নাইজেল শর্ট

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
নাইজেল শর্ট
Nigel Short 2005 without glasses.jpg
পূর্ণ নাম নাইজেল ডেভিড শর্ট
দেশ ইংল্যান্ড
জন্ম (১৯৬৫-০৬-০১) ১ জুন ১৯৬৫ (বয়স ৪৮)
লেই, গ্রেটার ম্যানচেস্টার, ইংল্যান্ড
খেতাব গ্র্যান্ডমাস্টার
ফিদে রেটিং ২৬৯৮
(৪৫তম, আগস্ট, ২০১২ পর্যন্ত ফিদে বিশ্ব র‌্যাঙ্কিং)
এলো রেটিং ২৭১২ (এপ্রিল, ২০০৪)

নাইজেল ডেভিড শর্ট, এমবিই (ইংরেজি: Nigel Short, জন্ম: ১ জুন, ১৯৬৫) বিংশ শতকের সবচেয়ে শক্তিশালী ইংরেজ দাবা খেলোয়াড় হিসেবে স্বীকৃত। ১৯ বছর বয়সেই তিনি গ্র্যান্ডমাস্টার খেতাবে অভিষিক্ত হন। ১৯৯৩ সালে বিশ্ব দাবা চ্যাম্পিয়নশীপে গ্যারী কাসপারভের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ের দাবা প্রতিযোগিতাগুলোয় তিনি এখনও সক্রিয়। দাবা খেলার উপর নিয়মিতভাবে লেখালেখি করে থাকেন। এছাড়াও তিনি কোচভাষ্যকার হিসেবে পরিচিত দাবা ব্যক্তিত্ব।

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

ল্যাংকাশায়ারের লেইয়ে জন্মগ্রহণকারী নাইজেল শর্ট এথার্টন এলাকায় শৈশবকাল অতিবাহিত করেন। বোল্টন ওল্ড রোডে অবস্থিত সেন্ট ফিলিপ'স প্রাইমারী স্কুলে পড়াশোনা করেন। এরপর তিনি বোল্টন স্কুল এবং লেই কলেজে অধ্যয়ন করেন। সেখানে তিনি এথারটন চেজ ক্লাব ও বোল্টন চেজ ক্লাবের সদস্য ছিলেন। তন্মধ্যে এথারটন চেজ ক্লাবটি তাঁর বাবা ডেভিড কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। শুরুতে বয়স কম থাকায় (৭ বছর) বোল্টন চেজ ক্লাবের সদস্য করতে অনীহা প্রকাশ করেছিল ক্লাব কর্তৃপক্ষ।[১]

নাইজেল শর্ট বর্তমানে গ্রীসের এথেন্সে অবস্থান করছেন। সেখানে তিনি নাট্যকর্মী রিয়া আর্গিরো কারাগিওর্গিও (Ρέα Αργυρώ Καραγεωργίου)-কে বিয়ে করেন। এ দম্পতির দুইটি সন্তান রয়েছে। স্ত্রী এবং কিভেলি এলিকি (Κυβέλη Αλίκη), নিকোলাস ডারউইন (Νικόλαος Δαρβίνος) - এ দুই সন্তানকে নিয়ে কয়েক বছর ধরে পারিবারিক সান্নিধ্যে রয়েছেন।[২]

সাফল্য গাঁথা[সম্পাদনা]

শর্টের সেরা অর্জন হিসেবে ছিল ১৯৯২ সালের ক্যান্ডিডেটস টুর্ণামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়া। ১৯৫০ সালে প্রবর্তিত এ প্রতিযোগিতায় তিনি বরিস গেলফেন্ড, আনাতোলি কারপভ এবং জেন টিমম্যানের ন্যায় বিশ্ব পর্যায়ের দাবাড়ুদেরকে পরাভূত করা। এরফলে তিনি ১৯৯৩ সালে লন্ডনে অনুষ্ঠিত বিশ্ব দাবা চ্যাম্পিয়নশীপে গ্যারি কাসপারভের মুখোমুখি হন। কিন্তু কাসপারভ তাঁকে পরাজিত করে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের মর্যাদা অক্ষূণ্ন রাখেন। তাদের মধ্যকার খেলাগুলো বেশ বিতর্কের পরিবেশ সৃষ্টি করে এবং ফিদে থেকে বেরিয়ে পড়েন। এর প্রধান কারণ ছিল পুরস্কারের অর্থমূল্য[৩]

১৭ বছর বয়সে ১৯৮৩ সালে প্লভদিভে আয়োজিত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের লক্ষ্যে ইউরোটিমে আন্তর্জাতিকভাবে অভিষেক ঘটান। ইংল্যান্ডের পক্ষ হয়ে নিয়মিতভাবে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অদ্যাবধি অংশ নিচ্ছেন। এ পর্যন্ত তিনি ২১ বার ইংল্যান্ডের পক্ষ হয়ে দাবা অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণ করেছেন। উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে আরো রয়েছে - দলগতভাবে ১৯৮৪ থিসালোনিকি ও ১৯৮৬ দুবাই দাবা অলিম্পিয়াডে রৌপ্যপদক লাভ। তন্মধ্যে সেরা ব্যক্তিগত প্রদর্শনে স্বর্ণপদক লাভ করেছিলেন। ইংল্যান্ড দাবা দলের সদস্যরূপে তিনি দলকে বিশ্ব দলগত চ্যাম্পিয়নশীপের ১৯৮৫ ও ১৯৮৯ সালের আসরে ব্রোঞ্জপদক এবং ১৯৯৭ সালে ৪র্থ স্থান অর্জন করতে সহায়তা করেছিলেন।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]