টেইলর সুইফট

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
টেইলর সুইফট
TaylorSwiftApr09.jpg
এপ্রিল ২০০৯-এ হ্যানা মনটানা: দ্য মুভি ছবির প্রিমিয়ারে সুইফট
প্রাথমিক তথ্যাদি
জন্ম নাম টেইলর অ্যালিসন সুইফট
ধরন কান্ট্রি,[১] পপ[২]
পেশা গায়ক-গীতিকার, গিটার বাদক, অভিনেত্রী
বাদ্যযন্ত্র ভোকাল, গিটার, পিয়ানো,[৩] ইউকালাইলি,[৪] ১২ তারের গিটার
কার্যকাল ২০০৬ – বর্তমান
লেবেল বিগ মেশিন রেকর্ডস
ওয়েবসাইট প্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট

টেইলর অ্যালিসন সুইফট (ইংরেজি: Taylor Alison Swift) (জন্ম: ১৩ ডিসেম্বর, ১৯৮৯) একজন গ্র্যামি এ্যাওয়ার্ড বিজয়ী মার্কিন কান্ট্রি সঙ্গীত শিল্পী,[১] গায়ক-গীতিকার, রেকর্ড প্রযোজক, এবং অভিনেত্রী। ২০০৬ সালে টেইলর সুইফট তার প্রথম গান “টিম ম্যাকগ্র” প্রকাশ করে, এরপর প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম একক অ্যালবাম টেইলর সুইফট যা রেকর্ডিং ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন অফ আমেরিকা কর্তৃক প্লাটিনাম প্রত্যায়ন পায়। ২০০৮ এর নভেম্বরে টেইলর সুইফট তার দ্বিতীয় অ্যালবাম ফিয়ারলেস প্রকাশ করে। ২০০৮ এর শেষে ফিয়ারলেসটেইলর সুইফট এর বিক্রয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় যথাক্রমে ২.১ এবং ১.৫ মিলিয়ন।[৫] ফিয়ারলেস অ্যালবামটি বিলবোর্ড ২০০ চার্টে ১১ সপ্তাহ ধরে (ধারাবাহিকভাবে নয়) শীর্ষস্থান দখল করেছিল,[৬] যা কোন অ্যালবাম ২০০০ সালের পর পারেনি। আমেরিকার ফোর্বস ম্যাগাজিনের র‌্যাঙ্কিং-এ সুইফটের অবস্থান ছিল ৬৯তম শক্তিমান তারকা যার আয়ের পরিমাণ ১৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।[৭] ২০০৯ সালে বিলবোর্ড সুইফটকে বর্ষসেরা শিল্পীর খেতাব প্রদান করে।[৮] ফিয়ারলেস ২০১০ সালের বর্ষসেরা অ্যালবাম হিসেবে গ্র্যামি পুরস্কার অর্জন করে।

২০০৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত অ্যালবামগুলো সবমিলিয়ে প্রায় প্রায় ৪০ লক্ষ কপি বিক্রি হয়, যা তাঁকে নিলসেন সাউন্ডস্ক্যানের জরিপ অনুসারে সে বছরে সবচেয়ে বেশি বিক্রিপ্রাপ্ত মার্কিন সঙ্গীতশিল্পীর মর্যাদা দেয়।[৯]

২০১২ সালে টেইলর সুইফট প্রকাশ করে তার চতুর্থ অ্যালবাম, রেড। তার পঞ্চম অ্যালবাম ১৯৮৯ ২৭ই ২০১৪ প্রকাশিত হবে।


প্রাথমিক জীবন[সম্পাদনা]

টেইলর সুইফটের জন্ম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যে। তাঁর বাবার নাম স্কট সুইফট, যে পেশায় একজন শেয়ার ব্যবসায়ী। সুইফটের মার নাম অ্যান্ড্রি। সুইফটের একটি ছোট ভাই আছে, নাম অস্টিন।[১০] সুইফট যখন চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ত, তখন সে একবার জাতীয় পর্যায়ে কবিতা আবৃতিতে পুরস্কার অর্জন করে। সে যে কবিতাটা আবৃতি করেছিল তা ছিল তিন পৃষ্ঠার এবং এর শিরোনাম ছিল “মনস্‌টার ইন মাই ক্লোসেট”।[১১][১২]

