বাঘের আক্রমণ
মানুষ বাঘের স্বাভাবিক খাদ্য নয়। শিকারী জিম করবেট এর মতে বাঘ মানুষের রক্তের স্বাদ পেলে ও মানুষ বা অন্যজীব দ্বারা আহত হলে আদমখোর হয়ে ওঠে। বেশির ভাগ বাঘের আক্রমণের শিকার গ্রস্থ মানুষের কাছ থেকে জানা গিয়েছে যে বাঘের আক্রমণের সময় তারা বাঘের সীমানা মধ্যে ছিল।[১]। বিশ্বে একাধিক জায়গায় বাঘের আক্রমণের খবর পাওয়া গেছে। মুলত বাংলা বাঘ বেশি নরখাদক হয়।
পরিচ্ছেদসমূহ |
উল্লেখযোগ্য নরখাদক বাঘ [সম্পাদনা]
সুন্দরবন [সম্পাদনা]
২০০৪ সালের হিসেব মতে, সুন্দরবন প্রায় ৫০০ রয়েল বেঙ্গল টাইগার বাঘের আবাসস্থল যা বাঘের একক বৃহত্তম অংশ[২]। এসব বাঘ উল্ল্যেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ, গড়ে প্রতি বছরে প্রায় ১০০ থেকে ২৫০ জন, মেরে ফেলার কারণে ব্যপকভাবে পরিচিত। মানুষের বাসস্থানের সীমানার কাছাকাছি থাকা একমাত্র বাঘ নয় এরা। বাঘের অভায়ারণ্যে চারপাশ ঘেরা বান্ধবগড়ে , মানুষের উপর এমন আক্রমণ বিরল। নিরাপত্তার জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া স্বত্ত্বেও ভারতীয় অংশেও মাঝেমঝে মানুষের সাথে বাঘের সংঘর্ষ বাধে।
স্থানীয় লোকজন ও সরকারীভাবে দ্বায়িত্বপ্রাপ্তরা বাঘের আক্রমণ ঠেকানোর জন্য বিভিন্ন নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিয়ে থাকেন। স্থানীয় জেলেরা বনদেবী বনবিবির প্রার্থণা ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করে যাত্রা শুরুর আগে। সুন্দরবনে নিরাপদ বিচরণের জন্য বাঘের দেবতার (Dakshin Ray) প্রার্থণা করাও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কাছে জরুরি। বাঘ যেহেতু সবসময় পেছন থেকে আক্রমণ করে সেহেতু জেলে এবং কাঠুরেরা মাথার পেছনে মুখোশ পরে। এ ব্যবস্থা স্বল্প সময়ের জন্য কাজ করলেও পরে বাঘ এ কৌশল বুঝে ফেলে এবং আবারও আক্রমণ হতে থাকে। সরকারি কর্মকর্তারা আমেরিকান ফুটবল খেলোয়াড়দের প্যাডের মত শক্ত প্যাড পরেন যা গলার পেছনের অংশ ঢেকে রাখে। এ ব্যবস্থা করা হয় শিরদাঁড়ায় বাঘের কামড় প্রতিরোধ করার জন্য যা তাদের পছন্দের আক্রমণ কৌশল।
এসব বাঘ কেন মানুষকে আক্রমণ করে তার কিছু অনুমিত কারণ এরকমঃ
- যেহেতু সুন্দরবন সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকায় অবস্থিত সেহেতু তুলনামূলকভাবে এখানকার পানি নোনতা। এখানকার অন্যান্য প্রাণীদের মধ্যে বাঘই মিঠাপানি খায়। কেউ কেউ মনে করে পেয়পানির এই লবণাক্ততার কারণে বাঘ সার্বক্ষণ অস্বস্তিকর অবস্থায় থাকে যা তাদের ব্যপকভাবে আগ্রাসী করে তোলে। কৃত্রিম মিঠাপানির হ্রদ তৈরি করে দিয়েও এর কোনো সমাধান হয়নি।
- উঁচু ঢেউয়ের কারণে বাঘের গায়ের গন্ধ মুছে যায় যা প্রকৃতপক্ষে বাঘের বিচরণ এলাকার সীমানা চিহ্ণ হিসেবে কাজ করে। ফলে নিজের এলাকা রক্ষায় বাঘের জন্য উপায় একটাই, আর তা হলো যা কিছু অনুপ্রবেশ করে তা বাঁধা দেয়া।
