দূর্গাপুর উপজেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
দূর্গাপুর
উপজেলা
দূর্গাপুর উপজেলা বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
দূর্গাপুর
দূর্গাপুর
বাংলাদেশে অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২৫°৭.৫′ উত্তর ৯০°৪১.৩′ পূর্ব / ২৫.১২৫০° উত্তর ৯০.৬৮৮৩° পূর্ব / 25.1250; 90.6883
রাষ্ট্র  বাংলাদেশ
বিভাগ ঢাকা বিভাগ
জেলা নেত্রকোনা জেলা
আয়তন
 • মোট ২৯৩.৪২
জনসংখ্যা (১৯৯১)
 • ঘনত্ব ৫৭৬
সময় অঞ্চল বিএসটি (ইউটিসি+৬)
ওয়েবসাইট দূর্গাপুরের সরকারী মানচিত্র

দুর্গাপুর উপজেলা (ইংরেজিঃ Durgapur Upazila) বাংলাদেশের ঢাকা বিভাগের নেত্রকোনা জেলার একটি উপজেলা।

অবস্থান[সম্পাদনা]

নেত্রকোনা জেলার সর্ব উত্তরে ভারতের মেঘালয়ের গারো পাহাড়ের কোল ঘেসে নিরব দাড়ীয়ে ছোট্ট জনপদ দুর্গাপুর। একপাশে ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলা অন্য পাশে গারো পাহাড় আর উপত্যকা দিয়ে ঘেরা ভারতের মেঘালয় পুর্বে নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা উপজেলা। আর দক্ষিণে পুর্বধলা উপজেলা

ইতিহাস[সম্পাদনা]

১২৮০ খ্রীষ্টাব্দে মেঘালয়ের পূর্ব অংশে সু-সঙ্গ নামে এক পরগনার গোরা পত্তন হয়। অভিযাত্রী মার্কোপোলো তাঁর অভিযানের এক পর্যায়ে যখন তাঁতার সাম্রাজ্যের সম্রাট কুবলাই খাঁর দরবারে তখনই আরেক অভিযাত্রী সোমেশ্বর পাঠক মতান্তরে সোমনাথ পাঠক ভারতের কান্যকুব্জ থেকে ১২৮০ খৃষ্টাব্দ (৬৮৬ বঙ্গাব্দ মাঘ মাস) পূর্ব ময়মনসিংহের উত্তরভাগ ‍‍'পাহাড় মুল্লুকে' প্রচুর সঙ্গীসাথী সহ কামরূপ ভ্রমণের লক্ষে্য বর্তমান দশভূজা বাড়ির প্রাঙ্গনে অশোক বৃক্ষের নিচে বিশ্রামের জন্য যাত্রাবিরতি করেন। অত্র 'পাহাড় মুল্লুক' ছিল বৈশ্য গারো নামে গারোদের প্রবল পরাক্রমশালী এক নকমা (প্রধান) এর অধীন। সোমেশ্বর পাঠক তাকে যুদ্ধে পরাস্ত করে সু-সঙ্গ অর্থাৎ ভাল সঙ্গ নামে এক সামন্ততান্ত্রিক রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। এই সোমেশ্বর পাঠকই সুসঙ্গ রাজবংশের আদি পুরুষ। পরবর্তী তিন'শ বছর এই বংশের রাজ পুরুষগণ বহু উপাধী বদলিয়ে অবশেষে সিংহ উপাধী ধারণ করেন। এই রাজবংশের যোগ্য উত্তরসূরী মল্লযোদ্ধা এবং প্রখর কুটনৈতিক জ্ঞানের অধিকারী রাজা রঘুনাথ সিংহ মোঘল সম্রাট আকবরের সিংহাসনোরাহনের পর তাঁর সাথে এক চুক্তি করেন। এই চুক্তির অংশ হিসেবে রাজা রঘুনাথ সিংহকে মানসিংংহ এর পক্ষে বিক্রমপুরের চাঁদ রায়, কোদার রায় এর বিপক্ষে যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করতে হয়। যুদ্ধে চাঁদ রায়, কেদার রায় পরাস্ত হলে রাজা রঘুনাথ সেখান থেকে অষ্ট ধাতুর এক দুর্গা প্রতিমা নিয়ে আসেন এবং রাজ মন্দিরে স্থাপন করেন যা আজো দশভূজা মন্দির নামে সুপরিচিত। তখন থেকেই সু-সঙ্গের সাথে দুর্গাপুর যোগ করে এই অঞ্চলের নামকরণ হয় সুসঙ্গ দুর্গাপুর।ঊনবিংশ শতাষ্ব্দির শেষ দিকে হাজংদের হাতির খেদায় বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করানোর প্রতিবাদে হাজং নেতা মনা সর্দার নেত্রিত্বে হাজং বিদ্রোহ সংঘটিত হয়। ১৯৪২-৪৩ সালে কমরেড মণি সিংহর নেত্রিত্বে টংক আন্দোলন পরিচালিত হয়। ১৯৪৬-৪৭ সালে তাঁর নেত্রিত্বে তেভাগা আন্দোলন শুরু হয়। পরে আন্দোলন সারা পশ্চিমবঙ্গে ছড়িয়ে পরে।

