দুরূদ
|
মুহাম্মাদ
(محمد) |
|
সাধারণ তথ্য
পরিবার
জীবনায়ন
মুহাম্মাদের দৃষ্টিকোন
দুরূদ
দৃষ্টিকোণ
|
দুরূদ বা দুরূদ শরীফ (ফার্সি: درود) হল একটি সম্ভাষণ যা মুসলমানরা নির্দিষ্ট বাক্যাংশ পড়ে ইসলামের শেষ পয়গম্বর মুহাম্মাদ (সা:)-এর শান্তির প্রার্থণা উদ্দেশ্যে পাঠ করা হয়ে থাকে। এটি একটি ফারসি শব্দ যা মুসলমানদের মুখে বহুল ব্যবহারের কারণে ১৭শ শতাব্দীতে বাংলা ভাষায় অঙ্গীভূত হয়ে যায়।বৃহত্তর অর্থে মুহাম্মদ (সা:)-এর প্রতি এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সন্তান-সন্ততি এবং সহচরদের প্রতি আল্লাহ্র দয়া ও শান্তি বর্ষণের জন্য প্রার্থনা করাই দুরূদ। দুরূদকে প্রায়ই সম্মানসূচকভাবে ইসলামী পরিভাষায় "দুরূদ শরীফ"ও বলা হয়ে থাকে।
মুহাম্মদ (সা:)-এর নাম উচ্চারণের সময় সর্বদা "সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম" (অর্থ: আল্লাহ'র শান্তি বর্ষিত হোক তাঁর উপর) বলা হয়, যা একটি দুরূদ। একটি দুরূদের অর্থ এরকম: "হে আল্লাহ, মুহাম্মদ (সা:)-এর প্রতি আপনি দয়া পরবশ হোন। তাঁর আলোচনা ও নামকে আপনি এই পৃথিবীর সকল আলোচনা ও নামের মাঝে সর্বোচ্চ স্থানে রাখুন।"
পরিচ্ছেদসমূহ |
সালাম [সম্পাদনা]
সালাম, (এছাড়াও উর্দুতে দুরূদ বা সালাম)[১] সাধারণতভাবে শান্তি বা দোয়া বা অভিবাদন হিসেবে অনুবাদ করা হয়।
কুরআনের সাক্ষ্য [সম্পাদনা]
স্বয়ং আল্লাহ এবং তাঁর ফেরেশতাগণ মুহাম্মদ (সা:)-এর প্রতি দুরূদ পাঠ করেন যা থেকে দুরূদ পাঠের গুরুত্ব অনুধাবন করা যায়। এ সম্পর্কে কুরআনে আল্লাহ তা'আলা সূরা আল আহযাব এ বলেনঃ
| “ | আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি রহমত প্রেরণ করেন। হে মুমিনগণ! তোমরা নবীর জন্যে রহমতের তরে দোয়া কর এবং তাঁর প্রতি সালাম প্রেরণ কর। --- সূরা আল আহযাব, আয়াত:৫৬[২] | ” |
দুরূদ পাঠের গুরুত্ব [সম্পাদনা]
তেমনি কোনো দোয়ার মধ্যে দুরূদ অন্তর্ভূত না থাকলে সেই দোয়া আল্লাহ্র কাছে পৌঁছায় না।[৩]। তিরমিযী শরীফে বর্ণিত হাদিস থেকে জানা যায়, মুহাম্মদ (সা:) বলেছেন,
| “ | সেই ব্যক্তি কৃপণ যার উপস্থিতিতে আমার নাম উচ্চারণ করা হয় অথচ সে আমার নামে দরুদ পড়ে না। | ” |
এজন্য "মুহাম্মদ" বলার বা শোনার সঙ্গে সঙ্গে "সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম" বলার রেওয়াজ সর্বত্র প্রচলিত।
