ভারতের বিদ্যুৎ নীতি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ভারতের বায়ুবিদ্যুৎ শিল্প বিশ্বে পঞ্চম বৃহত্তম। উৎপাদন ক্ষমতা ১১৮০০ মেগাওয়াট।[১] এই ছবিতে দেখা যাচ্ছে, তামিলনাড়ুর কায়াথারের উইন্ড ফার্ম।
সঞ্চিত কয়লার পরিমাণের হিসেবে বিশ্বে ভারতের স্থান তৃতীয়।[২] ছবিতে দেখা যাচ্ছে ঝাড়খণ্ড রাজ্যের একটি কয়লাখনি।


ভারতের বিদ্যুৎ নীতিতে মোটামুটি দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ ঘাটতি,[৩] এবং অচিরাচরিত বিদ্যুৎশক্তির (বিশেষত পারমাণবিক, সৌরবায়ু বিদ্যুৎ) ব্যবহার বৃদ্ধির উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।[৪]

ভারতের ৭০% বিদ্যুৎ ফসিল জ্বালানি ও ৪০% বিদ্যুৎ কয়লা থেকে উৎপাদিত হয়। খনিজ তেলপ্রাকৃতিক গ্যাস থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎশক্তির শতকরা হার যথাক্রমে ২৪% ও ৬%।[৩] বিদ্যুৎ চাহিদার জোগান দিতে ভারতকে ফসিল জ্বালানির আমদানির উপর গভীরভাবে নির্ভর করতে হয়। ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতের বিদ্যুৎ আমদানির উপর নির্ভরশীলতা দেশের মোট বিদ্যুৎ ব্যবহারের ৫৩% ছাড়িয়ে যাবে।[৩] ২০০৯-১০ সালে দেশের মোট খনিজ তেল আমদানির পরিমাণ ছিল ১৫৯.২৬ মিলিয়ন টন; যা দেশের ৮০% আভ্যন্তরিণ খনিজ তেল চাহিদার জোগান দিয়েছিল। এই আমদানি ছিল দেশের মোট তেল আমদানির ৩১%।[৩][৫] ভারতের বিদ্যুৎ শিল্পের মূল সমস্যা কয়লার অপ্রতুলতা।[৬] এর ফলে ২০১০ সালে ভারতের কয়লার আমদানি ১৮% বাড়াতে হয়েছে।[৭]

দ্রুত আর্থিক উন্নয়নের ফলে ভারত এখন বিশ্বের দ্রুত বাড়তে থাকা বিদ্যুৎ বাজারগুলির একটি। মনে করা হচ্ছে, ২০৩৫ সালের মধ্যে বিশ্বের বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ ১৮% বৃদ্ধি পেলে বিশ্ব বিদ্যুৎ চাহিদার নিরিখে ভারত দ্বিতীয় স্থান অধিকার করবে।[৪] একদিকে যেমন দেশে বিদ্যুতের চাহিদা উর্ধ্বমুখী, অন্যদিকে তেমনি ভারতের সঞ্চিত ফসিল জ্বালানির পরিমাণ কম। তাই দেশে পুনর্নবীকরণযোগ্য বিদ্যুৎ ও পারমাণবিক বিদ্যুৎ শিল্পের প্রসার ঘটানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ভারতের বায়ুবিদ্যুতের বাজার বিশ্বে পঞ্চম বৃহত্তম।[৮] ২০২২ সালের মধ্যে দেশের সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ২০ গিগাওয়াট করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।[৪] তাছাড়া আগামী ২৫ বছরে দেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৪.২% থেকে বাড়িয়ে ৯% করার চেষ্টা করা হচ্ছে।[৯] দেশে পাঁচটি পারমাণবিক চুল্লি রয়েছে (বিশ্বে তৃতীয়)। ২০২৫ সালের মধ্যে আরো ১৮টি পারমাণবিক চুল্লি (বিশ্বে দ্বিতীয়) গড়ে তোলার পরিকল্পনাও আছে।[১০]

পাদটীকা [সম্পাদনা]

টেমপ্লেট:Nuclear power in India

টেমপ্লেট:Asia topic