টেইলর সুইফট এনবিসির স্থানীয় স্যাটারডে নাইট লাইভের একজন সদস্য ছিল। সে এ ব্যাপারে ছোটদের কমেডি গ্রুপ থিয়েটার কিডস্‌ লাইভ দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়। এসময় তাঁর হাস্যরসাত্মক চরিত্রাভিনেত্রীর প্রতিভা প্রস্ফুটিত হয়। কারাওকেতে সুইফটের কৃতিত্ব দেখে গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ক্রিক ক্রেমার তাঁর মাকে কান্ট্রি সঙ্গীতের সুইফটকে উপর শিক্ষা দেওয়ার পরামর্শ দেয়। এসময় ক্রেমার এক স্থানীয় দোকানে ছোটদের কারাওকে দিয়ে কান্ট্রি সঙ্গীতের আসরের আওয়োজন করে। প্রতি সপ্তাহের শেষ দিন রাত্রিতে এই আওয়োজন হত। এখানে সুইফট অসাধারণ নৈপুন্য প্রদর্শন করে। এরপর সুইফট প্রায়ই স্থানীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও সঙ্গীতের আসরে কান্ট্রি সঙীত গাইত। তাঁর প্রথম উল্লেখযোগ্য সঙ্গীতানুষ্ঠান ছিল একটি মেলাতে যেখানে স্থানীয় শিল্পী প্যাট গ্যারেট গান করে।[১৩]

গান লেখায় আগ্রহ[সম্পাদনা]

সুইফট এক কম্পিউটার মিস্ত্রির কাছ থেকে গিটার প্রথম তিন কর্ড বাজানো শেখে। এরপর সে তাঁর প্রথম গান “লাকি ইউ” রচনা করে।[১৪] সে নিয়মিত গান লিখত। এই কাজকে সে তাঁর স্কুলের প্রতি অনিচ্ছা প্রকাশের উপায় মনে করত। অন্য বাচ্চারা তাঁর সাথে খারাপ ব্যবহার করবে এই ভেবে সুইফট তাদেরকে নিয়েও গান লিখত।[১৫]

প্রারম্ভিক কর্ম[সম্পাদনা]

কানাডিয় কান্ট্রি সঙ্গীতশিল্পী শানায়া টোয়েইন টেইলর সুইফটকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করে।[১৬] এছাড়া সুইফট লিয়েন রাইমস, টিনা টারনার, ডলি পার্টন-এর গানও সুইফটকে প্রভাবিত করে। তাঁর দাদি ছিল পেশাদার অপেরা শিল্পী।[১৭] টেইলরের আগ্রহ ক্রমাগত কান্ট্রি সঙ্গীটের দিকে ঝুকে পড়ে এবং খ্যাতিমান কান্ট্রি সঙ্গীতশিল্পী প্যাটসি ক্লাইনের বিশেষ ভক্ত ছিল সে।[১৮]

১১ বছর বয়সে সুইফট তার কারাওকে দিয়ে গাওয়া সঙ্গীত বিতরণের মাধ্যমে কোন রেকর্ড কোম্পানির সাথে চুক্তির আশায় প্রথম নাশভিলে যায়। শহরের প্রায় প্রতিটি কোম্পানিতেই সে তার গাওয়া গান জমা দেয়[১৯] এবং সবাই তাকে ফিরিয়ে দেয়।[২০] পেনসিলভানিয়াতে ফেরার পর সুইফটকে ইউ.এস. ওপেন টেনিস ট্যুরনামেন্টে গান গাওয়ার জন্য বলা হয়। এ অনুষ্ঠানে সুইফট জাতীয় সঙ্গীট পরিবেশন করে যা মানুষের ব্যাপক দৃষ্টি আকর্ষণ করে।[২১] ১২ বছর বয়সে সুইফট ১২ স্ট্রিং-এর গিটারে গান গাওয়া আরম্ভ করে এবং তার গান লেখাও অব্যাহত রাখে। সে নিয়মিত নাশভিলে যেত এবং স্থানীয় গীতিকারদের সাথে গান লিখত। সে যখন ১৪ তে পা দিল, তখন তাঁর পরিবার নাশিভিলের উপশহর এলাকায় বসবাসের সিদ্ধান্ত নিল।[২২]

