বিলাল ইবনে রাবাহ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
বিলাল ইবনে রাবাহ
আরবি: بلال بن رباح
উপাধিসমূহ: আল-হাবাসি আরবি: التمار‎ এবং সাইয়িদ আল-মুয়া’জিন
জন্মের বছর ৫৮০ খ্রিস্টাব্দ
জন্মস্থান মক্কা, হেজাজ
জাতিতত্ত্ব আফ্রো আরব
জন্য পরিচিত মুহাম্মদ (সা) এর প্রথম মুয়াযযিন এবং ইসলাম এর একজন বিশ্বস্ত সহচর[১][২]
পেশা মদীনার ইসলামী রাষ্ট্রের ট্রেজার সচিব
মৃত্যু মার্চ ২, ৬৪০(৬৪০-০৩-০২) (৫৯ বছর) AD
পিতা রাবাহ
মাতা হাম্মাহ
স্ত্রী পিছনের
ধর্ম ইসলাম

বিলাল ইবনে রাবাহ (রাঃ) ছিলেন নবী মুহাম্মদ(সঃ) এর একজন ঘনিষ্ঠ ও প্রসিদ্ধ কৃষ্ণাঙ্গ সাহাবী। তিনি মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন এবং আবিসিনিয় বা হাবাশী (বর্তমান ইথিওপিয়া) বংশোদ্ভুত ছিলেন।[১][৩][৪] তিনি ছিলেন মক্কার কুরাইশ নেতা উমাইয়া ইবনে খালফ-এর ক্রীতদাস। ইসলাম গ্রহণের কারণে তিনি তার মনিব দ্বারা নিষ্ঠুরভাবে নির্যাতিত হন। পরবর্তীতে আবু বকর(রাঃ) তাকে ক্রয় করেন দ্বাসত্ব ও অত্যাচার থেকে মুক্ত করেন| হিজরতের পর মদীনায় থাকাকালীন অবস্থায় তিনিই সর্বপ্রথম আযান দেয়ার সৌভাগ্য লাভ করেন। নবী মুহাম্মদ(সাঃ) এর সঙ্গী হিসেবে প্রথম জান্নাতে প্রবেশকারী হওয়ার অগ্রিম সুসংবাদও তিঁনি নিজ জীবদ্দশাতেই নবী মুহাম্মদ(সাঃ) এর কাছ থেকে পেয়েছিলেন।


জন্ম ও প্রাথমিক জীবন[সম্পাদনা]

বিলাল ইবনে রাবাহ ৫৮০ খ্রিস্টাব্দে হেজাজের মক্কা নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন।[৫] তার পিতা রাবাহ ছিলেন একজন আরব দাস এবং তার মাতা হামামাহ ছিলেন একজন প্রাক্তন আবিসিনিয় রাজকুমারী, যাকে আমুল-ফিল এর ঘটনার সময় আটক করে দাসী করে রাখা হয়। দাস হিসেবে জন্মানোয়, বিলাল (রা:) কেও তার মনিব উমাইয়া ইবন খালাফ এর জন্য কাজ করতে হয়। কঠোর পরিশ্রমী ছিলেন বলে বিলাল (রা:) একজন ভাল দাস হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন এবং তার কাছেই আরবের পুতুলগুলোর ঘরের চাবি থাকতো। কিন্তু বর্ণবাদ এবং আরবের সামাজিক-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কারণে সেসময় তিনি সমাজের উচুস্তরে যেতে পারেননি।[৫]

ইসলাম গ্রহণ[সম্পাদনা]

নির্যাতন ভোগ[সম্পাদনা]

বিলালের মনিব উমাইয়া ইবনে খালাফ তাঁর ইসলাম গ্রহণের কথা জানতে পেরে তাকে ইসলাম ত্যাগ করার জন্য জোর করতে থাকেন এবং তাতে ব্যর্থ হয়ে তাঁর উপর অমানবিক নির্যাতন করা শুরু করেন। উমাইয়ার নির্দেশে বিলালকে মরুভূমির উত্তপ্ত বালিতে শুইয়ে রাখা হতো এবং তাঁর বুকের উপর একটি বড় আকারের ভারি পাথর রেখে দেয়া হতো, যে কারণে সে সময় তাঁর নিঃশ্বাস প্রায় বন্ধ হয়ে যেতো। এরপরেও সে ইসলাম ত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানালে উক্ত পাথরের উপর একজন মানুষকে উঠিয়ে তাকে লাফাতে বলা হতো। এত কিছুর পরেও বিলাল অবিরাম "আহাদ, আহাদ" (এক ঈশ্বর, এক ঈশ্বর) বলে চিৎকার করতে থাকতো।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. ১.০ ১.১ "Slavery in Islam." BBC News. BBC, 2009. Web. 2013.
  2. Riz̤vī, Sayyid Sa'eed Ak̲h̲tar. Slavery: From Islamic & Christian Perspectives. Richmond, British Columbia: Vancouver Islamic Educational Foundation, 1988. Print. ISBN 0-920675-07-7 Pg. 35-36
  3. Robinson, David. Muslim Societies in African History. Cambridge, UK: Cambridge University Press, 2004. Print.
  4. Levtzion, Nehemia, and Randall Lee Pouwels. The History of Islam in Africa. South Africa: Ohio UP, 2000. Print.
  5. ৫.০ ৫.১ Janneh, Sabarr. Learning from the Life of Prophet Muhammad: Peace and Blessing of God Be upon Him. Milton Keynes: AuthorHouse, 2010. Print. ISBN 1467899666 Pgs. 235-238

বই[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]