পাইরেটস অফ দ্য ক্যারিবিয়ান: অ্যাট ওয়ার্ল্ড’স এন্ড
| পাইরেটস অফ দ্য ক্যারিবিয়ান: অ্যাট ওয়ার্ল্ড’স এন্ড |
|
|---|---|
| পরিচালনা | গোর ভারবিনস্কি |
| প্রযোজনা | জেরি ব্রুখাইমার |
| চলচ্চিত্ররূপ | টেড এলিয়ট টেরি রোজিও চরিত্র: টেড এলিয়ট টেরি রোজিও স্টুয়ার্ট বেটি জে ওলপার্ট |
| শ্রেষ্ঠাংশে | জনি ডেপ অরল্যান্ডো ব্লুম কিরা নাইটলি চো উন-ফ্যাট জিওফ্রে রাশ বিল নাই নেওমি হ্যারিস টম হল্যান্ডার স্টেলান স্কারসগার্ড জ্যাক ডেভেনপোর্ট |
| সঙ্গীত | হ্যান্স জিমার |
| চিত্রগ্রহণ | ড্যারিয়াস ভোলস্কি |
| সম্পাদনা | স্টিফেন ই. রিভকিন ক্রেইগ উড |
| বিপণন | ওয়াল্ট ডিজনি পিকচার্স |
| মুক্তির তারিখ | ২৪ মে, ২০০৭ |
| দৈর্ঘ্য | ১৬৮ মিনিট |
| দেশ | যুক্তরাষ্ট্র |
| ভাষা | ইংরেজি |
| বাজেট | ৩০ কোটি ডলার[১] |
| সর্বমোট আয় | ৯৬,০৯,৯৬,৪৯২ ডলার[১] |
| পূর্বসূরী | পাইরেটস অফ দ্য ক্যারিবিয়ান: ডেড ম্যান’স চেস্ট |
| উত্তরসূরী | পাইরেটস অফ দ্য ক্যারিবিয়ান: অন স্ট্রেঞ্জার টাইডস |
পাইরেটস অফ দ্য ক্যারিবিয়ান: অ্যাট ওয়ার্ল্ড’স এন্ড (ইংরেজি: Pirates of the Caribbean: At World's End) হচ্ছে ২০০৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি অ্যাডভেঞ্চার চলচ্চিত্র, এবং পাইরেটস অফ দ্য ক্যারিবিয়ান চলচ্চিত্র ধারাবাহিকের তৃতীয় চলচ্চিত্র। এখানে দেখা যায়, উইল টার্নার, এলিজাবেথ সোয়ান, এবং ব্ল্যাক পার্ল-এর নাবিকরা ডেভি জোন্স’স লকার থেকে ক্যাপ্টেন জ্যাক স্প্যারোকে রক্ষা করছে, এবং তারপর তাঁরা লর্ড কাটলার বেকেট ও ডেভি জোন্সের (বিলি নাই) নেতৃত্বাধীন ইস্ট ইন্ডিয়া ট্রেডিং কোম্পানির সাথে যুদ্ধে উপনীত হয়। পূর্বের দুইটি চলচ্চিত্রের মতোই গোর ভারবিনস্কি এই চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেন। ২০০৫ ও ২০০৬ সালে দুই বারে এই চলচ্চিত্রটির কাজ হয়। পূর্বের পাইরেটস অফ দ্য ক্যারিবিয়ান: ডেড ম্যান’স চেস্ট চলচ্চিত্রটির সাথে একই সাথে এটির কাজ চলছিলো।
ওয়াল্ট ডিজনি মুক্তির সময় এগিয়ে আনায় চলচ্চিত্রটি ইংরেজিভাষী দেশগুলোতে মুক্তি পায় ২০০৭ সালের ২৪ মে। ছবিটির প্রতি সমালোচকদের প্রতিক্রিয়া ছিলো মিশ্র, কিন্তু বক্স অফিসে এটি ছিলো একটি সুপারহিট চলচ্চিত্র। এটি ছিলো ২০০৭ সালের সবচেয়ে ব্যাবসাসফল চলচ্চিত্র, যার বিশ্বব্যাপী আয় ছিলো ৯৬ কোটি মার্কিন ডলার। ডেড ম্যান’স চেস্ট-এর পর এটি পাইরেটস অফ দ্য ক্যারিবিয়ান চলচ্চিত্র ধারাবাহিকের দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্যবসাসফল চলচ্চিত্র। চলচ্চিত্রটি সেরা রূপসজ্জা ও ভিজুয়াল ইফক্টের জন্য দুইটি একডেমি পুরস্কারের মনোনয়ন পায়।
