মগবাজার

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

মগবাজার বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা শহরের একটি এলাকা। এটি ইস্কাটন, শান্তিনগর, খিলগাঁও, ও সিদ্ধেশ্বরী এলাকার নিকটে অবস্থিত।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

মগবাজার এলাকার নামকরণ করা হয়েছে মগ তথা বর্মী বংশোদ্ভুত ব্যক্তিদের নাম থেকে। ১৬২০ খ্রিস্টাব্দে মগ সাম্রাজ্য তদানিন্তন মোগল সুবা বাংলার কেন্দ্রস্থল ঢাকা শহরে আক্রমণ চালায়। মোগল সুবাদার ইসলাম খাঁ মগদের তখনকার ঘাঁটি চট্টগ্রাম এলাকা জয় করেন। সেখানকার মগ শাসক মুকুট রায় ও তাঁর অনুসারীরা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে, এবং ইসলাম খাঁ তাদেরকে ঢাকা শহরের এই এলাকায় বসবাস করার অনুমতি প্রদান করেন। অবশ্য ঐতিহাসিক মুনতাসির মামুনের মতে এই ধারণা সঠিক নয়, এবং এই নামকরণ অনেক পরে ব্রিটিশ শাসনামলে তদানিন্তন বাংলায় আশ্রয় গ্রহণকারী মগ সর্দার কিং ব্রিং ও তাঁর অনুসারীদের বসবাসের কারণেই হয়েছে। উনবিংশ শতাব্দির মধ্যভাগ পর্যন্তও এই এলাকাটি ঘন জঙ্গলে পূর্ণ ছিল। [১]

পরিবহন ব্যবস্থা[সম্পাদনা]

মগবাজার চৌরাস্তা থেকে মতিঝিল , গুলিস্তান, ডেমরা, যাত্রাবাড়ী, কমলাপুর, সদরঘাট, সাতরাস্তা, ফার্মগেট, বনানী, গুলশান, টঙ্গী, গাজীপুর, আশুলিয়া, রামপুরা, বাড্ডা প্রভৃতি জায়গায় বাসে যাওয়া যায়। অন্য জায়গায় বাসে যেতে চাইলে মৌচাক, গুলিস্তান, বাংলা মোটর বা ফার্মগেট গিয়ে বাস বদল করতে হবে। মগবাজার চৌরাস্তার খুব কাছেই সিএনজি ফিলিং স্টেশন থাকায় এখানে সিএনজি অটোরিকশা, ট্যাক্সি ক্যাব মোটামুটি সুলভ। আবার ওয়্যারলেস মোড়ে উজ্জ্বল হোটেলের সামনে একটি ট্যাক্সি ক্যাব স্ট্যান্ড আছে। মগবাজারের অধিবাসীদের যাদের নিজস্ব গাড়ি নেই তারা এখানকার ভেতরের সুরু রাস্তাগুলোয় যাতায়াতের জন্য প্রধানত রিকশা এবং ব্যাটারী চালিত বাহনের ওপর নির্ভরশীল। আবার দূরে যেতে হলেও রিকশায় চড়েন এখানকার অধিবাসীরা। তবে দিনে দিনে বিভিন্ন সড়কে রিকশা নিষিদ্ধ হতে থাকায় অনেক গন্তব্যে যেতে মগবাজারবাসীদের রিকশার বিকল্প সন্ধান করতে হচ্ছে এখন।

মগবাজার চৌরাস্তা[সম্পাদনা]

মগবাজার মোড়ের উত্তর পূর্ব কোণে মগবাজার জামে মসজিদটির অবস্থান। মসজিদটির স্থাপত্যশৈলী আহামরী কিছু না হলেও দূর থেকে মসজিদটির অন্তুত তিনটি গম্বুজ আপনার চোখে পড়বে। আর মুসলিম স্থাপত্য রীতি মেনে তৈরি মিনারটি বেশ দূর থেকেই চোখে পড়ে। দক্ষিণ-পূর্ব কোণে রয়েছে জনতা ব্যাংকের মগবাজার শাখা এবং গ্রামীণফোন সেন্টার। দক্ষিণ পশ্চিম কোণে একটি পত্রিকা স্টল আছে। এখানে বিদেশী পত্রিকা বিশেষ একটা পাওয়া যায় না। মগবাজার চৌরাস্তায় ‘X’ আকৃতির যে ওভারব্রীজ আছে সেটি ব্যবহার করে আপনি ব্যস্ত মগবাজার মোড়ের যেকোন প্রান্তে নিরাপদে পৌঁছে যেতে পারেন।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান[সম্পাদনা]

ইস্পাহানী গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ , সেক্রিড হার্ট টিউটোরিয়াল স্কুল, হলি ফ্যামিলি মেডিকেল কলেজ , আদ দ্বীন মেডিকেল কলেজ, ইউনিভার্সিটি ডেন্টাল কলেজ,ন্যাশনাল ব্যাংক পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ, জাতীয় আইন কলেজ, নজরুল শিক্ষালয়, মগবাজার বালিকা বিদ্যালয়, সিদ্ধেশ্বরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, শেরে বাংলা উচ্চ বিদ্যালয় , শাহনূরী উচ্চবিদ্যালয়, লায়ন্স মডেল স্কুল, মগবজার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, নয়াটোলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়।

পাঠাগার[সম্পাদনা]

নয়াটোলা ৫৫ নম্বর ওয়ার্ড কমিশনার অফিস সংলগ্ন পাঠাগার। এক কক্ষ বিশিষ্ট এই পাঠাগারের বইয়ের সংগ্রহ মোটামুটি ভাল বলা যায়।

ব্যাংক[সম্পাদনা]

ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড, উত্তরা ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড, জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক , এনসিসি ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক লিমিটেড, ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড

কাঁচাবাজার[সম্পাদনা]

মগবাজার কাঁচাবাজার, মধুবাগ কাঁচাবাজার, শাহনূরী কাঁচাবাজার।

গুরুত্বপূর্ণ অফিস[সম্পাদনা]

কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, মহিলা অধিদপ্তর, ওয়াকফ অফিস, রেড ক্রিসেন্ট অফিস, র্যাব ব্যাটালিয়ন ৩ অফিস।

সুপারশপ[সম্পাদনা]

মীনা বাজার, আগোরা, স্বপ্ন।

এটিএম বুথ[সম্পাদনা]

ডাচ বাংলা ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, ইষ্টার্ণ ব্যাংক।

বিপণী বিতান[সম্পাদনা]

গ্র্যান্ড প্লাজা, বিশাল সেন্টার, গুলফেঁশা প্লাজা। এলাকা বিপনীবিতানগুলো বৃহস্পতিবার বন্ধ থাকে।

খাবারের দোকান[সম্পাদনা]

কেএফসি, ঢাকা বার বি কিউ, বনফুল, রস, গ্র্যান্ড সুইটস।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. মুনতাসীর মামুন, "ঢাকা: স্মৃতি বিস্মৃতির নগরী", ৩য় সংস্করণ, ৪র্থ মূদ্রণ, জানুয়ারি ২০০৪, অনন্যা প্রকাশনালয়, ঢাকা, পৃষ্ঠা ১৮৭-১৮৮, ISBN 984-412-104-3