এরপর সুইফট নাশভিলের গীতিকারদের সম্মেলন স্থান, ব্লুবার্ড ক্যাফেতে সাথে গান লেখা আরম্ভ করলো। এখানে সুইফট স্কট বার্কেটের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হন। স্কট সুইফটকে তাঁর সদ্য প্রতিষ্ঠিত রেকর্ড কোম্পানি বিগ মেশিন রেকর্ডের সাথে চুক্তি সম্পন্ন করেন। ১৪ বছর বয়সে টেইলর সুইফটকে সনি মিউজিক পাবলিশিং গ্রুপ ভাড়া করে, সুইফটই সবচেয়ে কম বয়েসী যিনি এই সুযোগ পান।[২৩]

সঙ্গীত কর্মজীবন[সম্পাদনা]

২০০৬-২০০৮: টেইলর সুইফট[সম্পাদনা]

২০০৬ সালে একটি ক্যাফেতে টেইলর সুইফট গান পরিবেশন করছেন।

টেইলর সুইফট তাঁর প্রথম গান “টিম ম্যাকগ্রো” প্রকাশ করেন ২০০৬ সালে যা বিলবোর্ডের হট কান্ট্রি সং চার্টে ষষ্ঠ স্থান লাভ করে।[২৪] তাঁর নিজের নামে একক অ্যালবাম টেইলর সুইফট প্রকাশিত হয় ২০০৬ এর ২৪ অক্টোবর।[২৫] সুইফট এই অ্যালবামের বেশিরভাগ গান নিজে রচনা করেছিলেন, কিছু গান আবার আংশিক রচনা করেছিলেন। অ্যালবামটি বিলবোর্ড ২০০ চার্টে ১৯ তম স্থান লাভ করে এবং প্রকাশের প্রথম সপ্তাহেই এটি ৩৯০০০ কপি বিক্রি হয়।[২৬] পরবর্তিতে অ্যালবামটি বিলবোর্ড টপ কান্ট্রি অ্যালবাম চার্টে শীর্ষস্থান দখল করে এবং বিলবোর্ড ২০০ চার্টে পঞ্চম স্থান লাভ করে।[২৭] টপ কান্ট্রি অ্যালবাম চার্টে এটি আট সপ্তাহ ধরে অপরিবর্তিতভাবে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছিল[২৮] এবং ৯১ সপ্তাহের মধ্যে ২৪ সপ্তাহ অধারাবাহিকভাবে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছিল।[২৯] এই দশকে কেবল ডিক্সি চিক্স এবং কেরি আন্ডারউড ২০ বা ততোধিক সপ্তাহের বেশি শীর্ষস্থান ধরে রেখেছিল।[৩০] ২০০৮ সালের নভেম্বর নাগাদ, বিশ্বব্যাপী অ্যালবামটি ৩ মিলিয়নের বেশি বিক্রি হয় এবং অ্যালবামের একক সঙ্গীত ৭.৫ মিলিয়নেরও অধিকবার ইন্টারনেটে ডাউনলোদ করা হয়।[৩১]

