ববিতা
|
|
এই জীবিত ব্যক্তির জীবনীমূলক নিবন্ধটির তথ্য যাচাইয়ের জন্য অতিরিক্ত সূত্র থেকে উদ্ধৃতিদান করা প্রয়োজন। অনুগ্রহপূর্বক নির্ভরযোগ্য উৎস সংযুক্ত করে সাহায্য করুন। জীবিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে বিতর্কিত হতে পারে এমন উৎসবিহীন অথবা অপার্যপ্তভাবে উৎসবিহীন উপাদান, বিশেষভাবে যদি সম্ভাব্য কুৎসাপূর্ণ বা ক্ষতিকর হিসেবে গণ্য হয় তবে তা অচিরেই অপসারণ করা হবে। (উৎস খুঁজুন: ববিতা – সংবাদ, বই, গবেষণাপত্র) |
| ববিতা | |
|---|---|
| জন্ম | ববিতা ১৯৫৬ সাল বাগেরহাট জেলা |
| পেশা | চলচ্চিত্র অভিনেত্রী |
| খ্যাতির কারণ | চলচ্চিত্র অভিনেত্রী |
ববিতা (মূল নাম:ফরিদা আক্তার) বাংলাদেশের একজন খ্যাতিমান চলচ্চিত্র অভিনেত্রী। তিনি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ৭০ ও ৮০-র দশকের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ছিলেন। তিনি সত্যজিৎ রায়ের অশনি সংকেত চলচ্চিত্রের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে প্রশংসিত হন।হন।ববিতা ২০০-এরও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন।ববিতা চলচ্চিত্র অভিনেত্রী সুচন্দা এবং চম্পার বোন।[১]
পরিচ্ছেদসমূহ |
[সম্পাদনা] চলচ্চিত্রে আগমন
ববিতার পরিবার একসময় বাগেরহাট থেকে পুরো পরিবার চলে আসে ঢাকার গেন্ডারিয়াতে। তাঁর মা ডাক্তার হওয়ায় ববিতা চেয়েছিলেন ডাক্তার হতে।জহির রায়হান প্রযোজিত ‘সংসার’ নামক ছবির মাধ্যমে তাঁর চলচ্চিত্রে আগমন ১৯৬৮ সালে।এই ছবিতে তিনি রাজ্জাক ও সুচন্দার মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেন।তার প্রাথমিক নাম ছিল সিনেমার জন্য সুবর্ণা। তিনি ‘কলম’ নামের একটি টিভি নাটকেও অভিনয় করেছিলেন সে সময়।১৯৬৯ সালে ‘শেষ পর্যন্ত’ সিনেমাতে অভিনয় করেন তিনি প্রথম নায়িকা চরিত্রে এবং তখন তার নাম হয় ববিতা।১৯৬৯ সালের ১৪ই আগস্টে ঐ সিনেমা মুক্তি পায় এবং ঐ দিনই তার মা মারা যান।[২]তার কর্মজীবনের শুরুতে ভগ্নিপতি জহির রায়হানের পথ প্রদর্শনে চললেও পরে তিনি একাই পথ চলেছেন।৭০-এর দশকে শুধুমাত্র অভিনয় দিয়ে তিনি ঐ দশকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেন।[৩]
[সম্পাদনা] প্রতিষ্ঠা
গ্রামীণ,শহুরে চরিত্র কিংবা সামাজিক অ্যাকশন অথবা পোশাকী সব ধরনের ছবিতেই তিনি সাবলীলভাবে অভিনয় করেন।স্বাধীনতার পর তিনি বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজ পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে ভীষণ জনপ্রিয় ছিলেন।তৎকালীন সময়ে তিনি ফ্যাশনের ক্ষেত্রে শহরের মেয়েদের ভীষণ প্রভাবিত করেন।নগরজীবনের আভিজাত্য তার অভিনয়ে ধরা পড়েছিল।সত্তর দশকের প্রথমার্ধে রুচিশীল, সামাজিক সিনেমা মানেই ছিল ববিতা।[৩] ‘টাকা আনা পাই’ সিনেমাটা ছিল তাঁর জন্য টার্নিং পয়েন্ট যা পরিচালনা করেছিলেন জহির রায়হান।এরপর তিনি নজরুল ইসলামের ‘স্বরলিপি’ সিনেমাতে অভিনয় করেন যা ছিল সুপারহিট সিনেমা। [২]
[সম্পাদনা] অভিনয় জীবন
