বানিয়াচং উপজেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

বানিয়াচং বাংলাদেশের হবিগঞ্জ জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা

অবস্থান[সম্পাদনা]

উপজেলার আয়তন ৪৮২.৪৬ বর্গ কিলোমিটার। ৫০.৮৪% গড়ে এই উপজেলায় পুরুষের সংখ্যা ৩,০৪,২৪১ জন এবং ৪৯.১৬% গড়ে নারীর সংখ্যা হল ১,৪৮,০৮২ জন (২০০৯ খ্রি:)। বানিয়াচংয়ে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ৬৩০ জন লোক বাস করে। বানিয়াচং উপজেলায় মোট ১৫টি ইউনিয়ন রয়েছে। এর উত্তরে রয়েছে শাল্লা এবং ধিরাই, দক্ষিণে হবিগঞ্জ সদর ও লাখাই উপজেলা, পূর্বে নবীগঞ্জ উপজেলা ও হবিগঞ্জ সদর এবং পশ্চিমে রয়েছে আজমীরিগঞ্জ, মিঠামইন এবং অষ্টগ্রাম উপজেলা। থানা প্রতিষ্ঠার তারিখ ১৫ জানুয়ারী ১৯৭০ খ্রিঃ। উপজেলা ঘোষনার তারিখ ১৫ ডিসেম্বর ১৯৮২ খ্রিঃ।

প্রশাসনিক এলাকা[সম্পাদনা]

প্রশাসনিক বিবর্তন[সম্পাদনা]

বৃটিশ আমলে নিম্নস্তরের প্রশাসনিক ইউনিট ছিল জেলা। বানিয়াচঙ্গ গ্রাম বৃটিশ আমলে সিলেট জেলার অন্তর্গত ছিল। বৃটিশ শাসকগণ প্রশাসনিক সুবিধার জন্য জেলাসমূহকে সাব-ডিভিশনে ও সাব-ডিভিশনসমূহকে থানায় বিভক্ত করে। এরই ধাবাবাহিকতায় সিলেট জেলাকে মহকুমায় এবং মহকুমাসমূহকে থানায় বিভক্ত করা হয়। ১৮৬৭ খ্রিস্টাব্দে সিলেট জেলাতে সিলেট সদর, করিমগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ মহকুমা সৃষ্টির জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয। তবে সরকারী অর্থাভাবে যথাসময়ে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। ফলে ১৮৭৭ খ্রিস্টাব্দে সুনামগঞ্জ মহকুমা গঠন করার পর ১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দে হবিগঞ্জ মহকুমা (১লা মার্চ ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দে হবিগঞ্জ মহকুমাকে জেলায় উন্নীত করা হয) গঠন করা হয়। অতঃপর শাসন কার্য়ের সুবিধার জন্য বানিয়াচঙ্গ গ্রাম ও পার্শ্ববর্তী এলাকা সমূহ নিয়া ১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দের ২৩শে আগস্ট ২৮৬৭ জি. জে. _____ বিজ্ঞপ্তি (Notification No. 2867 G.J. dt. 23 August 1934) মোতাবেক ( East Pakistan District Gazettier, Sylhet, 1970) বানিয়াচঙ্গ থানা গঠিন করা হয়। ১৯৮২ খ্রিস্টাব্দের ১৫ ______ তারিখে বানিয়াচঙ্গ থানাকে দেশের অন্যান্য থানার মতো প্রথমে মান-উন্নীত থানা এবং পরে উপজেলায় পরিণত করা হয। তদানীন্তন উপ-প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক ও নৌবাহিনীর তদানিন্তন প্রধান রিয়ার এডমিরাল এম. এ. খান ______ হেলিকপ্টার যোগে বানিয়াচঙ্গ এসে এক _____________ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বানিয়াচঙ্গ থানার মান-উন্নয়নের সরকারী ঘোষণা প্রকাশ করেন এবং সরকারী আদেশটি বানিয়াচঙ্গের প্রথম টি.এন.ও. বাবু বিকাশ চৌধুরীর নিকট হস্তান্তর করেন।

