তিসিবিওস

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

তিসিবিওস[১] (গ্রিক ভাষায়: Κτησίβιος, ইংরেজি ভাষায়: Ctesibius বা টেসিবিয়াস, অন্য উচ্চারন ক্তিসিবিওস) (২৮৫-২২২ খ্রিস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত সক্রিয়) ছিলেন প্রাচীন মিশরের আলেকজান্দ্রিয়া শহরে বসবাসকারী একজন গ্রিক পদার্থবিজ্ঞানী, প্রকৌশলী এবং উদ্ভাবক। তাকে আলেকজান্দ্রিয়ার তিসিবিওস নামেও ডাকা হয়। তিনি প্রাচীন আলেকজান্দ্রিয়ার বিখ্যাত প্রকৌশল যুগের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব। তিনি ছিলেন একজন নাপিতের সন্তান। ধারণা করা হয় তিনিই প্রথম বাতাসের স্থিতিস্থাপকতা আবিষ্কার করেন। এছাড়া তিনি ঘনীভূত বাতাস ব্যবহার করে বেশ কিছু যন্ত্র উদ্ভাবন করেন। ঘনীভূত বাতাসের শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরের বিদ্যাকে Pneumatics বা বায়ুবিদ্যা বলা হয়। এজন্য অনেকে তাকে বায়ুবিদ্যার জনক বলেন। বাতাসের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে তিনি ফোর্স পাম্প এবং এক ধরণের গুলতি বানিয়েছিলেন।

তার সবচেয়ে বিখ্যাত কাজ জলঘড়ির উন্নতি সাধন। জলঘড়ি তিসিবিওসের অনেক আগে থেকেই প্রচলিত ছিল। সবচেয়ে সাধারণ জলঘড়ি দুটি পাত্রের মাধ্যমে কাজ করে। একটি পানিপূর্ণ পাত্র আরেকটি শূন্য পাত্রের একটু উপরে রাখা হয়, পানিপূর্ণ পাত্রের নিচের দিকে একটি ছিদ্র থাকে যা দিয়ে নিচের পাত্রে পানি পড়ে। নিচের পাত্রে পানির স্তর কতটুকু বৃদ্ধি পাচ্ছে তার মাধ্যমে সময় গণনা করা হয়। কিন্তু সমস্যা ছিল, এটি কোন ধ্রুব সময় গণক নয়। কারণ উপরের পাত্রে পানি বেশি থাকলে চাপ বেশি হবে এবং সে কারণে পানির বেগও বেশি হবে। কিন্তু উপরের পাত্রের পানির স্তর যত কমতে থাকবে পানির বেগও তত কমতে থাকবে। এ কারণে জলঘড়ির পানিকে সময়ের পরিমাপক হিসেবে ব্যবহার করলে বলতে হবে, সময় শুরুর দিকে বেশি দ্রুত চলে। এখান থেকেই বোধহয় "সময় গড়িয়ে যাচ্ছে" বা "সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে" (running out of time) বাগধারার উদ্ভব।[২] তো পানির মাধ্যমে ধ্রুব সময় পরিমাপের জন্য ক্তিসিবিওস উপরের পাত্রে পানির স্তর সর্বদা সমান রাখার কৌশল উদ্ভাবন করেন এবং এর মাধ্যমে ধীরে ধীরে জটিল থেকে জটিলতর জলঘড়ি নির্মাণ করেন। নিচের পাত্রের গায়ে পানির স্তর নির্দেশক কাঁটা জুড়ে দিয়ে তিনি সময় (ঘণ্টা, দিন, মাস, বছর) প্রদর্শনেরও ব্যবস্থা করেন।

তার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার হচ্ছে, হাইড্রলিস বা জল-অর্গ্যান (জলবাদ্যযন্ত্র)। এই বাদ্যযন্ত্রে অনেকগুলো অর্গ্যান নল থাকে যার ভেতর পানির ওজনের উপর ভিত্তি করে বাতাস প্রবাহিত করা হয়। ক্তিসিবিওসের কোন রচনা আমাদের হাতে এসে পৌঁছায়নি। তার কাজ সম্পর্কে জানা যায় কেবল অন্যদের, বিশেষ করে রোমান লেখক ভিত্রুভিয়ুস এবং আলেকজান্দ্রিয়ার হেরোনের লেখা পড়ে। কিন্তু এতে কোন সন্দেহ নেই যে, তিনি প্রকৌশলের এমন একটি ধারার ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন পরবর্তীতে যার চূড়ান্ত উৎকর্ষ সাধিত হয়েছে আলেকজান্দ্রিয়ার হেরোন এবং বিজান্তিওনের (বাইজান্টিয়াম বা বর্তমান ইস্তাম্বুল) ফিলোর মাধ্যমে।[৩]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Forvo.com-এ Κτησίβιος নামটির গ্রিক উচ্চারণ
  2. The Antikythera Mechanism: World's oldest computer, Ali Mcgrath ও Stuart Clarke পরিচালিত ও প্রযোজিত একটি প্রামাণ্য চিত্র
  3. Ctesibius Of Alexandria, এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা, ১৪ মার্চ ২০১৩ তারিখে সংগৃহীত