জিয়া কারাঞ্জি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
জিয়া কারাঞ্জি
জন্ম নাম জিয়া মারি কারাঞ্জি
জন্ম (১৯৬০-০১-২৯)জানুয়ারি ২৯, ১৯৬০
জন্মস্থান ফিলাডেলফিয়া, পেনিস্যালভেনিয়া যুক্তরাষ্ট্র
মৃত্যু নভেম্বর ১৮, ১৯৮৬(১৯৮৬-১১-১৮) (২৬ বছর)
মৃত্যুস্থান ফিলাডেলফিয়া, পেনিস্যালভেনিয়া যুক্তরাষ্ট্র
উচ্চতা ৫'৭" (১৭০ সে.মি.)
চুলের রং বাদামী
চোখের রং বাদামী
বক্ষ-কটি-
নিতম্বের
মাপ
(যুক্তরাষ্ট্রীয় মান) ৩৪-২৪-৩৫
(ইউরোপীয় মান) ৮৬.৫-৬১-৮৯
পোষাকের
মাপ
(যুক্তরাষ্ট্রীয় মান) ৬
(ইউরোপীয় মান) ৩৬
জুতার মাপ (যুক্তরাষ্ট্রীয় মান) ৮
(ইউরোপীয় মান) ৩৯

জিয়া মারি কারাঞ্জি (ইংরেজি: Gia Marie Carangi) (২৯ জানুয়ারি, ১৯৬০ – ১৮ নভেম্বর, ১৯৮৬) একজন মার্কিন ফ্যাশন মডেল। তাঁর কাজের সময় ছিলো ১৯৭০-এর দশকের শেষ থেকে ১৯৮০-এর দশকের শুরু পর্যন্ত। তাঁর বাবা ছিলেন ইতালীয় আমেরিকান ও মা ছিলেন ওয়েলস বংশদ্ভূত আইরিশ আমেরিকান। কারো কারো মতে কারাঞ্জিকে বিশ্বের প্রথম সুপারমডেল হিসেবে ধরা হয়।[১][২] যদিও এই উপাধিটি আরো যে সকল মডেলকে দেওয়া হয়েছিলো, তাঁদের মধ্যে আছেন, জেনিস ডিকিনসন,[৩] ডোরিয়া লি,[৪] এবং সিন্ডি ক্রফোর্ড; যাঁদের সবাইকে সেসময়ের ফ্যাশন ম্যাগাজিনগুলোর প্রচ্ছদে দেখা যেতো, কিন্তু পরবর্তীতে জিয়ার সাদৃশ্যতা অবলম্বন করায় তাঁদের সবাইকে ‘শিশু জিয়া’ (‘Baby Gia’) নামে অভিহিত করা হয়।

কারাঞ্জিকে বিখ্যাত ফ্যাশন ম্যাগাজিন ভোগ-এর একাধিক সংখ্যাসহ (ভোগ ১ এপ্রিল, ১৯৭৯; ভোগ প্যারিস এপ্রিল, ১৯৭৯; অ্যামেরিকান ভোগ আগস্ট ১৯৮০; ভোগ প্যারিস আগস্ট ১৯৮০; ইটালিয়ান ভোগ জানুয়ারি ১৯৮১) কসমোপলিটান ম্যাগাজিনেরও ১৯৮২-৮২ সালের একাধিক সংখ্যার প্রচ্ছদে দেখা গেছে।

হিরোইনে আসক্ত হবার পর কারাঞ্জির পেশাজীবনে অধঃপতন শুরু হয়। পরবর্তীতে তিনি এইচআইভি দ্বারা সংক্রমিত হন, ও এইডসে আক্রান্ত হয়ে মাত্র ২৬ বছর বয়সে এই ফ্যাশন মডেলের জীবনাবসান ঘটে। তাঁর মৃত্যুর খবর ভালোভাবে প্রকাশিত হয় নি, এবং শুধুমাত্র ফ্যাশন শিল্পের সাথে জড়িত কয়েকজন মানুষ তাঁর মৃত্যুর খবর জানতেন। বিখ্যাত নারীদের মধ্যে এইডস-এ আক্রান্ত হয়ে মারা যাবার ঘটনাগুলোর মধ্যেও কারাঞ্জিরটা অন্যতম।[১] তাঁর জীবন ও মৃত্যুর উপর ভিত্তি করে জিয়া নামের চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করা হয়েছে। এখানে নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন মার্কিন অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। ছবিটি ১৯৯৮ সালে এইচবিও-তে প্রচারিত হয়।

মৃত্যু[সম্পাদনা]

কারাঞ্জি এইডসে আক্রান্ত হয়েছিলেন, যা ছিলো সে সময়ের নতুন প্রচারণা পাওয়া একটি রোগ। যখন তাঁর অবস্থা খারাপ হতে থাকে তখন তাঁকে ফিলাডেলফিয়ার হ্যানিম্যান ইউনিভার্সিটি হসপিটালে ভর্তি করা হয়। তাঁর মা দিন-রাত কারাঞ্জির সাথে থাকতেন, সেখানে কোনো দর্শকের প্রবেশের অনুমতি ছিলো না।[৫]

১৯৮৬ সালের ১৮ নভেম্বর, সকাল দশটায় কারাঞ্জি এইডস সংক্রান্ত জটিলতায় মৃত্যুবরণ করেন। তখন তাঁর বয়স ছিলো ২৬ বছর।[৬] ২১ নভেম্বর, ফিলাডেলফিয়ার বাড়িতে দেহবশেষ সহকারে তাঁর অন্তেষ্ট্রিক্রিয়া অনুষ্ঠিত হয়। অন্তেষ্টিক্রিয়া পরিচালক তাঁর মাকে এইডস-এর ধ্বংসকামনায় এভাবে অন্তেষ্টিক্রিয়া করার পরামর্শ দেন। ফ্যাশন বিশ্বের কেউ সেখানে যোগ দেন নি,[২] যদিও সপ্তাহ কয়েক পরে স্ক্যাভুলো মৃত্যুর খবর পেয়ে কারাঞ্জির মা'কে একটি ম্যাস কার্ড পাঠিয়েছিলেন।[৭]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. ১.০ ১.১ Vallely, Paul (2005-09-10)। "Gia: The tragic tale of the world's first supermodel"The Independent। সংগৃহীত 2007-05-28 
  2. ২.০ ২.১ Carolin, Louise। "Gia - the tragedy of a lesbian supermodel"Diva। সংগৃহীত 2008-01-17 
  3. Weller, Krysten (2003-05-16), "No Lifeguard on Duty: The Accidental Life of the World's First Supermodel", The Michigan Times, সংগৃহীত 2008-01-17 
  4. Gross, Michael (2003)। Model: The Ugly Business of Beautiful WomenHarperCollinsআইএসবিএন 0060541636 
  5. Stated by creators of the film Gia
  6. Fried, Stephen (1994)। Thing of Beauty: The Tragedy of Supermodel Gia। Pocket Books। পৃ: 387। আইএসবিএন 0-671-70105-3 
  7. Fried, Stephen (1994)। Thing of Beauty: The Tragedy of Supermodel Gia। Pocket Books। পৃ: 389, 390। আইএসবিএন 0-671-70105-3 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]