প্রদর্শনকামনা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

প্রদর্শনকামনাবাদ (ইংরেজি: Exhibitionism) ব্যাক্তির এক ধরনের আচরণ যেখানে সে তার শরীরের ব্যক্তিগত নানা অংশ অন্য ব্যাক্তির সম্মুখে তুলে ধরে এবং যে পরিস্থিতিতে তারা সাধারণত উন্মুক্ত হয় না। এটা এক ধরনের অপব্যয়ী আচরণের দিকে ঝুকে পড়ার প্রবণতা। এই আচরণ আংশিকভাবে যৌনতা সম্পর্কীত বা অন্যান্য মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করার বা চমকে দেওয়ার চেষ্টা মাত্র। অনেক মানুষের আবার মনোবৈজ্ঞানিক বাধ্যতা থাকে যৌনপ্রদর্শনীর। একে মনোবৈজ্ঞানিক পরিভাষায় অ্যাপোডাইলসোফিলিয়া বা লেডি গডিভা সিনড্রোম বলে।[১] মাঝে মাঝে এটাকে অপরাধ হিসেবে দেখা হয় বা জনগণের বিড়ম্বনা হিসেবে ধরা হয়। সাধারণত এই ধরনের অপরাধের কোন অভিযোগ পাওয়া যায় না, তবে নারী ও শিশুদের প্রতি এই ধরনের আচরণকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে দেখা হয়।

মেয়েদের গণ প্রদর্শনকামনা একটি প্রাচীন আচরণ, এক্ষেত্রে তারা একটি পুরুষের দলকে অনৈতিক কাজে আসতে লজ্জা দেয় বা তাদের উত্তেজিত করে তোলে অনৈতিক কাজে নিয়োজিত হতে।[২]

অনাবৃত্তকরণের প্রকারভেদ[সম্পাদনা]

শিক্ষার্থীদের মুনিং স্টানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে

প্রদর্শনকামনাকে কিছুভাগে ভাগ করা যায়, যেমনঃ

  • অ্যানাসাইরমাঃ এ ধরণের প্রদর্শনকামনাবাদে মেয়েরা তাদের অন্তর্বাস পরিধান না করে স্কার্ট উপরের দিকে তুলে ফেলে তাদের গুপ্তাঙ্গ দেখায়।
  • ফ্ল্যাসিংঃ স্কার্ট বা কাচুলি উপর নিচে ওঠানো নামানোর মাধ্যমে একজন মহিলা তার নগ্ন বক্ষদেশ প্রদর্শন করেন কিছু সময়ের জন্য। এটা একজন মহিলা বা পুরুষের গুপ্তাঙ্গ প্রদর্শনের মাধ্যমেও হতে পারে।
  • মার্টিমাসিয়াঃ এটা এক ধরণের ভাবার্থ মূলক আচরণ যাতে যৌন আবেদন জড়িত থাকে অন্যদেরকে যৌন কর্ম প্রদর্শনের মাধ্যমে।
  • মুনিংঃ এই আচরণে পায়জামা বা অন্তর্বাস নিচে নামিয়ে খোলা নিতম্ব দেখানো হয়। পুরুষদের ক্ষেত্রে এটা এক ধরনের ব্যাঙ্গ করা বা হাসির ব্যাপার সৃষ্টি করা। তবে মেয়েদের ক্ষেত্রে এর বিপরীত বিষয়টাই সত্যি। সেখানে যৌনগত জাগরণের বিষয় জড়িত থাকে।
  • স্ট্রিকিংঃ এক্ষেত্রে নগ্ন অবস্থায় রাস্তায় দৌড়ানো বা প্রকাশ্য স্থানে ছোটা হয়।

অনেকে দুরালাপনী স্কাটালোজিয়াকে এই ধরনের আচরণের অন্তর্ভুক্ত করেন যদিও এখানে কোন ব্যাক্তিগত উপস্থিতি ঘটে না।[৩][৪]

মনোবৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি[সম্পাদনা]

১৮৭৭ সালে একজন ফরাসী চিকিসক ও মনোবিজ্ঞানী চার্লস লাসেগ প্রদর্শনকামনাকে মনোবৈকল্য হিসেবে চিহ্নিত করেন।[৫][৬] সাধারণত মহিলাদের নগ্ন বক্ষ ও পশ্চাৎদেশই দেখানো হয় ফ্ল্যাসিং -এর সময়। তাত্ত্বিকভাবে পুরুষ বা মহিলা উভয়ই তাদের নিতম্ব বা গুপ্তস্থান দেখাবে প্রদর্শনকামনাবাদ অনুযায়ী। একজন পুরুষ প্রদর্শনকামী ব্যাক্তি হঠাৎ তার শিশ্ন বের করে দেখাবে অনিচ্ছুক ব্যাক্তিকে।

একটি গবেষণাকারী দল ১৮৫ জনের একটি প্রদর্শনকামীকে প্রশ্ন করে যে তুমি কেমন প্রতিক্রিয়া আশা কর ঐ ব্যাক্তির কাছ থেকে যাকে তুমি দেখাবে তোমার গুপ্তস্থান? সবচেয়ে সাধারণ উত্তর যৌনকর্ম করতে চাইবে (৩৫.১%), কোন প্রতিক্রিয়ার দরকার নেই (১৯.৫%), নিজের গুপ্তস্থান দেখাবে (১৫.১%), শ্রদ্ধা (১৪.১%), যে কোন প্রতিক্রিয়া (১১.৯%)। রাগ ও বিরক্তি দেখাবে মনে করে মাত্র ৩.৮% মানুষ ও ভয় মাত্র ০.৫% মানুষ।[৭]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. apodysophilia - Dictionary of sexual terms
  2. Origin of the world
  3. Hirschfeld, M. (1938). *Sexual anomalies and perversions: Physical and psychological development, diagnosis and treatment (new and revised ed.). London: Encyclopaedic Press.
  4. Nadler, R. P. (1968). Approach to psychodynamics of obscene telephone calls. New York State Journal of Medicine, 68, 521–526.
  5. Lasègue C. Les Exhibitionistes. L'Union Médicale (Paris), series 3, vol. 23; 1877. Pages 709–714.
  6. Aggrawal, Anil (2009)। Forensic and Medico-legal Aspects of Sexual Crimes and Unusual Sexual Practices। Boca Raton: CRC Pressআইএসবিএন 1420043080  |curly= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  7. Freund, K., Watson, R., & Rienzo, D. (1988). The value of self-reports in the study of voyeurism and exhibitionism. Annals of Sex Research, 2, 243–262.

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]