প্রশাসনিক এলাকা[সম্পাদনা]

এর আয়তন ২৯৩.৪২ বর্গ কিমিঃ উপজেলা শহর ৯টি ওয়ার্ড, এবং ২৭ টি মহল্লা নিয়ে গঠিত। বাংলাদেশের অন্যতম পর্যটনস্থল বিরিশিরি এই উপজেলায় অবস্থিত।

জনসংখ্যার উপাত্ত[সম্পাদনা]

মোট জনসংখ্যাঃ ১৭৩৩৫৪(সর্বশেষ হালনাগাদ), পুরুষঃ ৫০.৮৯% মহিলাঃ ৪৯.৫১। মুসলমান ৮০%, হিন্দু ১২% খ্রিষ্টান এবং আদিবাসী ৮%, গারো এবং হাজং নামক দুটি আদিবাসী সম্প্রদায় রয়েছে। এরা সর্বমোট ৮৫০ টি পরিবার এখনো বিদ্যমান। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানঃ মসজিদ ২৬৭, মন্দির ২২, গির্জা ৫।

শিক্ষা[সম্পাদনা]

শিক্ষার হার গড় ৩৩%, তন্মধ্যে নারী শিক্ষার হার ২৮%। প্রাথমিক বিদ্যালয়ঃ ৫৮ টি (সরকারি) ৭০ টি (বেসরকারি), মাধ্যমিক ২৮ টি বালিকা বিদ্যালয়ঃ ৮ টি

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

কৃষি প্রধান দুর্গাপুর উপজেলার অর্থনীতির মুল চাকা টি গ্রামীন কৃষকদের হাতেই। দুর্গাপুর উপজেলার মোট জনগোষ্ঠীর ৪৬.৭৩% কৃষিজীবি, ২৫.১৭% কৃষি শ্রমিক, ৮.৯৬% ব্যবসা, ২.৯১% চাকুরী ১.৭৭% মৎসজীবি, ৪.২৯% অকৃষি শ্রমিক, এবং অন্যান্য রয়েছে ১০.১৭।

চাষযোগ্য ভুমির পরিমাণ ১৮৯৬২.৩৬ হেক্টর, পতিত জমির পরিমাণ ৬৯৯.৭২ হেক্টর। সেচের আওতায় আবাদী জমির পরিমাণ ৭৬%।

বিশিষ্ট ব্যক্তি[সম্পাদনা]

হাজং নেতা মনা সর্দার, কমরেড মণি সিংহ,

কৃতী ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

কমরেড মনিসিংহ অধ্যাপক শহিদ আরজ আলি শহীদ বুদ্ধিজীবি যার স্বারক ডাক টিকিট ও একটি চলচ্চিত্র রয়েছে। আরজ আলী সরকার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বারী কমান্ডার। বীর মুক্তিযোদ্ধা সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত জালাল উদ্দিন তালুকদার, ভাষা সৈনিক প্রয়াত দিলীপ কুমার মজুমদার।

প্রধান নদনদী[সম্পাদনা]

সোমেস্বরী, কংশ, আত্রাই খালি (পুরাতন সোমেস্বরি)


নেত্রকোনা জেলা Flag of Bangladesh
উপজেলা/থানাঃ নেত্রকোনা সদর | মোহনগঞ্জ | মদন | খালিয়াজুড়ি | কেন্দুয়া | দূর্গাপুর | কলমাকান্দা | আটপাড়া | বারহাট্টা | পূর্বধলা