বাবরি মসজিদ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

বাবরি মসজিদ (ইংরেজি: Babri Mosque, হিন্দি: बाबरी मस्जिद, উর্দু: بابری مسجد, অনুবাদ: বাবর-এর মসজিদ) ভারতের উত্তর প্রদেশের, ফৈজাবাদ জেলার অযোধ্যা শহরের রামকোট হিলের উপর অবস্থিত একটি প্রাচীন মসজিদ। ১৯৯২ সালে একটি রাজনৈতিক সমাবেশের উদ্যোক্তারা, ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের আদেশ অনুযায়ী মসজিদ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না এই প্রতিশ্রুতি দিয়ে[১][১][২] মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় একটি রাজনৈতিক সমাবেশ শুরু করে যা ১৫০,০০০ জন সম্মিলিত[৩] একটি দাঙ্গার রূপ নেয় এবং মসজিদটি সম্পূর্ণরূপে ভূমিসাৎ করা হয়। ফলস্বরূপ ওই একই সালে ভারতের প্রধান শহরগুলোতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সংঘটিত হয় যা মুম্বাইদিল্লী শহরে ২০০০ মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয়।[৪]

বাবরি মসজিদ

মসজিদটি ১৫২৭ খ্রীষ্টাব্দে ভারতের প্রথম মুঘল সম্রাট বাবরের আদেশে নির্মিত হয় এবং তাঁর নাম অনুসারে নামাঙ্কিত হয়।[৫][৬]

মসজিদের নির্মাণকৌশল[সম্পাদনা]

দিল্লির সুলতানি এবং তার উত্তরাধিকারী মুঘল সাম্রাজ্যের শাসকরা শিল্প এবং স্থাপত্যের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন এবং তাঁদের নির্মিত অনেক সমাধি, মসজিদ ও মাদ্রাসা সূক্ষ্ম নির্মাণকৌশলের নিদর্শন বহন করে। মুঘলদের স্থাপত্য তুঘলক রাজবংশের স্থাপত্যের প্রভাব বহন করে যার একটি স্বতন্ত্র গঠনশৈলী আছে। ভারতের সর্বত্র, মসজিদসমূহের ভিন্ন ভিন্ন গঠনশৈলী আছে যা বিভিন্ন সময়ে নির্মিত হয়েছিল। এই নির্মাণগুলির মধ্যে আদিবাসী শিল্প ঐতিহ্য এবং স্থানীয় কারিগরদের মার্জিত শৈলী ও দক্ষতা উভয়ই প্রকাশ পায়। মসজিদের নির্মাণে আঞ্চলিক বা প্রাদেশিক জলবায়ু, ভূখণ্ড, উপকরণ ইত্যাদি প্রভাব ফেলত যার ফলে বঙ্গ, কাশ্মীরগুজরাটের মসজিদের মধ্যে বিরাট পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। মসজিদগুলি শুধুমাত্র স্থানীয় মন্দির বা গার্হস্থ্য গঠনশৈলীর মধ্যে আবদ্ধ ছিল না। বাবরি মসজিদ জানপুরের সুলতানি স্থাপত্যের পরিচয় বহন করে।

বাবরি মসজিদ তার সংরক্ষিত স্থাপত্য ও স্বতন্ত্র গঠনশৈলীর জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। মসজিদটি সম্রাট আকবর দ্বারা গৃহীত ইন্দো-ইসলামী গঠনশৈলীর প্রতীক ছিল।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

বাবরি মসজিদের আভ্যন্তরীণ শব্দ-নিয়ন্ত্রণ এবং শীতলীকরণের ব্যবস্থা[সম্পাদনা]

লর্ড উইলিয়াম বেন্টিকের (১৮২৮-১৮৩৩) স্থাপত্যশিল্পী গ্রাহাম পিকফোর্ডের মতে,

"A whisper from the Babri Masjid Mihrab could be heard clearly at the other end, 200 feet [60 m] away and through the length and breadth of the central court"

বাবরি মসজিদের স্বনবিদ্যা প্রসঙ্গে তাঁর বই Historic Structures of Oudhe -এ পাওয়া যায়,

