রাদারহুডের এক দলত্যাগী জনপ্রিয় নেতার অংশগ্রহণ সত্ত্বেও মুহাম্মাদ মুরসি ২৩ মে, ২০১২ এর নির্বাচনে ২৫.৫ শতাংশ ভোট পান, যা ছিল সর্বোচ্চ। প্রথম পর্বের পর মুহাম্মাদ মুরসি এবং আহমেদ শফিক দ্বিতীয় পর্বের চূড়ান্ত ভোটাভুটির জন্য মনোনীত হন।[৭] দ্বিতীয় পর্বের নির্বাচনের আগে মুহাম্মাদ মুরসি মিশরের সর্বস্তরের মানুষের প্রতি আহমেদ শফিকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আহবান জানান। মুরসির রাজনৈতিক দল আহমেদ শফিককে, যিনি সাবেক বিমান বাহিনী প্রধান যিনি হোসনি মুবারাকের অধীনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ম পালন করেন, ক্ষমতাচ্যুত মুবারাকের রক্ষাকর্তা হিসেবে আখ্যায়িত করে প্রচার করে, শফিক নির্বাচিত হলে মিশরের ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরশাসন নতুন জীবন পাবে। [৮]

৩০ মে, ২০১২ তারিখে মুহাম্মাদ মুরসি মিশরীয় টেলিভিশন উপস্থাপক তাওফিক ওকাশার বিরুদ্ধে একটি মানহানি মামলা করে বলেন, ওকাশা ইচ্ছাকৃত ভাবে ভুল তথ্য উপস্থাপন করে মুরসি ও তার রাজনৈতিক দলের সন্মানহানি করেছে। মিশরীয় গণমাধ্যমের সূত্রমতে, ওকাশা ২৭ মে তারিখে প্রায় তিন ঘন্টা ব্যাপী একটি টেলিভিশন বক্তব্যে মিশরে ‘ইসলামপন্থীদের হাতে খ্রিষ্টানদের হত্যাকান্ডের’ প্রমাণাদি তুলে ধরে প্রশ্ন করেন, হত্যাকারীরা কীভাবে দেশ চালাবে।[৯] উল্লেখ্য, বিতর্কিত প্রমাণাদিগুলোতে ইসলামপন্থী হিসেবে মূলত মুসলিম ব্রাদারহুডকে ইঙ্গিত করা হয়েছিল।[১০]

২৪ জুন, ২০১২ তারিখে মুরসিকে দ্বিতীয় পর্বের নির্বাচনে জয়ী, অর্থাৎ রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়।[১১] এর পরপরই মুরসি মুসলিম ব্রাদারহুড ও ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস পার্টি থেকে আনুষ্ঠানিক অব্যাহতি গ্রহণ করেন।[১২]

মিশরের রাষ্ট্রপতি[সম্পাদনা]

আভ্যন্তরীণ নীতিমালা[সম্পাদনা]

ফরেন পলিসি ম্যাগাজিনের মন্তব্য অনুযায়ী, মুরসির রাষ্ট্রপতিত্ব প্রাথমিক ভাবে মিশরের আভ্যন্তরীণ নীতিগঠনে সামান্যই প্রভাব ফেলবে, কেননা প্রশাসনের সর্বস্তরেই মূলত হোসনি মুবারাকের অনুসারীরা, বা তার অনুগতরা বা তার দ্বারা নিযুক্তরা কর্মরত আছে।[১৩] সাংবাদিক ইয়সরি ফাউদাকে দেয়া এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে মুরসি বলেন, তিনি রাষ্ট্রপতি শাসিত ও সংসদ শাসিত ব্যবস্থার সংমিশ্রণে একটি সাময়িক অন্তবর্তিকালীন প্রশাসনের পক্ষপাতী, যার মধ্য দিয়ে প্রশাসনের স্বাভাবিকীকরণ আর গতিশীলতা বজায় থাকবে।

বৈদেশিক নীতি[সম্পাদনা]

মুহাম্মাদ মুরসি তার বিজয় ভাষণে ঘোষণা দেন, তিনি মিশরের বর্তমান আন্তর্জাতিক চুক্তগুলোর প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবেন, প্রত্যক্ষ ভাবে ফিলিস্তিনের পক্ষে কথা বলবেন এবং ভূরাজনৈতিক ভাবে ইরানের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে মনযোগী হবেন।

ধারণা করা হয়, মূলত ইসরায়েল বিষয়ে মিশরের বৈদেশিক নীতির কোন আমূল পরিবর্তন হবে না, ব্রাদারহুডের সাথে মিশরের সশস্ত্র বাহিনী এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এমন বোঝাপড়ার ভিত্তিতেই মুরসির মাধ্যমে তাদের হাতে মিশরের রাষ্ট্রক্ষমতার হস্তান্তর সম্ভব হয়েছে।[১৪]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Muslim Brotherhood's candidate and first president after Mobarak
  2. "Muslim Brotherhood candidate Morsi wins Egyptian presidential election"। Fox News.com। সংগৃহীত 24 June 2012 
  3. "شورى الإخوان" يسمي مرسي رئيسًا لـ"الحرية والعدالة". إخوان اون لاين، 2011-4-30. وصل لهذا المسار في 1 مايو 2011.
  4. "Interview with Mohamed Morsi"Al-Jazeera। 29 January 2012। 
  5. "Newsmaker: Egypt's Morsy goes from prisoner to president"Reuters। 24 June 2012। 
  6. "Egypt Brotherhood candidate: army wants to retain power"Al-Akhbar। 18 April 2012। 
  7. Hiel, Betsy (20 May 2012)। "Muslim Brotherhood's rhetoric reveals intent in Egypt"TribLIVE। সংগৃহীত 30 May 2012 
  8. "Egypt's Islamists seek ‘grand coalition' with liberals, minorities"The Hindu। 30 May 2012। সংগৃহীত 30 May 2012 
  9. "Morsy demands Okasha be banned from TV"Egypt Independent। 30 May 2012। সংগৃহীত 30 May 2012 
  10. Sterling: Gauging Muslims' ability to leave their faith retrieved 10 June 2012
  11. http://www.bbc.co.uk/news/world-18571580
  12. Yasmine Fathi (24 Jun 2012)। "Brotherhood campaigners elated as Mursi is named Egypt's next president"। Al Ahram। 
  13. "Brother Number One"Foreign Policy। 7 June 2012। সংগৃহীত 26 June 2012 
  14. Ben Gedalyahu, Tzvi. "Mursi Vows to Preserve International Agreements" Israel National News, 25 June 2012.
রাজনৈতিক দফতর
পূর্বসূরী
সংগঠন ও পদের উৎপত্তি
চেয়ারম্যান
ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস পার্টি

২০১১-২০১২


উত্তরসূরী
ঘোষিতব্য
পূর্বসূরী
হোসনি মুবারাক
মিশরের রাষ্ট্রপতি
২০১২


উত্তরসূরী
পদে আসীন
পূর্বসূরী
মোহামেদ হুসেইন তানতায়ুই
মহাসচিব
নন-অ্যালাইনড মুভমেন্ট

২০১২


উত্তরসূরী
পদে আসীন

|}

টেমপ্লেট:Egyptian presidential elections 2012 টেমপ্লেট:Presidents of Egypt টেমপ্লেট:NAMSecretary-General