পরমবীর চক্র

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরমবীর চক্র
Param veer chakra.gif

Param Vir Chakra.png
পরমবীর চক্র ও তার ফিতে
ভারত সরকার দ্বারা প্রদত্ত
ধরণ পদক
যোগ্যতা শুধুমাত্র সামরিক বাহিনী
কারণ "... যুদ্ধক্ষেত্রে ভূমিতে বা সমুদ্রে বা আকাশে শত্রুর সম্মুখীন হয়ে সর্বোচ্চ ও সুষ্পষ্ট সাহস বা দুঃসাহসী বীরত্ব এবং আত্মাহুতির জন্য"[১]
অবস্থা বর্তমান সময়ে প্রদত্ত
পরিসংখ্যান
সূচনা ২৬শে জানুয়ারী, ১৯৫০
প্রথম ৩রা নভেম্বর, ১৯৪৭
শেষ ৬ই জুলাই, ১৯৯৯
মোট প্রদত্ত ২১
মরণোত্তর ১৪
প্রাপক ২১
মান
উচ্চতর ভারতরত্ন (অসামরিক)
সমতুল্য অশোক চক্র পুরস্কার
নিম্নতর মহাবীর চক্র

পরমবীর চক্র ভারতের সর্বোচ্চ সামরিক পদকযুদ্ধক্ষেত্রে শক্রুর সম্মুখীন হয়ে অতুলনীয় সাহস ও আত্মত্যাগ প্রদর্শনের স্বীকৃতস্বরূপ এই পদক দেওয়া হয়। এই পদক মরণোত্তর দেওয়ার রীতি আছে এবং বহুক্ষেত্রেই তা দেওয়া হয়েছে।

১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি ভারতের রাষ্ট্রপতি পরমবীর চক্র চালু করেন। তবে পদকের কার্যকাল ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট থেকে শুরু বলে ধরা হয়। ভারতের সামরিক বাহিনীর যে কোনো শাখার সদস্যকে এই পুরস্কার দেওয়া যায়। এই পদকের স্থান ভারতের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান ভারতরত্নের ঠিক পরেই (১৯৮০ সালের ২৬ জানুয়ারি থেকে এই পদকক্রম কার্যকর হয়েছে)। স্বাধীন ভারতে এটি ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক সামরিক সম্মান ভিক্টোরিয়া ক্রসের পরিবর্তে চালু হয়। এই পদকপ্রাপ্তরা তাঁদের নামের পরে ইংরেজী P.V.C. (যা Param Vir Chakra-এর সংক্ষেপ) উপাধি ব্যবহার করতে পারেন। শান্তির সময় সাহস ও আত্মত্যাগ প্রদর্শনের জন্য প্রদত্ত অশোক চক্র পুরস্কার পরমবীর চক্রের সমতুল্য।

নকশা[সম্পাদনা]

ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু অ্যাডজুটেন্ট জেনারেল মেজর জেনারেল হীরা লাল অটলকে ভিক্টোরিয়া ক্রসের পরিবর্ত হিসেবে একটি পদক চালু করার দায়িত্ব দিলে হীরা লাল অটলের অনুরোধে সাবিত্রী খানোলকার এই পদকটির নকশা তৈরী করেন।ব্রোঞ্জের তৈরী ১.৩৭৫ ইঞ্চি (৩.৪৯ সেমি) ব্যাসের এই বৃত্তাকার পদকটির মাঝখানে রাষ্ট্রীয় প্রতীক অশোক চক্র এবং তার চারদিকে বজ্র খোদিত থাকে। এই পদকটি একটি অনুভূমিক দন্ড থেকে ঝোলানো থাকে। পদকের পেছনের দিকে পদ্মফুল এবং হিন্দী ও ইংরেজী ভাষায় পরমবীর চক্রে লেখাটি খোদিত।[২] ৩২ মিলিমিটার (১.৩ ইঞ্চি) দৈর্ঘ্যের একটি গোলাপী রঙের ফিতে দিয়ে এই পদকটি আটকানো থাকে। ঋষি দধীচির নিজের জীবন বিসর্জন দিয়ে অসুর নিধনের উদ্দেশ্যে বজ্র তৈরীর জন্য দেবতাদের নিজের অস্থিদানের পৌরাণিক কাহিনী থেকে পদকের নকশার চিন্তা করা হয়েছিল।[৩]

পদক প্রাপ্ত রেজিমেন্ট[সম্পাদনা]

২১জন পদকপ্রাপ্তদের মধ্যে ২০ জন ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং একজন ভারতীয় বিমানবাহিনীর সদস্য। দ্য গ্রেনেডিয়ার্স সর্বোচ্চ তিন বার এই পদক লাভ করে। গোর্খা রাইফেলসের তিনটি রেজিমেন্ট- ১ গোর্খা রাইফেলস, ৮ গোর্খা রাইফেলস১১ গোর্খা রাইফেলস প্রত্যেকে একবার করে মোট তিনবার এই পদক লাভ করে।

পুরষ্কার প্রাপকের তালিকা[সম্পাদনা]

