নাজকার রেখাসমূহ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

স্থানাঙ্ক: ১৪°৪৩′০০″ দক্ষিণ ৭৫°০৮′০০″ পশ্চিম / ১৪.৭১৬৬৭° দক্ষিণ ৭৫.১৩৩৩৩° পশ্চিম / -14.71667; -75.13333

Lines and Geoglyphs of Nazca and Pampas de Jumana
UNESCO BLUE LOGO.png  ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান  Welterbe.svg
বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী তালিকায় নাম হিসাবে তালিকাভুক্ত
This aerial photograph was taken by Maria Reiche, one of the first archaeologists to study the lines, in 1953.
দেশ পেরু
ধরন সাংস্কৃতিক
মানদণ্ড i, iii, iv
তথ্যসূত্র ৭০০
ইউনেস্কো অঞ্চল Latin America and the Caribbean
অভিলিখন ইতিহাস
অভিলিখন ১৯৯৪ (১৮তম সেশন)

নাজকার রেখাসমূহ (ইংরেজি: Nazca Lines) মূলত একদল আদিম ভূচিত্র (geoglyphs), যা দক্ষিণ পেরুর নাজকা মরুদ্যানে দেখা যায়। এই বিশালাকৃতির রেখা বা নকশাগুলো খ্রিস্টাব্দে ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যমন্ডিত স্থান হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়। গবেষকদের ধারণা এই নকশাগুলো ৪০০ থেকে ৬৫০ খ্রিস্টাব্দে তৈরি করেছিল নাজকা সংস্কৃতির মানুষেরা।[১]

নাজকার মরুদ্যান জুড়ে আঁকা এসব ভূচিত্রগুলো কিংবা আঁকিবুকিগুলো এতো বিশাল যে, আকাশ থেকে না দেখলে সেগুলোর অবয়ব বোঝা যায় না। মরুদ্যানের মাঝ বরাবর চলেছে একটি লম্বা সরলরেখা, যার দুপাশ বেয়ে একটা নির্দিষ্ট দূরত্ব পরপর গেছে কিছু সমান্তরাল রেখা। সেখানে রয়েছে বিপুলায়তন ত্রিভূজ, চতুর্ভুজ, আয়তক্ষেত্র, সামন্তরিক -এরকম অনেক জ্যামিতিক নকশা। এছাড়া আছে প্রায় একশো দেড়শো ফুট প্রশস্ত স্থানজুড়ে আঁকা নানারকম জন্তু-জানোয়ার, পাখি, পোকামাকড় ইত্যাদি। জ্যামিতিক নকশাগুলোর যেখানে রেখা টানা হয়েছে, সেগুলো একচুল এদিক-ওদিক না হয়ে চলে গেছে মাইলের পর মাইল অবধি। প্রতিটা রেখায়, নকশায় যেন অতি সূক্ষ্ম হিসাব রক্ষা করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রাণীর নকশার মধ্যে রয়েছে মাকড়সা, পাখি, নয় আঙ্গুলবিশিষ্ট বানর, মাছ এবং সরীসৃপজাতীয় প্রাণীদের বিরাট বিরাট প্রতিকৃতি।[২] এমনকি রয়েছে অনেক সামুদ্রিক মাছের (যেমন: তিমি) প্রতিকৃতি।

পেরুর ইনকা সভ্যতারও আগে সেখানে গড়ে উঠেছিল একটি কৃষিভিত্তিক সভ্যতা। অথচ সেখানে হাজার বছর ধরেও বৃষ্টি হয়নি- জায়গাটি অতিরিক্ত শুকনো। এই শুষ্কতাকে মার্কিন মহাকাশ গবেষকরা মঙ্গল গ্রহের ক্ষয়ের সমতুল্য বলে উল্লেখ করে থাকেন। আর এই অতিরিক্ত শুষ্কতার জন্যই এই নকশাগুলো এতো দীর্ঘদিন যাবত প্রায় অক্ষত অবস্থায় টিকে আছে।[২]

আবিষ্কারের প্রারম্ভলগ্ন থেকেই এসব ভূচিত্র নিয়ে গবেষক মহলে তৈরি হয়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মতবিরোধ। এদের মধ্যে কেউ কেউ দাবি করেছেন যে, এগুলো আদিম মহাকাশচারীদের তৈরি করা নিদর্শন, যেখানে তারা অবতরণের জন্য তৈরি করেছিল একটি রানওয়ে। যদিও কোনো প্রথম সারির বাস্তবিক গবেষকই এমন ভূয়োদর্শন যুক্তিতে ঠিক অটল থাকতে পারেননি। অনেক বিশেষজ্ঞ বিশ্বাস করেন যে, এই বিপুলায়তন প্রাণীর ও জ্যামিতিক নকশাগুলো মূলত বৃষ্টিকামনা এবং পূর্বসূরিদের আত্মার সাথে যোগাযোগের বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে করা হয়েছিল। তাদের ব্যাখ্যা হলো উর্ধ্বস্থিত ঈশ্বরকে দেখানোর জন্যই নাজকার আদিম অধিবাসীরা এমনটা করেছিলেন। এমনকি ২০০৪ খ্রিস্টাব্দের দিকেও ঐ অঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে অনুরূপ ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা পালনের রেওয়াজ দেখা যায়।[৩]

চিত্রসমূহ[সম্পাদনা]

হামিংবার্ড 
The Condor 
The Heron 
The "Giant" 
মাকড়সা 
রাজহাঁস 
কুকুর 
হাত 
বানর 

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Helaine Silverman, David Browne (1991)। "New evidence for the date of the Nazca lines"Antiquity 65 (247): 208–220 
  2. ২.০ ২.১ নাজকার নকশা, এখনও রহস্য, আলী ইমাম, কাকলী প্রকাশনী, ৩৮/৪ বাংলাবাজার, ঢাকা থেকে প্রকাশিত। প্রকাশকাল: এপ্রিল ১৯৯২; সংগ্রহের তারিখ: ৬ অক্টোবর ২০১১ খ্রিস্টাব্দ।
  3. Questions and Answers about Anthropology, Brian Fagan, Anthropologist, University of California. প্রকাশিত হয়েছে: Encarta Encyclopedia 2004। সংযোজনের তারিখ: ৬ অক্টোবর ২০১১ খ্রিস্টাব্দ।

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

টেমপ্লেট:World Heritage Sites in Peru