চলচ্চিত্রটির ডিভিডি, ও ব্লু-রে প্রচ্ছদ, সেই সাথে বাণিজ্যিক হোম ভিডিওতেও বলা হয়েছিলো পাইরেটস অফ দ্য ক্যারিবিয়ান ত্রয়ীর এটিই সর্বশেষ চলচ্চিত্র। কিন্তু পরবর্তীতে এই ধারাবাহিকের চতুর্থ চলচ্চিত্রের নির্মাণ কাজ শুরু হয়, যা বর্তমানে চলমান। এর নাম হবে, পাইরেটস অফ দ্য ক্যারিবিয়ান: অন স্ট্রেঞ্জার টাইডস, এবং এটি মুক্তি পাবার কথা ২০১১ সালের ২০ মে।
চলচ্চিত্র ইতিহাসে পাইরেটস অফ দ্য ক্যারিবিয়ান: অ্যাট ওয়ার্ল্ড’স এন্ড এখন পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাজেটের চলচ্চিত্র। এটি নির্মাণে ব্যায় হয়েছিলো প্রায় ৩০ কোটি মার্কিন ডলার।[২][৩]
পরিচ্ছেদসমূহ |
[সম্পাদনা] কাহিনীসংক্ষেপ
মহাসাগর নিয়ন্ত্রণ করতে লর্ড কাটলার বেকেট (টম হল্যান্ডার)নতুন নিয়ম করেন, যাতে দস্যুতার সাথে যুক্ত যে কাউকে মৃত্যুদণ্ড দেবার ক্ষমতা তিনি রাখেন। ডেভি জোন্সের হৃদপিণ্ড নিজের দখলে আনার মাধ্যমে বেকেট জোন্সকে নিজের হুকুম পালন করতে বাধ্য করে ও তাঁকে সকল জলদস্যু জাহাজ ধ্বংস করার নির্দেশ দেয়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দীরা হোয়েস্ট দ্য কালারস গান গাবার মাধ্যমে শিপরেক কোভের ব্রেদার্ন কোর্টের নয় জলদস্যু নেতাকে একত্রে মিলিত হওয়ার নিশানা দেয়। যদিও ক্যারিবীয় অঞ্চলের জলদস্যু নেতা ক্যাপ্টেন জ্যাক স্প্যারোর (জনি ডেপ) কখনোই কোনো উত্তরসূরী ছিলো না। তাই হেক্টর বারবোসার (জিওফ্রে রাশ) নেতৃত্বে উইল টার্নার (অরল্যান্ডো ব্লুম), এলিজাবেথ সোয়ান (কিরা নাইটলি), টিয়া ডালমা (নেওমি হ্যারিস), ব্ল্যাক পার্ল-এ করে জ্যাককে উদ্ধারে রওনা হয়। এ উদ্দেশ্যে তারা প্রথমে সিঙ্গাপুরে যাত্রা করে। কারণ দক্ষিণ চীন সাগরের জলদস্যু নেতা সাও ফ্যাংয়ের (চাও উন-ফ্যাট) কাছে ডেভি জোন্স লকারের একটি মানচিত্র আছে, এবং সেখানেই জ্যাক স্প্যারো বন্দী। এছাড়া উইল ফ্যাংয়ের সাথে এও চুক্তি করে যে, ফ্যাং জ্যাক স্প্যারোর বিনিময়ে উইলকে ব্ল্যাক পার্ল দিয়ে দেবে, এবং এর ফলে সে দ্য ফ্লাইং ডাচম্যান থেকে তার বাবা বুটস্ট্র্যাপ বিল টার্নারকে মুক্ত করতে পারবে।
[সম্পাদনা] কুশীলব
- জনি ডেপ — ক্যাপ্টেন জ্যাক স্প্যারো-এর ভূমিকায়।
- অরল্যান্ডো ব্লুম — উইলিয়াম টার্নার-এর ভূমিকায়।
- কিরা নাইটলি — এলিজাবেথ সোয়ান-এর ভূমিকায়।
- জিওফ্রে রাশ — হেক্টর বারবোসা-এর ভূমিকায়।
- বিল নাই — ডেভি জোন্স-এর ভূমিকায়।
- টম হল্যান্ডার — লর্ড কাটলার বেকেট-এর ভূমিকায়।
- জ্যাক ডেভেনপোর্ট — জেমস নরিংটন-এর ভূমিকায়।
- চাও উন-ফ্যাট — সাও ফ্যাং-এর ভূমিকায়।
- নেওমি হ্যারিস — টিয়া ডালমা/ক্যালিপসো-এর ভূমিকায়।
