ফ্রান্‌ৎস কাফকা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ফ্রান্‌ৎস কাফকা
Kafka1906.jpg
১৯০৬ সালে ফ্রান্‌ৎস কাফকা
জন্ম (১৮৮৩-০৭-০৩)জুলাই ৩, ১৮৮৩
প্রাগ, বোহেমিয়া,
অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি
(বর্তমানে চেক প্রজাতন্ত্র)
মৃত্যু জুন ৩, ১৯২৪(১৯২৪-০৬-০৩) (৪০ বছর)
Klosterneuburg, লোয়ার অস্ট্রিয়া, অস্ট্রিয়া
মৃত্যুর কারণ যক্ষ্মার কারণে মৃত্যু
জাতীয়তা চেক
বংশোদ্ভূত জার্মান
নাগরিকত্ব অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি, চেকোস্লোভাকিয়া[১][২]
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রাগে জার্মান চার্লস-ফার্দিনান্দ বিশ্ববিদ্যালয়
পেশা
  • উপন্যাসিক
  • ছোটগল্প লেখক
  • বীমা কর্মকর্তা
কার্যকাল
উল্লেখযোগ্য কাজ
ধরণ আধুনিকতাবাদ
ধর্ম নাস্তিক
পিতা-মাতা
  • হারমান কাফকা
  • জুলি কাফকা (née Löwy)
স্বাক্ষর Franz Kafka's signature.svg

ফ্রান্‌ৎস কাফকা [lower-alpha ১] (Jewish name: אנשיל, Anschel; ৩ জুলাই, ১৮৮৩ – ৩ জুন, ১৯২৪) ছিলেন একজন জার্মান ভাষার উপন্যাস ও ছোটগল্প লেখক, যিনি ২০-শ শতাব্দীর সর্বাধিক প্রভাবশালী লেখক হিসাবে সমালোচক কর্তৃক বিবেচিত। তৎকালীন অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি সাম্রাজ্যের প্রাহা (প্রাগ) শহরে (বর্তমানে চেক প্রজাতন্ত্রের রাজধানী) একটি মধ্যবিত্ত জার্মান-ইহুদী জার্মানভাষী মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। কাফকাকে বিংশ শতাব্দীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যিক হিসাবে বিবেচনা করা হয়। কাফকা অস্তিত্ববাদ তত্ত্বকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করেছিলেন। তাঁর অধিকাংশ কাজগুলো যেমন- "ডি ভারভাণ্ডলাঙ্গ"(রুপান্তর),"ডের প্রোজেন্স"(পথানুসরণ), "ডাস স্কোলস"(দুর্গ) ইত্যাদির বিষয়বস্তু এবং আদর্শিক দিক মূলত বিচ্ছিনতাবোধ,শারীরিক এবং মানসিক নিষ্ঠুরতা,অভিবাবক-সন্তান সম্পর্কের সংঘর্ষ,আতঙ্কজনক উদ্দেশ্য চরিতার্থে ব্যস্ত এমন চরিত্র, মানবজীবনে আমলাতান্ত্রিক হস্তক্ষেপএবং রহস্যময় রূপান্তর - এসব বিষয়কে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে।

তার সময়কালে প্রাগের অধিকাংশ মানুষ চেক ভাষায় কথা বলতো। চেক আর জার্মান ভাষাভাষী মানুষের মধ্যে বিভাজন ছিল একটি স্পর্শকাতর বাস্তবতা, যেহেতু উভয় পক্ষই একই জাতীয় পরিচয়ের দাবিদার ছিল। ইহুদি সম্প্রদায় প্রায়ই দুই অনুভূতির মধ্যে নিজেদের খুঁজে ফিরত, যেহেতু এই জায়গাটা কোন রাজ্যের সেই প্রশ্নটি স্বাভাবিকভাবেই উঠতো। কাফকা উভয় ভাষাতেই পারদর্শী হলেও জার্মান ভাষাকে নিজের মাতৃভাষা মেনে নিয়েছিলেন। কাফকা একজন আইনজীবী হিসেবে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন।