ববিতা প্রায় তিন দশক ধরে চলচ্চিত্রে অভিনয় করছেন।তবে এক পর্যায়ে সিনেমার জগতে টিকে থাকার জন্য এবং বাণিজ্যিক ছবিতে নিজের গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণের জন্য তিনি পুরোপুরি বাণিজ্যিক ঘরানার ছবির দিকে ঝুঁকে পড়েন।বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে তাই ববিতা তাই একটি উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম।নায়িকা হিসেবে তাঁর স্বাতন্ত্র্যতা লক্ষণীয় ছিল।অভিনয় ,গ্ল্যামার,স্কিন পার্সোনালিটি, নৃত্য কুশলতা সবকিছুতেই তিনি পারদর্শিতা দেখিয়েছিলেন।আশির দশকের মাঝামাঝি থেকে ববিতা মুটিয়ে যেতে থাকেন এবং গৎ বাঁধা চলচ্চিত্রে এমন ভাবে অভিনয় করেন যে তাকে আলাদাভাবে চেনা মুশকিল হয়ে পড়ে।বর্তমানে তিনি মা-ভাবির চরিত্রে অভিনয় করে আসছেন।[৩] ববিতার একমাত্র ছেলে অনীক কানাডায় পড়াশোনা করে, তাই তিনি ২০১০ সালের মাঝামাঝিতে প্রায় ছয় মাস কানাডায় অবস্থান করেন।
[সম্পাদনা] অশনী সংকেত
ববিতার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছবি অশনি সংকেত।ভারতীয় ক্যামেরাম্যান নিমাই ঘোষ স্বাধীনতার পর ঢাকাতে এফডিসিতে এসে তার প্রায় ১৫০ থেক ২০০ ছবি তুলে নিয়ে যান।ওনাকে সত্যজিত রায় ছবি তুলতে পাঠিয়েছিলেন। এর কিছুদিন পর তাদের বাসায় ভারতীয় হাইকমিশন থেকে চিঠি আসে প্রাথমিক মনোনয়ণের কথা জানিয়ে।সুচন্দা এবং ববিতা তখন ভারতে যান সত্যজিৎ রায়ের সাথে দেখা করতে।সত্যজিত রায় তাকে দেখে অনেক লাজুক ভেবেছিলেন।তাই ইন্দ্রপুরের স্টুডিওতে তিনি তাঁকে আবার তাকে পরীক্ষা করেন।পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর সত্য সত্যজিত রায় বলেনঃ”আই অ্যাম সো হ্যাপি,আমি অনঙ্গ বউ আজকে পেয়ে গেছি।আমি ভাবতেও পারিনি এই মেয়েটি সেদিনের সেই মেয়েটি।আজকে এই মেয়ে সম্পূর্ন অন্য মেয়ে।এই আমার অনঙ্গ বউ।‘ববিতাও অনেক চাপের মুখে ছিলেন তাঁকে নেয়া হয় কিনা।ববিতা বলেনঃ “একজন অল্পবয়সী বাঙ্গালী যা করে-ভেতরে ভেতরে অনেক মানত-টানত করে শেষে জানলাম, আই ওয়াজ সিলেক্টেড ফর দেয়ার মুভি।” [২]
[সম্পাদনা] সন্মাননা
ববিতা পরপর তিন বছর টানা জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার জেতেন।সত্যজিৎ রায়ের অশনি সংকেত ছবিতে অনঙ্গ বউ চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি বেঙ্গল ফ্লিম জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সর্বভারতীয় শ্রেষ্ঠ নায়িকার পুরষ্কার পান। এছাড়াও সরকারী ও বেসরকারী অসংখ্য পুরষ্কার তিনি লাভ করেছেন। এজন্য তাঁকে ‘পুরষ্কার কন্যা’ বলা হত। ববিতা।তিনি বাংলাদেশের প্রতিনিধি হয়ে সবচেয়ে বেশিবার আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ গ্রহণ করেছিলেন। [৩]
[সম্পাদনা] চলচ্চিত্রসমূহ
|
|
|
[সম্পাদনা] তথ্যসূত্র
- ↑ তিন বোনের ঈদ. দৈনিক প্রথম আলো. ১৬ই সেপ্টেম্বর,২০১০. http://www.prothom-alo.com/detail/date/2011-02-08/news/93730। সংগৃহীত হয়েছে: ৮ই ফ্রেব্রুয়ারি,২০১১.
- ↑ ২.০ ২.১ ২.২ (২০০৩); “আত্নজীবনীর খসড়াঃববিতা”। যুগান্তর ,ঈদ সংখ্যা: পৃ. ৩৩৯। জানুয়ারি,২০১১ তারিখে সংগৃহীত।।
- ↑ ৩.০ ৩.১ ৩.২ ৩.৩ (১৯৯৮); “বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে তারকা নায়িকাঃ পপি থেকে পপি”। অন্যদিন ঈদ সংখ্যা ২ (২৫): পৃ. ৩৪৯। জানুয়ারি,২০১১ তারিখে সংগৃহীত।।