ব্র্যান্ড ব্যবস্থাপনা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

ব্র্যান্ড ব্যবস্থাপনা (ইংরেজি: Brand Management) হল বিপণনের এমন একটি কার্যাবলি যার মাধ্যমে একটি পণ্যের বা কৃত্যের ব্র্যান্ড কীভাবে ক্রেতা বা ভোক্তাদের মনের ভেতরে জায়গা করে নেবে সেটি বিশ্লেষণ করা হয়, কোন ধরণের ভোক্তাকে লক্ষ্য করে ব্র্যান্ডটি বাজারে ছাড়া হবে সেটি নির্ধারণ করা হয় এবং সর্বোপরি ব্র্যান্ডের কাঙ্ক্ষিত সুনাম সৃষ্টি ও বজায় রাখা হয়। ব্র্যান্ড ব্যবস্থাপনার জন্য ভোক্তা বা ক্রেতাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখাটা গুরুত্বপূর্ণ। ব্র্যান্ড ব্যবস্থাপনার দৃশ্যমান উপাদানগুলো হলো পণ্য, পণ্যের মূল্য, মোড়ক, বিজ্ঞাপন প্রভৃতি। আর অদৃশ্য উপাদানগুলোর মধ্যে রয়েছে ভোক্তার অভিজ্ঞতা, সন্তুষ্টি, এবং ব্র্যান্ডের সঙ্গে তার সম্পর্কটি কেমন সেটি। একজন ব্র্যান্ড ব্যবস্থাপককে উপরোক্ত সবগুলো বিষয়ে নজর দিতে হয়। ২০০১ সালে হিস্লপ (Hislop) বলেন, " ব্র্যান্ডিং হল "প্রতিযোগিতা থেকে নিজেকে আলাদা করে তুলে ধরতে এবং ব্র্যাণ্ডের প্রতি ক্রেতার আনুগত্য নির্মাণের স্বার্থে একটি কোম্পানির পণ্যের সঙ্গে ক্রেতার মনস্তাত্ত্বিক উপলব্ধিকে যুক্ত করবার বা এদের মধ্যে সম্পর্ক সৃষ্টি করার প্রক্রিয়া।"[১]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

ব্র্যান্ডিং-এর সূত্রপাত ঘটেছে খুব প্রাচীনতম সময়ে, যখন প্রস্তুতকারীরা নিজ নিজ হস্তশিল্পপণ্যের উপর ট্রেডমার্ক বসিয়ে দিতেন অন্যদের চাইতে নিজের পণ্যকে আলাদাভাবে উপস্থাপনের জন্য। খৃষ্টপূর্ব ২৭০০ সনে মিশরে গবাদিপশুর শরীরে ব্র্যান্ডিং করা হতো, যাতে করে এক মালিকের পশুকে অন্য মালিকের পশু হতে সহজেই আলাদা করা যায়। তবে শিল্পবিপ্লবের ফলশ্রুতিতে এবং বিপণন, উৎপাদন ও ব্যবসায় ব্যবস্থাপনার মত প্রোফেশনাল শাখাগুলোর আবির্ভাবের কারণে উনিশ শতকে এসে ব্র্যান্ডিং ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতে শুরু করে।[১] ব্র্যান্ডিং হল অন্য উৎপাদকের পণ্যের চাইতে নিজের পণ্যকে আলাদা করে তুলে ধরার একটি পন্থা যেটি পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির সাথে সাথে অধিক হারে ব্যবহৃত হতে শুরু করে। ধরা হয়ে থাকে, আধুনিক ব্র্যান্ডিং শাস্ত্রের সূত্রপাত ঘটেছিলো প্রোক্টর অ্যান্ড গ্যাম্বল-এর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নীল এইচ ম্যাক'এলরয়ের একটি বিখ্যাত মেমোর মাধ্যমে।[২]

ব্র্যান্ড ম্যানেজমেন্টের প্রয়োজনীয় ধারণাসমূহ[সম্পাদনা]

ব্র্যান্ড ইক্যুইটি[সম্পাদনা]