- স্টেলান স্কার্সগার্ড — বুটস্ট্র্যাপ বিল টার্নার-এর ভূমিকায়।
- কেভিন ম্যাকনেলি — জোশামি গিবস-এর ভূমিকায়।
- জোনাথন প্রাইস — গভর্নর ওয়েদার্বি সোয়ান-এর ভূমিকায়।
[সম্পাদনা] মুক্তি
বিশ্বব্যাপী অ্যাট ওয়ার্ল্ড’স এন্ড মুক্তি পায় ১৯ মে, ২০০৭ ডিজনিল্যান্ডে। এই স্থানটি ছিলো এই নামের চলচ্চিত্রটির থিম রাইড, এবং এটি রাইড-ই পরবর্তীতে চলচ্চিত্র নির্মাণে অনুপ্রাণিত করেছিলো। এছাড়া পূর্বের দুটো পর্বের অভিষেকও এখানে হয়েছিলো। টিকিট বিক্রির মাধ্যমে ডিজনিল্যান্ড কর্তৃপক্ষ সাধারণ দর্শকদেরও এই মুক্তিপ্রাপ্ত অনুষ্ঠান প্রত্যক্ষের সুযোগ করে দেয়। সেখানে প্রতি টিকিটের মূল্য ছিলো ১,৫০০ মার্কিন ডলার ও এই টিকিট বিক্রি থেকে প্রাপ্ত সমুদয় অর্থ মেক-আ-উইশ নামক একটি দাতব্য সংস্থায় দান করে দেওয়া হয়।[৪] মুক্তির কয়েক সপ্তাহ আগে ওয়াল্ট ডিজনি পিকচার্স চলচ্চিত্রটির মুক্তির তারিখ পূর্ব নির্ধারিত শুক্রবার, ২৫ মে, ২০০৭ থেকে পিছিয়ে এনে ২৪ মে, ২০০৭, বৃহস্পতিবার, রাত ৮টায় পুনর্নির্ধারণ করে।[৫] চলচ্চিত্রটি সমগ্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মোট ৪,৩৬২টি সিনেমা হলে মুক্তি পায়, এবং এর আগে স্পাইডারম্যান ৩-এর করা সবচেয়ে বেশি সিনেমা হলে মুক্তির রেকর্ড ভেঙে দেয়। ছবিটি স্পাইডারম্যান ৩-এর চেয়ে ১১০টি হলে বেশি মুক্তি পায়। যদিও পরবর্তী বছরেই দ্য ডার্ক নাইট এই রেকর্ডটি ভেঙে নতুন রেকর্ড তৈরি করে।[৬][৭]
[সম্পাদনা] সেন্সরশিপ
কমপক্ষে একটি দেশে এই চলচ্চিত্রটি সেন্সর করা হয়, এবং কিছু দৃশ্য চলচ্চিত্রটি থেকে বাদ দেওয়া হয়। বার্তা সংস্থা জিনহুয়ার ভাষ্যমতে, গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের স্টেট নিউজ এসেন্সি ছবিটির চীনে প্রচারিতব্য সংস্করণের সাও ফ্যাং সম্পর্কিত দৃশ্যের দশ মিনিট বাদ দিয়েছে। চাও চলচ্চিত্রটিতে মোট বিশ মিনিট ছিলেন। এই সেন্সরশিপের পক্ষে কোনো লিখিত কারণ প্রকাশ করা হয়নি। যদিও মৌখিকভাবে জানা গেছে যে, ঐ অংশটুকু চীনের মানুষের একটি নেতিবাচক আবহ ফুটিয়ে তোলায় তা বাদ দেওয়া হয়েছে।[৮]
[সম্পাদনা] তথ্যসূত্র
- ↑ ১.০ ১.১ http://boxofficemojo.com/movies/?id=piratesofthecaribbean3.htm
- ↑ Coyle, J., 2009. From 'Cleopatra' to 'Lord of the Rings,' 'Avatar' joins tradition of the Hollywood colossus. Los Angeles Times, [internet] 14 December. Available at http://www.latimes.com/entertainment/news/wire/sns-ap-us-film-risky-movies,0,2643825.story [Accessed 17 December 2009]. Archived at http://www.webcitation.org/5m6OlarMy.