বৃটিশ আমলে বানিয়াচঙ্গে থানা গঠিত হলে থানার সদর দপ্তর বানিয়াচঙ্গ গ্রামের পূর্বদিকে অবস্থিত নন্দীপাড়ার পূর্ব প্রান্তে স্থাপন করা হয। তখন এবং পাকিস্তান আমলে (জেনারেল আয়ূবখানের শাসন পূর্ববর্তী সময়ে) থানার প্রাঙ্গন সকল সরকারী অনুষ্ঠানের কেন্দ্র স্থল ছিল। সেখানে বিভিন্ন দিবস উদযাপন করা হতো। ১৪ই আগস্ট পাকিস্তানের ______ দিবসের কর্মসূচী এবং ঐ দিবস উপলক্ষে রাতের জমজমাট সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থানা প্রাঙ্গনেই অনুষ্ঠিত হতো। ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে বানিয়াচঙ্গ থানাকে ’ভিলেজ এইড’ প্রোগ্রামের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ভিলেজ এইড প্রোগ্রামের সদর দপ্তর বড়বাজার সংলগ্ন ৩ নং কাচারী বাড়ীতে স্থাপন করা হয। এ প্রোগ্রামের আয়ূ বছর তিনেকেরও কম ছিল। তবে প্রোগ্রাম চলা কালীন ৩ নং কাচারী বাড়ী তথা প্রোগ্রামের সদর দপ্তর বিভিন্ন অনুষ্ঠানের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। ভিলেজ এইড প্রোগ্রাম পরিত্যক্ত হলে থানায় সার্কেল অফিসারের পদ সৃষ্টি করা হয়। বানিয়াচঙ্গে সার্কেল অফিসারের দপ্তর প্রাথমিক ভাবে ডাক বাংলায় স্থাপন করা হয়। পরে কুমিল্লা সমবায় মডেলের বাস্তবায়নের কর্মসূচী হিসাবে থানা সদর গুলোতে থানা ট্রেণিং এন্ড ডেভেলপমেন্ট কমপ্লেক্স বা টি.টি.ডি.সি. স্থাপন করার সময় সার্কেল অফিসারে দপ্তর দত্তপাড়ায় স্থানান্তর করা হয। তখন থেকে থানার পরিবর্তে টি.টি.ডি.সি.সকল সরকারী কর্মকান্ডের কেন্দ্রবিন্দু হিসাবে চিহ্নিত হয়ে আসছে। পরে এই টি.টি.ডি.সি.ই উপজেলা সদরে পরিণত হয়।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

বানিয়াচং এর নামকরণ সম্পর্কে বহু মতভেদ রয়েছে। তবে অনেকের মতে বানিয়াচং এর পুটিয়াবিল নামে একটি প্রকান্ড বিল ছিল। এই বিলে নানা জাতীয় পক্ষী বসবাস করত। বানিয়া নামে এক শিকারী এই বিলে একটি চাঙ নির্মাণ করে পক্ষী শিকার করত। কালক্রমে এই বিলটি প্রাকৃতিক কারণে ভরাট হয়ে গেলে বহু উচ্চ বৃক্ষলতাদিপূর্ণ ভূমিতে পরিবর্তীত হয়। এ ‘বানিয়া’ ও ‘চাঙ’ শব্দ থেকে বানিয়াচং নামের উৎপত্তি বলে অনেকে মনে করেন।

জনসংখ্যার উপাত্ত[সম্পাদনা]

শিক্ষা[সম্পাদনা]

বানিয়াচং জেলায় শিক্ষার হার তেমন উন্নত নয় । এটি বিশ্বের সবথেকে বড় গ্রাম হলেও প্রতেন্ত অঞ্চল হওয়ায় এখানকার ছেলেমেয়েরা শিক্ষায় এগিয়ে নেই

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

কৃতী ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

  1. গোপাল কৃষ্ণ মহারত্ন এম. পি.
  2. বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী মমিন
  3. ফজলে হাসান আবেদ - তিনি ব্রাক লিমিটেড এর প্রতিষ্ঠাতা
  4. তাপস কৃষ্ণ মহারত্ন (সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব)


বিবিধ[সম্পাদনা]

দর্শনীয় স্থান[সম্পাদনা]

মহারত্ন জমিদার বাড়ী, কমলারানীর সাগর দীঘি, রাজবাড়ি, বিথঙ্গল আখড়া, দাড়া-গুটি।

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]