ব্র্যান্ড ইক্যুইটি হলো একটি ব্র্যান্ডের পণ্য ও সেবাসমূহের কার্যকারিতা, পছন্দনীয়তা ও সুনামের ওপর ভিত্তি করে যে মূল্যমান (value) নির্দিষ্ট করা হয়। 'ক্রেতা নির্ভর ব্র্যান্ড ইক্যুইটি' (Customer-based Brand Equity) হলো কোন একটি ব্র্যান্ডের ব্যাপারে একজন ক্রেতার পর্যাপ্ত জ্ঞান থাকার সুবাদে ওই ব্র্যান্ডের বিপণনে তার সাড়া কেমন হয় সেটি।[৩] যেমন- ক্রেতা যদি কোন ব্র্যান্ড সম্পর্কে যথেষ্ট তথ্য রাখে, তাহলে নিশ্চই তিনি উপলব্ধি করতে পারবেন যে ব্র্যান্ডটি কি ধরনের সুবিধা প্রদান করে, কি কি বিশেষত্ব বা গুনাগুন বহন করে। সেক্ষেত্রে তিনি ব্র্যান্ডটি কিনতে আগ্রহী হবেন। অর্থাৎ ব্র্যান্ডের ব্যাপারে তথ্যগুলো ক্রেতার মনোজগতে কিরকম সাড়া ফেলছে, সেটি ইতিবাচক নাকি নেতিবাচক, সেই সাড়ার ফলে তিনি পণ্যটি কিনতে আগ্রহী হচ্ছেন কিনা, তিনি বিশ্বস্ত ক্রেতায় পরিণত হয়েছেন কিনা- এসবই ব্র্যান্ড ইক্যুইটির অংশ।

ব্র্যান্ড পোর্টফোলিও[সম্পাদনা]

ব্র্যান্ড পোর্টফোলিও হল সেসকল ব্র্যান্ড এবং ব্র্যান্ড লাইনের সমষ্টি যেগুলো কোন একটি কোম্পানি একটি নির্দিষ্ট পণ্যের ক্যাটাগরিতে বিক্রয় করা হয়।[৪] উদাহরণস্বরূপ ইউনিলিভারের শ্যাম্পু বা চুলের প্রসাধনির ব্র্যান্ড পোর্টফোলিওর কথা বলা যায়। সানসিল্ক, ডাভ, ক্লিয়ার (ম্যান, উমেন) প্রভৃতি ব্র্যান্ডগুলোকে নিয়ে শ্যাম্পুর একটি ব্র্যান্ড পোর্টফোলিও গঠিত হয়।

ব্র্যান্ড সম্প্রসারণ[সম্পাদনা]

ব্র্যান্ড সম্প্রসারণ (Brand Extension) হলো একই ব্র্যান্ড নামের অধীনে নতুন নতুন পণ্য যুক্ত করা। অন্যভাবে বলা যায়, বিদ্যমান ব্র্যান্ড নাম ব্যবহার করে নতুন পণ্য বাজারে ছাড়াকেই বলে ব্র্যান্ড সম্প্রসারণ। এর সুবিধা হল, যেহেতু ব্র্যান্ডটি ইতিমধ্যেই শক্তিশালী এবং পছন্দনীয়, কাজেই ক্রেতারা একই ব্র্যান্ডের নতুন একটি পণ্যের প্রতিও আগ্রহী হবে এবং তাকে স্বাগত জানাবে।

গ্রন্থপঞ্জি[সম্পাদনা]

  • No logo. Naomi Klein. পিকাডর ইউএসএ ২০০৯।
  • The Brands Handbook. Wally Olins. থামস ও হাডসন, ২০০৮।
  • Wally Olins on B®and. থামস ও হাডসন, ২০০৫।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. ১.০ ১.১ Shamoon, Sumaira, and Saiqa Tehseen. "Brand Management: What Next?", Interdisciplinary Journal Of Contemporary Research In Business, 2.12 (2011): 435–441. Business Source Complete. Web. October 20, 2012.
  2. "Neil McElroy's Epiphany". P&G Changing the Face of Consumer Marketing. Harvard Business School. May 2, 2000. Retrieved March 9, 2011.
  3. Kotler, Keller, Koshy, Jha (2011). Marketing Management,13th Edition. p-253, Pearson Prentice Hall. ISBN 978-81-317-1683-0
  4. Kotler, Keller, Koshy, Jha (2011). Marketing Management,13th Edition. p-275, Pearson Prentice Hall. ISBN 978-81-317-1683-0

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]