জিযেলি বিন্ডচিন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
জিযেলি বিন্ডচিন
Gisele.jpg
২০০৬ সালের এক ফ্যাশন শো’তে জিযেলি বিন্ডচিন
দম্পতি টম ব্র্যাডি (২০০৯ — বর্তমান)
মডেলিং তথ্য
উচ্চতা ১.৭৯ মিটার (৫–১০)
ওজন ৫৭ কেজি (১২৬ পা; ৯.০ স্টো)
চুলের রঙ হালকা বাদামী
চোখের রঙ নীল/সবুজ
পরিমাপ ৩৫-২৩-৩৫.৫ (৮৯-৫৯-৯০)[১]
৩৫-২৬-৩৬ (৮৯-৬৭-৯১)[২]
পোষাকের আকার ৪ (যুক্তরাষ্ট্রীয়)
৩৪ (ইউরোপীয়)
৬ (যুক্তরাজ্য)
ব্যবস্থাপক আইএমজি মডেলস
টুপিএম মডেল ম্যানেজমেন্ট

জিযেলি ক্যারোলাইন বিন্ডচিন (পর্তুগিজ: Gisele Caroline Bündchen)[৩] (জন্ম: ২০ জুলাই, ১৯৮০) একজন ব্রাজিলীয় মডেল। তিনি মাঝে মাঝে চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেন। ফোর্বস ম্যাগাজিনের ভাষ্যমতে, তিনি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত মডেল, এবং একই সাথে বিনোদন জগতের ধনী নারীদের মধ্যে তাঁর অবস্থান ১৬তম।[৪] তাঁর সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ১৫ কোটি মার্কিন ডলার।[৫] এছাড়া বিন্ডচিন জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির একজন শুভেচ্ছাদূত।[৬]

পরিবার ও প্রাথমিক জীবন[সম্পাদনা]

ব্রাজিলের রিও গ্রান্ডে দো সোল শহরের হরাইজোন্টিনাতে বিন্ডচিনের জন্ম ও বেড়ে ওঠা। তাঁর মা ভানিয়া নানেনমেচার ছিলেন একজন ব্যাংকের করণিক, ও বাবা ভালদির বিন্ডচিন ছিলেন একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও লেখক। বিন্ডচিন বাবা-মায়ের কাছ থেকে জার্মান ধাঁচ পেয়েছেন। রাকুয়েল, গ্রাজিয়েলা, গ্যাব্রিয়েলা, রাফায়েলা, ও জমজ প্যাট্রিসিয়া নামে জিযেলের পাঁচটি বোন আছে। প্যাট্রিসিয়া জিযেলের জময বোন, এবং তাঁর জন্ম জিযেলের পাঁচ মিনিট পরে।[৭] ধর্মীয়ভাবে তিনি একজন রোমান ক্যাথলিক। বিন্ডচিন মূলত মাতৃভাষা পর্তুগীজে কথা বলেন। এছাড়াও তিনি স্পেনীয় ও ইংরেজি ভাষায়ও কথা বলতে পারেন।[৮]

(ব্রাজিলের প্রদেশ) গ্র্যান্ডে দো সোলের হরাইজন্টিনাতে আমার জন্ম। এই শহরটি মূলত জার্মানদের উপনিবেশ ছিলো। আমি যে স্কুলে পড়াশোনা করেছি শেখানে জার্মান শেখানো হতো, এবং তৃতীয় শ্রেণী থেকে তা ছিলো বাধ্যতামূলক। কিন্তু অনেকদিন এই ভাষাটি থেকে বিচ্ছিন্ন থাকায়, দুর্ভাগ্যবশত আমি তা ভুলে গেছি। ব্রাজিলে আমি আবার পরিবারের ষষ্ঠ প্রজন্ম।[৯]

এনডোর্সমেন্ট ও উপার্জন[সম্পাদনা]

