দুর্যোগ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
২০১৩ সালের ২৪-ই এপ্রিল সাভারের রানা প্লাজা ধস। এতে আড়াই হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয় এবং ১,২২৯ জন প্রাণ হারায়।

দূর্যোগ বা দুর্যোগ হচ্ছে প্রাকৃতিক অথবা মানব সৃষ্ট ক্ষতিকর দূর্ঘটনাবিশেষ। এরফলে বাহ্যিকভাবে ক্ষতিসাধন, জীবনহানি কিংবা পরিবেশগতভাবে ব্যাপক পরিবর্তন দেখা দেয়। দূর্যোগ বিভিন্নভাবে ও বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। তবে অধিকাংশ দূর্যোগই প্রকৃতির তাণ্ডবলীলায় সংঘটিত হয়। ভূমিকম্প, ঝড়, বন্যা, অগ্নিকাণ্ড, বিস্ফোরণ ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ের মাধ্যমে ঘটতে পারে। মানুষের জীবনহানিসহ সহায়-সম্পত্তি, ঘর-বাড়ী ধ্বংস, জমির ফসল নষ্ট হবার ফলে ব্যক্তির অর্থনৈতিক ও সামাজিক জীবনধারা, সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে এর প্রভাব পড়ে মারাত্মকভাবে। দূর্যোগের ফলে অনেক সময় ব্যক্তির মানসিক দৃষ্টিভঙ্গীরও পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে।

উন্নয়নশীল দেশগুলোই মূলতঃ দূর্যোগের প্রধান শিকারের পরিণত হচ্ছে। ৯৫ শতাংশেরও অধিক মৃত্যু উন্নয়নশীল দেশে দূর্যোগের মাধ্যমে সংঘটিত হয়। শিল্পোন্নত দেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি’র প্রায় ২০ গুণ বেশী প্রাকৃতিক দূর্যোগে ক্ষতি হয় উন্নয়নশীল দেশসমূহে।[১][২]

দূর্যোগ এর ইংরেজী শব্দ ডায়জেস্টার। এ শব্দটি প্রাচীন ইতালীয় ডায়জেস্ত্রো থেকে মধ্যযুগের ফরাসী ডেজাস্ত্রে থেকে উদ্ভূত হয়েছে। গ্রীক শব্দের শাখা ডায়জেস্টার এর অর্থ দাঁড়ায় মন্দ তারা যা জ্যোতিষশাস্ত্রে গ্রহের অসহযোগিতামূলক অবস্থানকে ব্যাখ্যা করে।[৩]

শ্রেণীবিভাগ[সম্পাদনা]

গবেষকগণ দূর্যোগ নিয়ে শতাব্দীকাল ধরে অধ্যয়ন চালিয়ে গেছেন। চল্লিশ বছরেরও বেশী সময় ধরে গবেষণা করে যাচ্ছেন। অধ্যয়নে একটি সাধারণ বিষয় হিসেবে মানুষের সৃষ্ট কর্মকাণ্ডেই দূর্যোগের প্রতিফলন ঘটেছে বেশী। মানুষ দূর্যোগ ব্যবস্থাপনায় যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেনি।[৪] তারা এ সকল দূর্যোগকে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়েছে। ক্ষতিকর বিষয়াবলী নিয়মিত আকার ধারণ করে প্রাকৃতিক কিংবা মনুষ্য-সৃষ্ট - এ দুইভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। অনেক সময় জটিল আকারের দূর্যোগগুলো কোন কারণ ছাড়াই সৃষ্ট হয় ও তা উন্নয়নশীল দেশসমূহে প্রায়শঃই দেখা যায়। সাধারণ দূর্যোগও অনেক সময় ধীরে ধীরে বৃহৎ আকার ধারণ করে ব্যাপক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যেমন: ভূমিকম্পের ফলে সুনামি’র কারণ হয়ে দাঁড়ায় ও উপকূলীয় এলাকায় বন্যার সৃষ্টি করে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]