বাগমারা উপজেলা
বাগমারা বাংলাদেশের রাজশাহী জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা।
==ইতিহাস==মোঃ বদিউল আলম লিংকন (বাগমারা-রাজশাহীঃ
উত্তর বঙ্গ রাজশাহীর এক গৌরব গাঁথা স্থান হচ্ছে বাগমারা উপজেলা। কথিত আছে এখানে এক সময় বন-জঙ্গলে পরিপূর্ণ ছিল। শোনা যায় বৃটিশ আমলে বিসত্মীর্ণ বন-জঙ্গল কেটে জনবসতি গড়ে উঠায় উপজেলার নামকরণ হয় ‘‘বাগমারা’’। এছাড়াও কথিত আছে বর্তমান বাগমারা থানা ভবনের জমির উপর বিরাট একটি বাগান ছিল। বাগানটি কেটে থানা ভবন নির্মাণের কারণেও অঞ্চলটি ‘‘বাগমারা’’ নামে পরিচিতি পায়। বাগমারার প্রাচীন জায়গা হিসেবে তাহেরপুর দেশ ও বিদেশে পরিচিতি লাভ করে। জানা যায় বাংলার বার ভূঁইয়ার অন্যতম তাহের ভূঁইয়া সদলবলে তাহেরপুরে আসেন এবং তাঁর নামানুসারে ‘‘তাহেরপুর’’ নামকরণ হয়। তাহের ভূঁইয়া ইংরেজ শাসকদের খাজনা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ইংরেজ সেনাবাহনী তাহের ভূঁইয়াকে যুদ্ধের মাধ্যমে পরাজিত করে রাজা কংস নারায়ণকে খাজনার বিনিময়ে তাহেরপুরের রাজত্ব প্রদান করে। অনুমান প্রায় ৫৭০ বছর আগে রাজা কংস নারায়ণ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম শারদীয় দূর্গোৎসব পালন করেন। তখন থেকেই প্রতি বছর হিন্দু ধর্মে বিশ্বাসীরা তাদের ধর্মের প্রধান উৎসব হিসেবে শারদীয় দূর্গাপূজা পালন করে আসছে। বাগমারা উপজেলা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬৩ সালে। ঐতিহাসিক স্থানের মধ্যে তাহেরপুর এবং বীরকুৎসা উল্লেখযোগ্য।
পরিচ্ছেদসমূহ |
অবস্থান [সম্পাদনা]
বাগমারা উপজেলার উত্তরে নওগাঁ জেলার মান্দা ও আত্রাই উপজেলা, দক্ষিণে দূর্গাপুর ও পুঠিয়া উপজেলা, পূর্বে নাটোর সদর ও আত্রাই উপজেলা এবং পশ্চিমে মোহনপুর ও মান্দা উপজেলা। উপজেলার আয়তন ৩৬৬.৩০ বর্গ কিলোমিটার। এ উপজেলাটি ২৪ডিগ্রী ৩০ফিট ও ২৪ডিগ্রী ৪১ফিট উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮ডিগ্রী ৪১ফিট ও ৮৮ডিগ্রী ৫৭ফিট পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে অবস্থিত। বাগমারা উপজেলাটি রাজশাহী শহর হতে প্রায় ৫৫ কিলোমিটার উত্তর পূর্বে অবস্থিত। ১৬টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভা নিয়ে এ উপজেলা গঠিত। পৌরসভা দুটি হচ্ছে তাহেরপুর ও ভবানীগঞ্জ।
অবকাঠামোঃ
বাগমারা উপজেলা সদর ভবানীগঞ্জে অবস্থিত।
উপজেলা ভূমি অফিস ০১টি
ইউনিয়ন ভূমি অফিস ০৭টি
ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কমপ্লেক্স ১০টি
ইউনিয়ন স্বাস্থ্য উপকেন্দ্র ০৬টি
পুলিশ ক্যামপ ০৩টি, তদন্ত- কেন্দ্র ০২টি
বঙ্গবন্ধু স্মৃতি যাদুঘর কমপ্লেক্স ১ টি
বঙ্গবন্ধু স্মৃতি যাদুঘর কমপ্লেক্সঃ ১৯৪৯ সালে যখন দলটি (বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ) ইস্ট পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় তখন থেকে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ হিসেবে রূপান্তর পর্যন্ত দলটিকে ভাঙ্গিয়ে অনেকে পাহাড় সমান সুনাম, টাকা, সম্পদ বা নেতা হয়েছেন। কিন্তু দলটির প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের বাহিরে কেউ (বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ) এর জন্য স্থায়ী কোন সম্পদ গড়ে তোলার উদ্দোগ বা আগ্রহ প্রকাশ করেননি। ৫৫ রাজশাহী-(বাগমারা-৪) এমপি ইঞ্জি: মোঃ এনামুল হক সেখানে গড়ে তোলেছেন “বঙ্গবন্ধু স্মৃতি যাদুঘর কমপ্লেক্স’’ নামে একটি ভবন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর সর্বকালের সর্ববৃহৎ পাটি অফিস নামে পরিচিত লাভ করেছে ভবনটি। স্থানীয় সাংসদ ইঞ্জিনিয়ার মোঃ এনামুল