মাইস্পেসে টেইলর সুইফটের গান ২০০ মিলিয়নেরও অধিক শোনা হয়েছে। বর্তমানে সে মাইস্পেসের সকল শাখার সঙ্গীতের মধ্যে শীর্ষস্থান অধিকারকারী শিল্পী।[৩২] ২০০৮ সালে মাইস্পেসে সুইফটকে অন্যান্য শিল্পীর চেয়ে বেশি খোঁজা হয়েছে।[৩৩] “টিম ম্যাকগ্রো” এর মিউজিক ভিডিও নাশভিলের কান্ট্রি সঙ্গীট ভিত্তিক কেবল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক গ্রেট অ্যামেরিকান কান্ট্রি-তে ভক্তদের নির্বাচনে সুইফট ধারাবাহিক ৩০ সপ্তাহ শীর্ষস্থান দখল করেছিল এবং তা সিএমটি টেলিভিশনের ভিডিও চার্টে প্রথম স্থান লাভ করেছিল। সিএমটি মিউজিক এ্যাওয়ার্ডে এই ভিডিওর জন্য সুইফট “ব্রেকথ্রু ভিডিও” এ্যাওয়ার্ড লাভ করেন।[৩৪] তারকা হিসেবে টেইলর সুইফটকে নিয়ে গ্রেট অ্যামেরিকান কান্ট্রিতে একটি প্রামাণ্য চিত্র্ প্রচার করা হয়।[৩৫] ২০০৭ এর মে মাসে এই গানটি অ্যাকাডেমি অফ কান্ট্রি মিউজিক এ্যাওয়ার্ডে পরিবেশন করেন এবং সাথে তিনি তাঁর নিজের পরিচয়ও শ্রোতাদের কাছে ব্যক্ত করেন। ২০০৭ এ কান্ট্রি সঙ্গীতের কনসার্টে সুইফট প্রথমবার সঙ্গীত পরিবেশন করেন।

২০০৭ এর অগাস্টে সুইফট “অ্যামেরিকা গট ট্যালেন্ট” এর শেষ পর্বে সঙ্গীত পরিবেশন করেন।[৩৬] টেইলর সুইফট অ্যালবামের দ্বিতীয় গান “টিয়ারড্রপ্স অন মাই গিটার” ২০০৭ এর ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয়। গানটি মূলত বিলবোর্ড চার্টে ২০০৭ এর মধ্যের দিকে ভাল অবস্থানে উঠে আসে। বিলবোর্ডের হট কান্ট্রি সংস চার্টে ২ নম্বর এবং বিলবোর্ড হট ১০০ চার্টে ৩৩ নম্বর অবস্থান লাভ করে। গানটির একটি পপ-রিমিক্স ভার্সন ২০০৭ এর শেষের দিকে প্রকাশিত হয়, এটি বিলবোর্ড হট ১০০ তালিকায় ১৩ এবং পপ গানের তালিকায় প্রথম অবস্থান লাভ করে। সুইফটের গান লেখার দক্ষতার জন্যে তাঁকে ২০০৭ সালের বর্ষসেরা সঙ্গীত-লেখকের পুরস্কার দেওয়া হয়। সুইফটই সবচেয়ে কম বয়েসী শিল্পী যে এই পুরস্কার লাভ করেন।[৩৭]

