প্রথম মালিক শাহ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
প্রথম মালিক শাহ (মিনিয়েচার চিত্র)

জালাল আল-দৌলা মালিক-শাহ (ফার্সি : ملكشاه, আধুনিক তুর্কি : Melikşah) ১০৫৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন।১০৭২ সালে তিনি তার পিতা সেলজুক সুলতান আল্প আরসালানের উত্তরাধীকারী হন। ১০৯২ সালে তার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি ক্ষমতায় আসীন ছিলেন।[১][২]

পিতার হত্যাকান্ডের পর তিনি তার চাচা কাভুর্টের সাথে তাকে মোকাবেলা করতে হয়। ১০৭৪ সালের জানুয়ারিতে হামাদানের নিকটে তাদের বাহিনী মুখোমুখি হয়। কাভুর্টের বাহিনী আল্প আরসালানের সেনাবাহিনীর তুর্কমেনদের নিয়ে গঠিত হয়েছিল। অন্যদিকে মালিক শাহের বাহিনী গোলাম এবং কুর্দি ও আরব সৈন্য দ্বারা গঠিত হয়েছিল। তুর্কমেনদের দলত্যাগের কারণে কাভুর্ট যুদ্ধে পরাজিত হন। মালিক শাহ তাকে ক্ষমা করলেও পরে বিষপ্রয়োগে হত্যা করা হয়। ধারণা করা হয় যে, মালিক শাহের উজির নিযামুল মুলকের আদেশে এই হত্যাকান্ড ঘটে।[৩]

মালিক শাহের মৃত্যুকালে সেলজুক সাম্রাজ্যের সীমানা, ১০৯২ সাল

মালিক শাহ সেলজুক সাম্রাজ্যের প্রধান হলেও তার উজির নিযামুল মুলকই কার্যত সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন।[৪] নিযামের অধীনে সেলজুক সেনাবাহিনী গাজনভীদের খোরাসানে অবরুদ্ধ করে রাখে, ফাতিমীদেরকে সিরিয়া থেকে বিতাড়িত করে, সেলজুক রাজত্বের দাবিদারদের পরাজিত করে, জর্জিয়াকে করদ রাজ্যে পরিণত করে, আঞ্চলিক গভর্নরদেরকে আনুগত্য প্রকাশে বাধ্য করে এবং আব্বাসীয় খলিফাকে হীনবল করে ফেলে।[৫] আনাতোলিয়ায় একটি তুর্কি অভিযানের মধ্যে দিয়ে ১০৭১ সালে আল্প আরসালান মানযিকার্টের যুদ্ধে জয়ী হন। এই অভিযানটি আতসিজ ইবন উভাকের মত স্বাধীন তুর্কমেন সেনাবাহিনী পরিচালনা করে, কোনো সেলজুক সেনাবাহিনী নয়। এই কারণে রোম সালতানাত সেলজুক পরিবারের কর্তৃত্ব অস্বীকার করে।

১০৭৫ সালে জালালী ক্যালেন্ডার সংস্কার করা হয়[৬] এবং মালিক শাহের রাজত্বকালে সেলজুক শাসনাধীন অঞ্চল জুড়ে নতুন নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়।[৭] ১০৯২ সালে বাগদাদ যাওয়ার সময় সিহনার কাছে নিযামুল মুলক আততায়ীর হাতে নিহত হন। হত্যাকারী সুফির ছদ্মবেশে ছিল।[৮] নিযামের দেহরক্ষীরা তাকে তৎক্ষণাৎ হত্যা করে তাই তার সম্পর্কে তথ্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি। একটি মত হল হল সে ইসমাঈলীদের কর্তৃক নিযুক্ত হয়েছিল। এরা প্রায়ই সেলজুক কর্মকর্তা ও শাসকদের উপর এগার শতক থেকে আক্রমণ চালিয়ে আসছিল। অন্য একটি মত হল মালিক শাহ নিজেই এই হত্যাকান্ড ঘটান কারণ তিনি তার অতি প্রভাবশালী উজিরের উপর অসন্তুষ্ট হয়ে উঠেছিলেন।[৯] আসল তথ্য হয়ত কখনই উদঘাটন হবে না। মালিক শাহ নিজেও অসুস্থ বোধ করেন এবং কয়েক মাস পর মৃত্যুবরণ করেন। বিভিন্ন তথ্য পর্যালোচনায় মনে হয় যে নিযামুল মুলকের প্রতি অনুগত লোকেরা তাকে বিষ প্রয়োগ করেছিল।[১০]

তার মৃত্যুর পর সেলজুক রাজবংশ বিশৃঙ্খলায় পতিত হয়। উত্তরাধীকারের প্রতিদ্বন্দ্বী ও বিভিন্ন আঞ্চলিক শাসকরা সাম্রাজ্যকে ছিন্নভিন্ন করে ফেলে এবং একে অন্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। প্রথম ক্রুসেডের ফলে সেলজুক সাম্রাজ্যের পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে পড়ে। এই ক্রুসেডের ফলে সিরিয়াফিলিস্তিনের বিরাট অংশ মুসলিমদের নিয়ন্ত্রণমুক্ত হয়ে পড়ে। প্রথম ক্রুসেডের সাফল্য মালিক শাহের মৃত্যুর ফলে সৃষ্ট রাজনৈতিক অস্থিরতার উপর নির্ভর করেছে।[১১]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Renee Grousset, The Empires of the Steppe:A History of Central Asia, Trans. Naomi Walford, (Rutgers University Press, 1991), 152.
  2. Alp Arslan, C. Cahen, The Encyclopaedia of Islam, Vol. 1, Ed. H.A.R. Gibb, J.H. Kramers, E. Levi-Provencal and J. Schacht, (E.J. Brill, 1986), 421.
  3. Kawurd, C.E. Bosworth, The Encyclopaedia of Islam, Vol. 4, Ed. E. van Donzel, B. Lewis and C. Pellat, (E.J. Brill, 1997), 807.
  4. Gib, H A R (1960-1985)। The Encyclopedia of Islam, vol. 8। Brill Lieden। পৃ: 70। 
  5. Gib, H A R (1960-1985)। The Encyclopedia of Islam, vol. 7। Brill Lieden। পৃ: 273–275। 
  6. Djalali, S.H. Taqizadeh, The Encyclopaedia of Islam, Vol. 2 , Ed. B.Lewis, C. Pellat and J. Schacht, (E.J. Brill, 1991), 397-398.
  7. Gib, H A R (1960-1985)। The Encyclopedia of Islam, vol. 8। Brill Lieden। পৃ: 71। 
  8. Gib, H A R (1960-1985)। The Encyclopedia of Islam, vol. 8। Brill Lieden। পৃ: 69–72। 
  9. Gib, H A R (1960-1985)। The Encyclopedia of Islam, vol. 8। Brill Lieden। পৃ: 72। 
  10. Gib, H A R (1960-1985)। The Encyclopedia of Islam, vol. 7। Brill Lieden। পৃ: 275। 
  11. Jonathan Riley-Smith, The Oxford History of the Crusades, (Oxford University Press, 2002), 213.
পূর্বসূরী
আল্প আরসালান
মহামতি সেলজুকের সুলতান
১০৭২–১০৯২


উত্তরসূরী
মহামতি সেলজুকের মাহমুদ I