তিহার কেন্দ্রীয় কারাগার

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(তিহার জেল থেকে ঘুরে এসেছে)
তিহার কেন্দ্রীয় কারাগার
অবস্থান নতুন দিল্লি, ভারত
ধরন মুক্ত
নিরাপত্তা শ্রেণি সর্বোচ্চ
ধারণক্ষমতা ৫২০০
প্রতিষ্ঠা ১৯৫৮

তিহার কেন্দ্রীয় কারাগার (হিন্দি: तिहाड़ सेन्ट्रल क़ैदख़ाना, উর্দু: تہاڑ سینٹرل قیدخانہ) বা তিহার জেল বা তিহার আশ্রম (হিন্দি: तिहाड़ आश्रम, উর্দু: تہاڑ آشرم) ভারতের বৃহত্তম কারাগার। নতুন দিল্লিচাণক্যপুরী অঞ্চল থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে তিহার গ্রামে এই কারাগার অবস্থিত। কারাগারের পার্শ্ববর্তী অঞ্চল হরিনগর নামে পরিচিত।

কারেকশনাল ইনস্টিটিউট এই কারাগারের রক্ষণাবেক্ষণের কাজে নিযুক্ত। এই সংস্থার উদ্দেশ্য কারাবন্দীদের হাতের কাজ, শিক্ষা ও নিয়মনীতি সম্পর্কে অবহিত করে তাদের সমাজের সাধারণ নাগরিকে পরিণত করা। এই কারাবন্দীদের দ্বারা উৎপাদিত দ্রব্যের ব্র্যান্ডের নাম তিহার[১] সরকারিভাবে সর্বোচ্চ ৫২০০ বন্দী রাখার অনুমোদন থাকলেও, এই জেলের মোট বন্দীর সংখ্যা প্রায় ১২,০০০।[২]

পরিচ্ছেদসমূহ

ইতিহাস [সম্পাদনা]

তিহার গ্রামে তিহার জেল নির্মিত হয় ১৯৫৮ সালে। প্রথম দিকে এটি ছিল পাঞ্জাব রাজ্য পরিচালিত একটি সর্বোচ্চ নিরাপত্তার কারাগার। ১৯৬৬ সালে দিল্লি জাতীয় রাজধানী অঞ্চলের হাতে এই জেলের মালিকানা তুলে দেওয়া হয়। ১৯৮৪ সাল থেকে এই জেলে কিছু অতিরিক্ত সুযোগসুবিধার ব্যবস্থা করা হয় এবং এই জেলের ইংরেজি নাম পরিবর্তন করে তিহার প্রিজনস রাখা হয়। আদি তিহার জেলটি ছিল তেবাতিয়া জাটদের সম্পত্তি।

কারা-অধীক্ষক থাকাকালীন যখন এই জেলের এক্তিয়ার কিরণ বেদির হাতে ছিল, তখন তিনি এই জেলের একাধিক সংস্কার সাধন করেছিলেন। এই সময় জেলের নাম রাখা হয় তিহার আশ্রম। এছাড়াও তিনি জেলরক্ষী ও বন্দী উভয়ের জন্য বিপাসনা ধ্যান অনুষ্ঠানের প্রবর্তন করেন। এই জেলের এক বন্দী ইন্ডিয়ান অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস নামক ভারতের সর্বোচ্চ জনকৃত্যক নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।[৩]

বিখ্যাত বন্দী [সম্পাদনা]

আন্তর্জাতিক অপরাধী চার্লস সোবরাজ ১৯৮৬ সালের ১৬ মার্চ এই জেল থেকে পালিয়ে যান। অব্যবহিত কাল পরেই তাকে পুনরায় বন্দী করে তিহারে ফিরিয়ে আনা হয়। পালানোর জন্য তাঁর কারাবাসের মেয়াদ দশ বছর বৃদ্ধি করা হয়েছিল। ১৯৯৭ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি কারাবাসের মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে তিনি মুক্তি পান।

১৯৯৪ সালে ভারতে পাশ্চাত্য পর্যটক অপহরণের ঘটনায় অভিযুক্ত হয়ে ড্যানিয়েল পার্ল হত্যার আসামী আহমেদ ওমর সৈয়দ শেখ বেশ কয়েক বছর এই জেলে অতিবাহিত করেছিলেন।

২০০৮ সালে ৭ জুন সিবিআই ড্যানিয়েল টোপনো হত্যামামলার মূল অভিযুক্ত তথা অসমের তরুণ গগৈ মন্ত্রিসভার প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী রিপুন বোরাকে তিহার জেলে প্রেরণ করে।

তথ্যসূত্র [সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ [সম্পাদনা]