ভারতচন্দ্র রায়
রায়গুণাকর ভারতচন্দ্র রায় (১৭১২ – ১৭৬০) অষ্টাদশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ বাঙালি কবি ও মঙ্গলকাব্যের সর্বশেষ শক্তিমান কবি। [হাওড়া জেলায়(পেড়ো-বসণ্তপুর)এ] জন্ম হলেও পরবর্তী জীবনে নদিয়ার কৃষ্ণনগর রাজপরিবারের আশ্রয় গ্রহণ করেন। নদিয়ারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায় অন্নদামঙ্গল কাব্যের স্বীকৃতিতে তাঁকে ‘রায়গুণাকর’ উপাধিতে ভূষিত করেন। অন্নদামঙ্গল ও এই কাব্যের দ্বিতীয় অংশ বিদ্যাসুন্দর তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি। সংস্কৃত, আরবি, ফারসি ও হিন্দুস্তানি ভাষার মিশ্রণে আশ্চর্য নতুন এক বাগভঙ্গি ও প্রাচীন সংস্কৃত ছন্দের অনুকরণে বাংলা কবিতায় নিপুণ ছন্দপ্রয়োগ ছিল তাঁর কাব্যের বৈশিষ্ট্য। তাঁর কাব্যের অনেক পংক্তি আজও বাংলা ভাষায় প্রবচনতুল্য। যথাযথভাবেই রবীন্দ্রনাথ তাঁর কাব্যকে তুলনা করেন “রাজকণ্ঠের মণিমালা”র সঙ্গে। তার আর একটি বিখ্যাত কাব্য সত্য পীরের পাঁচালি। তার মৃত্যুর সাথে বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের সমাপ্তি হয়।
জন্ম, শৈশব, শিক্ষা [সম্পাদনা]
ভারতের পশ্চিম বঙ্গের হুগলি জেলার পেঁড়ো-বসন্তপুর গ্রামে ১৭১২ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পেঁড়ো-বসন্তপুর গ্রামে গ্রামের জমিদার রাজা নরেন্দ্রনারায়ণ রায়ের চতুর্থ পুত্র। তাঁর মায়ের নাম ভবানী। বর্ধমানের রাজা কীর্তিচন্দ্র জমিদারি গ্রাস করে নিলে বাস্তুচ্যূত জমিদার নরেন্দ্রনারায়ণ পালিয়ে যান এবং ভারতচন্দ্র মণ্ডলঘাট পরগনার নওয়াপাড়ায গ্রামে স্বীয় মামার বাড়ীতে মানুষ হন। এখানে সন্নিহিত তাজপুর গ্রামের টোলে ব্যাকরণ ও অভিধান পাটের মাধ্যমে তাঁর বিদ্যাশিক্ষার শুরু। এ সময় তাঁর বিয়ে হয় নরোত্তম আচার্যের কন্যার রাধার সঙ্গে। তিন পুত্রের নাম পরীক্ষীত, রামতনু ও ভগবান। পরবর্তী পরযাএ অভিভাবকদের পরামর্শে হুগলী জেলার দেবানন্দপুর গ্রামে রামচন্দ্র মুন্সীর নিকট ফার্সী ভাষা শিক্ষা করেন । এ সময় সত্যনারায়ণ পূজা উপলক্ষে ১৭৩৭ খ্রিস্টাব্দে তিনি রচনা করেন সত্যনারায়ণের পাঁচালী। [১]
তথ্যসূত্র [সম্পাদনা]
- ↑ হংসনারায়ণ ভট্টাচার্য, বঙ্গসাহিত্যাভিধান, ২য় খণ্ড, ১৯৯০।
| এই নিবন্ধটি অসম্পূর্ণ। আপনি চাইলে এটিকে সমৃদ্ধ করে উইকিপিডিয়াকে সাহায্য করতে পারেন। |