২০০৭ এর ৭ নভেম্বর সুইফট সিএমএ হরিযন এ্যাওয়ার্ড লাভ করেন। এই পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি “আওয়ার সং” গানটি পরিবেশন করেন। এই গানটি ২০০৭ এর ২২শে ডিসেম্বরে তালিকায় প্রথম স্থান লাভ করে। ১৯৯৮ সালের জানুয়ারির পর এটিই সুইফটের তালিকায় অবস্থানের ভিত্তিতে সবচেয়ে সফল সঙ্গীত।[৩৮] গানটি ছয় সপ্তাহ কান্ট্রি সঙ্গীতের তালিকায় প্রথম অবস্থানে ছিল। এছাড়া বিলবোর্ড হট ১০০ তালিকায় এটি ১৬তম অবস্থানে ছিল। সুইফট তাঁর প্রথম পরিবর্ধিত অ্যালবাম সাউন্ড অফ দ্য সিজন: দ্য টেইলর সুইফট হলিডে কালেকশন প্রকাশ করেন ২০০৭ এর ১৬ই অক্টোবর। এটি অবশ্য তাঁর প্রথম প্রকাশিত অ্যালবামের মত সফল হয়নি। তাওবে এই অ্যালবামের কেবল একটি গান “লাস্ট ক্রিস্টমাস” জনপ্রিয় হয়; অ্যালবামটিতে সুইফটের নিজের লেখা গানগুলো স্থান পেয়েছে। ২০০৮ সালের গ্র্যামি পুরস্কারের সফল নতুন শিল্পী বিভাগের জন্য মনোনীত হয়। কিন্তু ঐবার তিনি এ পুরস্কারটি অর্জন করতে পারেননি। তাঁর প্রথম অ্যালবামের চতুর্থ গান “পিকচার টু বার্ন” ২০০৮ এর প্রথমদিকে প্রকাশিত হয় এবং বিলবোর্ড কান্ট্রি সঙ্গীত তালিকায় ২০০৮ এর বসন্তে ৩ নম্বর অবস্থানে উঠে আসে।

২০০৮ এর ১৯শে মে বিগ মেশিন রেকর্ডস টেইলর সুইফটের একটি নতুন গান “শুড আই হ্যাভ সেইড নো” প্রকাশের ঘোষণা দেয়। গানটি সুইফটের প্রথম অ্যালবামের পঞ্চম এবং শেষ গান। সুইফট গানটি ৪৩তম অ্যানুয়াল অ্যাকাডেমি অফ কান্ট্রি মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস-এ পরিবেশন করেন।[৩৯] পরিবেশনের সময় তাঁর পরনে ছিল শার্ট এবং জিন্সের প্যান্ট, কিন্তু অল্প সময় পরেই সে তার জামা খুলে ফেলে এবং দেখা যায় যে তাঁর পরনে কাল পোশাক। গানের শেষ মুহূর্তে সুইফট মঞ্চের পিছনে জলপ্রপাতের নিকটবর্তি হন, তিনি চেয়েছিলেন পোশাকের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে গান পরিবেশন করতে। দশ বছর বয়স হতে তিনি এ উপায়ে গান পরিবেশন করতে চেয়েছিলেন।[৪০]

“শুড আই হ্যাভ সেইড নো” ছিল টেইলর সুইফটের অপর একটি সফল গান যা ২০০৮ এর ২৩শে আগস্ট বিলবোর্ড তালিকায় প্রথম স্থান লাভ করে। ২০০৮ এর জুনে অনুষ্ঠিত নাশিভিলের সিএমএ মিউজিক ফেস্টিভ্যাল-এ সুইফট একটানা আট ঘণ্টা ভক্তদের অটোগ্রাফ দিয়েছিলেন। ১৯৯৬ সালে জনপ্রিয় কান্ট্রি সঙ্গীতশিল্পী গার্থ ব্রুকসের একটানা ২৩ ঘণ্টা অটোগ্রাফ স্বাক্ষরের পরে এটিই সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ব্যাপী অটোগ্রাফ দেয়ার ঘটনা।[৪১] ২০০৮ এর গ্রীষ্মে সুইফট তাঁর পরবর্তি পরিবর্ধিত অ্যালবাম বিউটিফুল আইস প্রকাশ করেন, এটি কেবল ওয়ালমার্টে বিক্রিয় হয়েছিল।[৪২] এটি প্রকাশিত হোয়ার প্রথম সপ্তাহেই ৪৫০০০ কপি বিক্রয় হয়ে যায়। অ্যালবামটি বিলবোর্ডের টপ কান্ট্রি অ্যালবামের তালিকার শীর্ষে এবং বিলবোর্ড ২০০ তালিকার নবম অবস্থানে উঠে আসে।এসময় তাঁর প্রথম প্রকাশিত অ্যালবাম তালিকার দুই নম্বর অবস্থানে ছিল। অর্থাৎ তালিকার শীর্ষ দুই অবস্থানই ছিল সুইফটের দখলে, ১৯৯৮ সালে লিন রাইমসের পর সুইফটই প্রথম শিল্পী যিনি তা অর্জন করতে সক্ষম হন।[৪৩] সুইফট সাধারণত অ্যাকুয়িস্টিক গিটার বাজায়।[৪৪]