"for a 16th century building the deployment and projection of voice from the pulpit is considerably advanced, the unique deployment of sound in this structure will astonish the visitor"

আধুনিক স্থপতিদের মতে বাবরি মসজিদের চিত্তাকর্ষক স্বনবিদ্যার কারণ হল মসজিদটির মিহরাব (মসজিদের একদিকে একটি অর্ধবৃত্তাকার দেয়াল যেটি ক্বিবলা নির্দেশ করে) ও পার্শ্ববর্তী দেয়ালগুলিতে বিভিন্ন খাঁজ যা অনুনাদক হিসাবে কাজ করত। এই নকশা মেহরাবে অবস্থিত ইমামের কথা (উপাসনা) সবাইকে শুনতে সাহায্য করত। এছাড়াও বাবরি মসজিদ নির্মাণের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত বেলেপাথর অনুনাদের কাজ করে যা মসজিদটির শব্দ-নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ায় সাহায্য করত।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. ১.০ ১.১ Tearing down the Babri Masjid – Eye Witness BBC's Mark Tully BBC – Thursday, 5 December 2002, 19:05 GMT
  2. Babri Masjid demolition was planned 10 months in advance – PTI
  3. Babri mosque demolition case hearing today. Yahoo News – 18 September 2007
  4. The Ayodhya dispute. BBC News. 15 November 2004.
  5. Flint, Colin (2005)। The geography of war and peace। Oxford University Press। আইএসবিএন 978-0-19-516208-0 
  6. Vitelli, Karen (2006)। Archaeological ethics (2 সংস্করণ)। Rowman Altamira। আইএসবিএন 978-0-7591-0963-6 

পাদটীকা[সম্পাদনা]

জীবনী[সম্পাদনা]

  • Ratnagar, Shereen (2004)। "Archaeology at the Heart of a Political Confrontation: The Case of Ayodhya"। Current Anthropology। 45(2)। পৃ: 239–259। 

আরো পড়ুন[সম্পাদনা]

  • Ram Sharan Sharma. Communal History and Rama's Ayodhya, People's Publishing House (PPH), 2nd Revised Edition, September 1999, Delhi. Translated into Bengali, Hindi, Kannada, Tamil, Telugu and Urdu. Two versions in Bengali.
  • Bacchetta, Paola. "Sacred Space in Conflict in India: The Babri Masjid Affair." Growth & Change. Spring2000, Vol. 31, Issue 2.
  • Baburnama: Memoirs of Babur, Prince and Emperor. 1996. Edited, translated and annotated by Wheeler M. Thacktson. New York and London: Oxford University Press.
  • Ayodhya and the Future of India. 1993. Edited by Jitendra Bajaj. Madras: Centre for Policy Studies. ISBN 81-86041-02-8 hb ISBN 81-86041-03-6 pb
  • Elst, Koenraad. 1991. Ayodhya and After: Issues Before Hindu Society. 1991. New Delhi: Voice of India. [১]
  • Emmanuel, Dominic. 'The Mumbai bomb blasts and the Ayodhya tangle', National Catholic Reporter (Kansas City, 27 August 2003).
  • Sita Ram Goel: Hindu Temples - What Happened to Them, Voice of India, Delhi 1991. [২] [৩]
  • Harsh Narain. 1993. The Ayodhya Temple Mosque Dispute: Focus on Muslim Sources. Delhi: Penman Publishers.
  • Hassner, Ron E., War on Sacred Grounds. 2009. Ithaca: Cornell University Press. [৪]
  • Romey, Kristin M., "Flashpoint Ayodhya." Archaeology Jul/Aug2004, Vol. 57, Issue 4.
  • Romila Thapar. 'A Historical Perspective on the Story of Rama' in Thapar (2000).
  • Ayodhya ka Itihas evam Puratattva – Rigveda kal se ab tak ('History and Archaeology of Ayodhya – From the Time of the Rigveda to the Present') by Thakur Prasad Varma and Swarajya Prakash Gupta. Bharatiya Itihasa evam Samskrit Parishad and DK Printworld. New Delhi.
  • Ayodhya 6 December 1992 (ISBN 0-670-05858-0) by P. V. Narasimha Rao

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

গবেষণা পত্র