হক নির্বাচনের পর ভবানীগঞ্জ পৌরসভার তাহেরপুর-ভবানীগঞ্জ রাস্তার পার্শে চাঁনপাড়া নামক গ্রামে ১৩ শতাংশ জমি ক্রয় করে গড়ে তোলেন বঙ্গবন্ধু স্মৃতি যাদুঘর কমপ্লেক্স। বর্তমানে ভবন এবং জমি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর সভানেত্রী/সভাপতি নামে রেজিষ্টি করা হয়েছে। সাংসদ সম্পূর্ণ নিজ উদ্যোগে নিজস্ব অর্থায়নে ভবনটির নির্মান কাজ শেষ করেন। এটি বঙ্গবন্ধু মোমোরিয়াল ট্রাষ্ট থেকে অনুমতি প্রাপ্ত। ছয় তলা ভবনের পঞ্চম তলায় রয়েছে স্থানীয় সাংসদ-এর কার্যালয়। একই সাথে রয়েছে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ও অঙ্গ সংগঠনের দপ্তর। ভবনটির দ্বিত্বীয় তলায় রয়েছে সালেহা ইমারত মিলানায়তন। সেখানে বর্তমানে স্থাপনের কাজ চলছে। একটি তলায় গড়ে তোলা হবে বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতিময় ভাস্কর্য এবং দূর্লভ ছবি সমূহ। স্থাপন করা হবে ভোকেশনাল ট্রেনিং ইন্সটিটিউট। ভবনটিতে ওঠা নামার জন্য রয়েছে অত্যাধুনিক লিফ্ট। নিচতলায় রয়েছে ক্যান্টিন। অল্পদিনের মধ্যেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভবনটি উদ্বোধন করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ডিজিটাল কার্যালয় হিসাবে ঘোষনা করবেন বলে জানা গেছে। ভবনটি নির্মান কাজে শেষ হয় ২০১২ সালের ডিসেম্বর মাসে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল বঙ্গবন্ধু স্মৃতি যাদুঘর কমপ্লেক্সটি পরিদর্শন করে সন্তষ্টি প্রকাশ করেছেন।
জনসংখ্যার উপাত্ত [সম্পাদনা]
শিক্ষা [সম্পাদনা]
অর্থনীতি [সম্পাদনা]
কৃতী ব্যক্তিত্ব ইঞ্জিনিয়ার মোঃ এনামুল হকঃ
বাংলাদেশের একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। এ দেশের অনুসরণযোগ্য একটি নাম ইঞ্জিনিয়ার মোঃ এনামুল হক। তরণ সাংসদ। প্রতিশ্রুতিশীল লেখক, বিনয়ী ও অমায়িক ব্যবহারের এই তরুন বাগমারার ইতিহাসে আলোচনার এক ব্যতিক্রম মহাপ্রাণ। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ ৫৫ রাজশাহী-৪ (বাগমারা) থেকে ২০০৮ ইং সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ হতে অংশগ্রহন করে জয়ী হন। শেশব কৈশোর থেকেই জীবনের নানা ঘাত-প্রতিঘাত, চড়াই-উৎরাই, কষ্টের দুরন্ত পাহাড় ডিঙ্গিয়ে দক্ষতা, মেধা, প্রজ্ঞা ও সততা দিয়ে গড়ে তুলেছেন বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান-এনা প্রপার্টিজ লিমিটেড (গ্রুপ অব কোম্পানী), হাসপাতাল, স্কুল ও কলেজ, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, হিমাগারসহ অসংখ্য সামাজিক, ব্যবসায়ীক ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। তিনি বাগমারার আইন শৃঞ্খলা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো খাতের উন্নয়ন করার এক জলন্ত উদাহরণ। ইঞ্জিনিয়ার মোঃ এনামুল হক বাংলাদেশের রাজশাহী জেলায় জনগণের নেতা হিসাবে পরিচিত।
জম্মকালঃ ১৯৬৭ সনঃ রাজশাহী জেলার অন্যতম একটি উপজেলা/থানা বাগমারা। এই জেলায় মোট ৩২৬ টি গ্রাম। এই উপজেলার/থানার অন্যতম একটি গ্রামের নাম “সাঁকোয়া। এই গ্রামেরই জম্ম গ্রহন করেন মোঃ এনামুল হক। অভাব বঞ্চনায় জর্জরিত, ক্ষত-বিক্ষত কঠিন দারিদ্রের অক্টোপাশে বন্দী এক মুসলিম পরিবারে নিতান্তই অবহেলার মাঝে বিধাতা এক দুখী মায়ের কোলে উপহার হিসাবে ১৯৬৭ ইং সনের ২১ ডিসেম্বর তীব্র শীতের মধ্যে রাত্রি শেষে মাঘের তীব্র শীতে জম্মগ্রহন করেন ইঞ্জিনিয়ার মোঃ এনামুল হক ।
নদ-নদী/বিল [সম্পাদনা]
বারনই নদী, রাণী নদী, কম্পো নদী, কোলাবিল, বিল কালাই, বিলশনি, বিল সূতি, বিল মাললী, জোকার বিল, যশোবিল
|
||||||||||||||||||||||||||||||||