জেমস (গায়ক)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
জেমস
James Nagar Baul 2013.JPG
প্রাথমিক তথ্যাদি
জন্ম নাম ফারুক মাহফুজ আনাম[১]
আরও যে নামে পরিচিত গুরু, জেমস, নগরবাউল
জন্ম (১৯৬৪-১০-০২) অক্টোবর ২, ১৯৬৪ (বয়স ৫০)
নওগাঁ, বাংলাদেশ
পেশা গায়ক, ব্যবসা[২]
বাদ্যযন্ত্র গিটার, ব্যাস, বাঁশি, বেহালা, কিবোর্ড, ড্রামস, স্যাক্সোফোন
কার্যকাল ১৯৮০–বর্তমান
সহযোগী শিল্পী ফিলিংস, নগর বাউল

ফারুক মাহফুজ আনাম যিনি জেমস নামে পরিচিত একজন বাংলাদেশী রক সঙ্গীত শিল্পী। তিনি তার ভক্তদের কাছে গুরু, নগরবাউল নামেও পরিচিত।

জেমস বর্তমানে নগর বাউল ব্যান্ডের প্রধান গিটারিস্ট এবং ভোকালিষ্ট, যা পূর্বে ফিলিংস নামে পরিচিত ছিল। তিনি তার স্বতন্ত্র কন্ঠ এবং স্টাইলের জন্য বাংলাদেশ এবং ভারতের মানুষের কাছে ব্যপক জনপ্রিয়। তিনি বলিউডের কিছু চলচ্চিত্রে প্লেব্যাকও করেছেন।

প্রাথমিক জীবন[সম্পাদনা]

জেমসের জন্ম নওগাঁয়, তবে তিনি বেড়ে ওঠেন চট্টগ্রামে[৩] তার বাবা ছিলেন একজন সরকারি কর্মচারি, যিনি পরবর্তীতে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সঙ্গীত জেমসের পছন্দের হলেও তার পরিবার তা পছন্দ করত না। তাই সঙ্গীতের নেশায় তিনি ঘর ছেড়ে পালিয়ে যান। চট্টগ্রামের আজিজ বোর্ডিং নামক একটি বোর্ডিং-এ তিনি থাকতে শুরু করেন। সেখানে থেকেই তার সঙ্গীতের ক্যারিয়ার শুরু হয়। কিছু বন্ধুদের নিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ফিলিংস নামক একটি ব্যান্ড এবং ব্যান্ডের প্রধান গিটারিস্ট ও কন্ঠদাতা হিসেবে নিজের ক্যারিয়ার শুরু করেন।

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

বাংলাদেশ[সম্পাদনা]

চট্টগ্রাম থেকে শুরু হওয়া ব্যান্ড দল ফিলিংস এর মাধ্যমে তিনি প্রথমে খ্যাতি অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি নগর বাউল নামে ব্যান্ড দল গঠন করেন। তিনি নগর বাউল এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। বাংলা ভাষায় তিনিই প্রথম সাইকিডেলিক রক শুরু করেন। গিটার বাজানোতেও তিনি দারুণ পটু। তিনি নগরবাউল ব্যান্ডের মূল ভোকাল ও গিটারিষ্ট হলেও তিনি মূলত তার সলো ক্যারিয়ারকেই বেশী গুরত্ব দেন। অনেক গীতিকার তার জন্য সঙ্গীত রচনা করেছেন। যাদের মধ্যে কবি শামসুর রহমান, প্রিন্স মাহমুদ, শিবলি উল্লেখযোগ্য। কর্মজীবনের প্রথম দিকে তিনি জিম মরিসন, মার্ক নফলার এবং এরিক ক্লাপটনের মত সঙ্গীত শিল্পীদের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছেন। ১৯৮৭ সালে ফিলিংস ব্যান্ডের সাথে তার প্রথম অ্যালবাম “স্টেশন রোড” মুক্তি পায়। ১৯৮৮ সালে মুক্তি পায় তার প্রথম একক অ্যালবাম অনন্যা। পরবর্তীতে তিনি ফিলিংস ব্যান্ডের নাম পরিবর্তন করে নতুন নাম দেন “নগর বাউল”।

বলিউড[সম্পাদনা]

বাংলা ব্যান্ড সঙ্গীতে কাজ করার কারণে পশ্চিম বঙ্গেও খুব জনপ্রিয় ছিলেন জেমস। সেই সূত্রে ২০০৪ সালে বাঙালি সঙ্গীত পরিচালক প্রিতমের সাথে মিলিত হন তিনি। ২০০৫ সালে বলিউডের গ্যাংস্টার নামক একটি চলচ্চিত্রে তিনি প্লেব্যাক করেন। চলচ্চিত্রে তার গাওয়া “ভিগি ভিগি” গানটি ব্যপক জনপ্রিয়তা পায় এবং এক মাসেরও বেশি সময় তা বলিউড টপচার্টের শীর্ষে ছিল।।[৪] ২০০৬ সালে তিনি ও লামহে নামক চলচ্চিত্রে “চল চলে” গানে কন্ঠ্য দেন। ২০০৭ সালে তিনি লাইফ ইন এ মেট্রো চলচ্চিত্রে আবারও প্লেব্যাক করেন। চলচ্চিত্রে তার গাওয়া গান দুইটি হল রিশতে এবং আলবিদা (রিপ্রাইস)। সর্বশেষ তিনি প্লেব্যাক করেছেন ওয়ার্নিং নামক চলচ্চিত্রে। চলচ্চিত্রে তার গাওয়া বেবাসি গানটি মুক্তি পায় ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে।[৫][৬][৭]