- ↑ Waxman, S., 2007. ‘Pirates’ Haul So Far Estimated at $401 Million. The New York Times, [internet] 29 May. Available at http://www.nytimes.com/2007/05/29/movies/29pira.html [Accessed 9 December 2009].
- ↑ The Disneyland Report (2007-04-13). Disneyland announces sale of Pirates of the Caribbean: At World's End premiere tickets. প্রকাশক: DisneylandReport.com. http://www.disneylandreport.com/disneynews/070414-pirates-of-the-caribbean-at-worlds-end-premiere-tickets.html। সংগৃহীত হয়েছে: 2007-03-14.
- ↑ Dave McNary (2007-05-08). Disney moves up 'Pirates' opening. প্রকাশক: Variety. http://www.variety.com/article/VR1117964457.html?categoryid=13&cs=1। সংগৃহীত হয়েছে: 2007-05-11.
- ↑ Pirates Opens in Record # of Theaters. প্রকাশক: Comingsoon.net. 2007-05-24. http://www.comingsoon.net/news/movienews.php?id=20628। সংগৃহীত হয়েছে: 2007-05-25.
- ↑ Carl DiOrio (2008-07-16). "High expectations for 'Dark Knight'" (Registration required). The Hollywood Reporter. http://www.hollywoodreporter.com/hr/content_display/film/news/e3i7c9fb5e8533a7a9ca2cf7b5709cbba69। সংগৃহীত হয়েছে: 2008-07-17.
- ↑ China gives bald pirate the chop. প্রকাশক: Associated Press. 2007-06-15. http://www.cnn.com/2007/SHOWBIZ/Movies/06/15/china.pirates.ap/index.html। সংগৃহীত হয়েছে: 2006-06-15.
[সম্পাদনা] বহিঃসংযোগ
| উইকিউক্তিতে নিচের বিষয় সম্পর্কে সংগৃহীত উক্তি আছে:: পাইরেটস অফ দ্য ক্যারিবিয়ান: অ্যাট ওয়ার্ল্ড’স এন্ড |
- পাইরেটস অফ দ্য ক্যারিবিয়ান: অ্যাট ওয়ার্ল্ড’স এন্ড — প্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট
- পাইরেটস অফ দ্য ক্যারিবিয়ান: অ্যাট ওয়ার্ল্ড’স এন্ড — ইন্টারনেট মুভি ডেটাবেজ
- পাইরেটস অফ দ্য ক্যারিবিয়ান: অ্যাট ওয়ার্ল্ড’স এন্ড — অলমুভিজ
- পাইরেটস অফ দ্য ক্যারিবিয়ান: অ্যাট ওয়ার্ল্ড’স এন্ড — বক্স অফিস মোজো
- পাইরেটস অফ দ্য ক্যারিবিয়ান: অ্যাট ওয়ার্ল্ড’স এন্ড — রটেন টম্যাটোস
- পাইরেটস অফ দ্য ক্যারিবিয়ান: অ্যাট ওয়ার্ল্ড’স এন্ড — মেটাক্রিটিক
- ABC Feature Page for Pirates of the Caribbean: At World's End