২০০৮-২০১০: ফিয়ারলেস[সম্পাদনা]

সুইফটের সর্বশেষ স্টুডিও অ্যালবাম ফিয়ারলেস মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ১১ নভেম্বর ২০০৮ সালে মুক্তি পায়। মুক্তি পাওয়ার সাথে সাথেই অ্যালবামটি বিলবোর্ড ২০০ অ্যালবাম তালিকার শীর্ষস্থান দখল করে। অ্যালবামটির ৫৯২,৩০৪ কপি বিক্রয়ের পরিমাণ ২০০৮ সালের অন্য যেকোন কান্ট্রি সঙ্গীত শিল্পীর প্রকাশিত অ্যালবামের চেয়ে বেশি। এছাড়া প্রথম প্রকাশেই কোন নারী শিল্পীর অ্যালবামের এই বিক্রয়ের পরিমাণ ২০০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে সঙ্গীতের সকল ধারার মধ্যে সর্বাধিক এবং লিল ওয়েন, এসি/ডিসি এবং কোল্ড প্লে-এর পরে চতুর্থ বৃহত্তম। অ্যালবামটির “লাভ স্টোরি” গানটি কান্ট্রি এবং পপ সঙ্গীতের তালিকায় ব্যাপক সাফল্য পায়। মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই অ্যালবামটি ইন্টারনেটে ১২৯,০০০ কপি বিক্রয় হয়। অনলাইনে কোন কান্ট্রি সঙ্গীতের অ্যালবামের মধ্যে এটিই সর্বাধিক সংখ্যক বিক্রয় হয়।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. ১.০ ১.১ Leahey, Andrew; Frye, Megan। "(Taylor Swift > Overview)"Allmusic। Rovi Corporation। সংগৃহীত 2009-10-25  |coauthors= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  2. Wilson, Benji। "Taylor Swift - the meteoric rise of pop's brightest new star"Daily Mail। Associated Newspapers Ltd। সংগৃহীত 2009-10-25 
  3. "Taylor Swift, Billboard's Best-Selling Artist of 2008, Announces 'Fearless 2009' Headlining Tour"। Big Machine Records। 2009-01-30। সংগৃহীত 2009-01-30 
  4. "Taylor Swift... The Interview!"। BBC Radio One। 2009-02-17। সংগৃহীত 2009-02-17 
  5. "2008 U.S. Music Purchases Exceed 1.5 Billion; Growth in Overall Music Purchases Exceeds 10%"। Market Watch। 2008-12-31। সংগৃহীত 2009-01-01 
  6. Up for DiscussionPost Comment (2009-09-14)। "Billboard.com"। Billboard.com। সংগৃহীত 2009-09-20 
  7. "Forbes.com"। Forbes.com। সংগৃহীত 2009-09-20 
  8. 2009 Artists of the Year | Billboard.com
  9. "Nielsen SoundScan Lists Taylor Swift as the Top-Selling Digital Artist in History"। PR Newswire। 2010-01-07। সংগৃহীত 2010-01-11 
  10. "Taylor Swift Biography TVGuide.com"। Tvguide.com। 1989-12-13। সংগৃহীত 2009-09-20 
  11. "The Unabridged Taylor Swift"। Rolling Stone। 2008-12-02। সংগৃহীত 2008-12-17 
  12. "Taylor Swift: Growing into superstardom"। Reading Eagle। 2008-12-08। সংগৃহীত 2008-12-17 
  13. "24-7pressrelease.com"। 24-7pressrelease.com। সংগৃহীত 2009-09-20 
  14. "Showbiz - News - Computer repairman taught Swift guitar"। Digital Spy। 2009-11-03। সংগৃহীত 2009-12-30 
  15. Messer, Lesley (2009-01-27)। "Taylor Swift Suffered Bullying in School - Taylor Swift"। People.com। সংগৃহীত 2009-12-30 
  16. "Catching Up With Taylor Swift"। Timeforkids.com। 2009-04-28। সংগৃহীত 2009-09-20 