মডেলিং[সম্পাদনা]

২০০০ সালের প্রথম দিকে জেমস পেপসির একটি বিজ্ঞাপন চিত্রে অংশগ্রহন করেন। এটিই ছিল তার কাজ করা প্রথম বিজ্ঞাপন চিত্র। এই বিজ্ঞাপনটি বাংলাদেশ এবং পশ্চিম বঙ্গে প্রচার করা হয়। এরপর তিনি ২০১১ সালে এনার্জি ড্রিংক ব্ল্যাক হর্সের বিজ্ঞাপনে কাজ করেন। বলিউড চলচ্চিত্র লাইফ ইন এ মেট্রোর কিছু অংশে জেমসকে দেখা যায়। যেখানে তিনি একটি ব্যান্ডের সদস্য চরিত্র কিছু অভিনয় করেন। ২০১৩ সালে ওয়ার্নিং চলচ্চিত্রের বেবাসি গানের ভিডিও চিত্রেও কাজ করেন জেমস। সেখানে তিনি নিজের গাওয়া গানের সাথে ঠোঁট মিলিয়েছেন।

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

জেমসের প্রথম স্ত্রীর নাম রথি। ২০০২ সালে তারা আলাদা হয়ে যান এবং জেমস বিয়ে করেন বেনজির সাজ্জাদকে।[৮] যার সাথে ১৯৯৯ সালে একটি কনসার্টে তার প্রথম সাক্ষাত হয়। জেমসের দুইটি কন্যা সন্তান (জান্নাত এবং জাহান) ও একটি পুত্র সন্তান (দানেশ) আছে।

গ্রেফতার[সম্পাদনা]

২০০২ সালে জেমস তার দ্বিতীয় স্ত্রী বেনজির সাজ্জাদকে বিয়ের পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে আসার সময় ঢাকা এয়ারপোর্টে অপ্রাপ্তবয়ষ্ক বেনজির সাজ্জাদকে বিয়ের অভিযোগে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন। এবং পরে বেনজির নিজেকে প্রাপ্তবয়ষ্ক দাবি করলে জেমস কারাগার থেকে মুক্তি পান।[৯]

রেড ডট এন্টারটেইনমেন্ট[সম্পাদনা]

জেমস গাজী আহমেদ শুভ্রর সাথে রেড ডট এন্টারটেইনমেন্ট নামক একটি প্রডাকশন হাউস পরিচালনা করেন। এই প্রডাকশন হাউস ২০১১ আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপের জন্য বিউটিফুল বাংলাদেশ নামে একটি ভিডিও বিজ্ঞাপন চিত্র তৈরি করে। রেড ডট এন্টারটেইনমেন্ট প্রচুর রিয়ালিটি শো প্রযোজনা করেছে। এর মধ্যে দ্য রকস্টার ২, লাক্স চ্যানেল-আই সুপারস্টার, কে হতে চায় কোটিপতি উল্লেখযোগ্য। এছাড়া রেড ডট টেলিভিশন বিজ্ঞাপন চিত্রও নির্মান করে।

অ্যালবামসমূহ[সম্পাদনা]

ফিলিংস[সম্পাদনা]

  • স্টেশন রোড (১৯৮৭)
  • জেল থেকে বলছি (১৯৯০)
  • নগর বাউল (১৯৯৬)
  • লেইস ফিতা লেইস (১৯৯৮)
  • কালেকশন অফ ফিলিংস (১৯৯৯)

নগর বাউল[সম্পাদনা]

  • দুষ্টু ছেলের দল (২০০১)
  • বিজলি

একক[সম্পাদনা]

  • অনন্যা (১৯৮৮)
  • পালাবি কোথায় (১৯৯৫)
  • দুঃখিনী দুঃখ করোনা (১৯৯৭)
  • ঠিক আছে বন্ধু (১৯৯৯)
  • আমি তোমাদেরই লোক (২০০৩)
  • জনতা এক্সপ্রেস (২০০৫)
  • তুফান (২০০৬)
  • কাল যমুনা (২০০৯)

একক সঙ্গীত[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "তারকা :কেমন যাবে ২০১২"। সমকাল। 
  2. http://www.kalerkantho.com/print_edition/print_news.php?pub_no=913&cat_id=3&menu_id=78&news_type_id=1&index=0
  3. "Nagar Baul"Last.fm। সংগৃহীত ২ অক্টোবর ২০১৩ 
  4. Md. Rokanuzzaman (১৩ মার্চ ২০১১)। "Wild Horses of Musical Conviction"। The Daily Star। সংগৃহীত ২ অক্টোবর ২০১৩ 
  5. Mustafa, Hisham Bin (৮ সেপ্টেম্বর ২০১৩)। "James' new release 'Bebasi' hits Bollywood"Priyo news। Priyo.com। সংগৃহীত ২ অক্টোবর ২০১৩ 
  6. "আকাশ থেকে আকাশে জেমস"সমকাল। সংগৃহীত ২ অক্টোবর ২০১৩ 
  7. "আবারও জেমস জোয়ার"প্রথম আলো। ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৩। সংগৃহীত ২ অক্টোবর ২০১৩ 
  8. "Bangladeshi pop singer arrested"। বিবিসি। ২৫ অক্টোবর ২০০২। সংগৃহীত ৩ অক্টোবর ২০১৩ 
  9. http://news.bbc.co.uk/2/hi/south_asia/2361403.stm

বহি:সংযোগ[সম্পাদনা]