ফ্লাইওভার
ফ্লাইওভার (যুক্তরাজ্য ও বেশিরভাগ কমনওয়েলথভুক্ত দেশে প্রচলিত নাম) বা ওভারপাস (ইংরেজি: Flyover বা Overpass) হচ্ছে একপ্রকার সেতু, সড়ক, রেলরাস্তা বা এ ধরনের কোনো স্থাপনা, যা কোনো সড়ক বা রেললাইনের ওপর দিয়ে নির্মিত হয়। ওভারপাসের গাঠনিক বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এক্ষেত্রে নিম্ন ধারণক্ষমতা বিশিষ্ট সড়কের ওপর অপেক্ষাকৃত বেশি ধারণাক্ষমতা বিশিস্ট রাস্তা তৈরি করা হয়। ধারণক্ষমতা নির্ধারিত হয় রাস্তার লেনের সংখ্যা, যাতায়াতকৃত যানবাহনের পরিমাণ প্রভৃতির ওপর ভিত্তি করে।
উত্তর আমেরিকায় প্রচলিত সংজ্ঞানুসারে ‘ফ্লাইওভার’ হচ্ছে অনেক উঁচুতে অবস্থিত ওভারপাস। এগুলো সাধারণ মূল ওভারপাস লেনের ওপরে নির্মাণ করা হয়। এছাড়া কোনো দুইটি রাস্তার মধ্যে ক্রস সংযোগ তৈরি হলে, এবং তাঁর ওপর কোনো সেতু সদৃশ রাস্তা তৈরি হলে সেটাকেও ফ্লাইওভার হিসেবে অভিহিত করা হতে পারে। দ্বিতীয়টি যান প্রকৌশলীদের কাছে গ্রেড সেপারেশন নামে পরিচিত। এছাড়া ফ্লাইওভারগুলোর মধ্যে আন্তসংযোগ তৈরির জন্য বাড়তি রাস্তা যোগ করলে, তাও ফ্লাইওভারের অংশ হিসেবে গণ্য হয়।
১৮৪২ সালে ইংল্যান্ডের নরউড জংশন রেলওয়ে স্টেশনে বিশ্বের প্রথম ফ্লাইওভারটি নির্মিত হয়।[১] এটি নির্মাণ করে লন্ডন অ্যান্ড ক্রয়ডন রেলওয়ে। ব্রাইটন মেইল লাইনের ওপর দিয়ে তাঁদের রেলগাড়ি নিয়ে যাবার জন্য তারা এটি নির্মাণ করে।[১]
[সম্পাদনা] বহুতল ফ্লাইওভার
ফ্লাইওভার বহুতলা বিশিষ্ট হতে পারে। বড় বড় শহরগুলোতে এ ধরনের ফ্লাইওভার দেখতে পাওয়া যায়। সাধারণত নিচের রাস্তাসহ এ ধরনের ফ্লাইওভারে মোট চারটি তলা থাকে।[২] এগুলো হলো:
- ১ম তলা — আন্ডারপাস লেভেল: শুধুমাত্র নিকটবর্তী দুইটি রাস্তাকে যুক্ত করার জন্য এই তলাটি ব্যবহৃত হয়।
- ২য় তলা — গ্রাউন্ড লেভেল: এই লেভেলটি মাটির সমান্তরালে অবস্থান করে। বাইসাইকেল, মোটরসাইকেল, দোতলা বাস, ট্রাক প্রভৃতি সকল যানবাহন এই তলা দিয়ে যেতে পারে। মূলত স্থানীয় ও অল্প দূরত্বের যানবাহনগুলো এই তলা ব্যবহার করে।
- ৩য় তলা — ফ্লাইওভার লেভেল। এটি মূল ফ্লাইওভার। যেসকল যানবাহন দূরবর্তী অঞ্চলগামী যানবাহনগুলো এই তলা ব্যবহার করে। এর ফলে স্থানীয় যানবাহনের ভিড় দ্বারা আক্রান্ত হতে হয় না।
- ৪র্থ তলা — মেট্রো রেল লেভেল: এই লেভেলটি সবার ওপরে অবস্থিত, এবং এটি দিয়ে শুধুমাত্র শহরের মেট্রো রেল চলাচল করে।
[সম্পাদনা] প্রয়োজনীয়তা ও প্রভাব
বড় বড় ও পুরোনো শহরগুলোতে নতুন রাস্তা তৈরি করা কষ্টসাধ্য, কারণ প্রচুর পরিমাণ স্থাপনা নির্মিত হয়ে যাওয়ায় সেগুলো উচ্ছেদ করা দুষ্কর হয়ে পড়ে। কিন্তু ক্রমবর্ধমান যানবাহনের সংকুলান করার জন্য বাড়তি রাস্তা নির্মাণের ক্ষেত্রে ফ্লাইওভার একটি ভালো বিকল্প। এটি মূলত মূল রাস্তার ওপরেই নির্মিত হয়, এবং সংযোগের স্থানগুলোতে ও গ্রাউন্ড লেভেলের পাশে সামান্য পরিমাণ স্থানের প্রয়োজন হয়।
[সম্পাদনা] তথ্যসূত্র
- ↑ ১.০ ১.১ Turner, J.T. Howard (1977). The London Brighton and South Coast Railway 1. Origins and formation. প্রকাশক: Bats ford new england. (London). pp. 249. আইএসবিএন 071340275X.
- ↑ Construction of Multi Level Flyovers. ১১ ডিসেম্বর, ২০০৯. http://www.articlesbase.com/outdoor-sports-articles/construction-of-multi-level-flyovers-1569217.html#axzz0ltp1UR3Q। সংগৃহীত হয়েছে: ২৩ এপ্রিল, ২০১০.
|
||||||||