পাহাড়ি তিতির

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পাহাড়ি তিতির
সংরক্ষণ অবস্থা
বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্য: Animalia
পর্ব: Chordata
শ্রেণী: Aves
বর্গ: Galliformes
পরিবার: Phasianidae
উপপরিবার: Perdicinae
গণ: Arborophila
প্রজাতি: A. rufogularis
দ্বিপদী নাম
Arborophila rufogularis
(Blyth, 1850)

পাহাড়ি তিতির (Arborophila rufogularis) (ইংরেজি: Rufous-throated Partridge) ফ্যাজিয়ানিডি (Phasianidae) গোত্র বা পরিবারের অন্তর্গত আর্বোরোফাইলা (Arborophila) গণের এক প্রজাতির ছোট তিতির[১] এরা দক্ষিণদক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্থানীয় পাখি। আই. ইউ. সি. এন. এই প্রজাতিটিকে Least Concern বা আশংকাহীন বলে ঘোষণা করেছে।[২]

পরিচ্ছেদসমূহ

বিস্তৃতি[সম্পাদনা]

বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, ভুটান, মিয়ানমার, চীন, লাওস, থাইল্যান্ডভিয়েতনাম পাহাড়ি তিতিরের প্রধান আবাসস্থল। এসব দেশের চিরসবুজ ও গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বন এদের পছন্দের আবাস।[২]

উপপ্রজাতি[সম্পাদনা]

পাহাড়ি তিতিরের মোট ছয়টি উপপ্রজাতি সনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।[৩] এরা হচ্ছে-

  1. A. r. annamensis (Robinson & Kloss, 1919): এর মূল বাসস্থান দক্ষিণ ও মধ্য ভিয়েতনাম।
  2. A. r. euroa (Bangs & J. C. Phillips, 1914): এর মূল আবাসস্থল দক্ষিণ চীন (হাইনান প্রদেশ) থেকে উত্তর লাওস পর্যন্ত
  3. A. r. guttata Delacour & Jabouille, 1928: এর মূল আবাসস্থল মধ্য ভিয়েতনাম
  4. A. r. intermedia (Blyth, 1855): আসামে ব্রহ্মপুত্র নদীর দক্ষিণ থেকে উত্তর মিয়ানমার (আরাকান প্রদেশ) পর্যন্ত এদের বিস্তৃতি
  5. A. r. rufogularis (Blyth, 1849): ভারতের উত্তর প্রদেশ থেকে আসাম, বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটান এর মূল বাসস্থান
  6. A. r. tickelli (Hume, 1880): দক্ষিণ ও পূর্ব মিয়ানমার, থাইল্যান্ড ও দক্ষিণ-পশ্চিম লাওস।

বিবরণ[সম্পাদনা]

দেখতে এরা বটেরার (কোয়েল) মত, তবে বড়। পিঠ হলদে সবুজাভ ধূসর। পিঠের দিকে একটু লালচে ভাবও রয়েছে। পেট ও পার্শ্বদেশ ধূসর, রক্তিম নয়। চোখ ও পা লালচে। পিঠ আঁশের মত পালক দ্বারা আবৃত। ডানার পালকে দু'টি সাদা ও কালো গোলাকার ফোঁটার ডোরা থাকে। এছাড়া ডানার পালকে সাদা ছোট ছোট ফোঁটা দেখা যায়। গলায় একটু কালো অংশ দেখা যায় যাতে লাল ছোট ছোট ফোঁটা থাকে। চোখ কালো। চোখের চারপাশে হালকা সাদা বর্ণের মোটা দাগ থাকে। এদের দৈর্ঘ্য কমবেশি ২৭ সেন্টিমিটার।[১]

অস্তিত্বের সংকট[সম্পাদনা]

ব্যাপকহারে আবাসন ধ্বংস ও বনাঞ্চল কেটে চাষাবাদের ফলে পাহাড়ি তিতিরের অস্তিত্ব সর্বত্রই হুমকির মুখে পড়েছে। এছাড়া মাংসের জন্য শিকারও এদের অস্তিত্ব-ঝুঁকির অন্যতম কারণ।

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. ১.০ ১.১ বাংলাদেশের পাখি, রেজা খান, বাংলা একাডেমী, ঢাকা (২০০৮), পৃ. ৩২৯।
  2. ২.০ ২.১ Arborophila rufogularis, The IUCN Red List of Threatened Species এ পাহাড়ি তিতির বিষয়ক পাতা।
  3. Rufous-throated Hill-partridge (Arborophila rufogularis), The Internet Bird Collection এ পাহাড়ি তিতির বিষয়ক পাতা।

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]