বঙ্গভবন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
বঙ্গভবন
সাধারণ তথ্য
শহর ঢাকা
দেশ বাংলাদেশ
নির্মাণ শুরু হয়েছে ১৯০৫
নকশা এবং নির্মান
স্থপতি অজানা

বঙ্গভবন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধানের (রাষ্ট্রপতি) সরকারী বাসভবন। স্থাপনাটি দেশের রাজধানী ঢাকাতে অবস্থিত। প্রাসাদটি মূলত বৃটিশ ভাইসরোয় অফ ইন্ডিয়ার অস্থায়ী বাসস্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত স্থাপনাটি পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নরের বাসস্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

ইতিহাস [সম্পাদনা]

বাংলার সালতানাতের আমলে বঙ্গভবন যে স্থানে তা ছিল হযরত শাহজালাল দাখিনি নামক ঢাকার এক সূফী সাধকের। সুলতানের চরের দ্বারা সূফী সাধক এবং তার অনুসারীগণ নিহত হলে, তাদের এখানে কবর দেওয়া হয়। স্থানটি জলদি সাধকের ভক্তদের মাঝে মাজার হিসেবে পরিচিত লাভ করতে থাকে। বঙ্গভবন এলাকায় মানুক হাউস নামে একটি ইমারত ছিল, জনশ্রুতি আছে বৃটিশ রাজত্বের সময় আর্মেনীয় জমিদার মানুকের নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়। ঢাকার নবাব খাজা আবদুল গনি মানুকের কাছ থেকে স্থানটি কিনে নেয় এবং এখানে একটি বাংলো তৈরি করে, যার নাম দেওয়া হয় দিলখুশা

১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের পরে পূর্ববঙ্গ এবং আসামের সরকার এ স্থানটি কিনে নেয় এবং একটি প্রাসাদোপম বাড়ী তৈরি করে যা ১৯১১ সাল পর্যন্ত ভারতের গভর্নর জেনারেলের অস্থায়ী বাসস্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ১৯১১ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত প্রাসাদটি গভর্নর হাউস নামে ডাকা হত এবং বাংলার গভর্নরের অস্থায়ী বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ভারত বিভাগের পরে ১৯৪৭ সালে পাকিস্তানের জন্ম হয় এবং প্রাসাদটি পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নের বাসভবনে পরিণত হয়। ভবনটি বেশ কয়েক বার ১৯৬১ সালে ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়, ১৯৬৪ সালে ভবনটি পুনঃনির্মান শেষ হয়।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পরে ১৯৭২ সালের জানুয়ারি ১২ তারিখে গভর্নর হাউসের নাম পরিবর্তন করে বঙ্গভবন করা হয়। ঐ দিনই আবু সাইদ চৌধুরী বাংলাদেশের প্রথম সাংবিধানিক রাষ্ট্রপতি হন এবং এ স্থানকে রাষ্ট্রপতির বাসভবন হিসেবে ব্যবহার করেন। সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান এবং হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সময়ও ভবনটি রাষ্ট্রপতির বাসভবন ছিল।

বঙ্গভবন বাংলাদেশ সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি চিহ্ন, বঙ্গভবন যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস এবং ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনের সমমর্যাদা বহন করে। বিশেষ বিশেষ অনুষ্ঠানে এর পরিচর্যা করা হয়, কারণ এটি একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা এবং এ সময় এটি জনসংযোগ মাধ্যমসমূহ ও পর্যটকদের মধ্যমনিতে পরিণত হয়। স্বাধীনতা দিবস এবং বিজয় দিবসে এখানে আমজনতার জন্য বিশেষ অনুষ্ঠান হয়। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি এ প্রাসাদে বসবাস এবং কাজ করে থাকেন, এবং এখানে প্রায়ই বিভিন্ন সভা, সম্মেলন এবং রাজনীতিবিদ, বুদ্ধিজীবি এবং বৈদেশিক কুটনীতিকদের জন্য রাষ্ট্রীয় ভোজের আয়োজন করা হয়।

নকশা [সম্পাদনা]

বৃটিশ আমলে ঢাকায় স্থাপিত অন্যান্য স্থাপত্যের মতো বঙ্গভবনও অনেকটা ভিক্টোরিয়া স্থাপত্যে নির্মিত। ১৯৬১ এবং ১৯৬৪ সংস্কারের পর এখানে ইসলামী স্থাপত্য ও বাঙালি স্থাপত্যের সমন্বয় ঘটানো হয়। চারদিকে লম্বা প্রাচীর ঘেরা মূল ভবন ত্রিতল প্রাসাদোপ্রম চত্ত্বরের চার পাশে সবুজ এবং বৃক্ষরাজি দ্বারা আবৃত। নিচতলার মেঝের চত্বরের ক্ষেত্রফল ৬৭০০ বর্গমিটার। রাষ্ট্রপতির বাসভবন উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থিত, এর দ্বিতীয় তলায় পাঁচটি সুদৃশ্য শয়ন কক্ষ রয়েছে।

রাষ্ট্রপতির দপ্তর , সামরিক ও বেসামরিক সচিবালয়, অন্যান্য কর্মকর্তা এবং দর্শকদের জন্য ভিন্ন ভিন্ন কক্ষগুলো নিচতলায় অবস্থিত। এছাড়া এতে এতে রয়েছে আসবাবপত্র রাখার কক্ষ, একটি সম্ভোজন কক্ষ একটি দরবার কক্ষ, একটি ছোট ভোজন কক্ষ এবং স্থানীয় দর্শনার্থীদের জন্য একটি ছোট সভা কক্ষ। এছাড়া দ্বিতীয় তলায় পাচঁটি অফিস কক্ষ, একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ এবং একটি স্টোডিও আছে। তৃতীয় তলায় বৈদেশিক কুটনীতিক এবং সরকারের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের জন্য রয়েছে চারটি আলাদা কক্ষসমষ্টি।

বঙ্গভবনে রয়েছে ৪৭ একরের খোলা জায়গা, এখানে রয়েছে নিরাপত্তা অফিস, ডাকঘর, ব্যাংক, ক্যান্টিন, দর্জীর দোকান, একটি তিন গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদ, রাষ্ট্রপতি নিরাপত্তা রেজিমেন্টের জন্য একটি ব্যারাক রয়েছে, যা বঙ্গভবনের প্রধান ফটকের কাছাকাছি অবস্থিত। বঙ্গভবনের কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের জন্য থাকার কোয়ার্টার রয়েছে বঙ্গভবনের আলাদা তিনটি স্থানে। এখানে সামরিক সচিব এবং সহকারী সামরিক সচিবের জন্য রয়েছে আরও দুটো বাংলো।