প্রাথমিক জীবন[সম্পাদনা]

পরিবার[সম্পাদনা]

মধ্যবিত্ত ইহুদি পরিবারের সন্তান ফ্রান্‌ৎস কাফকা অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি সম্রাজ্যের প্রাগ (প্রাহা) শহরের 'ওল্ড টাউন স্কয়ারে' জন্মগ্রহণ করেন।। তার বাবা হারমেইন কাফকা ছিলেন তার দাদা জ্যাকব কাফকার চতুর্থ সন্তান।[৩][৪] জ্যাকব কাফকা দক্ষিণ বোহিমিয়ার একটি ছোট ইহুদি অধ্যুষিত গ্রামে বসবাস করতেন, কিন্তু পরবর্তীতে হারমেইন কাফকা পুরো কাফকা পরিবারকে প্রাগ শহরে নিয়ে আসেন। হারমেইন কাফকা প্রথম দিকে প্রাগ শহরের রাস্তায় ফেরি করে বিভিন্ন জিনিস বিক্রয় করলেও পরে তিনি একটি পোশাকের দোকান দেন যেখানে তিনি প্রায় ১৫ জন বিক্রয় কর্মী নিয়োগ দেন।[৫] কাফকার মা জুলি ছিলেন এক বিখ্যাত পোশাক বিক্রেতার মেয়ে যিনি ফ্রান্‌ৎস কাফকার বাবা হারমেইন কাফকার চেয়ে অধিকতর শিক্ষিত ছিলেন।[৩] ফ্রান্‌ৎস কাফকা যখন শিশু ছিলেন তখন জার্মানিতে অনেক প্রকরণের জার্মান ভাষায় মানুষ কথা বলত, তবে সমাজের সকল শ্রেণীর মানুষের সাথে অনায়াসে মেলামেশার স্বার্থে ফ্রান্‌ৎস কাফকার বাবা-মা তাকে উচ্চ শ্রেণীর জার্মান শিখতে অনুপ্রেরণা যোগান। হারমেইন এবং জুলির ছয়টি সন্তানের মধ্যে ফ্রান্‌ৎস কাফকা ছিলেন জ্যেষ্ঠ। ফ্রান্‌ৎসের বয়স যখন মাত্র সাত বছর তখন তার ছোট দুই ভাই জর্জ এবং হাইনরিখ শিশুকালেই মৃত্যুবরণ করে। তার তিন বোন এলি (১৮৮৯-১৯৪৪), ভেলি (১৮৯০-১৯৪২) এবং ওতলা (১৮৯২-১৯৪৩)। প্রত্যেকেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হত্যাকাণ্ডে নিহত হন।

ফ্রান্‌ৎসের জীবনীকার স্ট্যানলি কর্নগোল্ড ফ্রান্‌ৎসের বাবা হারমেইন কাফকাকে একজন স্বার্থপর ও লোভী ব্যবসায়ি হিসেবে বর্ননা করলেও[৬] ফ্রান্‌ৎসের মতে তার বাবা ছিলেন শক্তি, জ্ঞান, মেধা সহনশীলতা এবং আচরণে একজন পরিপূর্ন কাফকা।[৭] হারমেইন ও জুলি উভয়েই তাদের পারিবারিক ব্যবসায় এতটাই নিবেদিত ছিলেন যে তারা দিনের প্রায় পুরোটা সময়ই ব্যস্ত থাকতেন। একারণে ফ্রান্‌ৎস কাফকার শৈশব কিছুটা একাকীত্বের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয় এবং তিনি শিশুকাল হতে গৃহপরিচারিকা ও পারিবারিক সেবকদের কাছে মানুষ হয়েছেন।[৮] বাবার সাথে কাফকার সম্পর্কের টানাপোড়ন বোঝা যায় তার ব্রিফ এন দেন ভেটার (Brief an den Vater) বা পিতার নিকট পত্র থেকে যেখানে তিনি তার বাবাকে অভিযোগের সুরে স্বৈরাচারী এবং মাত্রাতিরিক্ত চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন। অপরদিকে তার মা ছিলেন নম্র ও শান্ত স্বভাবের। ফ্রান্‌ৎস কাফকার লেখনীতে তার বাবার স্বৈরাচারী মনোভাবের ছোঁয়া কিছুটা আঁচ করা যায়।[৯]

