জেলে

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
জেলে ও তাঁর ধৃত মাছ

সাধারণভাবে যারা মাছের উপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করে, তারা জেলে হিসেবে স্বীকৃত। আবার নদীর উপর বা পানির উপর নির্ভরশীলদেরকেও জেলে বলা হয়। মাছ ধরাই জেলেদের প্রধান কাজ হিসেবে বিবেচিত হত একসময়। কারণ অতীতে উৎপাদিত মাছের বেশিরভাগই প্রাকৃতিকভাবে খাল-বিল, নদী-নালায় বিপুল পরিমাণে পাওয়া যেত। মাছের চাহিদা বাড়ার সাথে সাথে জেলেদের কাজের পরিধিও বেড়ে গেছে কয়েক গুণ। মাছের প্রজননকাল থেকে শুরু করে মাছ চাষের প্রতিটি ধাপ এরাই পরিচালিত করে থাকে। আর তাই এখন জেলে শব্দের ব্যবহার কমে গিয়ে ‘মাছ চাষী’ বা ‘মৎস্য চাষী’র ব্যবহারই বেশি হচ্ছে।

একটা সময় ছিল যখন মাছ ধরার জন্য ব্যবহৃত জালও এই জেলেরাই বুনতো। মাছ শিকারে জেলেদের অতি প্রয়োজনীয় নৌকা তৈরি হত জেলেপাড়ার ভেতরেই। আর তাই বাংলাদেশের জেলেদেরকে দেখা যেত নানা ধরণের নৌকা ব্যহার করতে। এই নৌকা তৈরির ব্যপারটা নির্ভর করত নিকটবর্তী নদীর আকার, পানি প্রবাহ, বায়ু প্রবাহ, নৌকা ব্যবহারের উদ্দেশ্য, গাছের প্রাপ্যতা ইত্যাদি নানা বিষয়ের উপর।

যখন নদীতে মাছের প্রাপ্যতা কমে যেত তখন জেলেরা নিজেদেরকে নদীর মাধ্যমে পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত করতো। আবার বর্ষা মওসুমে প্রাপ্ত অতিরিক্ত মাছ বিশেষভাবে শুকিয়ে ও মটকিতে প্রক্রিয়াজাত করে শুটকি তৈরি করার ঐতিহ্য অনেক দিনের। তবে বর্তমানে শুটকিকে আকর্ষণীয় করতে ও পচার হাত থেকে রক্ষা করতে রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হয়। তন্মধ্যে ডিডিটি পাউডার ব্যবহারে মানবদেহের বিরাট ক্ষতিসাধিত হয়।

যেহেতু নদীর উপরই জেলেদের নির্ভরশীলতা তাই জেলে পাড়াগুলো নদীর পাড় ঘেষেই তৈরি হতে দেখা যায়। আবার নদীর বারবার পাড় ভাঙাগড়ার ব্যাপার থাকায় জেলেপাড়ার ঘর বাড়ীগুলো হত সাধারণত অস্থায়ী কাঠামোর। আর উঠানের উপস্থিতি থাকত না বললেই চলে। সাধারণত নদীর বালিয়াড়িতেই জাল শুকিয়ে নিত তারা।

অধিকাংশ জেলে পরিবারগুলো নিম্নমানের জীবনধারা অভ্যস্ত।

আরো পড়ুন [সম্পাদনা]

  • Fields, Leslie Leyland (editor) (2002) Out On The Deep Blue: Women, Men, and the Oceans They Fish. St. Martin's Press. ISBN 978-0-312-27726-0
  • Jones, Stephen (2001) Working Thin Waters: Conversations with Captain * Lawrence H. Malloy, Jr. University Press of New England. ISBN 978-1-58465-103-1

বহিঃসংযোগ [সম্পাদনা]