জ্যাকোবিন ক্লাব

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সেইন্ট অনোরে স্ট্রীটে জ্যাকোবিন ক্লাবের দরজা, প্যারিস, ফ্রান্স

জ্যাকোবিন ক্লাব ছিল ফরাসি বিপ্লবের সময়ে সবচে' বড় ও ক্ষমতাধর রাজনৈতিক সংঘ। এর শুরুটা হয় ১৭৮৯ সালে ফ্রান্সের ভার্সাই শহরে, "ক্লাব বেনথর্ন" নামে। জনপ্রিয়তার তুঙ্গে ওঠার পর গোটা ফ্রান্স জুড়ে এর অসংখ্য শাখা সৃষ্টি হয়। ধারণা করা হয় তখন এর সভ্য সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৪২০,০০০-তে। রোবস্পিয়ারের পতনের পর ক্লাবটি বন্ধ হয়ে যায়।

শুরুতে উদারমনা হলেও ত্রাসের রাজত্ব ([Reign of Terror]) কায়েম করা ও সেপ্টেম্বার ম্যাসাকার [September Massacres] বিষয়ে গুরুত্ব না দেওয়ায় জন্যে এরা কঠিনভাবে সমালোচিত হয়। আজও JacobinJacobinism শব্দদুটিকে নেতিবাচকভাবে বামপন্থী রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট করা হয়।

প্রতিষ্ঠা[সম্পাদনা]

প্রতিষ্ঠা হয় ১৭৮৯ সালে। শুরুতে এর সভ্য ছিলেন কেবল ব্রিটানীর ডেপুটিরা। পরে ফ্রান্সের অন্যান্য প্রদেশ থেকেও ডেপুটিরা যোগ দেন। প্রথম দিককার নেতৃস্থানীয় সভ্যরা ছিলেন: মিরাবো (Mirabeau), প্যারিসের ডেপুটি অ্যাবে সিয়েস (Abbé Sieyès), দফিনের ডেপুটি্ আঁতোয়া বাহনাভ (Antoine Barnave), জেরোম পেটিওঁ (Jérôme Pétion), অ্যাবে গ্রেগোয়াহ (Abbé Grégoire), শার্লে লামেথ (Charles Lameth), আলেক্জান্ডার ল্যামেথ (Alexandre Lameth), ম্যাক্সিমিলিয়ান রোবস্পিয়ার (Maximilien Robespierre), দুক দ্য আগুইয়ঁ (duc d'Aiguillon) এবং লা রেভেলিয়েহ লেপো (La Revellière-Lépeaux). ভারতীয় রাজা টিপু সুলতানও এর সভ্য ছিলেন. জ্যাকোবিন ক্লাবের সভা হতো গোপনে এবং এতে ঘটে যাওয়া কোন ঘটনারই ছাপ রাখা হতো না।

দ্রুত বিস্তার[সম্পাদনা]

প্যারিসে স্থানান্তরিত হবার পর ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে এই সংঘের। এর প্রথম ধাপ ছিল সভ্য সংখ্যা বৃদ্ধি। ডেপুটি ছাড়াও সদস্য ও অ্যাসোসিয়েট হিসেবে সংঘে যোগ দেবার সুযোগ করা হয় তখন। জ্যাকোবিন ক্লাবের সভাগুলো ক্রমেই র‌্যাডিকাল ও উস্কানিমূলক ভাষনের কেন্দ্র হয়ে ওঠে যেখানে প্রচারিত হত প্রজাতন্ত্রবাদ, শিক্ষাবিস্তার, বিশ্বব্যাপী দুর্দশা, চার্চ ও রাষ্ট্রের বিচ্ছেদের মতো বিষয় সমূহ।

১৭৯০ সালের ৮ই ফেব্রুয়ারীতে সংঘটি বিশেষ কিছু নীতিকে আনুষ্ঠানিক ভাবে গ্রহণ করে। ক্লাবের লক্ষ্য হয় নিম্নরূপ:

  • সংসদের নির্ধারন করা হবে এমন বিষয়গুলো আগেই আলোচনা করা
  • আইনসিদ্ধ অথরিটি ও মানবাধিকার (Rights of Man) রক্ষার আলোকে সংবিধানকে প্রতিষ্ঠা করা ও তাকে সবল রাখা।
  • একই মতের অন্যান্য সমিতির সাথে যোগাযোগ বজায় রাখা

এই সময় ক্লাবের কার্যধারা ও নির্বাচন পদ্ধতি নির্ধারন করা হয়। প্রতি মাসে একজন সভাপতি, চারজন সচিব, একজন কোষাধক্ষ্য এবং কমিটি নির্বাচন করা হতো। কোন সভ্য যদি ক্লাবের নীতি বিরুদ্ধ কাজ করতেন, তাকে ততক্ষনাত বহিস্কার করা হতো। পরে এই প্রক্রিয়াকেই ক্লাবে শুদ্ধিকরনে ব্যবহার করা হয়, যাতে ক্লাবে সকল উদার সভ্যদের একে একে বহিস্কার করা হয়েছিল।

১৭৯১ সালের বসন্তের শুরুতে ক্লাব তার কেন্দ্রীভূতরূপ নিয়ে ক্ষমতাধর হয়ে আত্মপ্রকাশ করে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

Public Domain এই নিবন্ধটি একটি প্রকাশন থেকে অন্তর্ভুক্ত পাঠ্য যা বর্তমানে পাবলিক ডোমেইনেChisholm, হিউ, সম্পাদক (১৯১১)। এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা (১১তম সংস্করণ)। কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস।  That Britannica article, in turn, gives the following references:

  • The most important source of information for the history of the Jacobins is FA Aulard's La société des Jacobins, Recueil de documents (6 volumes, Paris, 1889, etc.), where a critical bibliography will be found. This collection does not contain all the printed sources—notably the official Journal of the Club is omitted—but these sources, when not included, are indicated. The documents published are furnished with valuable explanatory notes.
  • See also WA Schmidt, Tableaux de la révolution française (3 volumes, Leipzig, 1867 - 1870), notably for the reports of the secret police, which throw much light on the actual working of Jacobin propaganda.
  • Bosher, J.F., The French Revolution (Norton, 1989). ISBN 0-393-95997-X.
  • Schama, Simon, Citizens: A Chronicle of the French Revolution (Knopf, 1991). ISBN 0-394-55948-7.
  • Soboul, Albert, ed., Contributions a l'histoire paysanne de la revolution francaise (Paris : Editions Sociales, 1977). ISBN 2-209-05273-4.
  • jacobins.html, on the site of Anna Marie Roos, University of Minnesota, Duluth
  • The Jacobins Mount Holyoke college course site