কাফকা পরিবারে একজন গৃহপরিচারিকা ছিলেন যিনি তাদের সাথে একই বাড়িতে বসবাস করতেন। বাড়িটি ছিল পুরো পরিবারের স্থান সংকুলানের ক্ষেত্রে কিছুটা ছোট এবং সেখানে ফ্রান্‌ৎসের কামরাটি সবসময়ই ঠাণ্ডা থাকত। ১৯১৩ সালের নভেম্বর মাসে তারা পুরনো ছোট বাড়িটি ছেড়ে একটি বড় বাড়িতে ওঠেন।

এলি ও ভেলির বিয়ে হয়ে যাওয়ায় তারা আগেই বাড়ি ছেড়ে তাদের সেনাবাহিনীতে চাকুরীরত স্বামীর সাথে বসবাসের জন্য পরিবার ত্যগ করে। ১৯১৪ খিস্টাব্দের আগস্ট মসে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এলি ও ভেলি জানতেন না তাদের স্বামীরা কোথায় যুদ্ধ করছেন তাই তারা পুনরায় সসন্তান তাদের বাবার বাড়িতে বসবাসের জন্য চলে আসেন। ৩১ বছর বয়সে ফ্রান্‌ৎস ভেলির পুরনো এপার্টমেন্টে বসবাসের জন্য চলে যান এবং এখানেই জীবনে প্রথমবারের মত তিনি একা বসবাস শুরু করেন।[১০]

শিক্ষা[সম্পাদনা]

An ornate four-storey palatial building
কিনস্কি প্যালেস যেখানে কাফকার বাবার একটি দোকান ছিল এবং এইখানেই জিমনেশিয়াম ছিল যেখানে কাফকা কসরত করতেন।

১৯৮৯ সাল থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত কাফকা ডয়েচ ক্যানাবেনশুল জার্মান বয়েজ এলিমেন্টারি স্কুলে পড়ালেখা করেন। ১৩ বছর বয়স পর্যন্ত সেখানে পড়ালেখা করার পর তার ইহুদী শিক্ষার ইতি ঘটে। কাফকা তার বাবার সাথে বছরে চারটি ছুটির দিনে সিনেগগে যেতেন তবে সিনেগগে যাওয়া তিনি কখনই মন থেকে উপভোগ করতেন না।[৭][১১][১২]

১৮৯৩ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠ চুকিয়ে তার বাবা তাকে একটি প্রথাগত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে দেন। সেই বিদ্যালয়ে জার্মান ভাষার মাধ্যমে পাঠদান করা হলেও কাফকা কথা বলা ও লিখার ক্ষেত্রে চেক চেক ভাষা ব্যবহারে পারদর্শী ছিলেন। সেই মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কাফকা পূরো আট বছর অধ্যয়ন করেন এবং বেশ ভাল ফলাফলঅর্জন করেন। তার চেক ভাষার ওপর ভাল দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও তিনি নিজেকে চেক ভাষায় মোটেও দক্ষ মনে করতেন না এবং চেক ভঙ্গিতে জার্মান বলতেন। ১৯০১ সালে তিনি উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন।