- অন্য একটি সম্ভাবনা এমন যে আবহাওয়ার কারণে এরা মানুষের মাংসে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ ও ভারতের এ অঞ্চলে জলোচ্ছ্বাসে হাজার হাজার মানুষ মারা যায়। আর স্রোতের টানে ভেসে যাওয়া এসব গলিত মৃতদেহ বাঘ খায়।
- আর একটি সম্ভাবনা হলো এরকম যে, নিয়মিত উঁচু-নিচু স্রোতের কারণে marsh-like এবং পিচ্ছিল হয়ে ওঠা এলাকায় বাঘের পশু শিকার করার কঠিন হয়ে যায়। আবার নৌকায় চড়ে সুন্দরবন জুড়ে মাছ ও মধু সংগ্রহকারী মানুষ বাঘের সহজ শিকার হয়ে ওঠে। এরকমও বিশ্বাস করা হয় যে মানুষ যখন কাজ বন্ধ করে বসে থাকে তখন বাঘ তাকে পশু ভেবে আক্রমণ করে।
- এছাড়াও মনে করা হয় যে আবাসস্থলের বিচ্ছিন্নতার কারণে এই অঞ্চলের বাঘ তাদের শিকার করার বৈশিষ্ট্য বদলে ফেলেছে যা ২০ শতক জুড়ে ঘটেছে। এশিয়ার বাকি অংশে বাঘের মানুষভীতি বাড়লেও সুন্দরবনের বাঘ মানুষকে শিকার বানানো বন্ধ করবে না হয়তো।
অন্যান্য [সম্পাদনা]
- চৌগড়ের বাঘ:
একজোড়া বাংলা বাঘ , পুর্ব কুমায়াউনের চৌগড় এলাকায় ৫ বছর ধরে ১৫০০ বর্গমাইল জুড়ে ৬৪ মানুষের প্রাণ নেয়। এরা ছিল একটি বাঘিনী ও তার কিশোর শাবক। জিম করবেট এদের শিকার করেন।
- মুন্ডাচিপাল্লামের বাঘ:
এই বাঘ পেন্নাগ্রাম এলাকার সাতজনের প্রাণ নেয়। এই বাঘের কোন শারীরিক সমস্যা ছিল না। এই বাঘকে কেনেথ আ্যন্ডারসন শিকার করেন।
- সেগুরের বাঘ:
এটি এক যুবা বাঘ ছিল। নীল্গিরি অঞ্চলের মালাবার-উইনাড এলাকায় এই বাঘ শিকার করত। এই বাঘের এক চোখ ছিল না। এই বাঘ মারার মোট ৫বার চেষ্টা করা হয়। কেনেথ আ্যন্ডারসন এর শিকার করেন।[৩]
- চম্পাওয়াতের বাঘিনী:
এই কুখ্যাত বাঘিনী নেপাল থেকে তাড়া খোয়ার আগে ২০০ মানুষকে শিকার করে। পরে ভারতে এসে মোট ৪৩৬ জনের প্রাণ নেয়। ১৯১১ সালে জিম করবেট এই বাঘিণীকে শিকার করেন।[৪]এই বাঘিণী প্রকাশ্য দিবালোকেও গ্রামে হামলা করত।[৫]
এই বাঘিনীর শেষ শিকার এক ষোড়শী, যার রক্তচিহ্ন দেখে জিম করবেট এই বাঘিনীকে শিকার করতে স্কষ্ম হন[৫] এই বাঘিনীর ডান দিকের শ্বদন্ত ভাঙা ছিল। এই অক্ষ্মতা তাকে নরখাদক বানিয়ে তোলে বলে করবেট দাবী করেন।[৬]
- জৌলাগিরির বাঘিনী:
জৌলাগিরির বাঘিনী ১৫ জন মানুষকে শিকার করে। এই বঘিনী গুণ্ডালাম এলাকায় জৌলাগিরি গ্রামে আতঙ্ক তৈরি করেছিল। এই বাঘকে কেনেথ আ্যন্ডারসন শিকার করেন।
তথ্য [সম্পাদনা]
- ↑ John Seidensticker and Susan Lumpkin (1991). Great Cats. পৃ: pp.240. ISBN 0878579656.
- ↑ www.bforest.gov.bd/highlights.php
- ↑ “The Man-Eater of Segur”, from Nine Man-Eaters and One Rogue, Kenneth Anderson, Allen & Unwin, 1955
- ↑ Predators: Beasts
- ↑ ৫.০ ৫.১ Interspecies Conflict: Lion vs Tiger
- ↑ ^ a b c d e f g h i Man-eaters. The tiger and lion, attacks on humans