বিড়লা তারামণ্ডল
এম. পি. বিড়লা তারামণ্ডল কলকাতার একটি মহাকাশচর্চাকেন্দ্র ও প্ল্যানেটোরিয়াম। পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়ের ব্যক্তিগত আগ্রহ ও প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় দক্ষিণ কলকাতার ময়দান-সেন্ট পলস ক্যাথিড্রাল সংলগ্ন একটি ছোটো মাঠে বিড়লা তারামণ্ডলের নির্মাণকার্য শুরু হয়। ডাঃ রায়ের মৃত্যুর কয়েক মাস পরে ১৯৬২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর এটির উদ্বোধন হয়েছিল। কলকাতার বিড়লা তারামণ্ডল ভারতের প্রথম প্ল্যানেটোরিয়াম।
বিড়লা তারামণ্ডল স্থাপনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল কলকাতা তথা পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষের মধ্যে বিজ্ঞান চেতনা ও মহাকাশ বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহের প্রসার। এই কারণে রাজ্য সরকার প্ল্যানেটোরিয়ামের জমিটি মাত্র এক টাকায় বিড়লা তারামণ্ডল কর্তৃপক্ষকে লিজ দেন। মূল প্ল্যানেটোরিয়ামটির আয়তন ২৩ মিটার। আসনসংখ্যা ৫৮০টি। প্রতিদিন দুপুর থেকে রাত্রি পর্যন্ত কয়েকটি প্রদর্শনীর মাধ্যমে প্ল্যানেটোরিয়ামের ভিতর সৃষ্ট কৃত্রিম মহাকাশ সম্পর্কে দর্শনার্থীদের অবহিত করা হয়। প্রদর্শনীগুলি পর্যায়ক্রমে বাংলা হিন্দি ও ইংরেজি ভাষায় আয়োজিত হয়ে থাকে। এছাড়াও তারামণ্ডল ভবনের মধ্যে অন্যান্য স্থায়ী প্রদর্শনীরও ব্যবস্থা রয়েছে। স্থাপত্যসৌকর্যের কারণে এই তারামণ্ডল ভবনটিও কলকাতার অন্যতম দ্রষ্টব্য স্থান।
বিড়লা তারামণ্ডলে মহাকাশ বিজ্ঞান সংক্রান্ত বিনামূল্যে একটি কোর্স পড়ানো হয়ে থাকে। এই কোর্সে সাধারণ মানুষকে মহাকাশ বিজ্ঞান সংক্রান্ত প্রাথমিক জ্ঞান দান করা হয় এবং পাঠক্রমের শেষে একটি ডিপ্লোমাও দেওয়া হয়। তারামণ্ডল কর্তৃপক্ষ জার্নাল অফ বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়াম নামে একটি ইংরেজি গবেষণা পত্রিকাও প্রকাশ করে থাকেন। এখানকার একটি ছোটো সেমিনার হলে নিয়মিত মহাকাশ বিজ্ঞান সংক্রান্ত বক্তৃতার আয়োজন করা হয়ে থাকে।
[সম্পাদনা] তথ্যসূত্র
- বিড়লা তারামণ্ডল, বাংলার ঐতিহ্য কলকাতার অহংকার, পল্লব মিত্র, পারুল প্রকাশনী, কলকাতা, ২০১০, পৃ. ৪২-৪৪
- কলকাতা: এক পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস, অতুল সুর, জেনারেল প্রিন্টার্স অ্যান্ড পাবলিশার্স প্রাঃ লিঃ, ১৯৮১, পৃ. ২৯২