  17. "Taylor Swift Biography at GAC"। Gactv.com। সংগৃহীত 2009-09-20 
  18. Taylor Swift at Ask Men.com
  19. "Taylor Swift Biography"। Gactv.com। সংগৃহীত 2009-09-20 
  20. "GACTV.com"। GACTV.com। সংগৃহীত 2009-09-20 
  21. Font size Print E-mail Share 4 Comments (2008-05-17)। "CBSnews.com"। CBSnews.com। সংগৃহীত 2009-09-20 
  22. "Taylor Swift biography at Allmusic"। সংগৃহীত 2007-04-30  |SWIFT&sql= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  23. Philly.com[অকার্যকর সংযোগ]
  24. "Artist Chart History – Taylor Swift"Billboard। সংগৃহীত 2009-03-29 
  25. "Taylor Swift – Discography"Billboard। সংগৃহীত 2009-03-29 
  26. "Taylor Swift Scores First Chart-Topping Debut With Fearless"। MTV.com। 2008-11-19। সংগৃহীত 2008-12-20 
  27. Billboard.com[অকার্যকর সংযোগ]
  28. "Countrymusiconline.net"। Countrymusiconline.net। সংগৃহীত 2009-09-20 
  29. "Taylor Swift Bumps Herself Out of No. 1 Slot"। CMT। 2008-07-26। সংগৃহীত 2008-12-20 
  30. "Taylor Swift Tops 50 Million MySpace Streams & Has Country's #1 Selling CD for 20th Week"। Universal Music Group। 2008-06-24। আসল থেকে 2008-08-20-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত 2008-12-20 
  31. "Taylor Swift, "Fearless""Billboard। Nielsen Business Media, Inc। 2008-11-16। সংগৃহীত 2009-01-02 
  32. Taylor Swift reaches No. 1 on the Top Country Albums chart
  33. "MySpace Announces “MYSPACE TOP 8’S OF 2008” Awards"। The Social Media Bible। 2008-12-16। সংগৃহীত 2008-12-20 
  34. "Taylor Swift at Beasley Performing Arts Coliseum"। Beasley.wsu.edu। সংগৃহীত 2009-09-20 
  35. "GAC Debuts Short Cuts Series with Rising Star Taylor Swift"। GACTV.com। 2006-05-10। সংগৃহীত 2009-01-01 
  36. Taylor Swift performs on "America's Got Talent"
  37. Cooper, Peter; Aronin, Ivan (2007-10-15)। "It's writers' turn to be honored for songs"The Tennessean। সংগৃহীত 2007-11-24  |coauthors= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  38. Cohen, Jonathan (2007-12-13)। "Keys Still The "One" Atop Billboard Charts"Billboard.com। সংগৃহীত 2008-06-13 
  39. "Taylor Swift offers new single to radio, ACMs"। Countryondemand.com। 2008-05-12। সংগৃহীত 2009-09-20 
  40. "Taylor Swift Interview, ACMs"। Video.msn.com। সংগৃহীত 2009-09-20 
  41. "A hot time at country music's fan festival"। USA Today। 2008-06-099। সংগৃহীত 2009-03-16 
  42. "Wal-Mart "Eyes" New Taylor Swift Project"Great American Country। সংগৃহীত 2008-07-24 
  43. "Taylor Swift owns top of country chart"Country Standard Time। সংগৃহীত 2008-12-26 
  44. "Taylorguitars.com"। Taylorguitars.com। সংগৃহীত 2009-09-20 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]