ফ্রান্সের নামকরণ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

ফ্রান্স নামটি লাতিন Francia ফ্রান্সিয়া নাম থেকে এসেছে, যার আক্ষরিক অর্থ ফ্রাংকদের রাজ্য। আদিতে নামটি সমগ্র ফ্রাঙ্কীয় সাম্রাজ্যকে বোঝাতে ব্যবহৃত হত। সাম্রাজ্যটি দক্ষিণ ফ্রান্স থেকে পূর্ব জার্মানি পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।

পটভূমি[সম্পাদনা]

৮৪৩ সালে ভের্দুন-এর চুক্তিতে ফ্রাঙ্কীয় সাম্রাজ্যকে প্রথমে তিন ভাগে এবং শেষ পর্যন্ত দুই ভাগে ভাগ করে দেয়া হয়। এগুলির নাম ছিল পশ্চিম ফ্রাংকরাজ্য (Francia Occidentalis) ও পূর্ব ফ্রাংকরাজ্য (Francia Orientalis)। পূর্ব ফ্রাংকরাজ্যের শাসকেরা ফ্রাংকীয় সাম্রাজ্য পুনর্গঠন করতে চাইছিলেন। তারা পূর্ব ফ্রাংকরাজ্য নাম বর্জন করেন এবং তাদের রাজ্যের নাম দেন পবিত্র রোমান সাম্রাজ্য। কিন্তু পশ্চিম ফ্রাংকরাজ্যের শাসকেরা এটা মেনে নেননি এবং পশ্চিম ফ্রাংকরাজ্যকে পবিত্র রোমান সাম্রাজ্য থেকে পৃথক ও স্বাধীন একটি রাজ্য হিসেবে রক্ষা করেন। ১২১৪ সালে বুভিনের যুদ্ধে পবিত্র রোমান সাম্রাজ্যের পশ্চিম ফ্রাংকরাজ্য তথা বর্তমান ফ্রান্স অঞ্চল দখলের প্রচেষ্টার অবসান হয়।

যেহেতু পূর্ব ফ্রাংকরাজ্য বলে আর কোন কিছুর অস্তিত্ব ছিল না, সেকারণে পশ্চিম ফ্রাঙ্করাজ্যের অধিবাসীরাও নিজেদের দেশকে কেবল "ফ্রান্সিয়া" বলে ডাকা শুরু করে। বর্তমান ফ্রান্স রাষ্ট্রটি তাই পশ্চিম ফ্রাংকরাজ্য হিসেবেই ৮৪৩ সালে যাত্রা শুরু করেছিল। উল্লেখ্য যে জার্মান ভাষাতে এখনও ফ্রান্সকে "ফ্রাংক্‌রাইশ" (Frankreich) নামে ডাকা হয়, যার আক্ষরিক অর্থ "ফ্রাঙ্কদের রাজ্য"।

ফ্রাংকেরা বর্তমান ফ্রান্স অঞ্চলে যখন পদার্পণ করেছিল, তখন লাতিন ভাষাতে এর নাম ছিল Gallia গাল্লিয়া। আধুনিক ইংরেজিতে এটি Gaul গল এবং আধুনিক ফরাসিতে Gaule গোল্‌ নামে পরিচিত। ১৮শ শতক পর্যন্তও ইউরোপের লাতিনভাষী অভিজাত শ্রেণীর লোকজন এলাকাটিকে গাল্লিয়া বা গল নামেই ডাকত। কিন্তু আধুনিক যুগে এসে গল নামটি প্রায় সম্পূর্ণ অব্যবহৃত। বর্তমানে গ্রিক ও ব্রেটন ভাষা ছাড়া বাকী প্রায় সব ভাষাতে অঞ্চলটি ফ্রান্স বা এ জাতীয় নামেই পরিচিত।