দুরূদ পাঠের লাভ [সম্পাদনা]
বিভিন্ন হাদিসে দুরূদ পাঠের লাভ বর্ণিত হয়েছে। তন্মধ্যে বুখারী এবং মুসলিম শরীফের হাদিসে বর্ণিত আছে যে, প্রতিবার দরুদ শরীফ পড়ার বদৌলতে আল্লাহ, পাঠকারীর উপর ১০ বার দয়া করেন। জুম্মার দিনের লাভ প্রসঙ্গে মুহাম্মদ (সা:) বলেছেন,
| “ | তোমরা এদিনে আমার প্রতি বেশি পরিমাণে দুরূদ পাঠ করো। এ দুরূদে ফেরেস্তাগণ অংশগ্রহণ করে এবং এ দুরূদ আমার কাছে পেশ করা হয়।[৪][৫][৬] | ” |
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা:) থেকে বর্ণিত মুহাম্মদ (সা:) বলেছেন,
| “ | কিয়ামতের দিন সে ব্যক্তিই আমার সবচেয়ে নিকটবর্তী হবে, যে আমার উপর বেশি বেশি দুরূদ/সালাত পাঠ করে। | ” |
দুরূদের প্রকারভেদ [সম্পাদনা]
দুরূদ-ই-ইব্রাহীম [সম্পাদনা]
দুরূদ পাঠ নামাযের অংশ: নামাযের মধ্যে শেষবার বসা অবস্থায় দুরূদ পাঠ করতে হয়, যা দুরূদে ইব্রাহীম নামে পরিচিত। দুরূদ পাঠ করা না হলে নামাজ আল্লাহ্র দরবারে পৌঁছায় না।
"হে আল্লাহ! আপনি আমাদের নবী মুহাম্মাদ (সাঃ) ও তাঁর পরিজনের প্রতি রহমত বর্ষণ করুন, যেভাবে বর্ষণ করেছেন ইব্রাহীম (আঃ) ও তাঁর এর পরিজনের প্রতি, নিশ্চই আপনি প্রশংসিত ও সম্মানিত। হে আল্লাহ! আপনি বরকত নাযিল করুন, আমাদের নবী মুহাম্মাদ (সাঃ) ও তাঁর পরিজনের প্রতি যেভাবে আপনি বরকত নাযিল করেছেন ইব্রাহীম (আঃ) ও তাঁর এর পরিজনের প্রতি, নিশ্চই আপনি প্রশংসিত ও সম্মানিত।"[৭]
দুরূদ-ই-তুনাজ্জীনা [সম্পাদনা]
"হে আল্লাহ! তুমি আমাদের মহান নেতা হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ)-এর ও তাঁর বংশধরগণের উপর নানাভাবে রহমত নাযিল কর এবং এ দুরূদের উসিলায় আমাদেরকে সকল বিপদাপদ হতে মুক্তি দাও এবং আমাদের সকল ইচ্ছা পূর্ণ কর, সকল পাপ কাজ হতে আমাদেরকে পবিত্র রাখ এবং আমাদেরকে তোমার কাছে সম্মানের উচ্চসনে স্থান দাও এবং আমাদেরকে দুনিয়া ও আখিরাতে সকল প্রকার মঙ্গলের শেষ সীমায় পৌঁছে দাও, অবশ্যই তুমি সর্বশক্তিমান এবং সর্বোচ্চ দয়াবান, তোমার নিজ দয়ার আমাদের বাসনাসমূহ পূর্ণ কর।"
তথ্যসূত্র [সম্পাদনা]
- ↑ UN PAR DUROOD BHAIJO,UN PAR SALAAM BHAIJO
- ↑ সূরা আল আহযাব
- ↑ তিরমিযী শরীফ
- ↑ মাসিক মাদিনা, মে ২০১০, ঢাকা।
- ↑ ইসলামিক ফাউন্ডেশন পত্রিকা।
- ↑ মেশকাত শরীফ
- ↑ দুরূদ-ই-ইব্রাহিম