নং নাম রেজিমেন্ট তারিখ স্থান মন্তব্য
IC-521 মেজর সোমনাথ শর্মা ৪র্থ ব্যাটালিয়ন, কুমায়ুন রেজিমেন্ট ৩রা নভেম্বর, ১৯৪৭ বাদগাম, কাশ্মীর মরণোত্তর
22356 ল্যান্স নায়েক করম সিং ১ম ব্যাটালিয়ন, শিখ রেজিমেন্ট ৩রা অক্টোবর, ১৯৪৮ তিথওয়াল, কাশ্মীর
SS-14246 সেকেন্ড লেফটেনেন্ট রাম রাঘোবা রাণে কর্পস অব ইঞ্জিনীয়ার্স ৮ই এপ্রিল, ১৯৪৮ নৌশেরা, কাশ্মীর
27373 নায়েক যদুনাথ সিং ১ম ব্যাটালিয়ন, রাজপুত রেজিমেন্ট ফেব্রুয়ারী, ১৯৪৮ নৌশেরা, কাশ্মীর মরণোত্তর
2831592 কোম্পানি হাবিলদার মেজর পীরু সিং শেখাওয়াত ৬ষ্ঠ ব্যাটালিয়ন, রাজপুতানা রাইফেলস ১৭ই ও ১৮ই জুলাই, ১৯৪৮ তিথওয়াল, কাশ্মীর মরণোত্তর
IC-8947 ক্যাপ্টেন গুরবচন সিং সালারিয়া ৩য় ব্যাটালিয়ন, ১ গোর্খা রাইফেলস ৫ই ডিসেম্বর, ১৯৬১ এলিজাবেথভিলা, কাটাঙ্গা, কঙ্গো মরণোত্তর
IC-7990 মেজর ধন সিং থাপা ১ম ব্যাটালিয়ন, ৮ গোর্খা রাইফেলস ২০শে অক্টোবর, ১৯৬২ লাদাখ
JC-4547 সুবেদার যোগিন্দর সিং ১ম ব্যাটালিয়ন, শিখ রেজিমেন্ট ২৩শে অক্টোবর, ১৯৬২ তোংপেন গিরিবর্ত্ম, নর্থ ইস্ট ফ্রন্টিয়ার এজেন্সী মরণোত্তর
IC-7990 মেজর শয়তান সিং ১৩শ ব্যাটালিয়ন, কুমায়ুন রেজিমেন্ট ১৮ই নভেম্বর, ১৯৬২ রেজাং গিরিবর্ত্ম মরণোত্তর
2639885 কোম্পানি কোয়ার্টার মাস্টার হাবিলদার আব্দুল হামিদ ৪র্থ ব্যাটালিয়ন, দ্য গ্রেনেডিয়ার্স ১০ই সেপ্টেম্বর, ১৯৬৫ খেম করন মরণোত্তর
IC-5565 লেফট্যানেন্ট কর্ণেল আর্দেশির বুরজোরজি তারাপোর ১৭ পুনা হর্স ১৫ই অক্টোবর, ১৯৬৫ ফিলোরা, সিয়ালকোট সেক্টর মরণোত্তর
4239746 ল্যান্স নায়েক অ্যালবার্ট এক্কা ১৪শ ব্যাটালিয়ন, ব্রিগেড অব দ্য গার্ডস ৩রা ডিসেম্বর, ১৯৭১ গঙ্গাসাগর, আগরতলা সেক্টর মরণোত্তর
10877 F(P) ফ্লাইং অফিসার নির্মলজিৎ সিং শেখোঁ ১৮ নং স্কোয়াড্রন, ভারতীয় বিমানবাহিনী ১৪ই ডিসেম্বর, ১৯৭১ শ্রীনগর, কাশ্মীর মরণোত্তর
IC-25067 লেফটেনেন্ট অরুণ ক্ষেত্রপাল ১৭ পুনা হর্স ১৬ই ডিসেম্বর, ১৯৭১ বড়াপিন্ড-জরপাল, শকরগড় সেক্টর মরণোত্তর
IC-14608 মেজর হোশিয়ার সিং ৩য় ব্যাটালিয়ন, দ্য গ্রেনেডিয়ার্স ১৭ই ডিসেম্বর, ১৯৭১ বসন্তার নদী, শকরগড় সেক্টর
JC-155825 নায়েব সুবেদার বানা সিং ৮ম ব্যাটালিয়ন, জম্মু কাশ্মীর লাইট ইনফ্যান্ট্রি ২৩শে জুলাই,, ১৯৮৭ সিয়াচেন হিমবাহ
IC-32907 মেজর রামস্বামী পরমেশ্বরন ৮ম ব্যাটালিয়ন, মেহর রেজিমেন্ট ২৫শে নভেম্বর, ১৯৮৭ শ্রীলঙ্কা মরণোত্তর
IC-56959 ক্যাপ্টেন মনোজ কুমার পান্ডে ১ম ব্যাটালিয়ন, ১১ গোর্খা রাইফেলস ৩রা জুলাই, ১৯৯৯ খালুবের টপ, বাটালিক সেক্টর, কার্গিল মরণোত্তর
2690572 যোগেন্দ্র সিং যাদব ১৮শ ব্যাটালিয়ন, দ্য গ্রেনেডিয়ার্স ৪ঠা জুলাই, ১৯৯৯ টাইগার হিল, কার্গিল
13760533 রাইফেলম্যান সঞ্জয় কুমার ১৩শ ব্যাটালিয়ন, জম্মু কাশ্মীর রাইফেলস ৫ই জুলাই, ১৯৯৯ এরিয়া ফ্ল্যাট টপ, কার্গিল
IC-57556 ক্যাপ্টেন বিক্রম বাত্রা ১৩শ ব্যাটালিয়ন, জম্মু কাশ্মীর রাইফেলস ৬ই জুলাই, ১৯৯৯ পয়েন্ট ৫১৪০, পয়েন্ট ৪৮৭৫, কার্গিল মরণোত্তর

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]