বেনিন পশ্চিম আফ্রিকার একটি প্রাক্তন ফরাসি উপনিবেশ। পশ্চিম আফ্রিকার অন্যান্য দেশের মত বেনিনের জনগণও বিভিন্ন আফ্রিকান জাতির পর্যায়ক্রমিক অভিবাসন ও বসতি স্থাপনের ফলে এর বর্তমান রূপ ধারণ করেছে। বেনিনে বসবাসকারী প্রধান জাতিগুলি হচ্ছে দক্ষিণে ফন ও ইয়ারুবা, এবং উত্তরের দেন্দি, বারিবা, ফুলবা, ও সোম্বে। এগুলি ও আরও নানা জাতির মুখের ভাষা বেনিনের ভাষিক ব্যবস্থাকে দিয়েছে বিচিত্রতা। মাত্র ৭০ লক্ষ (আনুমানিক) জনঅধ্যুষিত এই ছোট দেশটিতে ৫৪টি ভাষা বিদ্যমান, যার সবকটি-ই এখনও জীবিত। [১] এই ভাষাগুলিকে মোটামুটি নিচের মত করে ভাগ করে নেওয়া যায়:
- নাইজার-কঙ্গো ভাষাসমূহ:
- ক্ওয়া জাতীয় ভাষা, যেমন - ইয়োরুবা, ফোন, চোকোসি, বাসা গোত্রের ভাষা
- গুর জাতীয় ভাষা, যেমন - দিতাম্মারি, বাতোনু (বারিবা) ও ওয়ামা ভাষা
- সেনেগাম্বীয় ভাষা যেমন - ফুলফুলদে, ফুলবে-বোর্গু
- মান্দে ভাষা যেমন - বোকো
- নাইলো-সাহারান ভাষা:
- সোঙ্ঘাই ভাষা যেমন - দেন্দি, জার্মা
- আফ্রো-এশীয় ভাষা:
এরকম বহুভাষিক অবস্থায় আফ্রিকার দেশগুলির একটি সাধারণ রীতি হল প্রাক্তন ঔপনিবেশিক ভাষাটিকে সার্বজনীন সরকারী ভাষা হিসেবে গ্রহণ করা। বেনিনের ক্ষেত্রে এই ভাষাটি হল ফরাসি ভাষা। বেনিনের সমস্ত প্রাতিষ্ঠানিক কর্মকাণ্ডে (শিক্ষা, সরকার, ইত্যাদি) ফরাসি ভাষা ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে স্থানীয় ভাষাগুলিকে কেবল অপ্রাতিষ্ঠানিকভাবে এলাকাভিত্তিক পরিস্থিতিতেই ব্যবহার করা হয় (যেমন - রোগ প্রতিষেধক টিকা অভিযানে)। বেনিনের শিক্ষার সমস্ত স্তরের ভাষা ফরাসি। তবে বেনিন সরকার প্রতিটি স্থানীয় আফ্রিকান ভাষা ও সংশ্লিষ্ট সংস্কৃতি রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং এগুলির ঐতিহ্য ধারণকারী বিভিন্ন বেসরকারী সংস্থা ১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে গড়ে উঠেছে। রাজনীতিবিদেরা এলাকাবাসীদের তাদের নিজস্ব ভাষাতেই এখন সম্বোধন করেন। তা সত্ত্বেও জীবনের সকল গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ফরাসির আধিপত্য বেনিনের শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশে এক ধরনের অন্তরায় ও বেনিনের ভাষা নীতির একটি ব্যর্থতা হিসেবেই দেখা হয়।
- ↑ Gordon, Raymond G., Jr. (ed.) (2005)। "Ethnologue: Languages of the World: Fifteenth edition"। SIL International।
|
বেনিনের বিভিন্ন বিষয়ের নিবন্ধসমূহ
|
|
|
|
|
|
|
|
| সার্বভৌম রাষ্ট্র |
|
|
|
অধীনস্থ,
স্বায়ত্তশাসিত এবং
অন্যান্য প্রশাসনিক অঞ্চল |
|
|