একই সালে কাফকা প্রাগ সহরের জার্মান চার্লস-ফার্দিন্যান্দ বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন শাস্ত্রে ভর্তি হন। তবে মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে তিনি রসায়ন ছেড়ে আইন শাস্ত্রে ভর্তি হন। আইন শাস্ত্রে কাফকার বিন্দুমাত্র আগ্রহ ছিল না কিন্তু তার পরও দুটি কারণে তিনি এই বিষয়ে অধ্যয়ন করার জন্য মনস্থির করেন। প্রথম কারণ হল আইন পেশায় যথেষ্ঠ সম্ভাবনা থাকায় তার বাবা খুশি থাকবেন অপর দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন অনেক দীর্ঘ কোর্স হওয়ায় তিনি দীর্ঘকাল ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান করতে পারবেন এবং তার প্রিয় বিষয় যেমন ইতিহাস, কলা ও জার্মান শিক্ষায় ছোট ছোট কোর্স করতে পারবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকার সময় কাফকার কয়েকজন বন্ধু ছিলেন যারা পরবর্তী জীবনে সাহিত্য ও কলার বিভিন্ন বিভাগে জনপ্রিয় হয়েছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষের অধ্যয়নের শেষের দিকে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাক্স বোর্ড নামে একজন ছাত্রের সাথে পরিচিত হন যার সাথে কাফকার আজীবন বন্ধুত্ব ছিল।[১৩] ম্যাক্স বোর্ড লক্ষ করেছিলেন যে কাফকা অত্যন্ত লাজুক প্রকৃতির ছিলেন এবং মিতভাষী হওয়া স্বত্তেও তার কথার মধ্যে নিগূড় উপলব্ধি থাকত।[১৪] এছাড়াও কাফকা আজীবন একজন ক্ষুধিত পাঠক ছিলেন।[১৫]

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

সাহিত্যকর্ম[সম্পাদনা]

মৃত্যু[সম্পাদনা]

গ্রন্থাবলী[সম্পাদনা]

উপন্যাস

  • আমেরিকা (১৯১১)
  • দ্য ট্রায়াল (১৯১৪)
  • দ্য কাসল (১৯২২)

টীকা[সম্পাদনা]

  1. জার্মান উচ্চারণ: [fʁant͡s ˈkafkaː]
    চেক উচ্চারণ: [ˈfrant͡s ˈkafka]; in Czech he was sometimes called František Kafka (চেক উচ্চারণ: [ˈfrancɪʃɛk ˈkafka]); English pronunciation: /ˈkɑːfkɑː, -kə/ (Random House Webster's Unabridged Dictionary
    "Kafka").

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  • কবিতীর্থ- ফ্রানৎস কাফকা সংখ্যা - (মাঘ ১৪১৬, January 2010), কলকাতা ।
  • কাফকার গল্প কবিতা ও নাটক । সৈয়দ সমিদুল আলম অনুদিত । কবিতীর্থ প্রকাশনী, কলকাতা ।
  • ফ্রানৎস কাফকার ডায়েরি । সৈয়দ সমিদুল আলম অনুদিত । কবিতীর্থ প্রকাশনী, কলকাতা ।
  • বাবাকে লেখা ফ্রানৎস কাফকার চিঠি । সৈয়দ সমিদুল আলম অনুদিত । কবিতীর্থ প্রকাশনী, কলকাতা ।
  • ফেলিসকে লেখা কাফকার চিঠি । সৈয়দ সমিদুল আলম অনুদিত । কবিতীর্থ প্রকাশনী, কলকাতা ।
  • ফ্রানৎস কাফকার নির্বাচিত চিঠি । সৈয়দ সমিদুল আলম অনুদিত ।

উদ্ধৃতি[সম্পাদনা]

  1. Koelb 2010, পৃ. 12.
  2. Czech Embassy 2012.
  3. ৩.০ ৩.১ Gilman 2005, পৃ. 20–21.
  4. Northey 1997, পৃ. 8–10.
  5. Brod 1960, পৃ. 3–5.
  6. Corngold 1972, পৃ. xii, 11.
  7. ৭.০ ৭.১ Kafka-Franz, Father 2012.
  8. Brod 1960, পৃ. 9.
  9. Brod 1960, পৃ. 15, 17, 22–23.
  10. Stach 2005, পৃ. 390–391, 462–463.
  11. Stach 2005, পৃ. 13.
  12. Brod 1960, পৃ. 26–27.
  13. Gray 2005, পৃ. 179.
  14. Brod 1960, পৃ. 40.
  15. Brod 1960, পৃ. 14.

গ্রন্থপঞ্জি[সম্পাদনা]

Journals

Newspapers

Online sources

আরও পড়ুন[সম্পাদনা]

পত্রিকা

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]