মডেলিংয়ে অভিষেকের পর থেকেই বিভিন্ন স্বনামধন্য ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের সাথে জিযেল বিন্ডচিনের মাল্টি-মিলিয়ন ডলারের চুক্তি হয়ে আসছে। এছাড়া তিনি বিভিন্ন ব্রাজিলীয় ব্র্যান্ডের পণ্যের হয়েও মডেলিং করেছেন। ব্রাজিলীয় সিঅ্যান্ডএ জিযেলকে তাঁদের মুখপাত্র হিসেবে নিয়োগ দেয়, এবং জিযেলের করা বিভিন্ন বিজ্ঞাপন টেলিভিশনের প্রচার পাওয়া শুরু করে, এরপর তাঁদের বিক্রির পরিমাণ প্রায় ৩০% বৃদ্ধি পায়।[১০]

২০০৬ সালের মে মাসে জিজেল মার্কিন কম্পিউটার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাপলের সাথে আরেকটি বড় অঙ্কের চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। অ্যাপলের নতুন ম্যাকিন্টম কম্পিউটারের বিজ্ঞাপনী প্রচারণায় তিনি অংশ নেন। এছাড়াও ২০০৬ সালে তিনি সুইস বিলাসবহুল ঘড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এবেলের বিজ্ঞাপনেও মডেলিং করেন।[১১]

১ মে, ২০০৭-এ জিযেল বিন্ডচিন ভিক্টোরিয়া’স সিক্রেটের সাথে তাঁর চুক্তি শেষ করার ঘোষণা দেন।[১২] ঐ বছরের জুলাইয়ে ফোর্বস ম্যাগাজিনের ভাষ্যমতে জিযেলে বিগত ১২ মাসে ৩ কোটি ৩০ লক্ষ মার্কিন ডলার উপার্জন করেছেন। এটি তাঁকে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি আয় করা ১৫ জন সুপারমডেলের মধ্যে প্রথম ও বিশ্বের সবচেয়ে সবচেয়ে আয়কৃত মডেল হিসেবে নির্বাচিত করে।[১৩]

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

মার্কিন অভিনেতা লিওনার্ডো ডিক্যাপ্রিও ও সার্ফার কেলি স্লেটারের সাথে সম্পর্কের পর,[১৪] ২০০৬ সালের শেষের দিকে বিন্ডচিন নিউ ইংল্যান্ড প্যাট্রিয়টস ফুটবল দলের কোয়ার্টারব্যাক টম ব্র্যাডির সাথে প্রেম শুরু করেন। পরবর্তীতে ক্যালিফোর্নিয়ার সান্টা মনিকায়, ২০০৯ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি এক ছোট্ট ক্যাথলিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিন্ডচিন ও ব্র্যাডি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ২০০৯ সালের ৬ নভেম্বর এই দম্পতি ব্র্যাডির ছেলে ও অভিনেত্রী ব্রিজেট ময়নাহানের উপস্থিতিতে আবার বিয়ে করেন।[১৫] এপ্রিলের বিয়েতে বিন্ডচিন ফ্যাশন ডিজাইনার জন গ্যালিয়ানোর ডিজাইন করা একটি পোশাক পরিধান করেন।[১৬]

২০০৯ সালের ১৯ জুন পিপল ম্যাগাজিন প্রতিবেদন প্রকাশ করে যে, ব্র্যাডির সাথে জিযেল প্রথম বারের মতো মা হতে চলেছেন, এবং ডিসেম্বরের ১৪ তারিখ শিশুটির জন্ম হওয়ার কথা।[১৭] ৮ ডিসেম্বর জিযেল বোস্টনে একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেন।[১৮] ১৮ ডিসেম্বর, ২০০৯ সালে তাঁর ওয়েবসাইটের জিযেল ছেলের নাম বেঞ্জামিন বলে উল্লেখ করেন।[১৯] পরবর্তীতে এপ্রিল ২০১০-এ ভোগ ম্যাগাজিনের এক সংখ্যায় তিনি ছেলের পুরো নাম বেঞ্জামিন রেইন ব্র্যাডি বলে উল্লেখ করেন। ছেলের মধ্যনাম রেইন এসেছে বিন্ডচিনের বাবার নাম রেইনাল্ডোর নামানুসারে।[২০]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]